ভয়ারিজম ইন লিটারেচার

People-peering-through-fe-005

কয়েকদিন আগে ব্যাপারটা একবার মনে হইছিলো, একজন পপুলার রাইটারের ফেসবুক স্ট্যাটাসে পুরানো পরিচিত একজনের লাইক দেইখা। ফেসবুকের সাইডের স্ক্রলবারে আসছিল উনি যে লাইক করছেন – এই জিনিসটা। স্ট্যাটাসটা পড়তে গিয়া দেখলাম পরিচিত আরো অনেকেই লাইক করছেন; অনেকে মানে যাঁরা পলিটিক্যালি আওয়ামী লীগরে সার্পোট করেন এবং আওয়ামী লীগের বিরোধী। লেখিকার নাম, তামান্না সেতু। লেখা ভালো। হুমায়ূন আহমেদের মায়ের নামে চালু করা আয়েশা ফয়েজ পুরষ্কার পাইছেন। আমি বুঝতে চাইতেছিলাম, কি কারণে উনি পপুলার? এইজন্য কয়েকটা স্ট্যাটাস পড়লাম উনার। সহজ সরল লেখা, ভাষা নিয়া কেরামতি করেন নাই, খুবই টাচি সাবজেক্ট – এইসব বিষয় তো আছেই। আমার মনে হইতেছিল, উনার একটা কী ফোকাস পয়েণ্ট হইতেছে, সেক্সুয়াল এডুকেশন। ফ্যামিলিতে যেইসব বিষয় নিয়া আমরা কথা-বার্তা বলি না, যেমন, মা তার পিরিয়ড নিয়া টিনএজার ছেলেরে বলতেছে; ওয়াইফ তার হাজব্যান্ডের সাথে সেক্স করতেছেন একটা মেয়ে-বাচ্চা পয়দা দেয়ার লাইগা, একইসাথে সোসাইটিতে রেইপ নিয়া কনসার্ন – এইসব জিনিস নিয়া নরমালি আমরা কথা বলি না, কিন্তু বলতে পারি তো।

বলাটা ভালো জিনিস। কিন্তু লিটারেচার হিসাবে এইটা কেমনে পপুলার হইতেছে? মানুষ কেন লাইক করে? পার্টিকুলারিলি উনার লেখা না, বরং এই ধরণের লেখাগুলিরে। দুইটা জিনিস মনে হইলো; এইখানে একটা ভয়ারিজম আছে, ফ্যামিলি তো একটা সিক্রেট এনটিটি, দেয়ালের ভিতরের ব্যাপার; আমার আব্বা-আম্মা, ভাই-বইনের লগে কেমনে কথা কই, কি করি – এইগুলি নরমালি বলি না আমরা। কিন্তু কেউ যখন বলেন, তখন শুনতে খুব আরাম লাগে। হুমায়ূন আহমেদও এই কাজ করছেন উনার লিটারেচারে; দেখবেন উনার বেশিরভাগ জিনিসই কোন না কোন ফ্যামিলির কাহিনি। উনি তো অনেক একসাইটিং কইরা বলছেন; কিন্তু নরমাল আপনার ফ্যামিলির কথাই বলেন আপনি, যেইটা ফ্যামিলির বাইরের কেউ জানার কথা না, তখন এইটা ‘লাইকেবল’ হইতে পারবে বেশি অন্য যে কোন কাহিনির চাইতে। এইটা একটা প্যার্টান।

পারসোনাল বইলা যা কিছু আছে সেইটারে বানাইতে পারেন আপনার সাহিত্যের ম্যাটেরিয়াল। এইটা আরো ডাবলড হইতেছে যখন ফ্যামিলির মধ্যে না-বলা জিনিসগুলিরেও কাহিনির মধ্যে বইলা দিতে পারতেছেন। ধরেন, একটা রাতের লুডুখেলা নিয়া লিখলেন আপনি তখন অনেকেই লুডুখেলার (লুডুখেলাই, অন্য মানে কইরেন না আর) কথা মনে কইরা এসোসিয়েট করতে পারবে; কিন্তু যদি সেক্সুয়াল হ্যারেসম্যান্টের কথাগুলি লিখেন আপনার, তখন আরো ইমোশনালি এগনেইজ করাটা পসিবল। আমি বলতেছি না যে, এইগুলি বাজে লিটারেচার বা ভালো। জাস্ট এতটুকই যে, কেন বা কি কারণে এইটা আমাদের ভাল্লাগে বা লাগতে পারে। ভয়ারিজমের প্লেজার দিতে পারাটা বা পাইতে পারাটা তো সাহিত্যের ঘটনাই। আপনি গোপনে একটা জিনিস দেখতেছেন – ব্যাপারটা এইটা না; বরং একটা গোপন জিনিস আমি আপনারে দেখতে দিতেছি। আপনারে অডিয়েন্স হিসাবে চূড়ান্ত মর্যাদাটা দিতেছি আসলে এইভাবে। তো কেউ যদি এইটা করেন, এইটাতে অ্যাজ অ্যা রিডার আমি কি হ্যাপি হবো না?

আরো পড়তে পারেন

২২শে শ্রাবণ
এই একটা তারিখ কেমনে বাংলা’য় রয়া গেলো? (আরো আছে হয়তো, হিন্দুধর্মীয় উৎসবগুলা এর সাথে… কি...
এই পর্যন্ত
স্কাই ইজ দ্য লিমিট ত অনেক হইছে। এইটা লোভ এখন, পুঁজিবাদের; রিসিশনের সময়ে। নিজের আকাঙ্খারে ক...
ট্রানজিসনাল সময়
কোথাও এসে বসে থাকি। বসে থাকার মতো সময় আছে কোথাও। শব্দ-জর্জরিত; ছন্দ-বেষ্টিত। একটা বিকাল। য...
ঋতুপূর্ণ ঘোষই প্রথম সাকসেসফুলল...
সিনেমার বাংলা নামটা হইলো, 'দোসর'; ২০০৬ সালের সিনেমা। সম্ভবত ঋতুপূর্ণ ঘোষই প্রথম যিনি প্রমা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *