মিডিয়ার স্টোরিই হইতেছে ঘটনা

সিনেমার পোস্টার

মিডিয়ায় শিশুহত্যা নিয়া যাঁরা চিন্তিত আছেন, তাঁরা এই মুভি’টা দেখতে পারেন। নিউজ ইন্ডাস্ট্রি কেমনে ফাংশন করে সেইটার একটা স্টোরি আছে: প্রফিট > টিআরপি > নিউজ প্রডিউসারের চাকরি > রিপোর্টারের শিকার কাহিনি > ঘটনা। উল্টাভাবে ঘটনা খুব কমই ঘটে। মানে, ঘটনা তো মিডিয়াতেই ঘটে।

বেশ আগে একবার মনে হইতেছিল, ধরেন বাংলাদেশ পুরুষ  ক্রিকেট টিম ইন্ডিয়া পুরুষ ক্রিকেট টিমের সাথে জিতলো। তারপরে আপনার জাতীয়তাবাদী মাইন্ড থাকলেই হয় না, সেইটা যে আছে তারে বলা লাগে, বাংলাদেশ জিতছে! আটার করা লাগে। ইভেন মোর একসাইটেটমেন্ট ক্রিয়েট হয়, পরের দিন নিউজপেপারে বা নিউজপোর্টালগুলিতে নিউজটা পড়তে থাকলে। এইরকম বারবার বলার ভিতর দিয়া ঘটনাটা ক্রিয়েট হয় আসলে। যা ঘটতেছে সেইটা যতোটা না সত্যি, যা বলতেছি সেইটা তার চাইতে বেশি সত্যি! এমনকি না কইলে মনে হইতে পারে যেন ঘটনাটা ঘটেই নাই। বিশ্বজিৎ মার্ডারের ঘটনা নিয়াও কইছিলাম, কিভাবে ইনটেন্স হইতে পারে ব্যাপারটা।  Continue reading

সাউথ এশিয়ান আইডেন্টিটি নিয়া

275662

কয়দিন আগে ইন্ডিয়ান একটা টিভি চ্যানেল (www.lifeok.com)-এর বিজ্ঞাপনে চ্যানেলরে ইনডোর্স করতেছিলেন শাহরুখ খান এইভাবে যে, সাউথ এশিয়ান ডায়াসপোরাদের মধ্যে সবচে জনপ্রিয় (বা হইতে পারে আদর্শ) একটা চ্যানেল। সম্ভবত ইন্ডিয়ান কালচারের কথাও বলতেছিলেন তিনি। (অবভিয়াসলি এইটা শাহরুখ খানের কথা না, এক ধরণের রিসার্চ ফাইন্ডিংই হয়তো ইউজ করা হইছে, টেক্সটে।) ইউটিউবে খুঁজলাম ভিডিওটা, কিন্তু পাইলাম না। পাইলে আরো অথেনটিকভাবে বলা যাইতো; যে, সাউথ এশিয়ান বইলা একটা কম্যুনিটি এবং তাঁদের ‘ইন্ডিয়ান কালচার’ বইলা একটা ‘জিনিস’ আছে বা গ্রো করতেছে।

মাইগ্রেটেড পিপলদের সহজে চিনার লাইগা পশ্চিমাদের (ইউরোপ-আম্রিকা ইত্যাদির) মনে একটা ক্যাটাগরি থাকতে পারে ‘সাউথ-এশিয়ান’ আর এইভাবে পরিচিত হইতে চাওয়া জনগণ ইন্ডিয়া-পাকিস্তান-বাংলাদেশ’র একটা ‘কমন কালচার’এ আগ্রহী হইতে পারেন। যে কোন আইডেন্টিটিই তৈরি হয় আসলে এই ‘আদার’-এর পারসপেক্টিভ থিকা।
Continue reading

“…ষড়যন্ত্র হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী”

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ২০১৪।

http://www.bd-pratidin.com/2014/01/01/35413

[নিউজ লিংক’টা এখন আর কাজ করে না, খবরটা ছাপা হইছিল মেবি ৩/৪ জানুয়ারি, ২০১৪-তে; নোট’টা জানুয়ারি ৬, ২০১৪-তে লেখা।]

এইটা গুরুত্বপূর্ণ একটা স্টেটম্যান্ট ছিল। কিন্তু রাজনীতিতে গুরুত্ব ত খুব ফ্রিকোয়েন্টলি চেইঞ্জ হয়।

সবচে সিগনিফিকেন্ট ঘটনা হইলো ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলাটা, শেখ হাসিনা না; একটা পজিশন, কোন ইন্ডিভিজ্যুয়াল মানুষ না। ইলেকশনে একজন মানুষের তো একটাই ভোট – এইরকম সহজ-সরল-সাধারণ ব্যাপার। ইস্যু’টা যখন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কি থাকবেন না, তখন এইখানে এস্যুরেন্সটা দেয়া আছে যে, এইটা প্রধানমন্ত্রী’র স্টেটমেন্ট। প্রধানমন্ত্রী যখন ষড়যন্ত্রের কথা কইতেছেন তখন সেইটা রাষ্ট্র ও আইনের এগেনেস্টের কোন ব্যাপার।

এই যে ষড়যন্ত্র বলা, এইটা শুধুমাত্র এই ধারণা থিকা বলা না যে, ষড়যন্ত্র হইতেছে; বরং একটা এক্সপেক্টশন আকারেও হাজির আছে যে, ষড়যন্ত্রই পসিবল এখন এবং এইটা তখনই সম্ভব যখন প্রকাশ্য ও গণতান্ত্রিক বইলা যে পদ্ধতিগুলা আছে সেইটা আর সম্ভব না।

এই পরিস্থিতিটা কেমনে সম্ভব হইতেছে, এই ষড়যন্ত্রমূলকতা, সেইটা নিয়া তারপরও কথা বলা সম্ভব। কারণ কী ষড়যন্ত্র হইতেছে, তার চাইতে ভাবা দরকার কেন ষড়যন্ত্র হইতেছে। অথবা তারও আগে এই ‘ষড়যন্ত্র-ভাবনা’টা কেমনে আসতে পারলো? যেহেতু ষড়যন্ত্র, কয়টা অনুমান ত করাই যাইতে পারে:
Continue reading