‘ধান কাটা হয়ে গেলে পরে…’

dhan

ধান কাটা হয়ে গেছে কবে যেন — ক্ষেত মাঠে পড়ে আছে খড়
পাতা কুটো ভাঙা ডিম — সাপের খোলস নীড় শীত।
এই সব উৎরায়ে ওইখানে মাঠের ভিতর
ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজ — কেমন নিবিড়।

ওইখানে একজন শুয়ে আছে — দিনরাত দেখা হত কত কত দিন
হৃদয়ের খেলা নিয়ে তার কাছে করেছি যে কত অপরাধ;
শান্তি তবু: গভীর সবুজ ঘাস ঘাসের ফড়িং
আজ ঢেকে আছে তার চিন্তা আর জিজ্ঞাসার অন্ধকার স্বাদ।
 

 /ধান কাটা হয়ে গেছে, জীবনানন্দ দাশ

 ————————————————————-

 ———————————————————
লেখার টাইম: ডিসেম্বর, ২০১৪ – ডিসেম্বর, ২০১৫।
 ———————————————————-

 

 ধান কাটা হয়ে গেলে পরে…’

অর্গি ইজ মিস্টিরিয়াস
ধানের খেতের পাশে, ধান কাটা হয়ে গেলে পরে

পাশে রাখা আঁটিগুলা একটা আরেকটার গায়ের উপ্রে
আগে, পিছে, উপ্রে আর নিচে,
পইড়া আছে

কোন বডি ফিলিংস নাই আর
অর্গান খুলে রাইখা নেতাইয়া শুইয়া আছে

ধান-কাটা হয়া গেছে বইলা?
ধানের খেতের পাশে; সন্ধ্যাবেলায়, হেমন্তে…

 

একটা বিড়াল

একটা বিড়াল আসছে আমার কাছে
আমার বুকে শুয়ে শুয়ে
আকাশের দিকে তাকায়া আছে…

একটা বিড়াল তার বাঘ হওয়ার প্রতিভা নিয়া
আমার বুকের ‘পরে শুইয়া আছে।

 

স্বপ্ন-মধুর-মোহে

আমি তোমার কাছে রাখলাম অবিশ্বাস। তুমি বললা, স্বপ্নগুলা আমি লিইখাই ফেলি তাইলে। আমি দেখছিলাম বিল্ডিংটা ধসে গেছে; লিফটের ভিতরে আটকাইয়া না থাকতে পাইরা আমি চইলা আসছি খোলা মাঠে; শুয়া আছি, রিফিউজি ক্যাম্পে, নীল কম্বলের নিচে। আশেপাশে অনেক মানুষ; ঘুরাফিরা করে, চানাচুর খায়, বেচে; উদ্ধারকাজ দেখে। তোমারে পাই না তখোন তোমার স্বপ্নে আর। ঘাসে ঘাসে কুয়াশার ফুস্কুরি।

 

তোমার অটাম কালে

দেখি সে চলে গেছে
ভোরের বাতাসের এক্সপেক্টশনের সাথে

দেখি সে বাতাস, কি যে করে
কি যে করে… জানে না সে

না-জানা বইলা একটাকিছু
সে নিজে নিজেই আবিষ্কার করতে পারে,
সেইখানেই থাকে, থাকতেই থাকে…

দেখি সে চলে গেছে,
ভোরের বাতাস, ভোরের বাতাসের সাথে

 

দুপুর

কই যাবো? কই যাবো?
দুপুরবেলায়
গাছের পাতা আইসা
জিগাইতেছে
জানালার কাঁচে’রে,
তুমি যে কি স্থির আছো
বাতাসে!

বাতাসে
কাঁপতে কাঁপতে
একটা দুপুর বেলা
বিকালের কাছে
চলে যাইতেছে।

 

কোকিল

ইনবক্সে আইসা
ডাকতেছি, কুহু…

কোকিল, তুমি শুনতেছে তো!

 

ব্যাঙ ব্যাঙ

ট্রাকের টায়ারের তলে
থ্যাতলে যাওয়া ব্যাঙ
আপনি কি আবার
আরেকটা লাফ দিবেন?

হেঁটে-যাওয়া ব্যাঙ আমি
বসে-থাকা ব্যাঙটিরেই
ভালোবাসিলেম।

 

আমার কবিতা

কিছু কবিতা নিলাম আমি ভেজা ঘাসগুলির কাছ থিকা
কিছু কবিতা আমি নিলাম ভাঙা রাস্তায়র ইট-সুড়কির কাছ থিকা
কিছু কবিতা রাস্তায় আজাইরা ঘুইরা বেড়ানো কুত্তাদের
কিছু রঙ করা টব, সাজানো-গোছানো বাড়িদের
কিছু বাড়ি বানানো শেষ হয় নাই এখনো
কিছু কবিতা ইনকমপ্লিট এইরকম
পথে যাইতে যাইতে মরা ব্যাঙের উপর পা দিয়া
থুতু ফেলতেছে রাস্তায়…

 

আমি

আমি হইতেছি সেই কলাগাছ
যারে দেইখা ফাঁসি নেয়ার কথা ভাবা যায়;
ভাবা যায়, এই তো মইরা-যাওয়া’টা, কাছেই;
দাঁড়াইয়া আছে উদাস
আমি দেখলাম তারে
মরলাম না আর!

 

গোলাপ

কাস্ট সিস্টেমে আপনি অনেক উপ্রে
আপনার কমলকুমার’রে আমি আর নিলাম না

হেই গোলাপ, তাই বইলা
আপনার কথা কওয়া তো আর
থাইমা যাবে না।
কইতেছেন তো, ফাক ইউ!

এই কর্ম সার্বভৌম
আমারে আর এই কামে লাগে না

আমি মইরা গেলাম আপনার কাঁটার তলে
কিশোর হইয়া।

 

কই-আনন্দ

একটা কই মাছ রাস্তায়
চ্যাটাং চ্যাটাং করতেছে
জলের নিয়মে হাঁটার ট্রাই
করতেছে সে, ডাঙায়

হয়তো আছিলো কোন ঝুড়িতে
অন্য আরো অনেক মাছেদের সাথে
আর লাফ দিতে দিতে একসময়
বাইর হয়া আসতে পারছে

তার রেভিউলেশন এখন তারেই কিল করতেছে

ঝোলের তরকারি হওয়ার আনন্দের চাইতে
আরেকটা দেখার আনন্দই সে
দিতে পারতেছে, সকালবেলার রোদে
মরতে মরতে

 

ওথেলো

ওথেলো, তুমি এখনো বাঁইচা আছো?
ভুল বুঝতে পারতেছো তো ঠিকঠাকমতো?
আদার একটা মিনিংয়ের ভিতর
আটকাইয়া যাইতে পারতেছো তো?
তাইলে আত্মহত্যাটা কইরাই ফেলো;
বুঝছো?

এই দুনিয়া যে পিত্তালদি…
তুমি তো জানো

না মরলে, আমাদের এই বাঁইচা থাকা সাহিত্য কেমনে হবে?
কেমনে আর্ট নিয়া তড়পামু আমরা; বলবো
আমাদের প্রেম একটা রেসিয়াল প্রাইডের
জায়গা থিকাই বাইর হইতে পারলো না?… হাহ্…

ওথেলো, নিগ্রো আমার,
যদি তুমি শাদা হইতা, না হইতা ইনফরিয়র
আর তারপরও পাওয়ারফুল; ডেসডিমোনা
কি একসেপ্ট করতো তোমারে,
তুমিও কি তারে সন্দেহ করতে পারতা?

এইরকমই তো দুনিয়া
ডিফরেন্সগুলাতেই আটকাইয়া থাকা

গ্রে কালারের পারসপেক্টিভে আমরা
খামাখাই খুঁইজা গেলাম খালি
শাদা আর কালা…

 

ডেমোক্রেসি

আমি তোমার হারায়া যাওয়া ডেমোক্রেসি’র গরু
বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে
অন্য কারো ড্রিমে চলে যাই
তারপর ঘুরতেই থাকি
দড়ি-ছিঁড়া…

 

বাঘ-বন্দী

আমাদের বন্দীটারে
আমরা বন্দী কইরা
আমাদের কাছেই
রাইখা দিলাম।
 

রোলিং স্টোন

যা কিছু আমি বুঝতেছি না, তা আর ঘটতেছে না।
যা কিছু আমি দেখতেছি না, তা ঘটার সম্ভাবনাই; ঘটনা কিনা শিওর না।

আমি অনুমান করতে পারি খালি। অনুমানগুলি সত্যি না।

যা কিছু সত্যি, তারা আমার বুঝা আর দেখার ভিতর কোন একভাবে থাকতেই থাকে।

সত্যি হইলো পাত্থর। অথবা আমাদের নিজস্ব এক একটা সত্যি।
তারপরও অন্যরা অনুমান করতে থাকে। কোনটা আমার সত্যি; সত্যি সত্যি?

সত্যির নাম দিয়া সবাই নিজেদের অনুমানের কথা-ই বলে। এইরকম ভাবতে পারি আমি।

আমি যে ভাবতেছি এইটা ভাবতেছো তুমি।

তোমার সত্যি’র পাথর নড়তে পারতেছে না।

আমি গড়াইয়া গড়াইয়া সরে যাইতেছি আরো দূরে…

তারপর, একটা মিথ্যার ভিতর, স্থির।

 

র‌্যাট ক্যাট

তোমার ভাবনার ভিতর আমি এক অদ্ভুত ইঁদুর
খুদ খাই, বস্তার চিপায় লুকাই,
স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকারে থাকি। আর বিড়ালের নখ দেখে
চোখ বন্ধ করে ফেলি, অন্ধকারেই আবার।

 

সত্যি-মিথ্যা

(মার্ক স্ট্রান্ডের প্রতি)

দুনিয়ার মিথ্যাগুলিই সত্যি;
মিথ্যা রাগ, মিথ্যা কান্না, মিথ্যা অভিমানগুলি
মিথ্যা হইতে হইতেই একদিন সত্যি হয়া যাবে।
লাল পিঁপড়াগুলি লাল
আর কালো পিঁপড়া কালো।
চড়ুই একটা ডাকতেছে কি ব্যাকুলভাবে
বারান্দায়, সকালে।
মিথ্যা কল্পনাগুলি দূরে সরে যাইতে যাইতে একটা সময় পরে
সুদূরের বাস্তবতা বইলা মনে হবে; এই ডিসট্যান্সটুকই
আমাদের ভালোবাসা,
যেইখান থেকে নিজেদেরকে আমরা দেখতে পাই
এক একটা মিথ্যার আবরণে জড়ানো সত্যির মতো।
ঘোড়ার খুরের সাথে কিছু মাটি লেগে থাকতেছে, তারপরও।
উটের গালার কাছে জমে থাকতেছে কিছু পানি।
আমরা খালি আমাদেরই সত্যি আর মিথ্যা অভিমান নিয়া
হেঁটে যাইতেছি পথে, পাহাড়ে।
পাতাভরা একটা ট্রি বাতাসে দোলাচ্ছে মাথা।
যেন সম্মতি দিতেছে সে,
ধূলা-বালির সাথে, উড়ে যাওয়া কাগজ, পলিথিন
আর বিভিন্ন ভাবনাদের সাথে।
পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়াইলে দেখা যায়
কাঠের বাড়িগুলি বানানো হইছে পাহাড়ের গায়ে
খাঁজ কেটে কেটে।
বাতাস আছে বইলা নিঃশ্বাস নেয়া যাইতেছে। ভাবা যাইতেছে
ওই নিচে একই বাতাস, একই সত্যি-মিথ্যা খেলা।
উপর থিকা নিচেরে মনে হয় ইলিউশনের মতো, মিথ্যা না তো?
নিচে থিকাও চূড়ারে মনে হয় ইলিউশনের মতো, সত্যি তো?
মেঘগুলি কুয়াশার মতো এইখানে।
মেঘের সত্যিগুলি মুছে গেছে এখন।
চড়ুইটা চলে গেছে।
সবকিছুই ছিলো একটা মিথ্যা,
সত্যির ইলিউশন।
আমরা সবসময় অন্য কোনকিছুরই
ছায়া।
আদারস নেভার বিলং টু আস,
উই বিলং টু আদারস।

 

আমার প্রেমিক

আমার প্রেমিক গাবগাছে থাকে
গু’য়ের পোকার কামড় খায়
আমারে দেখবে বইলা চোখ কচলায়
কলাগাছের চিপায় খাড়ায়া দেখি আমি তারে
আমার প্রেমিক তবু চইড়া বইসা আছে
একটা গাবগাছে।

 

ফুকোর পেন্ডুলাম

একটাই দুনিয়া আমার
আর তাও
ছোট হইতে হইতে
একটা তিলের মতো;
আর ছোট হইতে পারে না বইলাই
আটকাইয়া থাকলো।

 

সত্যরে ভালোবাসিলাম

সত্য দেখি নড়ে চড়ে না,
গাঁট হয়া
বইসাই থাকে
কাঁঠাল গাছের তলে
দুপুরবেলার রোদে

আমি কইলাম,
ভাই, শরৎকাল আইছে তো

সে কয়,
আসেনি তো অটাম

 

গোপন এজেন্ডা

এই যে তুমি
এই যে তোমরা

এই যে আমি
এই যে আমরা

আমাদের তালগাছটা
আজকে কোথায় গিয়া দাঁড়াইলো?

ওই দূর, নদীটার ধারে
এক পায়ে
একটাই তালগাছ

দেখা তো যাইতেছে;

তুমি আমাদের সাথে
আমি তোমাদের সাথে
কথা-ই বলতেছি আজকে

আর

তালগাছটারেই ভালোবাসতেছি
মনে মনে…

 

মনোগ্যামি

আমাদের স্বপ্নের গরুগুলি খালি কি আমাদেরকেই স্বপ্নে দেখে?

 

বেলা বিস্কুটের বাস্তবতা

কি ভালোই না হইতো, যদি তুমি তোমার ম্যরালিটির গর্ত থিকা বাইর হইতে পারতা;
যদি আমি ভাবতে পারতাম প্রাকটিসগুলাই তো আর মানুষ না
(শেখ হাসিনা বেলা বিস্কুট খান বইলা আমি বেলা বিস্কুট খাইলেই তো আর শেখ হাসিনা না, এইরকম…),
এর বাইরেও কিছু না কিছু থাকে; থাকতে তো পারে
অহেতুক ইমাজিনেশনগুলির বাইরে, আমাদের রিয়ালিটির একটা দুনিয়া।

 

ফেইক অর্গাজম

ভাইব্রেটর: সারাক্ষণ সুড়সুড়ি দিতে পারার মতোন জীবন, আমি কি চাইছিলাম!

সেক্স-ডল: অলস, নিস্তেজ, নির্বাণের মতোন জীবন – এইটা তো আর না আমি। আই রিকোয়ার ফারদার ডেভেলাপমেন্ট।

 

এজরা পাউন্ড

এই ভয় আমারও হয়,
কথা বলার পরে

মনেহয়
এজরা পাউন্ডের যেমন
নার্ভাস ব্রেক-ডাউন হইছিল
আম্রিকার কনাসনট্রেশন ক্যাম্পে
সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারের পরে;

তার পরে

পলিটিক্স বুঝেন নাই বইলা
কবি ফ্রেন্ডদের হেল্প নিয়া
কবিদের ফ্রেন্ড হইয়াই
বাঁইচা থাকাটা মাইনা নেয়া

পারা যায় তো মনেহয়

একটু ভুল-টুল বুইঝাও
বাঁইচা থাকাটা তো
আসলে পসিবল, তাই না
এজরা পাউন্ড?

 

চিকেন উইংস

আরেকটা শহর আমি থিকা আসছি;
চাইলে থাকতে পারতাম এইরকম আরো
চাইর পাঁচটা শহরেই;
 
ইন ফ্যাক্ট আমি তো একটা পাখিই!
 
ঠ্যাং-এ খালি প্লাস্টিকের সুতা বান্ধা বইলা
তা নাইলে তো আমি উড়তেই পারি
উড্ডয়ন শব্দটাও জানি

সবুজ সস দিয়া চিকেন উইংস
খাইতে খাইতে আমি ভাবি

মুর্গি-পাখিটার কথা
ডানায় এইটুক আনন্দ আছিলো তো তার

বাঁইচা থাকার টাইমে?

 

রিয়ার ভিউ মিররে

হৃদয়, তুমি সাউন্ড করো
ভুভুজেলা বাজাও

তোমার একলা বাসায় কে আসে আর কে যায়
তার এন্ট্রি লিখতে লিখতে ক্লান্ত আমি

তুমি বাল রাস্তায় নামো
বাসে ওইঠা বসো এমন সিটে
রিয়ার ভিউ মিররে যাতে তোমারে দেখা যায়

যাইতে যাইতে যে চলে যাইতেছে
সে তো ভাবতেই পারে কিছু একটা রয়া যাইতেছে পিছে
জানি যে পিছন, নড়তে চড়তে পারে না সে;
আর পারলেও হৃদয় আমার
ধইরা রাখে তারে
কয়, ‘না, না, ছেড়ে দিবো না…’

যেহেতু সে চলে যায়, যাইতে যাইতে একবার
রিয়ার ভিউ মিররে তাকায়,
কয়, ‘হৃদয়ের এতো কাছে ছিলা তুমি ,
ভুভুজেলা কেন বাজাও নাই !’

হৃদয়, তুমি সাউন্ড করো
ভুভুজেলা বাজাও

ওই দেখো প্রেম, তাকায়া আছে, রিয়ার ভিউ মিররে আবার …

 

নবমী

তোমারে ফেলে দেয়ার আগে কি যে তুমুল ভালোবাসি
ফেলে দিবো বলে, কোলে তুলে রাখি

কোলে তুলে মনেহয়
ফেলে তো দিবো না কোনদিন

কোনদিন মানে আজকে
দুপুর, রোদ, একটু বাতাস, নিরব অ্যাটমোস্ফেয়ার
উঁচা মেঘ নেমে আসছে জানি নিচা রাস্তাতে

তোমারে কোলে নিয়া বসে আছি
কোলে বসে তুমি ভাবতেছো
যে কোন ভাবনার মতোই এই কোল
ফেলে দেয়া যাবে

গভীর কাননে। রাত্রির অগাধ বনে
কতোই না ভেড়া শেয়াল ভেবে ঘুরে,
উস্টা খেয়ে চলে যাবা, এমনই র্দুঘটনার

আগে। একটা ভিজিবল ডিসট্যান্সে
কোলে নিয়া বসে থাকি

 

নভেম্বরের দিন

১.
Let’s play the game.

২.
ধীরে ধীরে অথবা ধীরে ধীরে

৩.
কলোনির মাঠে ইউক্যালিপটাস গাছ, সাইডের রাস্তায় রিকশায় ও হাঁইটা যাইতেছে মানুষ, বিল্ডিংয়ের বারান্দাগুলি হা কইরা তাকায়া আছে…

৪.
রোদ উঠে নিভে যাবে, রোদ ছিল মনে হবে

৫.
ইয়েলো সাবমেরিন, কোল্ড প্লে’স ট্রু লাভ, অল্টারনেটিভ রক, মাই মিক্স, মাহুত, বাথান, গাইতেছেন গান…

৬.
ভাষা একটা অভ্যাস

৭.
Let’s Try

৮.
এসেছেন কার্তিক, ধূলা-বালি বিকাল, পিম্পল…

৯.
কুয়াশা নামতেছে সন্ধ্যায়, দূরের বাড়িটার ছাদে

 

ভ্যাকুয়াম

সারাটা দিন ধইরা সে তার অপেক্ষাটারে বানায়

সকালের নাস্তায় রুটি শেঁকতে শেঁকতে চুলায়, ফ্লোর মুছতে মুছতে, দুপুরের রান্নায়, বাথরুমে একা, ডেইলি পত্রিকার নিউজ, ইউটিউবের গান, স্কুলে যাওয়া আসা, রোদ, মেয়েদের গোসল, দুপুরের ঘুম, সন্ধ্যার টিভি, হোমওয়ার্কের ভিতর… অপেক্ষাটা তৈরি হইতে থাকে

রাতের বেলা গুটিশুটি হয়া আমি ঢুইকা পড়ি সেই অপেক্ষাটার ভিতর
আরেকটা অপেক্ষার মতোন।

 

ব্রেথ

আবারো আবারো

এক্সপ্লেইনই করতেছে কেউ

কেন?

 

শীতের দিন

১.
EAT YOUR SOUL
ইটের দেয়ালে লিখে রাখি।
কত কত মানুষ
কতো কতো মানুষ
আকাশে তারার মতোন
আকাশে তারাদের মতোন
ডুবে যায় রাত এখন

২.
এখন যে রাত
রাত ও দিন
রিপিট ইট
রিপিট ইট।

৩.
নতুন দালানের রড উঁচা হয়ে আছে
সূর্য ডুবে যাইতেছে
ক্লিক ইট!

৪.
যেই পাবলিক পারসোনাল
রাস্তার ধারে, গাছের কিনারে
মুততেছেই তবে?

৫.
প্রেমিক পড়ে আছে ঢাকা মেডিকেলে
পলিটিকস হয়ে দেখবা
আবার আসিবো ফিরে

৬.
কাঁঠাল বনে বাঘ
ঘুমায়ে গেছে

৭.
আসো শীত
রেভিউলেশনের লিপজেল নিয়া
গড়িমসি কুয়াশা
গড়াইয়া গড়াইয়া টাইম
যাইতেছে
এখন সকাল।

৮.
দিন যায়
তোমার আলোর তলে
বসে আছি
দিন যায়
চুপ করে থাকি বলে
মনেহয় যাইতে পারতেছে
যদি বলতাম
আটকাইয়া থাকতো
কিছু?
আমার বলার তলে
দিন যায়
আমি ট্রাই তো করছিলাম
এইটুক সাধ লয়ে
ধোন কচলাইতে কচলাইতে
সেক্সডলের মতো মসৃণ
দিন যায়, যায় রে

৯.
এইটুক অসুখ
তাও থাকে না বেশিদিন
কয়দিন পরেই
রোদ দেখে মনেহয়
ঘুমায়া যাবো নাকি আবার?
কয়েকটা আইন পাস হইলো
কয়েকটা ফাঁসি
মার্ডার
ধুমধাম
ঘটনার মজলিসে নিরব কেন কবি?
যিনি দিলেন পিঠে ছুরি
তিনিও কইলেন
আমি তো এমনি এমনি, কারো ক্ষতি করি নাই…
যে ক্ষতি মান্না দে মেনে নিছিলেন
ওইরকম আর কি…

১০.
আমার হিসু মাখা তোশক
নানা নিয়া যাইতেছে
দোতলার ছাদে
নানীর তো খারাপ লাগে
বুড়া মানুষটারে
কষ্ট দিলি!

১১.
তোমার ছাতার নিচে
ঢাইকা রাখো আমার মুখ
শীতের বৃষ্টি
শুরু হওয়ার আগেই।

 

হ্যাপি সিসিফাস

উঠতেছে, উঠতেছে, উঠতেছেই খালি, ডেইলি… নামতে পারতেছে না আর…

 

শীতের ডায়েরি

আরেকটা সিগ্রেট খাবো। তারপরে লিখবো। লেখা যে যায়, এইটারে একটা ঘটনা বানাবো। ঘটনার ভিতরে ঢুইকা পড়লে তখন ঘটনা আর কোন ঘটনাই নাই। রেসিপি বানায়া বানায়া লিখতে থাকবো।
পা দুইটার তো কোন দরকার নাই। কাইটা ফেলবো?

 

মাস্টারবেশন

ঝির ঝির ফিরা আসলো টিভির স্ক্রীনে আবার
এন্টেনার বাঁশটা ভিজা ছিলো বৃষ্টিতে
রোদ উঠার পর, আবারো ঝাঁকাইতে থাকলাম…

 

শীতের সকাল

অনেকদিন পরে একটা নরমাল সকাল। ব্ল্যাকবেরি জেলি দিয়া দুইটা টোটেস্ট ব্রেড আর একটা ডিমভাজি খাইলাম। ব্ল্যাকবেরির জেলিটা আমার পছন্দের (ব্রান্ডের নামটা Smucker’s মনেহয়, সুগারফ্রি), ডিমটা হাফ-বয়েল হইলে মেবি আরো ভাল্লাগতো, যেইটার ডিমভাব পুরাপুরি শেষ হয় নাই। এইরকম সকাল ভালো। ভালো হইতো পুরাটা দিন যদি ঘুমাইয়া থাকা যাইতো। মেবি কফি খাওয়ার পরে এইরকম মনে হবে না আর। হলিডে সিজন বইলা এইরকম মনে হইতেছে। আরো যা যা কিছু মনে হবে সেইটাও লিইখা ফেলা যাবে। লিখছি বইলা কোনএকদিন আবার মনেও হইতে পারে। তখনো মেবি ভালোই লাগবে শীতের সকাল, একটু একটু রোদ উঠতেছে… জানালা থিকা চোখ সরায়া আমি ল্যাপটপের স্ক্রীণের দিকেই তাকায়া আছি…

 

ইমাজিনিং সামওয়ান লাইক ইউ

যেইভাবে তুমি বইসা থাকো;
তোমার থাকার ভিতর
থাকতে থাকে অনেককিছু – একটা নভেম্বরের সন্ধ্যা,
নারিকোল পাতার ডানায় কুয়াশা, হিবিজবি গান, গান্ধী পোকা, একটানা আওয়াজ কিসের জানি,
শাদা অন্ধকার, শাশ্বত টাইপ গোলাপ, ভেটকাইন্না ওয়াও, সিলি সকলবকুলফুলও থাইকা যাইতে পারে মনেহয়,
একটা পাকুড় বট? থ্রিলার কাহিনির লম্বা বারান্দা, কিউরিসিটি, একটা ক্লান্ত মন
মন তো জানেন মনের সব – এইসব কারিকুরি, কি জানি কি জানি…
ভাবি আমি;
আর বসে থাকতে থাকতে গুটলি পাকায়া শুইয়া পড়ার একটা ছবি
আমি ইনসার্ট করার ট্রাই করতে থাকি,
কাইত হয়া বইসা আমারই চেয়ারে
আমি ভাবি, যেইভাবে তুমি বইসা থাকো
মানে, থাকতেই তো পারো, আমার না-পারার মতো
ঝাপসা, অল্প একটু।

 

আরো পড়তে পারেন

বিকালবেলা
হায়! বিকাল আইসা ধরলো আমায় ব্যতিক্রমের খাতায়, বিহ্ববলতায় গাঢ় ও লম্বা ঘুমের মতো প...
কমলা দাসের কবিতার বাংলা অনুবাদ...
কেবল আত্মাই জানে কিভাবে গান গাইতে হয়। নির্বাচিত কবিতা, কমলা দাস। অনুবাদ, উৎপলকুমার বসু। সা...
গল্পের বই: ২০৪৬
“Everyone who goes to 2046 has the same intention, they want to recapture lost memories. B...
কবিতা: জানুয়ারি, ২০১৯
শব্দগুলি এক একটা অন্ধকার তার পরে তারো পরে তারও পরে রক্ত হয়া ঝইরা যাবে আমাদ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *