ড্রাফটস: জানুয়ারি, ২০১৭

image

তুমিআমি

একটা রিয়ালিটি থিকা আরেকটা রিয়ালিটিতে যাই
পথের ধুলায় তোমারে হারাই;

আরেকটা রিয়ালিটি’তে গিয়া মনেহয় এইটা বা এইটা হয়তো তুমি,
একটা চিনামাটির চায়ের কেটলি
একটা গ্রে কালারের শেড, এক টুকরা আকাশ

তারপর দেখি কেউ হেঁটে আসতেছে…

কেউ রাস্তা পার হয়া চলে যাইতেছে…

কুয়াশার মতো
একটা দৃশ্যের পরে চলে আসতেছে আরেকটা দৃশ্যের দেয়াল

আমি তো উথাল-পাতাল, খুঁজতেছি
‘কই তুমি? কই তুমি?’

একটা হাত তোমার আমার গালে
বলতেছো, ‘চলেই তো যাবা তুমি…’

আরেকটা রিয়ালিটিতে আমি নাই কোন
তুমি বইসা আছো আর হয়তো ভাবতেছো আমার কথাই…

একটা রিয়ালিটি থিকা আরেকটা রিয়ালিটিতে যাই
পথের ধুলায় তোমারে হারাইয়া ফেলি

 

এরিয়েল

যেন একটা পাগলা বাতাস শে, উল্টাইলো-পাল্টাইলো
ঘুইরা বেড়াইলো শরীরে আমার; কইলো,
থাকো! থাকো!

 

এনেস্থেশিয়া’র সন্ধ্যা

আমি বলতে চাই আর
না-বলাগুলি জাপটাইয়া ধরে আমায়

আমি বলি, হইছে তো, আমি কইতে পারবো না তো, আমারে ছাইড়া দাও…

না-বলাগুলি তখন এরে ওরে ধরে
ওরা কইতে থাকে আমার কথাগুলি;
আমি বুঝি, এইগুলি আমার কথা না, ওদের কথাই ওরা কইতেছে…

কোরানের আয়াতও তো নাকি কিছু লেখা হইছিল ইমরুল কায়েসের কবিতার ফর্মে

আমি ভাবি, আমিও তো ওদের কথাগুলি কইতে পারতাম, কিন্তু
তোমারে না-বলতে পারা কথাগুলিই আছে
আর ওরা চুপ থাকতে থাকতে
হয়া উঠতেছে অন্য কারো’র কথাই, অন্য কোন দুনিয়ায়
অন্য কারো সুর…ভিন্ন ভিন্ন আযানের ভঙ্গি যেমন
ভিন্ন ভিন্ন মসজিদের

আর আমার কথাগুলি আমি হারায়া ফেলতেছি সন্ধ্যার ঘুপচি-লাগা কোন অন্ধকারে

চুপ হয়ে আসতেছে তারা, ভাঙা-দাঁতের পাশে তোমার
ফিল-আপ হয়ে যাওয়া অপরিচিত কোন যন্ত্রণা, এনেস্থেশিয়ার…

 

টাইম মেশিন

টাইমের বাইরে আইসা শুইয়া আছি আমরা, আরেকটা টাইম

টাইম তো ট্রাভেল করতেছে আমাদের শরীরে
আমি বলতেছি, দেখো, কোন টাইম তো নাই, আমরা আছি খালি আর আমরাই…

তুমি জিগাইলা হঠাৎ, বাজে কয়টা?
আমিও ভাবতেছিলাম তখন, টাইম তো আছেই
একটা টাইম না থাকুক, আরো একটা টাইম…
একটা ইনফিনিটি না থাকুক, অন্য কোন ইনফিনিটি

একটা বাঁইচা থাকারে মুছে দিতে চলে আসতেছে আরো আরো মেমোরি’র সাইন

সময়, পাল-তোলা পাটের নৌকা
ফেড হইতেছে দৃশ্যের বাইরের কোন ইঞ্জিনবোটের সাউন্ডে…

একটা আতাফল গাছের ছায়া ম্লান হইতেছে কামিনী’র ধারে

শীতের দিনের রইদ এতো অল্প
লাল দুইটা লেপের কাছে পৌঁছাইতে না পৌঁছাইতেই শেষ হয়া গেলো…

টাইমের বাইরে আইসা বইসা আছি আমরা দুইজন টাইম
দেখতেছি, আমাদেরই পাশ দিয়া ভেসে যাইতেছে, জড়ো হইতেছে আরো আরো টাইম…

 

ট্রাভেলগ

দেখতে দেখতে আমি তোমারে হারায়া ফেলি
আমি চাই পরিচিত ইল্যুশনগুলি আইসা নিয়া যাক আমারে
নিজের পারসেপশনগুলি থিকা দূরে

যেন আমি ভুল করতেছি
ভুল বইলা মাইনা নিয়া পরে বলতেছি,
ভুল তো করছি… অথচ জানি
তা-ই করছি যা ভুল বইলা ভাবতে পারি নাই আমি

এক ফোঁটা অন্ধকারের মতোন এই জানা
আমি না-জানার কাছে রাইখা দেই
তারপরে তোমারে বলি, চলো আমরা হাঁইটা আসি…

যেন আমরা এইভাবে দূরে চলে যাইতে পারতেছি
যেন আমাদের জানা আর না-জানা আমাদের সাথে নাই আর

দেখতে দেখতে দেখার চোখগুলির কাজল ঘষে ঘষে তুলে দিতেছি…
আর
তোমার চোখের ঘুম জাগায়া তুলতেছে আমারে
একটা ভুল থিকা আরেকটা ভুলের ভিতরে
একটা জানা থিকা আরেকটা জানার অন্ধকারে…

 

রিগ্রেশন

আমি ভুলে গিয়া
ফিরা আইসা
ফিরছি বইলা
চইলা গিয়া
আবার আসার
কথা নিয়া
ভাবতেছিলাম
বইলাই তখন
হইতেছিল
মনে আমার
একটু ভুলে
তারপর আবার
করলাম মনে
মন নাই আমার
মনে

ট্রাফিক জ্যামে
রিকশা ছাইড়া
হাঁটতে গিয়া
পড়লো মনে
তখন গান
ফিরা আসার
ফিরা ফিরা চাইতেছিল
চলে যে গেছিল
অথবা যে ছিল-ই
এইটুক ব্রেক,
ছিলো তো পাওনা
আমাদের?…

বইলা সে
নিরব
পথের দিকে
তাকানোর পরে
আই-সাইট ক্রিয়েট
হওয়ার পরে,
বলতেই তো পারে
ভুলে গেছিলাম…

তখন মন
ছিঁড়া ছিঁড়া পলিথিন
প্লাস্টিকের বোতলের
বস্তায়
ভ্যানের ঝাক্কিতে ঝাক্কিতে
ডুবে যাইতে যাইতে
কইলো,
আমি তো ভুলে গিয়া
ফিরা আইসা
আসছি ফিরা…

আবার

 

কিউপডি আর সাইকি

কিউপিড:
কোন একদিন পাহাড়ে, লেকের ধারে
পানিতে নিজের ছায়া দেইখা মনে হবে,

‘সাইকি কি এমনেই দেখতেছিল আমারে?’

সাইকি:
তোমার রাক্ষস চেহারা
দেখতে গিয়া দেখি

আরেকটাই মুখোশ, দেবতার

 

টয় স্টোরি

এই সময়ের মধ্যে তোমারে হারায়া ফেলতে হবে;
এই সময়ের মধ্যে তোমারে খুঁজে বাইর করতে হবে আবার

সূর্যের বলটা ঘুরে ঘুরে আসতে থাকবে
একটা সময় বলবে, টাইম পাস!

একটা সময় তোমারে হারায়া ফেলার পরে মনে হইতে থাকবে,
তোমারে কি আর খুঁইজা পাওয়া যাবে?

“… চাপা পড়ে গেছো যে হারিয়ে, পৃথিবীর ভীড়ে তুমি…” 
বইলা সেই ‘খিন্ন হাত’ ছেড়ে দিতে হবে, ধীরে

এইটুক একটু সময়, তার ভিতরে
হারায়া ফেলার পরে খুঁজে পাইতে পাইতে
মনে হবে
মোমেন্টগুলি বানাইতেছে আমাদেরকে
আর আমরা পড়ে যাইতেছি তার ভিতর, বলতেছি
‘হারায়া ফেলার পরে খুঁজে তো পাবো-ই তোমারে…’

 

মেমোরি ড্রেন

দুইটা চড়ুই কি মনে রাখবে আমারে?
দুইজন মানুষ? পারতে তো পারে…

দুপুরের পরে, রোদ মরে যাওয়া একটা ছাদে
জুতা, গ্লাস আর বাক্সের ভিতরেরর ছোট ছোট গাছগুলির মতোন
নিজেরা নিজেরাই থাকতে থাকবে যারা,
তারা কোনদিন হাসলো না আর বাতাসে, কইলো
ইট ওয়াজ নট অ্যা ব্যাড আইডিয়া!

২.
মনে রাইখো – বইলা উড়তেছিল পাইরেটদের পতাকা

৩.
ঘরের ভাঙা কাঁচ ঠ্যাংয়ে তো বিঁধলো না
চোখের ভিতর ছড়ায়ে যাইতেছিল
আমাদের কাঁচের ইমেজগুলা

‘কাঁপতেছিল একটু একটু, তাই না?’

 

অনেক অনেক দিন

অনেক অনেক দিন পরে মনে হবে অনেক অনেক দিন তোমারে দেখি না

অনেক অনেক অ-চেনা গলিতে গলিতে
সন্ধ্যাবেলায়
রিকশায় ঘুরতে ঘুরতে
হঠাৎ
চইলা আসবো মেইনরোডে

মনে হবে, আরে, একই তো সিন, একই তো ঘটনা

অনেক অনেক দিন পরে
রিকশা থিকা নাইমা মেইনরোডে আইসা আবার কোন গলিতেই ঢুইকা যাবো আমরা

অনেক অনেক দিনের পরে অনেক অনেক দিন’রে আউলাইয়া ফেলবো আমরা, বলবো
‘টাইম, আপনার টাইম তো ফুরাইছে, এখন আপনি যান গা!
আমাদের ইনফিনিটি আমরা পায়া গেছি,
এর চে বড় কোন ইনফিনিটি আমরা’র আর লাগবো না!’

অনেক অনেক দিন তখন কোন একদিন, যেন অবাক হয়া যাওয়া সবুজ সিএনজি অটোরিকশা,
আমাদের যাওয়া, না-যাওয়ার রাস্তার পাশে দাঁড়ায়া থাকবে, বেহুদা…

 

আরো পড়তে পারেন

তবু আমারে দিবো না ভুলিতে…
  মিহি সরিষার দানার মতো পিছলাইয়া যাবো আমি টেবিলে লেগে-থাকা ময়লার মতো ঝেড়ে ...
দ্য প্রফেট
  একটা ছাগল রাস্তায় যাচ্ছে হেঁটে একটা ছাগল রাষ্ট্রের কোন কাজে লাগে না একান...
শীতের দিন
১. EAT YOUR SOUL ইটের দেয়ালে লিখে রাখি। কত কত মানুষ কতো কতো মানুষ আকাশে তারার মতো...
সৈয়দ শামসুল হক
সৈয়দ হক মারা যাওয়ার পরে এইটা ভাবছিলাম - উনি যেই ফর্মে গ্রেটার অডিয়েন্সের কথা ভাবতে পারছেন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *