শি, অ্যান্ড দ্য রিটার্ন অফ শি (৮)

 

এই সিরিজটার নাম হইতে পারতো – পুরুষের প্রেম বা অন্য আরো অনেককিছুই। এই টানাগদ্যের ফর্মটাও অনেক কমন একটা ন্যারেটিভ ফর্ম আর সাবজেক্টটাও – না-পাওয়া প্রেম [প্রেম পাওয়া যায়, এই ব্যাপারটাই কি রকম না! এইখানে গরুর (ইদানিং অ্যাট একচুয়াল লিখতে গিয়া লিখে – গাভী’র) দুধের চা পাওয়া যায়’র মতোন]।

তো, আমি হয়তো ভাবছিলাম যে, একটাকিছু ইনসার্ট করতে পারবো, কিছু একটা কি হবে না? – আমি লিখলে? হয় নাই আসলে। এই রায় আমি-ই দিতে চাই। কমপ্লিটও হয় নাই পুরা সার্কেলটা, লেখার। সিরিয়ালটাও হয়তো ঠিক করা লাগবে। কিন্তু অনেক তো হইছে আসলে। ২০১৩-তে শুরু করছিলাম, ২০১৪-তেই লেখা মোস্টলি, তারপরে ২০১৫ আর ২০১৬-তেও লিখা হইছে কয়েকটা। তো, লিখছি যেহেতু থাকলো, একটা জায়গায়। এর বেশি কোনকিছু না।

————————-

১ ।।  ২ ।। ৩ ।। ৪ ।। ৫ ।। ৬ ।। ৭ ।।

————————-

 

কাটাকুটি খেলা

যখনই কোন ইন্টার-অ্যাকশন হয়, তখন অন্য একটা কিছু চইলা আসে। সামথিং ট্রান্সিডেন্টাল। শি বলে, ফাইজলামিই এইসব। আমি জানি, এইটা যে বলা হইলো, সেইটা না-বলা আসলে। ইগনোর করা গেলো, কোন-না-কোনভাবে। আর এইটারে ট্রান্সিডেন্টাল বইলা ফাইজলামি করে শে। আমি জাইনা বইসা থাকি। আশপাশ দিয়া ঘুরাফিরা করি। কই না কিছু। যদি সেইটাই না-বলা হয়া যায়। যদিও সেইটা বলা-ই। এইরকমের তিন আঙুলের একটা ম্যাজিকের ভিতর যে শে জীবন পার কইরা দিতেছে, দেইখা আমার খারাপ লাগে। ওরে আমি কই, দেখো কাজল, দেখো মিরর, দেখো নামাজের সিজদা তোমারে আমি আর দেখতেই পাইতেছি না। সূর্যের ভিতর বন্দী আমাদের চোখ। ও যে জানে না এইটা তাও না। ও কয় যে জাইনা যাওয়াটা আমাদেরকে লিমিট করে। দূরে দূরে বসাইয়া রাখে। এইকারণে আমাদের না-জানা। মরবো যে, এইটাও ত জানি না। বা ধরো, জানলাম-ই আমরা। তাইলে কি এই কনভারসেশন ভুইলা যাবো আমরা? আমরা আসলে ইলিমিনেশনের ভিতর দিয়াই বাঁইচা আছি। আসো, কাটাকুটি খেলি।

আমার হাত জইমা যায়। শি কয়, তুমি বলো, তোমারটাও আমিই দিয়া দিতেছি।

 

মৈমনসিংহে

হয়তো আমি যাইতাম তোমার সাথে, মৈমনসিংহে। শি বলে। কিন্তু এখন ত শীত। ব্রক্ষপুত্র আরো শুকাইয়া গেছে। নদীতে পানি নাই। নদীর তীরে পার্ক খালি। ওইখানে গিয়া আমরা কি করবো? আমি কই, ঠিকই আছে। খালি খালি সাহিত্য-সভা জানি কোন। কোন রিফ্লেকশন নাই; আয়না যেইটা সেইটাই মানুষ, এইরকম ক্লান্তির। তারপরও ডিসেম্বর আসলে মনেহয়, যাই, ঘুইরা আসি কোথাও। নিজেরা নিজেদেরকেই দেখি আসলে ঘুরতে বাইর হইলে। আশপাশ যেহেতু নতুন, মনেহয় নিজেরাও নতুন হয়া গেছি। বা পুরানার সাথে মিইশা অনেকদূরে চইলা আসতে পারছি। এখন আবার ফিরা যায় নিজেদের কাছে। আমরা ত যাই নাই কোথাও! এইরকম ফিলিংস আসলে মনেহয় যাওয়া যায় আবার, মৈমনসিংহে। হাই তুলে শি, হাসে। কয়, ঠিকই আছে। যাবো নে আমরা কোনদিন, তোমার এগ্রিকালচারাল ড্রিমের ভিতরে। শীতের দিনের সিদ্ধ ডিম খায়া আসবো নে। আমি বুঝতে পারি, এইটা কথার কথা, না-যাওয়ার। আর আমরা আসলে রিনিউবেল এনার্জির সেলফ না। যে কোন শীতকাল আসলেই আত্মা মরে যায় আমরার। ফেব্রুয়ারিতে যারা আসে তারা অন্য কেউ। আমরা আর নিজেদের থিকা বাইর হইতে পারি না। মৈমনসিংহ যাবো বইলা দীনেশচন্দ্রের পূর্ববঙ্গের গীতিকা খুইলা বসি চারুকলায়, ছায়ানটে, রবীন্দ্র-সরোবরে। উত্তরা, গুলশান, বনানী আর বাড্ডার রাস্তায় শীতের সব্জির ভিতর দিয়া মৈমনসিংহ-ই আমাদের কাছে আসতে থাকে। সাপ্লাই হয় ইউরোপ, আম্রিকা, কানাডা’তে। এইরকম অফুরান মৈমনসিংহ আশেপাশে রাইখা কে যাবে আবার মৈমনসিংহ খুঁজতে মানিকগঞ্জে, গাজীপুরে, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-তে?

 

রোদ ও কুয়াশা

ছোট্ট একটা জায়গার ভিতর আমরা আটকাইয়া থাকি। আমি আর শি। আর শে আসে আর যায়। আমি জানি একদিন শে চইলাই যাবে। এখন যখন শে আছে আর জানে আমি থাইকাই যাবো তখন আমারে ইগনোর করতে পারে। বা যট্টুক না কইলেই না, এইরকম একটা সিস্টেমের ভিতর নিজেরে অপারেট করতে পারে। আমি দিন দিন ছোট হইতে থাকি আরো, ভয়ে। কোনদিন হয়তো আমি একটা চেয়ারই হয়া যাবো অথবা একটা টেবিল। অথবা ল্যাপটপের মাউস, যে আর জরুরি না কোনভাবেই। আর কোনদিন হয়তো ফুলের ছবি হয়া যাবে শি, অথবা পাখি। অথবা সন্ধ্যার তিমি-মাছ, রাতের সাগরে। চইলাই যাবে। যাইতে না-পারা আর যাওয়া-যায় কিন্তু না-যাওয়া – দুইটা ভিন্ন ঘটনা, আমাদেরকে একসাথে রাখে। কয়েকটা দিন জীবনের, এমনে এমনেই কাইটা যাবে। এইরকম যখন ভাবতেছিলাম আমি, তখনো শি বইসাই আছে। রোদগুলা নিভে যাইতেছে কুয়াশার ভিতর, ধীরে ধীরে।

 

হাজার-বছর

শোনো, আমি যাই গা, বুঝছো? আমি হাজার-বছর ধইরা ঘুমাই না। শি আইসা বলে আমারে। আমি বুঝি যে শি আমারে বলে চইলা যাইতে। এই স্পেইসটা তো আমার না। আমি গাট্টা মাইরা বইসা আছি। সেই দুপুর থিকা। এখন বিকালবেলা। তারপর হঠাৎই সূর্য ডুইবা যাবে। হাঁটতে হাঁটতে সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছাইতে না পৌঁছাইতেই ঘুম চইলা আসবে আমাদের। এইখানে অন্য কোন আলো, এইখানে অন্য কোন অন্ধকার, যেইটা ধরো আঁধারের চাইতে কিছুটা জটিল। সরলরেখার মতো আমাদের জীবন। জিকজ্যাক পথে পথ হাঁইটা গেলাম আমরা। হাজার-বছর নিয়া জীবনানন্দ যাইতেছেন, এর আগে ও পরে আরো অনেকেই। আমরা খামাখাই আকটাইয়া থাকি, ভাবতে থাকি, থাকা হইলো কিছুসময়, হাজার-বছরই তো! একরকম…

 

নরমাল কথা-বার্তা

আসো, নরমাল হই আমরা। কথা-বার্তা কই। কইতে পারি ত, তাই না? হ্যাঁ, হ্যাঁ, না, না, কেন না, অবশ্যই। এই ‘ই’-তে আইসা হোঁচট খাই। পইড়া যাই আর আমার পিঠে পাড়া দিয়া, আমারে লাত্থি দিয়া চলে যায় বুদ্ধিওলা মানুষেরা। এরা কয়, ব্যাথা পাইছেন না ত, হেহেহে, হাসে। আমি জানি বা জানি বইলা ভাবি যে, শি ত এইরকম না! আমারে ল্যাং মারে ঠিকই, কিন্তু হার্ট করতে চায় না।বলে, আসো, নরমাল হই আমরা। কথা-বলা থিকা বাইর হইয়া আইসা অন্য কথা কই। এখন সন্ধ্যা। আকাশে সূর্য ডুবে যাইতেছে। ডুবে যাইতেছে অর্থ, সত্য, সম্ভাবনা, সাহিত্য। ডুবতেছি আমিও। শি দেখে। দেখার ভিতর কোন মিনিং নাই। আমি একটা ঘটনা, যা ঘটতেছি ডিসট্যান্সে, যেইখানে শে কখনোই ইন্টারভেন করবে না। কখনোই শে আমারে টাইনা তুলবে না। আমারও হাত বাঁধা। এইটা জানে শে বা জানে বইলা আমি ভাবি। এইটা অন্যরকমও ত হইতে পারতো, তাই না?

 

পুরানো ছবি আর নাম

ডায়রি’র কিনারায় আমি লিইখা রাখলাম তোমার নাম। পাশ ফিরা থাকা একটা ছবিও রাখলাম। তোমার ছবি’র নিচে তোমার নাম। তোমার হাসি দিয়া ঢাইকা রাখলাম। যখন তোমার ছবি আছে, নাম লিইখা রাখার আর কি দরকার! যদি আমি ভুলে যাই কোনদিন, আমি ভাবলাম। তখন মনে হইতে পারবে, এই ছবিটার মনে হয় এইটাই নাম। বা এই নামের উপরে যেহেতু এই ছবিটা আমি রাখলাম, এদের কোন না কোন সম্পর্ক আছে নিশ্চয়। তোমার নাম মনে করতে করতে আমার মনে হয়, যদি ভুলে যাই, এই ছবিটা আমারে ক্লু দিতে পারবে। আমি আবার খুঁজে বাইর করতে পারবো, যেই নাম আমি ভুলে গেছিলাম। কিন্তু ছবিটা যদি ঝাপসা হয়া আসে, তখন নিচের নাম দেইখা আমি কি বুঝতে পারবো, এইটা ছিল তোমার ছবি আর নিচে লিখা তোমার নাম!

মনে রাখার কথায়, আমরা এইভাবে ভুলে যাওয়ার কথা কইলাম।

 

শীত-প্রেম

শি আমার দিকে কাতর চোখে তাকাইলো; কইলো, তুমি আমার দিকে এইভাবে তাকাইয়ো না। হি অউনস মি নাউ! আমার কোলে যেমন বাচ্চাটা বসে আছে; আমিও বইসা আছি উনার ভাবনার কোলে। তোমার ভালোবাসা যদি তিনি দেইখা ফেলেন, রিকোয়েস্ট করবেন তোমারে এই খেলনা আপনিই নেন! তখন তুমি ত আর আমার আপনি হইবা না, ধন। যে তোমার ভাষা-উপমা বোঝে না, তারে নিয়া তুমি করবা! আমি উনার বোবা গন্ধ ভালোবেসে এই জীবন পার করতে চাই। আমার সঙ-সার তুমি ভাইঙো না!

হায় হায়! মৃদু-গন্ধ শীতের ভিতর আমার যৌন-প্রেম বরফ হইতে চায়! স্কুটারের অল্প-ধূলার ঘূর্ণিতে জিজ্ঞাসা হইলো মলিন;  আনটিল, কোন রোড অ্যাকসিডেন্টে, যদি না তোমার দেখা পাই।

 

হেয়ার আফটার

হেয়ার আফটার যে পথ হইছে শুরু, তার শেষে যাওয়া হইবো না কোনদিন। পথের শুরুতে বইসা ভাবলাম, শেষ ত আছে কোথাও না কোথাও। অথবা আমি, যে আর ট্রান্সসেন্ডেড হইতে পারবো না ভাষায়, আটকাইয়া গেছি; তখন পথ আইসা দাঁড়ালো, কইলো রাস্তা শেষ এইখানেই। এইখানেই জবাফুল গাছ, এইখানে টিনের গেইট, রাস্তার ধূলা-বালি, রিকশার টায়ার পাংচার। শি কয়, মরার আগেই তোমার যে এই মরার খেয়াল, এইটাই কি তোমার বাঁইচা থাকার, হাঁটতে থাকার মটিভেশন? আমি কই, তুমিও হাঁটতে পারো ত আমার সাথে; তখন তুমি টের পাইবা, মরে-যাওয়ার পথ দীর্ঘ অনেক এবং স্ট্রেইট। ধরো, এই পাইন গাছটার মতোন। শি হাসতে থাকে হি হি হি কইরা; কয়, তুমি আমার ছায়ার সাথেই হাঁটো, আমার পায়ে ব্যথা! ওর হাসিতেই পথ সব গায়েব হয়া যায়। আমি বলি, বুঝছি, চলো, কোন ক্যাফে’তে বইসা পেঁপে’র জুসই খাই আমরা।

 

ফুট ফেটিশ

আমি কি ঘুরে ঘুরে, পড়ে গিয়ে মরে, তোমারে দেখবো না, আর? বইসা বইসাই বলি আমি। না তাকাইয়াই। ওই যে পা ভাইঙা পড়ছিলা, ওইরকম। শি সাথে সাথেই বলে। কোন সময়? আমি মনেই করতে পারি না। আমার হাঁটু ব্যথা হয়, এইটা ঠিক আছে। কিন্তু পা ত ভাঙে নাই। আমি কই, না, না, পা ভাঙে নাই আমার; আমি মারা যাইতে পারি এর আগে, এইটা পসিবল যে আবার জন্মাইলাম; কিন্তু এইটা কখনোই ঘটে নাই। এমনকি গতজন্মেও না। শি তাকায় হঠাৎ কইরাই আবার। মনে করার ট্রাই করে, গত জন্মের কথা? সিরিয়াস শে। কয়, হ, আমি এমনেই বলতেছিলাম। ওর বলাটা আমি শুনতেই পাই নাই। বা শে বলেই নাই কোনকিছু। আমি আমার পা দুইটা হাতে নিয়া বইসা থাকি। শি’র বইসা থাকার ভিতর। ভাবনার ভিতর।

 

আরো পড়তে পারেন

ঋতুচিহ্নগুলি
  একজন কবি বিশেষ একজন, এই কারণে না যে, তার গোপন একটা কিছু আছে, যা ...
কবিতা লিখতে বসছি
  পৃথিবীর সমস্ত কবিতা রি-রাইট করতে চলিয়াছি। তোমার ভাষা-ভঙ্গিমারে পাল্টাইয়...
জীবনানন্দ’র ‘সমারূঢ়’ নিয়া
  জীবনানন্দ’র এই কবিতা নিয়া কথা বলতে হইতেছে ফেইসবুকের একটা  আলাপের কারণে; কোনএ...
কবিতা: জুন, ২০১৭
লাস্ট ক্যাকটাস অহেতুক একটা ইল্যুশনের মতোন পইড়া আছি আমি রিয়ালিটির দরজার পাশে তোমার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *