দুইজন ইমরুল হাসান

67746846_10156345988317093_2848659225398214656_n

ক্রিস্তফ কিরোলস্কির একটা সিনেমা। রেভিউলেশন হইতেছে কোন। রেভিউলেশন হয়া গেছে, পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক সমাজ। সমাজতান্ত্রিক হয়া যাওয়ার পরে আমাদের সবার মনে চাপা একটা আনন্দ। আমরা তো ফ্রি এখন। এইরকম।

শহরের মাঝখানে একটা স্কয়ারে লোকজন হাঁটাহাঁটি করতেছে। হাসিখুশি। অফিস টাইম নাই আর। ভেরোনিকাও হাঁটতেছে সবার লগে। হাঁটতেছে শে, আর আরেকটা ভেরোনিকা বাসে কইরা যাইতে যাইতে দেখতেছে তারে।

এইরকম দুইজন ভেরোনিকা আছে দুনিয়ায়। মাঝে মধ্যে যেন উনাদের দেখা হইতে পারে। এইরকম মনেহয়। কিন্তু এইরকম হয় না আসলে। রেয়ারও না। হয়ই না কোন সময়।

আয়নার ভিতর থিকা কেউ বাইর হয়া আইসা কয় না, আমিই ইমরুল হাসান। বোর্হেস লিখেন, আই। তখন উনি বোর্হেস না আর। এইটা জানেন। উনি মিলতে চান। বলেন, দেখছি তো আমি। বা মাঝে মধ্যে দেখা তো যায়!

ভুল আসলে পুরাটাই।

যেহেতু ভুল, অনেককিছু করা যায়, বলা যায়। ভাবা যায়, দুইজন ইমরুল হাসান আছেন। একজন আছেন বইলাই আরেকজন এগজিস্ট করেন, লুকায়া থাকেন, উনারা ইন্টারনালি কানেক্টেড এইরকম না। একটা দুনিয়াতে একজন ইমরুল হাসানের থাকার লাইগা আরেকজন ইমরুল হাসানের দরকার নাই। বা দুইজনের থাকার লাইগা দুইটা দুনিয়া বানানোরও দরকার নাই। একটা ফ্যান্টাসি, একটা রিয়েল। একটা এগজিসটেন্স, আরেকটা ইমাজিনেশন। এই সেই। এইগুলা ভাবতে আরাম। মনেহয়, আমি তো আর খালি আমি না, আমি হইতেছি অন্য কেউও। আর অন্য কেউ বইলাই না আমি! আমি চাইলেই আমার থিকা বাইর হয়া যাইতে পারি। কিন্তু বাইর হই না আর কি! এইরকম প্লেজার আর ভয়ারিজম। নিজেরে দেখার। দেখতে চাওয়ার। আর এই চাওয়াটারেই লম্বা লম্বা করতে ঝুইলা যাইতে পারি না তো আমি! ভাবতে পারি না একটা টানেলের শেষে আরেকজন ইমরুল হাসান আমারেই দেখতেছে!

২.
তো, অন্যরাও এই ভুল করে। একবার বদ্দারহাটে, একটা স্কুটার নিয়া সারাদিন আনোয়ারা ঘুইরা আইসা, নামায়া দেয়ার পরে স্কুটারওলা কইলো, ভাই আপনারে তো চিনি আমি, গতকালকাও তো আপনে গেছিলেন! অথচ আমি ছিলামই না অইখানে। অন্য কেউ ছিল, যারে স্কুটারওলা ভাবছে, উনিই তো! উনি কাউরেই চিনেন না, এই কারণে ভাবতেই পারেন। আছে না! তোতলামির ভিতর যেই শব্দটা বলতে চাইতেছি, মনেই আসতেছে না। যখন তারে কইলাম, ভাই, আমি তো যাই নাই গতকালকে, আজকেই পয়লাবার গেছি। মন খারাপ হইলো তার খুব। কিন্তু মানতে পারে নাই। ভুল সে কেমনে করলো! বা একটা মিলের আনন্দ যে তার ছিল, সেইটা আমি কেনো তারে দিলাম না! আমি এইরকম রুড হইতে চাই নাই, কিন্তু এইটা তো ঠিক না, তাই না?
উনি বুঝতে পারবেন, এইটা আমার মনেহয় না। কিছু কিছু ভুল তো থাকেই। এইরকম উনার ইল্যুশনের ভিতর ছিল দুইজন ইমরুল হাসান।

এইরকম অনেকের কাছে আমি আছি বা থাকি বা নাই। থাকতে চাই, নাই। থাকতে চাই না, আছি। নানান ভড়ং। এইগুলা অন্য আলাপ। অন্য রকম।

৩.
এর বাইরে যেইটা পসিবল। একই নাম। আছেই অনেকের। সেইটা নিয়া আর ভাবলামই না। সেইটা কোন কথাই না। একইরকমের দুইটা এগজিসটেন্স নিয়া কথা কইতেছি বরং আমরা। চেহারার মিলও না। স্বভাব, ব্যবহারও না। দুইজন দুইটা মানুষ। অথচ একটাই। এইরকম।

মানুষ ভাবে, আরেকটা মানুষ থাকতে পারে তো, আমার মতোন। খালি কেউ ভাবে বইলাই আছে বা ভাবে বইলাই নাই, এইরকমও না। আমার মনেহয়, যদি থাকে, থাকুক না! সেইটা নিয়া আমার তো আসলে কিছু করার নাই। আমার লগে তেমন কোন রিলেশনও নাই। থাকার বা না থাকার।

আমার বলতে একটা ইমরুল হাসানের কথা আমি বলতেছি। বা বলতে পারি। আরেকজন ইমরুল হাসানের কথা কইতে গেলে, আরেকজনের বলা লাগবে। উনি তখন আরেকজন ইমরুল হাসান। দুইজন না।

এই যে দুইজনের ধারণা। মেটাফোর। এখন দেখেন, মেটাফোর ইর্ম্পটেন্ট অনেক। ভাষাও মূলত মেটাফোরই। যার ফলে প্রেম মনে থাকে না তেমন। বা মনে যে থাকে সেইটা হইতেছে প্রেমের মেটাফোরগুলা। মতোন। একজন ইমরুল হাসান যেন আরেকজন ইমরুল হাসানের মতোন। কিন্তু একজন আরেকজন না। আরেকজনও একজন না। এইরকম।

তো, এই মেটাফোর নিয়া ঝামেলা নাই কোন। আছে তো আমাদের ল্যাঙ্গুয়েজে। থাকতে হয়। যার ফলে আমাদের না থাকাটা নিয়া তেমন কোন টেনশন নাই। না থাকলেও আমরা থাইকা যাইতেছি কোন না কোনভাবে।

এই ইলাসটিসিটির একটা লিমিট আছে আর কি। যেইখানে শেষটা নাই। শেষের আগ পর্যন্ত থাকতে থাকে। মনেহয় অন্য কেউ তাকায়া আছে আমার দিকে। আমি তার দিকে তাকাইতেছি না। যদি আমি তাকাই, দেখবো যে, সে নাই। এইজন্য ফিল করি খালি। দেখি না। না দেইখাও যেন দেখতে পাই। এই আরাম আছে আমাদের থাকা আর না থাকার ভিতর।

কিন্তু আমরা নাই।

কিন্তু আমাদের এই যে ইল্যুশন, তারে বাঁচায়া রাখা লাগে।

কিন্তু অইরকম লাগেও না আবার। আমরা কইতে পারি যে, ভাই, থাকলে আছি, না থাকলে নাই। এইরকম একটা হালকা অস্বীকারের ভিতর রাইখা দেয়া যায়, যেমন কালা একটা বিলাই কালা অন্ধকারের ভিতর, আছে বা থাকতে পারে বইলা মনেহয়।

৪.
তো, বলতে চাইতেছিলাম, এইটা নেসেসারি না, এই ইমাজিনেশন। আরেকজন বইলা একজনরে মনে করা বা ভাবাটা। ইল্যুশন বা রিয়ালিটির জায়গাও না এইটা। এইটা হইতেছে, একটা প্যারালাল, যারা কানেক্টেড না। ছিল না কোন সময়। এখনো না। একজন বইসা আছে বইলা এইখানে কেউ আরেকজন শুইয়া নাই। একজন বলতে পারতেছে বইলা আরেকজন চুপ কইরা নাই। একজন আছে বইলাই আরেকজন নাই। বা আরেকজন আছে বইলাই একজন আছে না। যদি একজন থাকে, আরেকজন থাকতেই পারে। যদি একজন না থাকে, আরেকজন থাকতেই পারে। একজনের থাকা, না থাকাটা আরেকজনের উপর ডিপেন্ডেড না। বা আরেকজনেরও।

আর এইরকম ভাবাটাও মেবি ঠিক না যে, আমার তো তোমার লাইগা খারাপ লাগবো, যেই তুমি নাই বা থাকতেও তো পারতা! এইরকম। মাঝে মধ্যে এইরকম যে মনেহয়, এইটা ভ্যাকুয়াম। এখন একটা ভ্যাকুয়াম আছে বইলা কোথাও এর ফিলটা রয়া গেছে, তা না। ভ্যাকুয়ামটা নেসেসারি ইলিমেন্ট একটা। এগজিসটেন্সের, থটের। না থাকাটা থিকা শুরু।

কিন্তু তার মানে এইটা না যে আর কেউ নাই বইলাই আমি থাকতেছি।

একজনের থাকা, না থাকা তার নিজের ব্যাপার। আরেকজনেরটা আরেকজনের। আরেকজন যে ভাবতে পারে না, একজন আছেন বা থাকতে পারে, এইরকম না। কিন্তু সেইটা আরেকজনেরই ব্যাপার।

৫.
দুইজন ইমরুল হাসান। যদি থাকেন। এইরকম না যে, দুইটা লাইফ আছে। কোন একটা সন্ধ্যাবেলায় এইরকম সন্দেহ হইতেছে যে, একজন ইমরুল হাসান আরেকজন ইমরুল হাসানের খুব কাছাকাছি চইলা আসছেন, দেখা হইতে পারতো, কিন্তু একটা মোমেন্টের লাইগা দেখা হইলো না আর।

আরো পড়তে পারেন

প্রেমের প্রমাণ
প্রেমের ত কোন প্রমাণ নাই, যেমন পাহাড়-পর্বত আছে, দেখা যায়। যা যা কিছু ঘটতে পারতো এবং যা য...
‘কিছু মায়া রহিয়া গেলো’
  য়্যু আর অ্যা বাস্টার্ড, য়্যু নো দ্যাট! শে কাইন্দা-কাইটা বলে। আমি ভাবি, তার ভাবন...
ওল্ড ব্যান্ড রিইউনিয়ন
  দিনগুলি এইরকম যে, ফিরা ফিরা আসে। আজকে সন্ধ্যাবেলায় যেমন আসছি ওল্ড স্কুল ব্যা...
আমি আর আমার ছোট বইন
পার্টি শেষ হইয়া যাওয়ার পরে পিতলা রংয়ের বিলাইটা আমার ছোট বইনরে কইলো, ‘আমারে জোরে একটা লাত্থ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *