দুইজন ইমরুল হাসান

67746846_10156345988317093_2848659225398214656_n

ক্রিস্তফ কিরোলস্কির একটা সিনেমা। রেভিউলেশন হইতেছে কোন। রেভিউলেশন হয়া গেছে, পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক সমাজ। সমাজতান্ত্রিক হয়া যাওয়ার পরে আমাদের সবার মনে চাপা একটা আনন্দ। আমরা তো ফ্রি এখন। এইরকম।

শহরের মাঝখানে একটা স্কয়ারে লোকজন হাঁটাহাঁটি করতেছে। হাসিখুশি। অফিস টাইম নাই আর। ভেরোনিকাও হাঁটতেছে সবার লগে। হাঁটতেছে শে, আর আরেকটা ভেরোনিকা বাসে কইরা যাইতে যাইতে দেখতেছে তারে।

এইরকম দুইজন ভেরোনিকা আছে দুনিয়ায়। মাঝে মধ্যে যেন উনাদের দেখা হইতে পারে। এইরকম মনেহয়। কিন্তু এইরকম হয় না আসলে। রেয়ারও না। হয়ই না কোন সময়।

আয়নার ভিতর থিকা কেউ বাইর হয়া আইসা কয় না, আমিই ইমরুল হাসান। বোর্হেস লিখেন, আই। তখন উনি বোর্হেস না আর। এইটা জানেন। উনি মিলতে চান। বলেন, দেখছি তো আমি। বা মাঝে মধ্যে দেখা তো যায়!

ভুল আসলে পুরাটাই।

যেহেতু ভুল, অনেককিছু করা যায়, বলা যায়। ভাবা যায়, দুইজন ইমরুল হাসান আছেন। একজন আছেন বইলাই আরেকজন এগজিস্ট করেন, লুকায়া থাকেন, উনারা ইন্টারনালি কানেক্টেড এইরকম না। একটা দুনিয়াতে একজন ইমরুল হাসানের থাকার লাইগা আরেকজন ইমরুল হাসানের দরকার নাই। বা দুইজনের থাকার লাইগা দুইটা দুনিয়া বানানোরও দরকার নাই। একটা ফ্যান্টাসি, একটা রিয়েল। একটা এগজিসটেন্স, আরেকটা ইমাজিনেশন। এই সেই। এইগুলা ভাবতে আরাম। মনেহয়, আমি তো আর খালি আমি না, আমি হইতেছি অন্য কেউও। আর অন্য কেউ বইলাই না আমি! আমি চাইলেই আমার থিকা বাইর হয়া যাইতে পারি। কিন্তু বাইর হই না আর কি! এইরকম প্লেজার আর ভয়ারিজম। নিজেরে দেখার। দেখতে চাওয়ার। আর এই চাওয়াটারেই লম্বা লম্বা করতে ঝুইলা যাইতে পারি না তো আমি! ভাবতে পারি না একটা টানেলের শেষে আরেকজন ইমরুল হাসান আমারেই দেখতেছে!

Continue reading

ফ্রেন্ডস ফরএভার

ফ্রেন্ডস টিভি সিরিজের পোস্টার

এইটা মেইনলি আমার, মনোয়ার আর মৌটুসির একটা সন্ধ্যা-রাইতের একলগে থাকার ছোট্ট একটা কাহিনি। আমাদের এইরকম অনেক ফ্রেন্ডস আছে। আমরা ফ্রেন্ড-বেইজড সমাজ, ফ্যামিলিরে চুদি না। ফ্যামিলি একটা মুখোশ, একটা ভান, একটা প্রতারণা। আমরা এইগুলার মধ্যে নাই। কেউ থাকতে চাইলে আমাদের কোন প্রব্লেম নাই। ফ্রেন্ড তো ফ্রেন্ডই!

আম্মা দেশের বাইরে গেছেন, মেডিকেল ইস্যুতে, সিঙ্গাপুরে। বড় বইন আর তার হ্যাজব্যান্ড গেছে লগে। এইটা মৌটুসি জানতো। শে কইলো, বরিশাল থিকা অর স্পন্সরে একটা ফ্যামিলি আসছে; একটা বাসায় ছিলো, বাসাটা ছোট আর হসপিটালটাও দূরে, আসতে-যাইতে টাকা খরচ হয়, শে চিকিৎসার খরচ দিতেছে, কিন্তু হাত-খরচের টাকা দেয়াটাও বাজে দেখায়, এইজন্য কইলো, দুইটা দিন আমার বাসায় রাখতে পারবো কিনা। অরা একে তো গরিব, ম্যানার অইরকম জানে না, তার উপরে আবার হিন্দুও কিন্তু; মানে, বইলা আমার ঈমানি শক্তি যাচাই করতে চাইলো! :) যেন এমনে হইলে থাকতে দিলাম, গরিব আর হিন্দু বইলা দিবো না। তো, এই চ্যালেঞ্জে তো হার মানা যায় না!

অরা থাকলো, চইলাও গেলো। দুইদিন একরাইত ছিলো। আমি মাসুমের বাসায় গিয়া ছিলাম। অরা দারোয়ানের কাছে চাবি বুঝায়া চইলা গেলো। চার-পাঁচটা আন্ডা-বাচ্চা ছিলো আর দুইজন মহিলা।

মোটুসি তো খুবই খুশি, আমার এই হেল্প পাইয়া। একদিন কইলো, ল চিল করি! তোর লগে তো অনেকদিন দেখা নাই! ঢাকায় নাকি এখন পাব হইছে, মেয়েরাও যাইতে পারে!

মৌটুসির এইটা বেশ মজা লাগে। দুই বছর বিদেশ থাইকা আইসা বেশ বিদেশি-বিদেশি একটা ভাব নিতে পারে। বয়ফ্রেন্ডের লগে ব্রেকাপ হওয়ার পরে অর খুবই বাজে অবস্থা হয়া গেছিল। আয়ারল্যান্ডে চইলা গেছিলো এনথ্রোপলজি পড়তে। ঠিকই আবার পড়াশোনা না কইরা ফিরা আসছে। চিজ একটা। আমি কই, ‘হ, উন্নয়ন হইতেছে তো!’ হাসি আমরা। Continue reading

ইলেকশন

getty-vote_800_109440073-56a71e943df78cf772927c54-1

ইলেকশন নিয়া খুব সুন্দর একটা মেমোরি আছে আমার। সেইটা ক্লাশ সেভেনে পড়ার সময়। আমাদের ক্লাশ টিচার আছিলেন মানিক স্যার। ক্লাশে পড়ানোর সময়টাতে উনার পারফর্মেন্সের একটা ব্যাপার ছিলো, চাবায়া চাবায় অনেকটা ‘শুদ্ধ ভাষায়’ কথা কইতেন, এক রকমের রোল প্লে করতেন, যে উনি টিচার; তখন ওইটা নিয়া একটু খটকা থাকলেও এখন বুঝতে পারি যে, অইটা জরুরি একটা জিনিস ছিলো। মানে, ক্লাশে পড়ানোটা যে একটা পারফর্মেন্সের ঘটনা – এখন তো এইটা বুঝতে পারি। (এই পারফর্মেন্সের ব্যাপারে আরেকটা ঘটনা আছে, যেইটা দিয়া আমি শিওর হইছি, পরে বলতেছি।)

তখন (১৯৮০-এ) স্কুলে ক্লাস-ক্যাপ্টেন হওয়ার নিয়ম ছিলো, ফার্স্টবয় আর সেকেন্ডবয়-ই হবে (হাইস্কুলে পড়ার সময় ক্লাস সিক্স টু এইট ছেলে-মেয়েদের আলাদা সেকশন ছিলো, নাইন থিকা একসাথে)। ক্যাপ্টেনের কাজ তেমন কিছু না, ক্লাস-ব্রেকের সময় কেউ পানি খাইতে বা মুততে গেলে তার পারমিশন নিয়া যাইতে হবে; হোমওয়ার্কের খাতা কালেক্ট কইরা টিচাররে দিতে হবে, বা কোনসময় টিচার না আসলে টিচাররুমে গিয়া জানাইতে হবে; বা টিচার না থাকলে চিল্লা-পাল্লা যাতে কম হয়, এইসব মনিটর করা, এইরকম।

তো, মানিক স্যার কইলেন, এইটা হবে না। ফার্স্টবয়, সেকেন্ডবয় পড়াশোনা ভালো করতে পারে, কিন্তু ভালো লিডার হইতে পারবে – এর তো কোন গ্যারান্টি নাই। আর ছোটবেলা থিকাই ডেমোক্রেসির চর্চা করা লাগবে। ক্লাসের ছাত্ররাই তাদের ক্যাপ্টেন নির্বাচন করবে, টিচার হিসাবে উনি সেইটা করতে পারেন না, ব্যাপারটা অ-গণতান্ত্রিক। তো, ইলেকশন হবে ক্লাসে।

আমরা তো খুবই মজা পাইলাম। কিন্তু কেমনে হবে? উনি ইলেকশনের প্রসেস ব্রিফ করলেন:

১. আজকের মধ্যে ক্যান্ডিডেট ফাইনাল করা হবে। যারা ক্যান্ডিডেট হইতে চায়, স্কুল ছুটির পরে তারা দুইজন সার্পোটারসহ গিয়া স্যার’রে জানাবে। স্যার নাম লিইখা রাখবেন।

২. এক সপ্তাহ ধইরা কথা-বার্তা বলা, বির্তক করা – এইসব করা যাবে। কিন্তু ক্লাসের বাইরে কোন ‘গন-যোগাযোগ’ করা যাবে না। লজেন্স, সিঙ্গারা ইত্যাদি ঘুষ দেয়া যাবে না।

৩. এক সপ্তাহ পরে ক্লাসরুমের টেম্পরারি ব্ল্যাকবোর্ডের পিছনে একটা কাগজে ক্যান্ডিডেটদের নাম লেখা থাকবে, সবাই গিয়া টিক চিহ্ন দিবে পছন্দের ক্যান্ডিডেটের নামের পিছনে।

এইরকম একটা ঘটনা। Continue reading

গল্পের বই: পুরি’র গল্প (সেকেন্ড এডিশন)

Purir-Golpo

২০১৬ সালে এই গল্পের বইটা ছাপাইছিলাম। বারোটা গল্প ছিলো। কিন্তু এখন একটু চেইঞ্জ করার কথা মনে হইলো। পুরান দুইটা গল্প বাদ দিয়া নতুন দুইটা গল্প ইনক্লুড করলাম। আর টেক্সটগুলি অনেক এডিট করা লাগবো আসলে। প্রথম দুইটা গল্পের কিছু এডিট করলাম। পুরাটা এডিট করা হইলে আরেকবার ছাপাবো হয়তো।

………………………….

পুরি’র গল্প

…………………………..

পুরি’র গল্প

অমর প্রেম অথবা আমার প্রেম

ছোট শহরের গল্প

গল্প-লেখকের স্বপ্ন

দঈত আননাহাল

কিছু মায়া রহিয়া গেলো

দুর্গতিনাশিনী

নিম তিতা নিশিন্দা তিতা

যুদ্ধ ও শান্তি

টাইগার

আমার ফ্রেন্ডের বউ

শাহেরজাদী

…………………………………………………..

 

পুরির গল্প

গল্পটা আসলে পুরি’র। চা-পুরি-সিঙ্গারা’র পুরি; সিলঅটি পুরি, উৎপলকুমার বসুর পুরি-সিরিজের পুরি কিংবা অন্য আর কিছুই না। খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা এইটা। চূড়ান্ত অসাফল্যের একটা ইতিহাস, না-পারার একটা করুণ অধ্যায়।

তখন আমার বয়স দশ। ‘শৈশব’ মার্কা জিনিসটা শেষ হইতেছে। একটু একটু টিনএইজ। পাড়ার মাঠ ছাইড়া রেলের মাঠে যাই মাঝে মাঝে। মাঝে মাঝে বাজারে যাই আব্বার লগে। বাজার শেষে রিকশা কইরা দিলে একলা একলা বাসায় ফিরতে পারি। বাজারের টাকা মারতে পারি না। এইরকম সব ঘটনা। মানে আমি বুঝাইতে চাইতেছি যে, আমি তখন আসলে আর শৈশবের ভিতর নাই। কিন্তু আমার সম্পর্কে তখনও পোলা-মাইয়া ভেদ পুরাপুরি ঘটে নাই। নানুবাড়ি গেলে নানা-নানির সাথে এক বিছানাতেই থাকি। একটা বিহ্বল অবস্থার সূত্রপাতও হয় নাই। তখনও আমি টিনএইজ হওয়ার যোগ্যতাগুলির ভিতর দিয়া যাওয়া শুরু করি নাই।

তখন আমি পড়ি ক্লাস ফাইভে। পৌরসভার মডেল প্রাইমারী স্কুলে। আমি বলতেছি আশির দশকের মাঝামাঝি একটা সময়ের কথা। ইংলিশ মিডিয়াম তো দূরের কথা, কিন্ডারগার্ডেন স্কুলও তখন চালু হয় নাই সেইখানে। পৌরসভার মধ্যে নামি প্রাইমারী স্কুল। পৌরসভার বা পুরা উপজেলার ট্যালেন্টপুল বৃত্তিতে এই স্কুলের ছাত্রদের অনেকের নাম থাকে। আমাদের আগের ব্যাচে উপজেলার সাতটা ট্যালেন্টপুল বৃত্তির পাঁচটাই এই স্কুলের ছিল। গল্পের এবং স্কুলের সাফল্যের সীমানা এই পর্যন্তই। এরপর থিকা আমার  অধ্যায়, ব্যর্থতা আর অসাফল্যের গাঁথা। সেই ইতিহাসের বলি এইবার।

আমি যখন ক্লাস ওয়ান থিকা ফার্স্ট সেকেন্ড হওয়ার কম্পিটিশনের ভিতরে ঢুকি, সম্ভবত  তখন থিকাই ফার্স্ট হওয়ার প্রতি আমার এক ধরনের ডরই বলা লাগবে এখন, সেইটা ছিল। কারণ আমি কখনোই ফার্স্ট হইতে পারতাম না, স্পেশালি ফাইনাল পরীক্ষায়। যখন ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টু তে উঠি, ভুল করার সম্ভাবনা আমার খুবই কম আছিলো, আম্মা-আব্বা, বিশেষ কইরা বড় ভাইয়ের কারণে। এরপরেও আমি ফার্স্ট হইতে পারি নাই। কারণ আমার হাতের লেখা যথেষ্ঠ পরিমাণ খারাপ হওয়ায়, একই নম্বর পাওয়ার পরও  আমাকে সেকেন্ড ঘোষণা করা হয়। তবে রোল নম্বর আমার ১ থাকে, বি সেকশনে। ক্লাস টু থিকাআমি ফোর্থ হইয়া ক্লাস থ্রিতে উঠি, পরিবারের নানা কটুবাক্য সহ্য কইরা এবং নিজের দিক থিকা কোনোরকম গ্লানি ও জটিলতা ছাড়াই। থ্রি থিকা ফোর-এ ওঠার সময় আবারও সেকেন্ড হই, নিজের দিক থিকা কোনোরকম গ্লানি ও জটিলতা ছাড়াই। কিন্তু পরিবারে কিছুটা শান্তি আসে এবং পাশাপাশি এই জিনিসটা এস্টাবলিশ হয় যে, এই ছেলে কখনোই ফার্স্ট হইতে পারবো না। কেননা, ফার্স্টের সাথে আমার ব্যবধান ছিল বিশাল। আর ফার্স্টওলাও আমার উপর খুব খুশি এইরকম সেকেন্ড পাইয়া। আর আমিও জেলাস হইতে পারি নাই। এইরকম খুশি খুশি ফার্স্ট-সেকেন্ড আমার ধারণা খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু ট্রাডেজিটা ঘটে তার পরেই। এই কম্পিটিশন না থাকাটা ফার্স্টের বাপ-মা মানতে পারে না, একই ঘটনা ক্লাস ফ্লোরে ওঠার সময় ঘটলে উনারা তারে কাছের হাইস্কুলের প্রাইমারী সেকশনে দাখিল করেন, আরো কম্পিটিশন মোকাবিলা কইরা হাইস্কুলের ভবিষ্যত প্রতিযোগিতার জন্য যোগ্য করার লাইগা। কিন্তু বিপদ হয় স্কুলের এবং আমার। আমি ফার্স্ট হতে পারি না আর ভালো স্কুলের প্রতিনিধিত্ব করার মতো মেরিট ছাত্র আর খুঁইজা পাওয়া যায় না। তার উপরে ভয়, যদি আমাকে কাট দেওয়ার প্ল্যান করেন, আমার বাপ-মা। কিন্তু আমার ফ্যামিলিতে তখন স্বস্তির হাওয়া, এইবার তো অন্তঃত ফার্স্ট হতে পারবে! কারণ ক্লাসে থার্ড বা ফোর্থ বইলা কাউরে খুঁইজা পাওয়া ছিল আরো মুশকিল। কিন্তু যথারীতি আমি ফার্স্ট হইতে ব্যর্থ হই, প্রথম সাময়িকী পরীক্ষায়। কারণ তখন উত্থান ঘটে নারীবাদের। দুই দুইজন নারী আমার সাথে ফার্স্ট  হওয়ার লড়াইয়ে চইলা আসেন। একজন ফার্স্ট এবং একজন থার্ড হন। তারা কম্পিটিশন জাগায়ে তোলেন। যেহেতু তারা মেয়ে, আমি খুব একটা মাইন্ড করি না, কিন্তু একটু একটু খারাপ লাগে যখন লোকজন বলে যে, শেষ পর্যন্ত মেয়েদের তলে পড়লি! সম্ভবত তখন থিকাই আমার মধ্যে নারীবাদের প্রতি সহানুভূতি জাগতে শুরু করে, পাল্টা যুক্তি দিতে গিয়া যে, মেয়েরা কী ছাত্র না! ওরা ফার্স্ট হইতে পারবে না কেন? কিন্তু এই যুক্তি আমাকে শান্তি বা স্বস্তি কোনোটাই দিতে পারে না। এর পরিত্রাণ হিসাবে পড়াশোনার চিন্তা খানিকটা বাদ দিয়া আমি খেলাধুলায় মন দিতে শুরু করি। মোটা দাগে, পরিস্থিতিটা এইরকম। আর তখনই খবর আসে যে, ইন্টারস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, উপজেলায়। এই প্রতিযোগিতাকে সামনে রাইখা আমি দুইটা খেলায় পারদর্শিতা অর্জনের চেষ্টা করি। একটা হইতেছে একশ মিটার লম্বা দৌড় আর সেকেন্ডটা হইতেছে অংক দৌড়। প্রথমটা ব্যাখ্যা করার কিছু নাই। কিন্তু দ্বিতীয়টার নিয়মগুলি সর্ম্পকে একটু বলি। প্রত্যেক প্রতিযোগীর হাতে একটা খাতা এবং কলম থাকবে। মাঠের মাঝখানটাতে ব্ল্যাক বোর্ডে একটা অংক দেয়া থাকবে। বাঁশি ফু দেয়ার সাথে সাথে প্রত্যেক প্রতিযোগীকে দৌড় শুরু করতে হবে। ব্ল্যাকবোর্ডের কাছে গিয়ে অংকটা দেখে, তার সমাধান করার পরে বাকি মাঠ দৌড় দিয়া শেষ করতে হবে। যে অংকটা ঠিকভাবে কইরা সবচেয়ে আগে দৌড়ে শেষ মাথায় পৌঁছতে পারবে,  সে ফার্স্ট হবে। মানে, কেউ আগে দৌড় শেষ করতে পারে, কিন্তু অংক ভুল হইলে কোনো লাভ নাই। প্রতিযোগিতায় ভালো করার মূল শর্ত দুইটা, ভালো দৌড়াইতে পারতে হবে আর দ্রুত অংক করতে জানতে হবে। আমি যেহেতু একটু দৌড়াতেও পারি এবং সেকেন্ড হওয়ার অভ্যাস আছে, আমার জন্য এই খেলায় ভালো করার সব সম্ভাবনাই ছিল। আর সত্যি সত্যি সেটা হইছিলোও। স্কুলের মধ্যে প্রাকটিস করার সময় দৌড়ে ফার্স্ট বা সেকেন্ড হতে শুরু করি; আর অংক দৌড়ে স্কুলে ফার্স্ট তো আমি হই-ই, কিন্তু সেকেন্ড আর খুঁইজাই পাওয়া যায় না। দেখা যায়, আমি অংক-দৌড় শেষ কইরা, কল থিকা পানি খাইয়া ফিরা আসার পরেও যারা দৌড় শেষ কইরা আসছে, তাদের অংক পরীক্ষা কইরা সেকেন্ড বাইর করার প্রক্রিয়া চলতেছে। প্রতিটি খেলায় প্রতি স্কুল থেকে দুইজন করে অংশ নিতে পারবে। আমি একশ মিটার লম্বা দৌড় এবং অংক দৌড়-এর প্লেয়ার। কিন্তু আমাদের স্কুল থেকে অংক দৌড়-এর জন্য সেকেন্ড আর কাউকে পাওয়াই গেলো না। তাই আমিই একমাত্র। আমি খুবই খুশি হয়ে উঠি আমার নিজের কিছু করার মতো এই জায়গাটা পাইয়া। ভবিষ্যত সাফল্যের স্বপ্ন দিনে এবং রাতে সবসময় দেখতে শুরু করি। পরিকল্পনা করতে থাকি কী কইরা আমি আরো দ্রুত দৌড়াইতে পারি, দৌড়টা কীভাবে শুরু করবো, অংক করার সময় কোন ভঙ্গিতে বসতে হবে, ইত্যাদি। আর অংক তো আমি পারিই। ফার্স্ট হই বা সেকেন্ড হই অংক পরীক্ষায় হায়েস্ট মার্কস আমার থাকেই। মেয়েরা এতটা ভালো অংক করা তখনও শেখে নাই। দেখতে দেখতে একসময় প্রতিযোগিতার দিন চলে আসলো। প্রথমে পৌরসভা এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রতিযোগিতা হবে, তারপর উপজেলা পর্যায়ের খেলা। আমরা জানতাম যে, পৌরসভার প্রতিযোগিতাটা আমাদের স্কুলেই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর ঘটলো না। কারণ আমাদের স্কুলের মাঠটা আবার ঈদগারও মাঠ। খেলাধুলার প্রতিযোগিতা করে সেই মাঠ নষ্ট করা যাবে না। তাই অন্য আরেকটা স্কুল ঠিক করা হইলো। যদিও সেই মাঠটা ছোট। আমরা সকাল নয়টার মধ্যে সেখানে পৌঁছে গেলাম। সব মিলিয়ে আট দশটা খেলা হবে হয়তো। কিন্তু আমার অন্য কোনো বিষয়েই মনোযোগ নাই। শুধুমাত্র আমার নিজের দুইটা খেলা ছাড়া। Continue reading

গল্পের বই: ২০৪৬

tonyziyi2

“Everyone who goes to 2046 has the same intention, they want to recapture lost memories. Because in 2046 nothing ever changes. But, nobody knows if that is true or not because no-one has ever come back.”

  • 2046, Wonk kar wai.

—————————————-

১.
বেশিরভাগ গল্প ২০৪৬’র টাইমটারে প্রজেক্ট কইরা লেখা। দুয়েকটা গল্প বাদ দিয়া। তো, ২০৪৬-তে বাঁইচা থাকবো না আমরা, যাদের বয়স ৪০ ক্রস করছে; আর বাঁইচা থাকলেও ওইরকম বোধ-বুদ্ধি থাকার কথা না। বা এখনকার ২০৪৬’র যেই কল্পনা ওইটা ততদিনে আর ভ্যালিডও থাকার কথা না। মানে, ফিউচার বলতেছি না আমি কোন। নিয়ার ফিউচার নিয়া গল্পই লিখছি। আর সেইটা সবসময় অন্য একটা ঘটনাই। যখন ২০৪৬ অ্যাপিয়ার করবে, ২০৪৬-এর গল্প ইনভ্যালিড হইতে পারার কথা।

২.
একটা তো হইলো যে, এইভাবে টাইম’রে জানা যায় না। টাইম ব্যাপারটা এগজিস্ট করে মনেহয় এইরকম পিছলায়া যাওয়ার ভিতরেই। আমি ভাবতেছি আর আমার ভাবনাটা জেন্ডার বায়াসডই। এখন যেমন একটা ব্যাপার হইতেছে যে, ছলা-কলা (সিডাকশন) না জানলে ফিমেইল হওয়া যায় না বা দেখো, ছলা-কলা থাকার পরেও আমি ফিমেইল হইতে পারি! আছে কিনা জানি না, আমি ভাবতে পারি আর কি! মানে, এইটার থাকার দরকার নাই। প্রজেক্ট কইরা কইরাই তো রিয়ালিটি বানায়া ফেলতে পারি আমরা। তো, তখন হ্যাভিং ছলা-কলা বিকামস একটা ইন্ট্রিগ্রাল পার্ট অফ বিয়ং অ্যা ফিমেইল। এইরকম ছলা-কলা’র জায়গায় একটা বেদনা না থাকলে বেটা হওয়াটাও টাফ হওয়ার কথা এখন বা ইন ২০৪৬-এ এইটা আরো ভিজিবল হয়া উঠার কথা। বা না হইলো, আমি যেহেতু স্যাড হইতে চাই, স্যাডিস্ট হওয়াটা পসিবল না আর। ভাবলাম একটু এইরকম।

৩.
এলিট কমলকুমার কইছিলেন, ‘ঘটনা ইজ নট গল্প।’ উনার মাড়-ভাতে আঙুলও ডুবতো না। এই গল্পগুলির ঘটনাগুলি এতোটা যুইতের হইলো না – এই আক্ষেপ মনেহয় আমার থাইকাই যাবে।

—————————————–

১. জয়-বাংলা
২. দুইটা মিথ্যা গল্প
৩. আমি আর আমার ছোট বইন
৪. ২০৪৬
৫. স্বপ্নের গরুগুলি
৬. ডার্বিলানস
৭. আন-নোন
৮. মেমোরি
৯. বিবাহিত

—————————————-

Continue reading