#ইজতেমা #এয়ারপোর্ট #বাণিজ্যমেলা #বইমেলা #নরমালইজঅ্যাটেরর

Istama-File2018011209030120180113195925

এই জিনিসটা নিয়া কথা বলাটা অনেক রিস্কি, কারণ ব্যাপারটা খুব ডিফাইনড কিছু না। এই কারণে ডিসক্লেইমার দিয়া শুরু করতে চাইতেছি। যে, এইটা কোন পারসোনাল পছন্দ-অপছন্দের জায়গা থিকা বলা না। যদিও এই স্টেটম্যান্ট কোন হেল্প করবে কিনা শিওর না। তা-ও বইলা রাখতে তো কোন সমস্যা নাই।

বেশ কয়েকদিন আগের ঘটনা। দেখার পরেই চোখে পড়ছিলো জিনিসটা (কমেন্টে দিতেছি স্ট্যাটাস’টা), তখনই মনে হইছিলো আবার, যেইটা সবচে বেশি সার্টেন, সেইটাই চোখে পড়ে না। এইরকম। যেমন, আমার মতোন যারা এইটিসে মফস্বলে থাকছেন, দেখার কথা যে, বাসার কাজের লোকদেরকে রিকশায় প্যাসেঞ্জারের ঠ্যাংয়ের কাছে বসানো হইতো, সিটে না বসায়া। এইটা আনইউজ্যুয়াল ব্যাপার ছিলো না কোন। বা আরো ব্রডার উদাহারণের কথা কইলে, আঠারোশো শতকে ইউরোপে শাদা কাপল’রা নাকি তাদের ব্ল্যাক কাজের লোকদের সামনেই লাভমেইক করতে পারতো, যেইরকম বিলাই-কুত্তার সামনে করা যাইতো। মানে, ব্যাপারগুলি সোশ্যাল নর্মসের মধ্যে ‘বাজে’ কিছু না।

এইরকম ইজতেমা’র ব্যাপারটা নিয়া টিটকারি করা বা মকারি করা বা কমপ্লেইন করাও না; এইটা যে একটা হ্যাসেল, ঝামেলা – এইটা জাস্ট বলা; মনে করায়া দেয়া। বাজে কিছু না।

এইরকম ধরেন, বাণিজ্যমেলা নিয়াও থাকার কথা (কম হইলেও, যদিও আমি দেখি নাই খুবএকটা); আর বইমেলা নিয়া মনেহয় কোন কমপ্লেইন নাই। সবগুলি জমায়েতের জ্যাম লাগাইবার ক্ষমতাও একইরকমের না। তারপরেও। এই যে ধরেন, প্রসঙ্গ হিসাবেই বইলা রাখা; এইটারে সবচে ডেঞ্জারাস কিসিমের জিনিস বইলা লাগে আমার কাছে। এইখানে ভিজিবল হেইট্রেটও নাই কোন, ভঙ্গি’টা খুবই নরোম; আর ব্যাপার’টা তো সত্যিও, দেখেন! এই প্রিপারেশন তো নেয়াই লাগে, আমার এয়ারপোর্টে যাইতে হইলে এইরকমই করতে হইতো। কিন্তু এই যে, বইলা রাখা ইস্যু হিসাবে (মানে, উল্লেখ করা, ফেব্রুয়ারি মাস, বাংলা-ভাষা) – এর যে টেরর, ইজতেমা এবং এয়ারপোর্ট-গোয়িং পিপলের যেই ডিসট্যান্স’টা এই বলা’টা ক্রিয়েট করে – এইটারে না-দেইখা থাকতে পারাটা খুবই অসম্ভব মনে হইছে আমার কাছে। মানে, বইমেলা, বাণিজ্যমেলা, ইজতেমা – একই ঘটনা যে না, এইটা তো আমরা জানি। কিন্তু বলার ভিতর দিয়া, ধরেন একটা শব্দ দিয়া বা একটা টোন – অ্যাপ্রিশিয়েট করা, ইগনোর করা বা স্রেফ বইলা রাখার ভিতর দিয়া যেমনে আলাদা করা যায়, এইটা কি আসলেই চোখে পড়ে না? Continue reading

ইন্টারভিয়্যু ফর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

377575_10151220257002093_742719351_n

 

তানিম কবির : কবিতা কেন লিখেন— একজন কবি এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে বাধ্য কি না? যদি বাধ্য নন— তো কেন? আর হোন যদি— আপনার প্রতিও একই প্রশ্ন; কেন লিখেন কবিতা?

ইমরুল হাসান: একজন কবি কবিতা কেন লিখেন সেইটার উত্তর দিতে বাধ্য না। কারণ এই জিজ্ঞাসা আইনের আওতায় পড়ে না। তবে কে প্রশ্ন করতেছেন সেইটার উপরেও নির্ভর করে। যেমন, পুলিশ বা উকিল, থানাতে বা আদালতে জিজ্ঞাসা করলে কবি আইনত বাধ্য মনে হয় (কনফিউশন অর্থে)। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও উত্তর দিতে হয়। এইখানে সেইরকম একটা কিছু অনুমান কইরা উত্তর করতে গেলে বলা যায়: কবিতা লেখাটা একটা বয়সের পরে অভ্যাসই মনে হয় (নিশ্চিতি অর্থে), মাঝে মাঝে অনিচ্ছাতেও হয়তো লেখা যায়।

 

তা. ক. : ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’— এই ‘কেউ কেউ’ বা ‘কারও কারও’ কবি হয়ে ওঠায় ঐশীপ্রাপ্তির কোনও ঘটনা থাকে কি? নাকি পুরো ব্যাপারটাই রেওয়াজ নির্ভর? আপনার কী মনে হয়?

ই. হা.: শিউর না। রেওয়াজেরও ত দরকার আছে। যেমন গজল-গায়ক মেহেদি হাসান একটা ইন্টারভিউতে বলতেছিলেন ব্যায়ামের কথা, যা খুবই দরকারি ‘দম’ বাড়ানোর জন্য। কবিদের ক্ষেত্রে একটা সময় যে ড্রাগসের ব্যাপার ছিল সেইটাও মিথ্যা না। মানে, নানান রকমের রীতি ও রেওয়াজ থাকতে পারে।

অন্যদিকে বাঁইচা যে আছি এবং এখনো যে মরি নাই এইটাও একটা ঐশী ঘটনা, তাইলে কবিতা লেখার ঘটনা বাদ থাকে কেমনে! মানে, ব্যাপারটা পারস্পেকটিভের, যিনি দেখতেছেন তার ব্যাপার; যিনি লিখতেছেন উনার দিক থিকা ব্যাপারটা (ঐশীতা এবং রেওয়াজ-নির্ভরতা) খুব বেশি সিগনিফিকেন্ট কিছু না।

 

তা. ক. : এখনকার কবিদের ছন্দবিমুখতার কারণ কী বলে মনে হয় আপনার? কবিতার জন্য ছন্দের প্রয়োজনীয়তা কতোটুকু? কবিতার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্তারে ছন্দ আপনার কাছে সহায়ক নাকি প্রতিবন্ধক?

ই. হা.: যদি আমি নিজেরে ‘এখনকার কবিদের’ অর্ন্তভুক্ত করি তাইলে আমার নিজের ক্ষেত্রে বলতে পারি পরিশ্রমের অভাব। অথবা এইটা যে খুব দরকারি একটা জিনিস এইটা ফিল না করতে পারাটাও একটা কারণ হইতে পারে।

কবিতায় ত ‘ছন্দ’ এর দরকার আছে। মানে, প্রচলিত ছন্দের (অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত…) কথাও যদি ধরেন।

আমি প্রচলিত ছন্দে ঠিক ইউজড টু না। কিন্তু কেউ হইতে পারলে ভালো। Continue reading

অসম্পূর্ণ বুক রিভিউ…

AA4

অসমাপ্ত আত্মজীবনী। শেখ মুজিবুর রহমান। দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। ২০১২।

 

 “আমি অনেকের মধ্যে একটা জিনিস দেখেছি, কোন কাজ করতে গেলে শুধু চিন্তাই করে। চিন্তা করতে করতে সময় পার হয়ে যায়, কাজ আর হয়ে ওঠে না। অনেক সময় করব কি করব না, এইভাবে সময় নষ্ট করে এবং জীবনে কোন কাজই করতে পারে না। আমি চিন্তাভাবনা করে যে কাজটা করব ঠিক করি, তা করেই ফেলি। যদি ভুল হয়, সংশোধন করে নেই। কারণ, যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না।” (প.  ৮০)

 

সম্পাদনা বিষয়ে

প্রথমত, বইটা আরো ভালোভাবে এডিটেড হইতে পারতো, টেক্সটটা ঠিক রাইখাই। যেমন চ্যাপ্টারগুলার এক একটা নাম হইতে পারতো, পর্ব থাকতে পারতো – বংশ-পরিচয়, প্রথমদিকের রাজনীতি, কলকাতায়, জেল-জীবন… এইরকমের। মানে, তাইলে বইয়ের যে স্ট্রাকচার, সেইটা আরো রিডেবল হইতে পারতো পাঠকের কাছে। সেইটা না হওয়ার একটা কারণ হইতে পারে যে, যে বা যারা সম্পাদনা করছেন তারা হয়তো ভাবছেন যে, এইরকম করলে সেইটা লেখকের টেক্সটের উপর ‘হাত দেয়া’ হইতে পারে। কিন্তু এইটা ভাবতে গিয়া উনার এইরকম একটা টেক্সটরে আরো ভালোভাবে হাজির করার সুযোগটারে নষ্ট করছেন। কারণ এডিটর হিসাবে টেক্সটটারে চেইঞ্জ না কইরাই গোছানোর দায়িত্বটা এডিটর নিতে পারতেন, কিন্তু নেন নাই।

আরেকটা সেনসেটিভ জিনিস হইলো, মূল পান্ডুলিপি’র সাথে বইয়ের টেক্সট’টা কতটুক, কেমনে সম্পাদনা করা হইছে এইটা নিয়াও কোন বাতচিত নাই। পলিটিক্যালি এই জিনিসটা ট্রান্সপারেন্ট রাখতে পারাটা দরকার আছিলো, তা নাইলে সন্দেহ আসলে থাইকাই যাবে।

 

পাকিস্তানের সময়

এই বইয়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব ত আছেই। বইয়ের সময় মোটামুটি ১৯৪০ থিকা ১৯৫৪ পর্যন্ত (শেখ মুজিবুর রহমানের ২০ থিকা ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত), মানে যখন পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হয় এবং যখন শেষ হইতে শুরু করে, পলিটিক্যালি – সেই সময়টার কথা। কিন্তু এর পুরাটাই যে আছে, তা না; এইটা শেষ পর্যন্ত একজন ব্যক্তিরই দেখা, যিনি অনেকদূর পর্যন্ত ইনভল্ভড ছিলেন। যার ফলে ঘটনাগুলা বাদ যায় নাই, যেমন, রাজশাহীর খাপড়া ওয়ার্ডের যে জেল-হত্যা সেইটা সত্যেন সেনের লেখায় খবুই বড় ঘটনা হিসাবে আমরা পাইছি, কিন্তু এই ঘটনা তিনি কিছুটা দূর থিকাই দেখছেন এবং বর্ণনা করছেন। কিন্তু ঘটনার যে বর্ণনা সেইটা উনার রাজনৈতিক যে বিবেচনা, সেইটা দিয়া বায়াসড। আর সেইটাই সম্ভবত মেইন পয়েণ্ট বইটার।   Continue reading