রাষ্ট্র ত একটা এজেন্সী ছাড়া আর কিছুই না!

at-the-risk-at-seeming-ridiculous-let-me-say-that-the-true-revolutionary-is-guided-by-a-great-feeling-of-love

টাইটেলের কথাটা মনে হইছিল কয়েকদিন আগে। যে বিষয়টাতে মনে হইতেছিল, সেইটা নিয়া একটা নোট এবং একটা স্ট্যাটাস দিছেন, মাহবুব মোর্শেদ; তাই নতুন কইরা আবার মনে হইলো।

এখন মাহবুব মোর্শেদ যেইটা বলেন, সেইটা কিন্তু গ্রাউন্ডটা চেইঞ্জ কইরা বলেন না; বলেন একই গ্রাউন্ডে দাঁড়াইয়া। সেই গ্রাউন্ডটা কী? গ্রাউন্ডটা হইলো, রাষ্ট্রের ক্ষমতা! আর এইখানেই আমার আপত্তি। রাষ্ট্র ত একটা এজেন্সী ছাড়া আর কিছু না।

যারা বলেন, মন্ত্রীদের পদত্যাগ করা দরকার, তারা ত আসলে রাষ্ট্ররে গুরুত্বপূর্ণ কইরা তোলেন। যেন মন্ত্রীরা চেইঞ্জ হইলেই বিদ্যমান ‘বিষাদ’গুলার ‘আনন্দ’-এ পরিবর্তিত হওয়া সম্ভব! মাহবুব মোর্শেদের কথাতেও এই জায়গাটাতে [রাষ্ট্ররে গুরুত্বপূর্ণ ভাবাটাতে] কোন আপত্তি নাই, বরং উনার কথায় মনে হইছে যে, রাষ্ট্র ব্যাপারটা ত অ-গুরুত্বপূর্ণ না-ই, বরং রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখলের জায়গাটারে মেরামত করা লাগবো। তাইলেই একটা কিছু হইবো।

যদিও (টাইগার) বামপন্থী ফারুক ওয়াসিফের সাথে উনার তর্কাতর্কি দেখি ফেসবুকে, জাহাঙ্গীরনগরের ধর্ষণ-বিরোধী আন্দোলন বিষয়ে [এইটার অসারতা নিয়াও চিন্তা আছে আমার, বলবো নে পরে] কিন্তু উনাদের ঐক্যের জায়গাটারেই বিরাট বইলা মনে হয়। দুইজনেই শুধুমাত্র রাষ্ট্র-ক্ষমতার দখলটারে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বইলা না, রবং উনারা যেইভাবে চিন্তা করেন, সেই জায়গাটা একইরকম বইলা। Continue reading

নেলসন ম্যান্ডেলা: তাঁর সাম্প্রতিক জীবনী-গ্রন্থ

TOPSHOTS Former South Africa's President

 

NELSON MANDELA Conversations with Myself. MACMILLAN. 2010.

 

গ্রন্থ এবং জীবনী-গ্রন্থ বিষয়ে

ম্যান্ডেলা যখন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখনকার সময়ে একটা জায়গাতে বলতেছেন যে, বই পড়ার ব্যাপারটা উনি খুব মিস করেন। বই-পড়া ব্যাপারটা যতোটা না ‘জ্ঞান’ এর সাথে জড়িত, তার চাইতে অনেকবেশি ‘আনন্দ’ বা এন্টারটেইনমইন্টের সাথেও সর্ম্পকিত। একটা নতুন বই-এর সাথে সময় কাটানোটা একজন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার মতোই ঘটনা। প্রতিদিন তো আর নতুন মানুষের সাথে, নতুন ধারণার সাথে যোগাযোগ হয় না। তাই বই পড়তে পারাটা ভালো!

অনেকদিন পর তাঁর এই বইটার সাথে একটা ভালো টাইম কাটলো।

বই এর ক্যাটাগরি করলে জীবন-গ্রন্থ আমার একটা পছন্দের ক্যাটাগরি। একজন মানুষ নিজের সর্ম্পকে কি প্রকাশ করতে চায়, কেমনে করতে চায় – এইটা খুবই ইন্টারেস্টিং ঘটনা। যেমন, আল মাহমুদ-এর বিচূর্ণ আয়নায় কবি’র মুখ -এ তিনি তাঁর জীবনের অনেক বিস্ফোরক ঘটনা এবং ‘মনে-হওয়া’র কথাগুলি বলছেন; আবার গোলাম রব্বানী সাহেব তাঁর ওকালতি ও জজয়তি জীবনের কাহিনি বলতে গিয়া, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির কথা উল্লেখ করছেন, যেইটা তাঁর কাছে মনে হইছে, সিগনিফিকেন্ট কন্ট্রিবিউশন আছে, বাংলাদেশের আইন-ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে; অনেকটাই জীবন-বৃত্তান্ত এর ফরম্যাটে, কিন্তু এতোটাই কমপেক্ট যে, শ্রদ্ধা আসে, নিজের সর্ম্পকে এতো কম বইলা শেষ করার অভ্যাসটা, একটা রেয়ার ঘটনাও!

আবার কমন কিছু ফরম্যাটও আছে, ছোটদের জীবনী-গ্রন্থ সিরিজ পড়ছিলাম; ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর। ’৮০ এর দশকে বাইর হইছিল ২০/৩০ খন্ডে, প্রতিটাতে ৫/১০জন এর জীবনী। অথবা ইন্ডিয়া থিকা আসতো মহাত্মা গান্ধী, লেলিন, সুভাষচন্দ্র বোস এর জীবনী, চটি বইয়ের মতো। Continue reading

সাহিত্য ও রাজনীতি: আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত ‘ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কবিতা’র প্রেক্ষিতে

download

‘ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ আমি প্রথম পড়ি ১৯৯৩ সালের দিকে। ফররুখ আহমদ মারা যান ১৯৭৪ সালের ১৯শে অক্টোবর। আর বইটা প্রকাশিত হইছিল ১৯৭৫ সালের জুন মাসে, ফররুখ স্মৃতি তহবিল এর পক্ষ থেকে। আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদনা করছিলেন। বইটা পড়ার মাধ্যমেই আমি কবি ফররুখ আহমদরে আবিষ্কার করি।

আবদুল মান্নান সৈয়দ

আবদুল মান্নান সৈয়দ

 

‘ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ বইটা যখন প্রকাশিত হয়, আমি ওই সময়টায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার কথা ভাবি। স্বাধীনতার পর সেক্যুলার ধারণা তখন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং প্রশ্নাতীত একটা ব্যাপার; এমনকি মনে হয়, তখনকার রাজনৈতিক এবং দার্শনিক যে চিন্তা, সেইটা মর্ডানিটির সাথে কোন মোকাবিলায় যাওয়ার সামর্থ্য রাখে নাই, বাংলাদেশে। সেই পরিস্থিতিতে, ‘ইসলামী চেতনার পুর্ণজাগরণের’ তকমা লাগানো কবি’র শ্রেষ্ঠ কবিতা সম্পাদনা করা এবং প্রকাশ করাটা অনেকবেশি সাহিত্যিক একটা ঘটনা, কিছুটা রাজনৈতিক রিস্কসহ  –  এইভাবেই আমি দেখি।

আসলে সাহিত্যের সাথে রাজনীতির সর্ম্পকটা কি রকম? যে কোন সাহিত্যই সরাসরি অথবা তার দূরবর্তী ধারণায় কোন না কোন রাজনীতিরে সমর্থন দেয়, আবার একইভাবে অনেক সাহিত্যরে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব আর সেইটা হয়ও। যেমন ’৬০ এর দশকে রবীন্দ্রনাথরে আশ্রয় করছিল বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজ, কিংবা সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে শামসুর রাহমানের কবিতা অথবা আল মাহমুদ এর জামাত-পন্থী হয়া উঠা, এছাড়াও কমিটেড কমিউনিস্ট লেখকরা তো ছিলেন বা আছেনও হয়তো। তার মানে, রাজনৈতিক মতাদর্শগুলি বা পরিস্থিতির সাথে সাহিত্যের একটা সর্ম্পক আছে। সাহিত্য যেমন রাজনীতিরে সার্পোট অথবা অপোজ করে, রাজনীতিও সাহিত্যরে ব্যবহার করে। কিন্তু এই ব্যবহার সর্ম্পকে লেখক নিজে কতোটা সচেতন –  এই প্রশ্নটা সম্ভবত আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়া উঠতেছে।

ফররুখ আহমদ এর রাজনৈতিক সচেতনতা কি রকম ছিল? এইখানে বরং ফররুখ আহমদ এর কবিতার জায়গাটারে আবদুল মান্নান সৈয়দ কিভাবে দেখছেন সেইটা নিয়াই বলি। ১৯৮১ সালে তিনি চল্লিশের দশক এর বাংলা-কবিতার ধারায় ফররুখ আহমদরে ব্যাখ্যা করছেন এইভাবে: “প্রায় পাশাপাশিই চলেছিল ফররুখের স্বতন্ত্র সংস্কৃতিচেতন কবিতার ধারা। কিছুকাল আগেও আমি এ ধরণের কবিতা বলতে ‘ইসলামসচেতন’ শব্দ ব্যবহার করেছি। এখন ব্যবহার করছি ‘স্বতন্ত্র সংস্কৃতিচেতন’ কথাটি। আমার বিবেচনায়, এই শব্দগুচ্ছ প্রয়োগ করলে সত্যের নিকটতর হওয়া যায়। কেননা ফররুখ ব্যবহৃত ইসলামি ঐতিহ্য সর্বক্ষণই বাঙালি-মুসলামানের স্বাত্যন্ত্রিক ধর্ম-সাংস্কৃতিক পটে স্থাপিত।” (পৃষ্টা: ৫৯, ফররুখ আহমদ: জীবন ও সাহিত্য, আবদুল মান্নান সৈয়দ, সূচীপত্র, ২০০৯)

Continue reading