দুইটা খবর

Brief_0

দুইটা খবরের দুইটা লাইনে চোখ আটকাইলো, মানে ভাবা লাগলো (ভাষা বাল, রেটরিকে ভরপুর!)।

একটা হইলো, ঢাকা ট্রিবিউনের। http://bit.ly/29MCu8F। উদিসা ইমনের শেয়ারটার কারণে দেখলাম। ওইখানে, একজন কইতেছিলেন, “ছাত্র পরিচয় দিয়েছিল, দেখতেও ছাত্রদের মতোই।“ মানে, একটা লুক আছে, যেইটা দিয়া আপনি বুঝতে পারবেন উনি ছাত্র, উনি গার্মেন্টস ওয়ার্কার, উনি সাংবাদিক, উনি ব্যাংকার, এইরকম…। লুকটারে নিতে পারলেই কিন্তু হইলো, আবার ছাত্র হইয়াও ছাত্র’র মতো না দেখানোর কারণে আপনি ছাত্র নাও হইতে পারেন। আর ছাত্র হইলে যে জঙ্গী হইতে পারবেন না, এইটা তো সবাই বিলিভ করে। মানে, ট্রুথের চাইতে ট্রুথের পারসেপশনটাই জরুরি সবসময়। আমি ভালোমানুষ, তার চাইতে জরুরি হইতেছে নিজেরে ভালোমানুষ দেখানোটা। দ্যান, ইটস ডান। এইরকম দাড়ি দেইখা রাজাকার বানাইছি আমরা, জিন্স দেইখা স্টুডেন্ট বানাইতেছি, লুঙ্গি দেইখা রিকশাওলা। এই বানানো (প্রটোটাইপ) রিয়ালিটি থিকা বাইর না হইলে রিয়ালিটিরে দেখতে পাওয়ার চান্স আসলেই অনেক কম।

Continue reading

জুলাই ০৭, ২০১৬।

Bangladesh-Police-Job

লোকেশন বেশিরভাগ সময়ই একটা ফ্যাক্টর। ঢাকায় থাকলে টিভি-নিউজ দেখাই হয় না। বাড়িতে ইফতারের পরে কিছুক্ষণ টিভি দেখাটাই একটা কাজ। ঢাকায় থাকলে দেশি বিদেশি নিউজপোর্টালের খবর বা ফেসবুক ফ্রেন্ডদের কমেন্টারিগুলি নিয়া ভাবতাম; বা যদি নিউইয়র্কে থাকতাম তাইলে পার্টিতে শোনা লোকের কথারে হয়তো বেশি পাত্তা দিতাম।

তো, কয়েকদিন আগে টিভি’তে দেখলাম, পুলিশদের একটা মিটিংয়ে পুলিশদের লিডার’রা বলতেছিলেন যে, সোশ্যাল-মিডিয়া’য় যারা টেররিস্ট/জঙ্গী নিয়া কথা-বার্তা বলেন, উনারাই ওদেরকে এনকারেজ করতেছেন; উনাদেরকে এখন থিকা কড়া নজরদারিতে রাখা হবে, শাস্তি দেয়া হবে, এটসেটরা। একটু ডরাইলামই। কারণ মাস অডিয়েন্সের ভিতর থিকা পটেনশিয়াল ক্রিমিনালরে আলাদা করতে না পারাটারে উনারা উনাদের ‘না-পারা’ বইলা ভাবেনই নাই! উনারা ভাবতেছেন পাবলিকের ডিজ-অবিডিয়েন্স বইলা! এইভাবে উনারা নিজেরাই যে ক্রাইম করতেছেন – এইরকম ভুল উনারা কখনো ভাবতে পারবেন বইলাও মনেহয় না। Continue reading

~ ফেইক ইজ দ্য রিয়েল ‍‍ ~

77a1594aa9c3b512c0681becacf8ebdf

ফেইক করতে পারাটাই আসল।

এইটা মনে হইতেছিল গতকালকে, মনুর সাথে কথা বলার সময়; আজকে সকালে ওয়াসিউল ভাইয়ের কথা শুইনাও মনে হইলো। কনটেক্সট দুইটা ডিফরেন্ট।

পলিটিক্যাল সিচুয়েশন নিয়া মনু যখন বলতেছিলেন, তখন আমি বলতেছিলাম গণজাগরণ মঞ্চ এখন কিভাবে খালি গর্ভমেন্টের না বরং ‘প্রতিবাদী জনতা’র পারপাস সার্ভ করে। ফেইসবুকের মতোই অনেকটা। আপনারে একটা রিলিফ দেয় যে, প্রতিবাদ তো করছি আমি! একটা বাজে টাইমে বাঁইচা আছেন আপনি, গর্ভমেন্ট অনেক অন্যায় করতেছে দেখতেছেন, ‘মানুষ’ হিসাবে আপনার তো এইটা একটা প্রতিবাদ করা দরকার; গর্ভমেন্টও চায় এই ‘প্রতিবাদ’টা আপনি করেন, তাইলে আপনার মেজাজ-মর্জি একটু ভালো থাকবো, ‘উন্নয়নের কাজে’ মনযোগ দিতে পারবেন; তো, জয়েন গণজাগরণ মঞ্চ। যা কিছু করার অপশন আপনার ছিল, সেইটা তো করতেই পারলেন এবং সেইফও থাকতে পারলেন। এফেক্টিভ হওয়াটা ইর্ম্পটেন্ট না, ইর্ম্পটেন্ট হইলো নিজের ইমোশনরে চ্যানেল আউট করতে পারাটা। নিজের কাছে ফেইক করতে পারাটা হইতেছে আসল; তখন ফেইকটা রিয়েল হইতে পারে, পারফেক্টলি। আওয়ামী লীগ গর্ভমেন্ট যে মিলিটারির গর্ভমেন্ট (ইভেন ব্যবসায়ীদের গর্ভমেন্টও না, পাবলিক তো দূর কি বাত) এইটা দেখবেন বিএনপিও বলতে পারে না। পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে এই ফেইকটা উনাদেরকেও করতে পারতে হয়। Continue reading

দ্য অ্যাক্ট অফ সাইলেন্স

The-look-of-silence

পিপল, যাঁরা পলিটিকস করেন, পলিটিকস নিয়া খুববেশি কথা বলতে রাজি না।

যেইটা আমি করতেই পারি, সেইটা নিয়া বলার কি আছে বা যেই আর্ট আমরা করি সেইখানে এই বলাবলিগুলির কোন মিনিং নাই, থাকতেও পারে না। এইগুলা তো আমি করি-ই! যা করি, সেইটা নিয়া আর্ট করার কি আছে! আর্ট হইলো যা যা আমি করতে পারতাম কিন্তু করি না বা করার কথা ভাবি কিন্তু কাউরে কইতে পারি না। যেইটা বলতে গিয়া বলা গেলো না বা বলা গেলো না-বলার ভিতর দিয়া, সেইটাই আর্ট। একটা তো আছে যে পারা যায় না, কিন্তু না-পারাগুলারে ইনভেন্ট করাও পসিবল। আর্ট আসলে খুবই হেল্পফুল একটা টুল নিজের পারসোনাল বেদনার ভিতর পাবলিক ক্রাইমটারে হাইড করার লাইগা। একজন এরিয়া কমান্ডার কি দুর্দান্তভাবে বিরহের গানটা গাইতেছিল! এর উল্টাটাও হইতে পারে একটা পারসোনাল গিল্টরে/প্লেজাররে একটা গ্রেটার পলিটিক্যাল আইডিওলজির ভিতর নিয়া ফালাইয়া দিলাম। এই উদাহারণটা কিছুটা আছে যখন আঙ্কেলটা বলে যে, আমি তো আমার ডিউটি করতেছিলাম, আমি কি করবো! ডিউটি করার মধ্যে তো কোন প্লেজার নাই বা প্লেজার থাকলে সেইটা ডিউটি হইতে পারে না আর!

যা কিছু নাই, সেইটাই আছে খালি; আর যা কিছু আছে, সেইটা আর্ট তো না-ই, আর্টের মিমিক-ই। Continue reading

মাইগ্রেশন অফ অ্যান ইমেজ

drowned-migrant-boy-daily-mirror-front-page

মরে যাওয়া যে এইরকমের স্মুথ এইটা বিলিভ করতে খারাপ লাগে আমার, মে বি আমরা’রও। মানে, প্রসেস তো একটা আছে, সেইটা দেখি নাই, কিন্তু ইমাজিন করতে পারি, আর এই কারণে বুঝতে পারি কি রকমের বীভৎস একটা ব্যাপার, এই শান্ত, স্মুথ একটা রেজাল্ট, এই মরা’র ছবিটা। কতো কষ্ট নিয়া মরছে সে, তারপরে শান্ত একটা ছবি হইতে পারছে।

আরো কয়েকটা জিনিস ক্লিয়ারলি বুঝতে পারছি, এইখানে কমিটি আছে রিয়ালিটি’রে ডিফাইন করার; যে কি কি আমরা দেখতে পারি আর কি কি আমরা দেখতে পারি না, দেখতে পারলেও দেখার দরকার নাই… আছে না, ভাই, আমার খারাপ লাগে, আমার ওয়ালে শেয়ার কইরেন এইসব; মানে, না দেখতে চাওয়ার পাশাপাশি কি দেখবো না আমরা আর কখোন দেখবো এই বিষয়গুলা ডিসিশনেরই একটা বিষয়। এর মধ্যে একটা ডিসিশান হইলো যে, মরে যাওয়া শিশুটির মুখ কোনদিন দেখবো না আমরা। একটা পত্রিকা বেশ মজার, মুখটারে যে ব্লার করছে, সেইটাও শো করছে আবার। Continue reading