কবিতা: জুলাই, ২০১৯

67475797_10156296403607093_4990748746661756928_n

রেইনবো

ভণিতার লগে পথ হাঁটলাম,
বললাম, “বৃষ্টির পরে রাস্তায় হাঁটতে আরাম…”

ভণিতা হাসলো তখন,
অল্প একটু রইদের মতোন

যেন কোন অরিজিনালিটিরই আর কোন দরকার নাই
আমরা বুঝলাম,

একটু কথা বলার পরে আমরা ভাবলাম
অনেক অনেক নিরবতাই তো ভালো,
একটা সকালবেলার


মরা কুয়ার কাছে

একটা জিনিস মনে না রাখার লাইগা
অনেককিছু ভুইলা থাকতে চাইতেছি আমরা

মরা কুয়ার কাছে গিয়া বইলা আসতেছি,
“ভুইলা যাইও না!”


আমাদের আকাশের মেঘ

আমি তোমারে দেখবো না,
তোমার পাশে বইসা দেখবো, আকাশে মেঘ

কালো একটা স্লেটে শাদা চক দিয়া কিছু একটা লেখার পরে
মুইছা দিলে যেইরকম ঝাপসা, গ্রে একটা কালার
হয়া থাকে; আমরাও এইকরম
কথা কইতে থাকবো, আর
আমার পাশে বইসা তুমি দেখবা, আকাশে মেঘ…

তুমি আমারে দেখবা না, বলবা “মেঘ
একদম তোমার মতোন, এতো মিথ্যা কথা
কয়!”
Continue reading

কবিতা: জুন , ২০১৯

20150303_130129

ভুইলা যাওয়ার মতোন

ভুইলা যাওয়ার মতোন তোমারে মনে রাখি,

মনে রাখি, যেইভাবে একটা গাছের ছায়া
মিইশা থাকে, অন্ধকারে।


ভূত টূত

ভোঁতা ভোঁতা কথাগুলা
ভূত সাইজা বইসা থাকে…

ভূত টূত
আছে তো কিছু, তাই না?
আমি বলি

হাসে শে,
ভূতেদের কথা বিশ্বাস করে না।


সিন্ডেরেলা 

…তারপর, দরজার বাইরে পড়ে আছে তোমার অনেকগুলা জুতা, কাদা-মাখা

Continue reading

কবিতা: মে, ২০১৯

27545250_10155137762342093_218746176031998506_n

মুহূর্তের কণা

মুহূর্তেই উইড়া যাবে বেদনা;
মুহূর্তেই আরেকটা কণা খুঁইজা পাবে তোমারে

তুমি বলবা, “অইসব তো পুরানা কথা…
আমি মনেও রাখবো না!”

কণাগুলা জমতে থাকবে,
আরেকটা অবয়ব আসবে, তারেও
বলবা তুমি, “ভুইলো না আমারে!”

একই মেমোরি আমাদের, একই রকম ভুইলা-যাওয়া
একটা মুহূর্তেরই ভিতর উইড়া যাবে, যেন কোন বেদনা

 

ধর্ম

ইসলাম আসার পরে পৌত্তলিকদের ধর্মের মতোন ভুইলা যাইও আমারে তুমি

 

মরণের মতোন সামান্য দূরে থাকো

মরণের মতোন সামান্য দূরে থাকো,
খালি একটা দম মিস হইতে পারে যেমন
কোন কারণ ছাড়াই

থাকো নিয়তির মতোন
যে কোন মুহূর্তেই ঘটতে পারার মতোন একটা বাস্তবতা যেমন
নাই বইলাই আছে
আর তার থাকতে পারার ভিতর না-থাকাটা প্রোলঙ হইতে হইতে একটা রাতের মতোন ভোর হইতে হইতে নাই হয়া যাইতেছে

আমি ভাবললাম, এইরকম কোনকিছু থাকতেই তো পারে!
তুমি বললা, যা কিছু নাই, যা কিছু ছিলো না, কোন না কোন কারণ নিয়াই আছে…

আমি অবিশ্বাসীদের মতোন স্থির হয়া থাকি একটা না-থাকার বিশ্বাসে
একটা নারিকোল গাছের ছায়া ধীরে ধীরে স্পষ্ট হইতে থাকে, বাতাসে
কাঁপে

একটা কনফিউশনের মতোন থাকতেই থাকে
আমাদের না-থাকা একটা বিশ্বাসীদের মনে…

Continue reading

কবিতা: এপ্রিল, ২০১৯

51459842_2215996628658337_7003827187044319232_n

সিনেমাহলে

তফাতে যেন কেউ নাই
যেন কেউ একটু দূরে সইরা গিয়া বাঁইচা থাকতেছে না;
আছে তো, থাকেও

তাদের কথা যখন মনেহয়,
মনেহয় মেমোরি’র মতোন, ছায়া’র মতোন

ছুঁইয়া দেখা যায়, অথচ
তারা নাই আর কাছে, আছে
দুনিয়াতে, অন্য কারো’র
ভিজিবিলিটি’র কাছে
অন্য কোন অডিয়েন্সের সামনে

আর আমার চোখের সামনে কালো পর্দা

সিনেমা শেষ
অথবা অন্য একটা শো
শুরু হওয়ার আগেই চইলা আসছি আমি

প্রজেকশনের রে কখোন পড়বে!
আমি ওয়েট করতেছি
একলা একটা সিনেমা হলে

যারা দৃশ্যের ভিতর, সিনেমার ভিতর চলে গেছে
তারা আর ফিরা আসতেছে না

তবে, আসবে
কালো পর্দাটা সইরা যাবে
একটা প্রজেকশন রে পড়বে
আমি দেখবো, মানুষ
আরে, অরা তো আছে!

আমার সামনে আর একটু দূরে
বাঁইচা থাইকা যাইতেছে

আমি অডিয়েন্স,
আমারে অরা দেখতেছে না, কিন্তু
ভাইবা নিতে তো মনে হয় পারতেছেই
আমি বা আমার মতোন অন্য কাউরে

আর
আমি সিনেমা দেখবো বইলা বইসা আছি
দুনিয়ার একটা সিনেমাহলে

 

চৈত্রের কুয়াশার মতোন

চৈত্রের কুয়াশার মতোন, আননেসেসারি
তুমি আর আমি

শীত শেষে চকমকি গরমের দিন
তারপরেও আমরা থাকতেই চাইতেছি

Continue reading

কবিতা: মার্চ, ২০১৯

51530754_10155938437087093_849805914268499968_o

একটা পাত্থর

একটা পাত্থর সরানোর ট্রাই করতেছি অনেকক্ষণ ধইরা।
পাত্থরটা সরতেছেই না।
অনেকক্ষণ পরে বুঝলাম, পাত্থরটা আসলে নাই।
পাত্থরটা আমি বানাইছি আমার লাইগা।
পাত্থরটা এই কারণে সরতেছেই না।
আমি ভাবতেছি, এইটা তো নাই!
না-থাকা পাত্থরটারে তারপরও আমি সরাইতেই পারতেছি না।

 

নিউমার্কেটের পিছনের রাস্তাটা

রিকশা কইরা আসছি আমরা নিউমার্কেটের পিছনে। পোস্ট অফিস পার হয়া। বিজয় ৭১ হলের সামনে। দুপুরবেলা। চায়ের দোকানগুলি জমে নাই। বিকালের ভীড়ের লাইগা ঝিমাইতেছে প্লাস্টিকের চেয়ারগুলা। আমি ফুটপাতের একটা চায়ের দোকানের টুলে বসলাম। সিগ্রেট’টা ধরাইলাম। রইদ আইসা বসলো আমার লগে। তুমি তো আসতেই পারো। আমি ওয়েট করতেছি। আসলে আমি বইসা আছি একটা পারপাস নিয়া যে, আমি ওয়েট করতেছি। মানে, এমন যদি হইতো আমি একলা একলা চইলা গেছি নিউমার্কেটের পিছনে, দুপুরবেলা বইসা চা খাইতেছি, কোন কারণ ছাড়া। খুবই উইয়ার্ড মনে হইতে পারতো তো! এইজন্য আমি ওয়েট করতেছি। আমি আসছি তোমার সাথে। তুমি তো আসছো তোমার কাজে। একলাও আসতে পারতা। বা কোন ফ্রেন্ড নিয়া। তারপর ধরো, বইসা একসাথে চা খাইলা। বললা, কাজটা তো হইলো না! আরেকদিন আসা লাগবে! আমি ভাববো, এই যে কাজ বলা গেলো, কাম বললে তো সেক্সের কথাই ভাবা লাগতো একটু; একটু হাসি এড়ানো লাগতো। রইদ’টা তখন আমার এই কুটনামি দেইখা মুচকি হাসতে হাসতে সইরা যাইতেছিলো একটু একটু কইরা। আমি দেখলাম, তুমি আসতেছো। কাজটা শেষ হইছে তোমার। আর আসা লাগবে না। আইসা বললা। নিউমার্কেটের পিছনের রাস্তাটারে আমি দেখলাম আবার। রিকশা কইরা ফিরা যাইতেছি আমরা। রাস্তাটা অই জায়গাতেই পইড়া থাকলো। আমার লগে, আমাদের লগে আর তো আইলো না!

 

থাকো!

এইটুক জোর তো করা-ই যায়, আমি ভাবতেছিলাম।
এইটুক জবরদস্তি, থাকতেই পারে মেবি, কনফিউশনের জায়গাটাতে, একরকম।
যেমন শীতশেষের ঠান্ডা বাতাস যাইতে যাইতেই দুইটা দিন থাকতে চাইলো আরো;

তুমি বললা, অসহ্য!

Continue reading