মার্চ ০৮, ২০১৮।

14900326_10153922319272093_862680571465136716_n

এইটা নিয়া ভাবছিলাম কয়দিন আগে ছাত্রলীগের (ছাত্র শিবিরের চাইতেও বাজে একটা নাম হইতে যাইতেছে এইটা…) পোলামাইয়া’রা যখন ঢাকা ইউনির্ভাসিটি’র ভিসি’রে বাঁচাইতে গেলো। তখন মেবি একটা নিউজে আইছিলো যে, ছাত্রলীগের কেউ একজন কইতেছে, কেন তারা (চন্দ্রবিন্দু দেয়া যাইতো, দিলাম না) ‘বাম ছাত্র-সংগঠনের’ (বালের বাংলা-ভাষা) পোলাদেরকে পছন্দ করে না; কারণ, তারা মাইয়াদের সাথে মিশতে পারে, আড্ডা দিতে পারে… মানে, শোয়া বা ফ্রি-সেক্সের কথাই বলতে চাইছে আসলে। মানে, সলিড পোলা হইয়াও অরা এই বেনিফিট পায় না, কিন্তু বেইট্টা টাইপ পোলাগুলি এইটা পায় আর পাইতেই থাকে!

২.
এইটার পয়লা ‘দোষ’ আমি অস্কার ওয়াইল্ড’রে দিতে চাই। উনার একটা ডায়ালগ আছে যে, ‘যারে ভালোবাসে কেউ, সে গরিব কেমনে হয়!’ মানে, ট্যান্জিবল টাকা-পয়সা বা পাওয়ার’রে ইন-ট্যান্জিবল রিলেশনশীপের কম্পিটিটর বানায়া ফেলেন উনি, এইভাবে। অবশ্য রিলেশনও এতোটা ইন-ট্যান্জিবল না আসলে বা টাকা-পয়সা বা পাওয়ার’রে যতোটা টান্জিবল ভাবা যায়। এই ইন্টার-সেকশনটা রিভিল করার লাইগা উনারে মাফ কইরা দেয়া যায়।

কিন্তু যেইভাবে জিনিসগুলি ইন্টার-অ্যাক্ট করে একটা আরেকটার সাথে, সেই জায়গাগুলি ইন্টারেস্টিং। এক তো হইলো পাওয়ার থাকলে এইসব রিলেশন আপনে পাইতেই পারেন; দ্যান আগেরদিনের বাংলা-সিনেমার করুণ ভিলেনদের কথা ভাবেন, যাঁরা (চন্দ্রবিন্দু দিলাম ছদকা হিসাবে) নায়িকা’র শরীর পাইতে গিয়া মন যে আর পাইতে পারতেছেন না, সেইখানে গিয়া তব্দা লাইগা যাইতেন।

এই ‘পাওয়া’র জিনিসটা রিলেশনশীপের জায়গাটাতে আইসা কল্পাস করতেছে না, কিন্তু আরেকটা রুলস অফ গেইমের মধ্যে চইলা আসতে হইতেছে তারে। পাওয়ার সরাসরি অপারেট করতে পারে না আর, রিলেশনশীপে। এই না পারা’টা এক ধরণের ফেইলওর হিসাবে পারসিভ করা লাগে তখন। যার ফলে পাওয়ার এক ধরণের ‘অ্যাক্টিভ উইমেন’-এর ধারণা’রে প্রমোট করতে হেল্প করার কথা। যেইখানে পাওয়ারের নিজেরে আর সিডিউস করতে হইতেছে না, বরং এতোটাই পাওয়ারফুল হয়া উঠতে পারতেছে যে, পাওয়ার’রে সিডিউস করা লাগতেছে। কিন্তু আফসোসের জায়গাটা মেবি এইখানে যে, এনাফ ‘অ্যাক্টিভ উইমেন’ ক্রিয়েট করা যাইতেছে না যারা পাওয়ার’রে সিডিউস করতে আগায়া আসবে; দেহ দিবে কিন্তু মন দিবে না। :)

Continue reading

অন জোকস (১)

বুক কাভার, দ্য জোক

মিলান কুন্ডেরা’র ‘ঠাট্টা’ [এই নামেই অনুবাদ হইছিল বাংলায়, কলকাতার ভাষায়] যখন পড়ি তখন জোকস জিনিসটা বুঝার মতোন বয়স হয় নাই হয়তো, কলেজে ভর্তি হইছি বা পড়ি – এইরকম সময়ের কথা; মানে, বয়স ১৮ হয় নাই পুরাপুরি। এখনো যে সব জোকস বুঝতে পারি – তাও না; বেশিরভাগ সময়ই টাইম লাগে বুঝতে [সত্যি কথা, ফান না এইটা] ।

নভেলের মেইন কাহিনি’র শুরুটা এইরকম, প্রেমিকার কাছে লেখা চিঠি’তে জোকস করতে গিয়া ধরা খায় নায়ক। এইটা যে জোকস, সেইটা কমিউনিস্ট গর্ভমেন্টের গোয়েন্দারা বুঝতে পারে না (এমনই বেক্কল :) ) অথবা জোকস’রে সিরিয়াস অফেন্স হিসাবে ভাবতে পারে অরা। লাভ লেটারে ফ্লার্ট করতে গিয়া ধরা খায় নায়ক-নায়িকা।* তো, জিজেক একটা লেকচারে জোক কইরাই কইতেছিলেন, এই যে মাইনষে হাসি-ঠাট্টা করে কমিউনিস্ট গর্ভমেন্টরে নিয়া এইটা পলিটব্যুরো’র লোকজন জানতোই, এমনকি নিজেরাও নিজেদের নিয়া জোকস বানায়া পাবলিকের কাছে ছড়াইয়া দিতো। [জোকসই হইতে পারে এইটা… এইরকম একটা পাতলা পর্দাই তো, ব্যাপারটা, জানা আর না-জানার।] তো, কমিউনিস্ট গর্ভমেন্টের লোকজনের এইসব জোকস শুনতে খারাপ লাগতো এবং পাওয়ারে থাকলে যে একটু ‘সহনশীল’ হইতে হয় – এইভাবে মাইনা নিতে পারতেন না উনারা [কুন্ডেরা’র নভেল অনুযায়ী]। এমনকি পারসোনাল জায়গাতেও পাওয়ার দেখাইতেন! কুন্ডেরার ক্লেইম মনেহয় এইটাই। অথচ আপনি যদি পারসোনাল জায়গাতে পাওয়ার না দেখান, দেখাইবেন কই?

এইটা একটা ব্যাপার। আরেকটা হইলো, পাওয়ারে থাকার মানেই হইতেছে আপনারে জোকস পছন্দ করতে হয় আসলে, করতেও পারতে হয়। [শেখ হাসিনা এখন মাঝে-মধ্যে করেন, দেখবেন… খালেদা জিয়া আর পারেন না এখন, ঠিকঠাক মতোন। জোকস ব্যাপারটা পলিটিক্যাল তো অবশ্যই।] তো, আপনি যে জোকস করতে পারেন, এইটা পাওয়ারের একটা ব্যাপার, কিন্তু জোকস করার সময় আপনি ভাইবা নিতে পারবেন যে আপনি আর পাওয়ারে নাই! [আছেন বইলাই নাই, না থাকলে তো আর ভাবতেই পারবেন না।] নিজেরে নিয়া যখন জোকস করতেছেন তখন আপনি তো আসলে অন্য কেউ। এইভাবে চিন্তার মধ্যে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পসিবল। :([পদ্ধতি হিসাবে বাজে জিনিসই এইটা…] আর যিনি ধরেন, পাওয়ারে না থাইকাই জোকস করতে পারলেন উনি তো মিলান কুন্ডেরা, একটা পলিটিক্যাল রেসপন্সিবিলি ফুলফিল করতে পারলেন তখন। Continue reading

অ্যা জার্নি বাই বাস

4686

নারীর প্রতি নন-ভায়োলেন্স এবং একটা অ-পরিচয়ের ঘটনা

গত রোজার ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময়ের ঘটনা। ৭০ কিমি’র রাস্তা। ঈদের দুইদিন আগে দুপুরের পরে মহাখালী থিকা বিআরটিসি’র এসি-বাস সার্ভিসের ঢাকা-কিশোরগঞ্জের একটা বাসে উঠছি, যাবো ভৈরবে। রাস্তা-ঘাট মোটামুটি ফাঁকা, কিন্তু বাসে মানুষ থইথই।

যেহেতু আমি একা, আমার খালি দেখা।

দেখলাম, স্কিনি একটা মেয়ে, জিনস-পড়া, ফতুয়া; কাঁধে ব্যাগ, কানে হেডফোন। আমার একটা রো পরে, বামপাশে বসলেন এবং আরেকটা সিট-দখল করলেন। কিছুক্ষণ পরে তার মোটা প্রেমিক আইসা বসলো। তেমন কোন কথা নাই। তবে বোঝা গেলো প্রেমিক ঢাকায় থাকেন বা থাকবেন, প্রেমিকারে নরসিংদীতে নামাইয়া দিতে আসছেন। অথবা এই ভ্রমণের নৈকট্য তারা চাইতেছেন। মেয়েটা ‘ভোকাল’ এবং বাস ছাড়তে যখন দেরি হইতেছে তখন তিনি কাউন্টারের লোকদেরকে ‘শুয়োরের বাচ্চা’ ডাকার এবং ‘থাপ্পর দেয়ার’ প্রস্তাব রাখতে পারছেন। উনার প্রেমিক, এতে সম্মতি দিছেন এবং এই ফিলটা দিছেন যে উনি এই ‘পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী। এই প্রেম, ভায়োলেন্স আমার ভালো লাগলো, কারণ আমি বাড়ি যাইতে চাই দ্রুত। কিন্তু আমি তখনো বুঝতে পারি নাই যে এইটাই একমাত্র ভায়োলেন্ট ঘটনা, নারী’র দিক থিকা। বাকি সব-ই পুরুষের নন-ভায়োলেন্স; এবং নিশ্চিতভাবেই ‘নারীর প্রতি সহিংসতা’ বন্ধের যে প্রচার তার কিছু মিনিমাম অ্যাচিভমেন্ট।

Continue reading