ভাষা’র জেলখানা

23622146_10154929079882093_7416497748822068132_n

।। কারাগারের রোজনামচা ।। শেখ মুজিবর রহমান ।। বাংলা একাডেমি ।। মার্চ, ২০১৭ ।।

বইটা কিনার পরে পড়া হয় নাই। এরপরে কয়েক পেইজ পড়ছিলাম। পড়ার ইচ্ছা হয় নাই আর। কিন্তু কয়েকটা পেইজ পড়ার সময় কিছু জিনিস চোখে পড়ছিলো, দাগ দিয়া রাখছিলাম। তো, আরেকবার পড়া শুরু করার আগে ভাবলাম জিনিসগুলি বইলা রাখি।

—————–

“জেলখানায় পাগলা গারদ আছে তার কাছেরই সেলে তাঁকে বন্দি রাখা হয়েছিল।” (শেখ হাসিনা, পেইজ – ১৪)

পাগলদেরকে যে পছন্দ করতেন উনার বাপ সেইটা নিয়াই ভূমিকাতে বলতেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এইটার পলিটিক্যাল জায়গাটা নিয়া কনশাস হন নাই যে, কেন তারে পাগলদের কাছের সেলে রাখা হইলো? এইটা একটা থ্রেট তো অবশ্যই। ফুকো’র কারণে সোসাইটির পাওয়ার স্ট্রাকচারের লেবেলিংয়ের মধ্যে ক্রিমিনাল আর পাগল’রা যে কাছাকাছি রকমের জিনিস – এইটা তো আমরা জানি-ই এখন। তখনো, থিওরি জানার আগেই, এইটা প্রাকটিসের ভিতর আছিলো। যে, পাগল বানায়া জেলখানায় রাইখা দিতে পারে উনারে। বা পাগলদের সাথে রাখতে রাখতে পাগল বানায়া দেয়া যাইতে পারে। এইরকম কাছাকাছি রকমের পসিবিলিটিগুলিরে পলিটিক্যালি যে ট্রাই করা হয় নাই – তা তো না! one bird flew over the cuckoo’s nest সিনেমাটা তো আছেই। মানে, ক্রিমিনালিটি আর পাগলামি – খুবই কাছাকাছি রকমের জিনিস। এইটারে পলিটক্যালি মার্ক না করলে মুশকিল।… তো, এর বাইরে জেলখানায় গিয়া পাগল হইছেন তো অনেকে। আবার অনেকে ‘পাগল’ হওয়ার কারণে জেলখানা থিকা ছাড়াও পাইছেন। লুইস আলথুসারেরই এইরকম হইছে।

“সাবজেল দুইতিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত লোক ছাড়া রাখে না। ডিস্ট্রিক্ট জেলে পাঠিয়ে দেয়। প্রায় তিন বছরের উপর জেল হলে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠাইয়া দেয়।” (পেইজ ২৭)

খুবই নিরীহ বাক্য। কিন্তু ‘পাঠিয়ে’ আর ‘পাঠাইয়া’ শব্দ দুইটা খেয়াল করেন, আরেকবার পইড়া। এডিটরদের ‘ভুল’ এইরকম মনেহয় না আমার। মানে, হইলে হইতেই পারে, কিন্তু যদি দুইবার ‘পাঠিয়ে’ বা দুইবারই ‘পাঠাইয়া’ হইতো তাইলে কথাটা হইতো না ওইরকম। এইরকম ‘ভুল’ যে কতো দরকারি জিনিস! এইরকম ভালো একটা ‘প্রমাণ’ পাইয়া ভাল্লাগছে অনেক। মানে, আপনি ‘পাঠিয়ে’ লিখলে সারাজীবন একই কাজ কইরা যাইতে হবে – এইটা খুবই ভুল জিনিস আসলে। Continue reading

কোজাগরী

12asn1

#কোজাগরী শব্দটার মিনিং আমি জানতাম না। লোকজন কয়, টিভিতে দেখায়, কোজগরী চাঁদ, #জি_বাংলা টিভি-চ্যানেলে একটা সিরিয়ালও আছে এই নামে। গতকালকে ছিল, এই কোজাগরী চাঁদের রাত। তো, অনলাইনে সার্চ দিয়া দেখলাম যে, এইটার মানে হইতেছে ‘কো জাগর্তি’; এই মিনিংয়ের পিছনে একটা #কাহিনি আছে। [বেশিরভাগ শব্দেরই, বিশেষ কইরা বিশেষণের এইরকম থাকার কথা।] কাহিনি’টা #হিন্দু ধর্মের। [#ইসলাম ধর্মের শব্দও থাকতে পারে এইরকম, #সেক্যুলার-ধর্মেরও…]

দেবী #লক্ষী বিষ্ণুলোক থিকা দুনিয়াতে আইসা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়া জিগান, “কে জাইগা আছো?” [এইরকম বাক্য পাইলাম, কবিতার লাইন হইতে পারে এইটা – “নিশীথে বরদা লক্ষী কোজাগর্তিভাষিনী”।] তো কেউ জাইগা থাকলে, উনার ডাকে রেসপন্স করলে তার ঘরে গিয়া সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, ধন-সম্মান দিয়া আসেন। [আমি অবশ্য মরা’র মতোন ঘুমাইছি গতকালকে।  সন্ধ্যায় খালি বাইর হইছিলাম একটু।] Continue reading

#গণতন্ত্র #ভাষা #ফ্যামিলি

full_535788682_1447125570

দুইটা পেন্ডিং চিন্তা ছিল। মানে, ভাবছি কিছুদিন, কিন্তু পুরাটা ভাবা হয় নাই। মনে হইলো, জিনিসগুলি জাস্ট বইলা রাখি।

পয়লা ইস্যুটা গণতন্ত্র বা ডেমোক্রেসি নিয়া। এই জিনিসটা কেমনে পারফর্ম করে। ধরেন, অফিসে ৫ জন আছেন, আপনারা। ৪ জনের সিংগারা-সমুচা পছন্দ, ১ জন তেলে-ভাজা জিনিস পছন্দ করেন না; কিন্তু খাওয়ার জিনিস একটাই আনতে হইবো। তো, ব্যাপারটা কখনোই এইরকম ঘটে না যে, আপনারা যেহেতু ৪ জন, ১ জনরে ইগনোর কইরা বা না-খাইতে দিয়া সিংগারাই খাবেন। আপনারা যদি মানবিক হন, সোশ্যাল হন তাইলে ওই ১ জনরেও কন্সিডার করবেন। বাদ দিয়া দিবেন না। পরে করবেন কি, ওই একজনরে নিয়া মস্করা করবেন, বেশি হইলে হিউমিলেট করবেন। গণতন্ত্র বা ডেমোক্রেসি জিনিসটা এইভাবে পারফর্ম করা লাগে; দেখাইতে হয় যে, আপনি মাইনরিটিরেও কেয়ার করেন; তা না নাইলে ডেমোক্রেসি হয় না আসলে। তো, এই ডেমোক্রেসি অনেক সময় মেজরিটির একটা অস্বস্তি’র কারণ। নট দ্য্যাট উনারা গণতন্ত্র চান না, উনারা চান যে, গণতন্ত্র থাকবে, উনাদের অবজেক্টিভ ফুলফিল করা যাবে, মোস্ট ইর্ম্পটেন্টলি কোন গিল্টি ফিলিংস থাকবে না। এইজন্য একটা বাজে অথরিটি ভালো, যারে এই গিল্টি ফিলিংসটার লাইগা গালিগালাজ করা যাবে। আমাদের ‘গণতন্ত্র’ ভাবনাটা তখনই এগজিস্ট করে যখন কাউরে ব্লেইম করা যায়, গণতন্ত্র না থাকার লাইগা। ‘সবাই’ – এই জিনিসটা কখনো ঘটে না; ‘ম্যাক্সিমাম’ জিনিসটাও না; গণতন্ত্র হইলো, যে মিনিমাম জিনিসটারেও ইনক্লুড করে। যেহেতু মেজরিটিই ডিসিশানটা নিতেছে মনে হইতে পারে যে, এইটা নাই। Continue reading