কবিতা: অক্টোবর, ২০১৮

44840008_10155731943417093_2933735054288879616_n

সাবজেক্ট

“কোন সাবজেক্ট তো নাই,
আসো তোমারে সাবজেক্ট বানাই,” আমি বলি।

“এই নাও তোমার সাবজেক্ট,” তুমি হাসো, ক্যামেরার সামনে একটা অপরাজিতা গাছের বাড়তে থাকা ডালের মতো;

তোমার হাসির ভিতর
পানির ফিল্টারের একটা ট্যাপ
তাকায়া তাকায়া দেখে আমাদেরকে

দুইটা মানুষ গড়ায়া গড়ায়া পড়ে যাইতেছে
একটা সাবজেক্টের চিন্তার ভিতর

কোন কারণ ছাড়াই…

 

আয়না

যে আছে লগে
মনে চায় তারেও দেখি

আরেকটা আয়নার ভিতরে

 

নাথিং

আকাশে উড়তেছে নাথিং
নাথিং নাথিং বইলা
দেখা যাইতেছে না তারে

যেই নাথিং ছিলো না,
সেই নাথিং’রে দেখার পরে
কইলো সে, ‘হ, আমিও দেখছি তো একটু…’

তখন নাথিং
নাথিং নাথিং বইলা
উইড়া গেলো, আবারো

Continue reading

কবিতা: সেপ্টেম্বর, ২০১৮

635057526_81be1e8e2c_b

সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৮

এই অগাস্টও পার হয়া যাবো আমরা
শরতের মেঘ কইলো,
আটকায়া যাইতে যাইতে।

এই শরতের মেঘও মেমোরি হয়া যাবে
অগাস্টের শেষদিন কইলো,
মিউট হয়া যাওয়ার আগে।

 

নাথিং

না-পাওয়া, তোমারেও পাইয়া যাবো একদিন…

মনে হবে তখন, পাওয়া কি আর থাকবো ওইরকম?

যেইরকম আছে এখন, তোমারে না-পাওয়া!

 

তুমি আমারে বুঝাইতেছো

কেমনে যে বুঝাও তুমি,
আর আমি বুঝি, ‘হ, ঠিকই তো, এইরকমই…’

তারপর বুঝতে পারি,
আমি তো বুঝতেই চাইছি, 
কি কি বুঝাইতেছো সেইটা আর
ইর্ম্পটেন্ট না তো!

তুমি বুঝাইতে থাকো, তারপরও
‘এইটা হইলো ওইটা আর
ওইটা ছিলো সেইটা…’

তুমি যে আমারেই বুঝাইতে চাইতেছো,
এইটাই তো ভালো!

এইটার সত্যি-মিথ্যা দিয়া আমি কী করবো…

Continue reading

কবিতা: জুলাই, ২০১৮

36829627_10155488506397093_375765327222407168_n

ডোপামিন

ডোপামিন, তুমি একস্ট্রিম
তোমারে নিতে পারতেছি না আর

ছোট ছোট কিক মারতেছো তুমি
যেন মায়ের পেটের ভিতর বাচ্চা
বাইর হয়া আসতে চায়…

ডোপামিন, লাশ হয়া পইড়া থাকবো একদিন
তুমি তো থাকবা না তখন

‘ডোপামিন, ডোপামিন…’
কাউরেই আমি আর ডাকবো না কোনদিন

শরীরের যন্ত্রণা নিয়া শরীর মইরা যাবে

জীবানু’র মতোন কিলবিল
মেটামরফসিস

প্রজাপতিগুলি শুয়াপোকা হয়া গুটলি পাকাবে

আমার লাশের শরীরে
ডোপামিন, তুমি কি থাইকা যাবা
আরো কয়েকটা দিন?

 

আঙুর

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
আঙুরফলগুলি হাসতে হাসতে পইচা গেলো,
মদ হইলো; সেই মদে মাতাল হইলো বাতাস
আর সে উড়ায়া নিয়া গেলো আরো আরো

আঙুর; মাটিতে জন্মাইলো আরো আরো
আঙুরগাছ, তারাও ছড়াইলো, পচলো…

তোমার ভাবনার ভিতর আমি এক লোভী শেয়াল
থাইকা গেলাম, তবু…

আঙুর ফল, তুমি হাসতেছো এখন, আবারও…

 

কাঁঠাল

গাছে গাছে কতো কাঁঠাল!

অথচ গোঁফ নাই কোন,
তেল দেয়ার…

 

 

সকাল

তোমার পায়ের উপড়ানো নখও নতুন হইয়া উঠবে
আমার শরীরের ফ্যাকাশে চামড়ার সাথে মিইশা যাবে তোমার দাঁতের দাগ

একই রাস্তায় বারবার হাঁটতে হাঁটতে ভুইলা যাবো
কখোন ঘটছিলো যে কি, কোনদিন, রাত তিনটায়…

ইন্ডিভিজ্যুয়াল টেররের ভিতর হারায়া যাবে
সোশ্যাল স্টিগমা

ঘুমের ভিতর দুঃস্বপ্নে চিল্লায়া উঠতে উঠতে
মনে হবে, এইসব কোনকিছুই তো আর ঘটতেছে না!

একটা আয়না,
আয়নার ভিতরে আটকা পড়ে আছি আমরা

বাইর হয়া আইসা হাসতেছি, বলতেছি
“কি যে সব মেটাফোরিক্যাল ব্যাপার-স্যাপার এইগুলি,
সত্যি তো আর না!”

একটা সকাল ডুবে যাইতেছে চা’য়ের কাপে
রইদ জাইগা উঠতেছে রাস্তায়…

যা কিছু আছে, যা কিছু নাই

কই যে ছিলো তারা, আর কই যে যাইতেছে

আমি ভাবতে চাই না আর তুমিও বললা,
“চলো, ভুইলাই যাই!”

অন্য আরো কতো কতো রিয়ালিটি আছে তো দুনিয়ায়

আর আমি ভাবতেছি,
এই একটু রইদের কণা, তোমার চুলের ডগায়
কেনো থাইকা গেলো না, আরেকটু সময়…

 

Continue reading