যুদ্ধ ও শান্তি

ফটো: খেয়া মেজবা।

ফটো: খেয়া মেজবা।

 

ছিলাম অফিসের একটা উইকলি মিটিংয়ে। মিটিংরুমে আমার ঢুকতে একটু দেরিই হইছিল। অফিসে গেছি দেরিতে। তারপর ভাবলাম যে ডেস্ক থিকা ল্যাপটপটা নিয়াই যাই। কেউ না কইলেও, মিটিং মিনিটস লিখতে পারা একটা অ্যাডিশন্যাল সুবিধার ব্যাপার; যেহেতু লিখতে হয়, এই কারণে কথা-বার্তা একটু কম শুনলেও হয়। এমন না যে, কথা-বার্তা শোনাটা ইর্ম্পটেন্ট না; যা লিখতে হইবো, ওইটুক শুনলেই হয়, মানুষজনের ইন্ডিভিজ্যুয়াল পারসপেক্টিভগুলা এবং পারসেপক্টিভের ভিতরে উনারাদের মিনিংগুলা না শুনলেও হয় হয় আর কী; মানে, শোনাই যায় না তখন, টাইমই পাওয়া যায় না; একটা পরে একটা আসতেই থাকে। লিখবো না শুনবো এইরকম একটা ব্যাপার। মনোটোনাস লাগে এই রেট-রেস। একটা প্রমোশনই ত, এর লাইগা বুদ্ধির এতো এতো কসরত, বিপর্যয়। ভাবতেই ক্লান্ত লাগে। মিনিটস নিতে কিছু ভুলও হয়, পারসপেক্টিভগুলা ঠিকমতো আর্টিকুলেট না করতে পারলে। কিছু ভুল থাকাটা মনে হয় ভালো। আল্লার দুনিয়ায় পারফেক্ট আর কে হইতে চায়, সবাই ত চায় ডিজায়ারেবল হইতে, কনশাস কিছু ভুলসহ। কারণ যে ভুল ধরতে পারলো, সে ভালোও বাসতে পারে ত, একটু। এইরকম সম্ভাবনাগুলা না রাইখা দিতে পারলে, বাঁইচা থাকা কেন আর! এইরকম মনে হয়, মাঝে-মধ্যেই। আমাদের বাস্তবতা এইসব ঠেসগুলারে অ্যাকোমোডেড কইরাই চলে, কোন না কোন ভাবে; এইটা বেসিক পয়েণ্ট না অবশ্যই, কিন্তু একটা পয়েণ্ট ত!

আমি যাওয়ার পরে একটা পয়েণ্টই আলাপ হইলো। তারপরই শেষ-শেষ ভাব। স্পিকার ত বস একলাই। বাকি আট-দশজন মুড বুইঝা খালি হুঁ-হা করে। যেই ঈদ গিফটগুলা পাঠানো হইবো, সেই অ্যাড্রেসগুলা একটা এক্সেল ফাইলে রাইখা দিতে কইলেন। যে, কে কে কারে কারে কয়টা কইরা গিফট পাঠাইতেছে, এইটা ডকুমেন্টেট থাকাটা দরকার। যদিও মাইনর ইস্যু, কিন্তু এইরকম মাইনর ইস্যুতেও অডিট হইলে যাতে কোন ঝামেলা না হয় বা পরবর্তীতে নানান কাজে লাগতে পারে। কাজটা যে কারে করতে বললেন, আমারে নাকি শেরিল’রে ঠিক বুঝতে পারা গেলো না। শেরিল চোখের কোণা দিয়া আমার দিকে তাকাইয়া হাসলো, মানে, এইটা ত আপনারেই করা লাগবো! কাজকাম কইরা প্রমোশন যেহেতু চান আপনি। আর শেরিল জানে, প্রমোশন একটা ডিফরেন্ট গেইম। আমি সেইটা শিখতে পারি নাই। এখন মিড-এইজে আইসা নতুন কইরা শিখারও উপায় নাই। সিনসিয়ারিটি, ডেডিকেশন ইত্যাদি মানবিক গুণাবলী, যা ছিল সিক্সটিইজের ইনোভেশন; এইগুলা বেইচাই চাকরি টিকাইয়া রাখতে হবে। শেরিলের এইসব না করলেও চলে যেন। ও মনে হয়, স্যান্ডবার্গের লিন ইন বইটা পুরাটাই পইড়া ফেলছে, আমি ভাবি। ভাবি যে, কেন আমি আরো লিবারাল হইতে পারি না; নারী বিষয়ে।

প্রতিবার উইকলি মিটিং শেষে এইরকম পরাজয়ের একটা ফিলিংস হয়। কাফকার মতো লাগে নিজেরে, অফিসে। আছি, কিন্তু থাকাটার সবসময় ভিতর না-থাকাই থাইকা যাইতেছে। সিনসিয়ারিটি, ডেডিকেশন আছে, কিন্তু আমি ত নাই! এইরকম হযবরল থাকা নিয়া কি তরুণ-কবিদের ওপর আস্থা রাখাটা ঠিক হবে? বড়জোর আরেকটা অ্যাভারেজ গল্পই লেখা যাবে, ঈদসংখ্যার। বিশ হাজার মানুষ দেখছে বইলা ভাইবা আনন্দ পাওয়া যাবে, ফেইসবুকের নোটে শেয়ার করলে অন্তঃত শ’খানেক আইডি’র লাইক পাওয়া যাবে যাতে কইরা প্রমাণযোগ্য করা যাবে গল্পটা ভালোই হইছে। আর এর লাইগা আমি আমার জীবন পগার পার কইরা রসাতলে যাইতে থাকবো! কাভি নেহি! এইরকম একটা জিহাদি জোশ চইলা আসলো শরীরে। অফিসে বইসা জিহাদ করা সম্ভব না; সম্ভব, তবে অনলাইনে। এইগুলা দিয়া হবে না। পলিটিক্যালি অ্যাক্টিভ হইতে হইলে রাস্তায় নামতে হবে। Continue reading

‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ এর আন্ডারলায়িং রাজনীতি

“No war is a war until a brother kills his brother…” সিনেমার লাস্টের দিকে এই ডায়লগটা আছে। সিনেমার পরিচালকও বলছেন যে, এইটা যুদ্ধ নিয়া সিনেমা।

 

কিন্তু এইভাবে আমি ডিফাইন করতে চাই না ব্যাপারটারে। বরং এইটা অনেকটা লাউড টোনের সিনেমা; লাউড, একটা অ্যাসথেটিক্যাল সেন্সে, যেমন এই ডায়লগটা; যুদ্ধের আল্টিমেট একটা সংজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করে, যার পরে আর কিছু নাই, ফুলষ্টপ টাইপের নিরবতা। সংজ্ঞা হিসাবে ঠিক কি বেঠিক সেইটা পরের কথা, কিন্তু এর যে একটা আল্টিমেট টোন আছে সিনেমার ভিতর, অ্যাসথেটিক্যালি সেইটারে মিস করা সম্ভব না।

 

‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ সিনেমাটা আমি দেখছিলাম প্রায় ১৪/১৫ বছর আগে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলাতে কমিউনিস্ট শাসন শেষ হয়া যাওয়ার পরে ওইসব দেশের কনটেস্পরারি সিনেমা দেখাইতেছিলো কোন একটা ফিল্ম সোসাইটি ঢাকার গ্যেটে ইন্সটিটিউটে। বহুদিন পরে বিজয় আহমেদ যখন সিনেমাটার কথা মনে করাইলেন, তখনো দেখলাম যে আমার মনে আছে, কাহিনিটা। ডিটেইলসগুলা ভুলে গেছি প্রায়, দুই একটা জায়গা ছাড়া। পরে যখন দেখতে বসলাম, দেখি কি, সিনেমা দেখাটাই পাল্টাইয়া গেছে আমার!

 

সিনেমার পোস্টার

সিনেমার পোস্টার

 

শুরুর দিকের একটা সিনের কথাই বলি। চিড়িয়াখানা’র পশুরা মারা যাইতেছে বিমানের গোলায়। এই যে দৃশ্য, এর সরল ব্যাখ্যা করা সম্ভব – ‘আমরা’, যারা ‘আম-জনতা’ সামাজিক প্রাত্যহিকতার চিড়িয়াখানার ভিতর যারা বন্দী হয়া আছি, হঠাৎ কইরা বিমানের গোলায়, যেন আজাইরা, খামাখা, কোন কারণ ছাড়া যুদ্ধের ভিতর মারা যাইতেছি। এরা চিড়িয়াখানার বন্দী পশু-পাখি না, এরা দর্শক-জনতার রূপক, এরা মানে আমরা, আমি, যে দেখি। এই যে ‘দেখা’টা, এইটা পুরা সিনেমাটারেই ডির্স্টাব করছে।

Continue reading