কাভার সং

hqdefault

হাসান-এর গানের কয়েকটা কাভার শুনলাম, পরে পুরানটা শুইনা মনে হইলো, উনারটাই বেটার।

হাসান-এর তো ইজ্জত কম-ই, বাংলা-গানে (জেমস, মাইলস, এবি’র তুলনায়ও)। আমার ধারণা, কপি করার কারণেই। উনাদের প্রথম গানের ক্যাসেটের নাম-ই তো ছিল, কপিয়ার। কপি করা, নকল করা – এইগুলা ঠিক ক্রিয়েটিভ কোন কাজ না। কিন্তু উনি যখন গান গাওয়া শুরু করলেন সেই টাইমে আমরা যারা কোচিং সেন্টারে ইংরেজি শিখতাম, ওরাও ইংরেজি গান পুরাটা বুঝতে পারতাম না। এই কারণেও হাসানের গান শুইনা ভাল্লাগতে পারে। অবশ্য যে কোন চেইঞ্জেই কোন না কোন ক্রিয়েশন তো হয়। একজনের কথা আরেকজন কইলেও, কারণ আমাদের খেয়াল তো থাকে মিনিংয়ের দিকে, যার ফলে আরেকজন বলা মানে কনটেক্সট’টা একটু হইলেও চেইঞ্জ হওয়া, মিনিংটা না পাল্টাইলেও, একটু পিছলাইয়া যাওয়া…।  লিখিত-সাহিত্যে এইজন্য অনুবাদ বাজে কোন জিনিস না। একজন রাইটার তো আছেনই, তারে মাইনা নিয়াই আরেকজন লিখতে পারেন সেইটা। গানের ক্ষেত্রে এইটা শুরু হইতে বা মাইনা নিতে টাইম লাগছে, কনটেম্পরারি এরিনায়। ‘ফোক’ বইলা যেই জেনর’টা আইডেন্টিফাইড সেইখানে সবসময়ই এইটা চলছে বা ব্যাপারটা ডেভলাপ-ই হইছে এইভাবে। ওনারশিপের ঝামেলাটা মে বি রিলেটিভলি কম।

Continue reading

আজম খান নামের ঘটনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই

আজম খান

১.

বাংলাদেশ মানে যে ঢাকা শহর – এই সাংস্কৃতিক পরিচয় উৎপাদনই আজম খান-এর মূল কৃতিত্ব। আজম খান-এর আগে (তার সময় এবং এখনো প্রায়) আসলে বাংলা-সংস্কৃতি ছিল (বা আছে) কলকাতা-কেন্দ্রিক হয়া। বাংলাভাষার জনপ্রিয় গানগুলি উৎপাদিত হইছে ওইখানেই; শচীন, হেমন্ত, মান্নাদে ইত্যাদি। এর বাইরে যদি কাজী নজরুল ইসলাম বা আব্বাসউদ্দীন এর কথাও বলেন, উনাদের স্বীকৃতিটা ওই কলকাতা থিকাই আসছে। রবীন্দ্রনাথ এর কথা আর কইলাম না, যেহেতু উনি নিজেই কলকাতা!  আজম খান-এর গানই প্রথম ব্যতিক্রম, যা কলকাতার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী জানায় নাই বা ওই প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিটারে গুরুত্বপূর্ণ কইরা তোলে নাই। তাই উনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানাই। 

 

২.

ত, এইটার প্রতিক্রিয়া বা এফেক্টটাই বা কেমন হইলো? আমার ধারণা অনেকেরই তথ্য আকারে জানা আছে যে, উনার গানরে একসেপ্ট করা হয় নাই, প্রথমে; কিন্তু সময় যত পার হইছে, ‘বাংলাদেশ’ ধারণাটা যতটা প্রতিষ্ঠিত হইছে, আজম খানের গানও তার স্পেস কইরা নিতে পারছে।

তখন (এবং এখনো) তার গানের বিরোধিতাটা ছিল দুইটা জায়গা থিকা: কলকাতা-কেন্দ্রিকতা এবং গ্রাম-বাংলার অনুসারীরা, দুইটা ধারণার লোকজনই তার গানরে নিতে পারে নাই। আসলে গ্রাম-বাংলা বইলা ত কিছু নাই; যা আছে সেইটা পুরানা একটা মিথ, যেইখানে ধারণা করা হইতো যে আছে, সহজ-সরল-স্বাভাবিকতা। আজম খান ‘নগর’ নিয়াই চিন্তিত হইছেন, ঢাকা শহরের গানই তিনি গাইছেন মেইনলি। এইভাবে গ্রাম-বাংলার বাংলাদেশরে তিনি ঢাকা শহর দিয়া রিপ্লেস কইরা ফেলছেন; এইটা একটা ঘটনা, যেইটাতে গ্রাম-বাংলার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হইছেন। কিন্তু তাদের ক্ষিপ্ততাতে আসলে কিছু নাই, কারণ গ্রাম-বাংলা’র কোন সংস্কৃতি তারা নিজেরাও তৈরি করতে পারেন নাই, আসলে গ্রাম-বাংলার নাম দিয়া তারা কলকাতার সফিশটিকেশনরেই সার্পোট করছেন এবং করতেছেন। এর বাইরে এক ধরণের বোকা বোকা গ্রামও উৎপাদিত হইতেছে এখন, টিভি নাটকে।

Continue reading