কবিতা: জুলাই, ২০২১

মেটাফোর ২

ভাবতে ভাবতে একটা মানুশ গাছ হয়ে যাইতেছে,
অনেকগুলা ভাবনার পাখি বসতেছে আইসা তার ডালে

ঘটনার বৃষ্টিতে অরাও তো ভিজতেছে!

কারাগারের রোজনামচা

জেলখানাতে তো জায়গা কম,
জেলখানাগুলা বাইরে চলে আসছে,
আমাদের ঘরে ঘরে, রাস্তায়, মনের ভিতরে ঢুকে গেছে

জেলার তো খুবই দরদী, টিভিতে-পত্রিকাতে
আমাদেরকে নিয়া কান্দে, কয়
তোমাদের লাইগা আমার খারাপ লাগে তো!
তোমরা কই কই থাকো!
তোমাদের লাইগা আমরা জেলখানা প্যাকেজ নিয়া আসছি

এতো জেলখানা তো আমরা বানাইতে পারবো না,
তোমরা তোমাদের’টা বানায়া নিবা, আর
আমরা তোমাদের জেলখানাগুলা পাহারা দিবো,
যার জেলখানা যতো সুন্দর, সে তত সুনাগরিক হবা,
এওয়ার্ড-টেওয়ার্ডও দিবো…

তোমরা জেলখানা বানাও – হিস্ট্রি দিয়া, গান দিয়া,
গল্প, কাহিনি, নাটক দিয়া দেখাও
জেলখানা কতো সুন্দর!

আমাদের জেলখানাগুলা সুন্দর,
তবু ফুল ফুটে, এবং পাখি গান গায় টাইপ

আমরা যে জেলখানাতে আছি – এইটা বুঝছো,
বুঝা-ই যায় না!

দুনিয়া’টাই তো দুইদিনের জেলখানা – এইভাবে
আমরা বুঝাই আমাদেরকে, আর মন
তো পোষ-না-মানা পাখি,
থাকতে থাকতে সবকিছুই সে বুইঝা যায়,
খালি বলে, জেলখানার দেয়ালগুলা মনেহয় সইরা আসতেছে,
এরা দমবন্ধ কইরা মাইরা ফেলবে না তো একদিন?

মন’রে আমি বলি, শোনো, এইগুলা তোমার প্যারানয়া,
আমাদের জেলখানা এতোটা অমানবিক না!

এই যে আমি কবিতা’টা লিখতেছি,
এইটাও কিন্তু দেখতেছে অরা, সিসি ক্যামেরা দিয়া
হাসতেছে, মনেহয় বলতেছে, বোকাচোদা…

এইরকম বোকাচোদা হয়া থাকো মন!
জেলখানার দিনগুলার ভিতর!

নিউ মুন

ফিরা আসবো,
তারপরে বলবো, হারায়া গেছিলাম!

বাসার সামনের কুত্তাটা ঘেউ ঘেউ করবে কিছুক্ষণ

Continue reading

কবিতা: জুন, ২০২১

বৃষ্টির কবিতা

বৃষ্টি তো পড়তে পড়তে শেষ,
বৃষ্টি গান গাইতে গাইতে শেষ
গাছের পাতা, রোড-ঘাট, বিল্ডিংগুলা ভিজতে ভিজতে শেষ
বৃষ্টির কবিতা – তুমি কই?
এখনো ঘুমাইতেছো?
বৃষ্টি তোমারে ঘুম পাড়ায়া দিতেছে?
একটা ঘুম-পাড়ানি গানের মতো,
বৃষ্টি তোমারে জাগায়া রাখতেছে,
একটা আবছা ড্রিমের মতো?
নাকি উইঠা পড়তে হবে, অফিস যাইতে হবে
রাস্তায় বাস নাই, সিএনজি, রিকশা নাই, আর
বৃষ্টি বাড়তেই আছে,
যেইভাবে একটা ডিপ প্রেম যাইতে থাকে একটা কঠিন হেইট্রেটের দিকে
এইরকম বৃষ্টি পড়তেছে, কিন্তু
বৃষ্টির কবিতা নাই

যারা বৃষ্টিতে ভিজে, অদের বৃষ্টির কবিতা লাগে না গো সই!

বৃষ্টি পড়তেছে, বৃষ্টি বলতেছে
একটা বৃষ্টির কবিতারে।

 

বর্ষা

একটা ফুল
একলা
ফুটে আছে

আর
ভিজতেছে
বৃষ্টির পানিতে

 

শব্দগুলা

“আহ্
যদি আমরাও
শিখতে পারতাম
চুপ কইরা থাকা!”

সব কিছু উল্টা-পাল্টা
করার পরে,
মাফ চাওয়ার মতন
শব্দগুলা বলে আমারে,
বাটপারগুলা

 

দুপুরের ঘুম

জীবন,
একটা ড্রিমের মতন
ধীরে ধীরে দূরে চলে যাইতেছে,
আমার ঘুম ভেঙ্গে যাইতেছে

একটা কুত্তা কুন্ডলী পাকায়া শুইয়া আছে রাস্তায়,
অর চোখের পাতার ভিতর নড়তেছি আমরা,
আমাদের ঘুম ভাঙতেছে না Continue reading

কবিতা: মে, ২০২১

মে দিবসের গান

একটা প্রলেতারিয়েতদের বিপ্লব হওয়ার কথা ছিল,
সেইটা যে হইতেছে না – লেবার’রা এইটা জানে না,
এখন রেভিউলেশন হয়তো হইতে পারে, কিন্তু এর
লাইগা অদেরকে শ্রমিক হইতে হবে, রেভিউলেশন
করার চাইতে তো অইটা আরেক প্যারা, শরমিক
হওয়ার পরে নিজেদেরকে লেবার বইলা অপমান
করা যাবে না, মানুশ হইতে গেলে আবার ষ লেখা
লাগবে, শ দিয়া হবে না; তাইলে ইদের আগে বেতন
কি দিবে অরা? না, বোনাস-ই দিবে, বেতন বাকি
থাকবে মনেহয়, অইটা ব্যাকারণ-সম্মত হবে কিনা
পে-রোলের বাংলা কি হবে? এইসব ডিসিশান নিতে
টাইম লাগবে তো আরো… ততদিনে কুরবানি চইলা
আসবে, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হইতে হইতে গলার জোর
কইমা আসবে, চামড়া ঝুইলা আসবে, কাশি কাশি
লাগবে, কিন্তু আমাদের জিদ কমবে না, আমরা তো
একটা কিছু করতে চাইছিলাম, জীবন-যৌবন দিয়া
এনজয় করছিলাম বিপ্লব-বিপ্লব খেলা আর ভালোও
বেসেছিলাম, এ-কার দিবো নাকি আ-কার ঠিক কর
তে পারতেছিলাম না বইলা দেরি হইতেছিল, বলতে
ছিলাম, একটা প্রলেতারিয়েত বিপ্লব হওয়ার কথা ছি
ল, লাইনে জায়গা নিতেছিল না, আর চুতমারানিরা
বুঝছো, নিজের ভালোটাও তো বুঝে না, বুঝাইতে
বুঝাইতে আমাদের জীবন-যৌবন, বুঝছো, যাইতেই
থাকলো, গান গাইয়া, কবিতা লেইখা, প্রথা-বিরোধী
হয়া, তারপরও আমাদেরই থাকতে হইলো, দুয়েক্টা
প্রাইজ-টাইজ ছিল না, কিন্তু অনেক মদ ছিল, ছিল
না আসলে, আমরা ভাবতামও না, কি কি আমাদের
ছিল, যা ছিল না, তা নিয়া চিল করতাম খুব, বিপ্লব
জিনিসটাই খালি হইতে হইতে হইলো না, কিন্তু হবে
বুঝছো, আমরা ট্রেনিং নিতেছি, তোমাদেরও বুঝায়া
শিক্ষিত কইরা ফেলবো, তখন তোমরা বিপ্লবের মুড়ি
খাবা, আর আমরা, বটগাছের তলায় বাঁশি বাজাবো
পোঁ পোঁ পোঁ, পোঁ পোঁ পোঁ, পোঁ পোঁ পোঁ, পটাস…


ঝড়

একটা গাছের ছায়া, গাছ’টারে বলতেছে,
“হেই, তুমি এতো তাউরাইতেছো কেন?
আমার ডিস্টার্ব হইতেছে তো!”

 

আমি বইলা যা যা কিছু আছে, থাকতে চাইতেছে…

আমি হইতেছি ব্রিজ
আমি হইতেছি ব্রিজের নিচের ট্রাবল ওয়াটার,
আমি ব্রিজের নিচে স্রোতের পানিতে ডুইবা যাওয়া স্মৃতির অন্ধকার

আমারে দেখে চাঁদ, একটা টর্চের আলোর মতো
আমারে শোনে রাতের ট্রেন, তার ঝিক ঝিক ঝিক আওয়াজের মতো
আমারে আদর করে দেয় ঝড়ের শেষের একটা শান্ত বাতাস; বলে, ঘুমাও তো!

আমি অন্য কোন পথ, যেই পথ তুমি হাঁটো নাই
আমি অন্য কোন আত্মা, যার বাঁইচা থাকাটারে তুমি ভয় পাও
আমি যে কোন একটা সময়, ধীরে ধীরে নাই হয়া যাওয়া, একটা ঘটনা

 

জুতা কাহিনি

ইগো’র জুতাগুলা
পায়ে পড়ার পরে
তুমি খুলতে ভুলে গেছো

এইটা আমাদের ঘর
তোমার জুতাগুলা
খুইলা আসো

বসো,
কথা বলি, জুতাগুলা
খুইলা রাখার পরে, আমরা

Continue reading

কবিতা: এপ্রিল, ২০২১

একটা পাথর

একটা পাথর
নিজের না-বলাগুলারে
এতোটা জোরে নিজের ভিতরে
চাইপা ধরলো যে,
তার ভিতর থিকা ফোয়ারা’র পানি
বাইর হইতে থাকলো, নদী হয়া উঠলো
যাইতে যাইতে গিয়া মিশলো না-বলা কথার দরিয়ায়

যেইখানে সব কথা আইসা মিশে,
সব কথা তাদের মিনিং হারায়া ফেলে,
ডুইবা যায়, আবার…

আমাদের সব দুঃখগুলা, না-বলতে পারার ভাষাগুলা
এইভাবে একদিন কথার নদী হয়া উঠে, আর
গাছ-গাছালি, পশু-পাখি, মাটি আর মানুশ
হায় হায় কইরা উঠে, সেই নদীর পাশে গিয়া বসে, কয়
“আমারে তো তুমি বলতে পারতা! আমারে তো তুমি বলতে পারতা!”

দুঃখগুলা এইভাবে একটা সময় পরে হয়া উঠে অন্যকিছু…
আমাদের দুঃখগুলা এইরকম একটা পাথর
চুপচাপ বইসা থাকে আমাদের নিরবতার ভিতর

 

ঘোড়ার ডিম

(মিডিয়া-রিয়ালিটি ১)

টিভি’তে, একটা ঘোড়া
টগবগ টগবগ কইরা দৌড়াইতেছে

আমরা দেখতে দেখতে ভাবতেছি,
ঘোড়া’টা যদি না থামে, ডিম’টা কি
পাড়তে পারবো আমরা?

 
আরেকটা ডরের ভয়ে

আরেকটা ডরের ভয়ে
এই ডর’টারে আমরা ভালোবাইসা ফেলবো
বলবো, “আরে, আমরা ডরাই নাকি!
আমরা ন্যায় ও প্রগতির পক্ষে কথা বলতেছি তো!”

তারপরে ডর’টার ভিতরে
গুটিশুটি হয়া শুইয়া থাকবো
নিজেদেরকে বলবো, কথাদেরও কান আছে, বুঝছো!

আমরা ডরাই না, কিন্তু আরেকটা ডরের ভয়ে
সবসময় আমরা থাকবো চুপ হয়া থাকবো!

 

সকাল

সুন্দর একটা সকাল, শেষ বসন্তের।
রাস্তায় কুত্তাগুলা ঝিমাইতে ঝিমাইতে ঘুমায়া পড়তেছে,
কবরস্থানের গাছগুলাতে বইসা পাখিগুলা কথা বলতেছে,
বাচ্চাগুলা খেলতে খেলতে ঘর থিকা বাইর হয়া আসতেছে,
সামনের একটা প্লটে, কন্সট্রাকশনের কাঠ ও লোহা পিটাইতেছে লেবার’রা,
রইদ আইসা দাঁড়াইতেছে বারান্দার টবের কাছে,
বাতাস বলতেছে, হেই সকাল হইছে!

আমাদের রাতের ঘুম কাটতেছে না,
আমাদের সকাল কোনদিনও হবে – আমরা ভাবতে পারতেছি না

সারাক্ষণ তাহাজ্জুদের নামাজের সময়ের অন্ধকারের
একটা ডরের ভিতর আমরা থাকি,
আমাদের সকাল হয় না, আমরা সকাল দেখতে পারি না

সকাল’টা তখন কুত্তাদের ঘুমের ভিতর,
চুপ-হয়া আসা পাখিদের কথা’র ভিতর
ঘরে ফিরা যাওয়া বাচ্চাদের নিরবতার ভিতর
কন্সট্রাকশনের উন্নয়নের আওয়াজের ভিতর
হারায়া যায়; আর আমরা বলি, আমাদের কোনদিনও সকাল হবে না…

 
জহির রায়হান

“সামনের ফালগুনে আমরা কিন্তু আরেকটু কম ভয় পাবো…”

Continue reading

নোটস: জুলাই, ২০২১ [পার্ট ৩]

(শিরক না,) শরিক বাড়ান

এইবারের কুরবানি’র হাটে এবং রাস্তা-ঘাটে অনেক ছোট ছোট গরু চোখে পড়লো। অনেকে বলাবলিও করতেছিল, লাখ টাকার নিচে গরু নাই।

কিন্তু যেই জিনিসটা কমছে মেবি, সেইটা হইতেছে, শরিকে কুরবানি দেয়া। (দেয়া যায় কি যায় না – অই আলাপে আমি নাই; যেহেতু চালু ছিল রীতি’টা, ধরে নিতেছি, যায়।) ১৯৮০’র দশকে ছোট শহরগুলাতে মধ্যবিত্ত (তখন মধ্যবিত্ত মানেই নিন্ম-মধ্যবিত্ত) ফ্যামিলিগুলাতে এই জিনিসটা চালু ছিল কিছুদিন। মাংস নিয়া মন-কষাকষি যে হইতো না – তা না, কিন্তু কুরবানি দিতে পারার আনন্দ’টা সেইখানে ছিল।

কয়দিন আগে দেখতেছিলাম, রাজহাঁস কুরবানি দেয়া যাবে কিনা – এই নিয়াও আলাপ হইতেছে; মানে, ইন্ডিভিজ্যুয়ালের জায়গা থিকা আমরা কেউ সরতে রাজি না।

অথচ আমার ধারণা, শরিকে কুরবানি দেয়া যদি সমস্যা না হয়, কোন এসোসিয়েশন/অথরিটি যদি ১০ হাজার টাকা দিয়া কুরবানি’র “শরিক” কেনার একটা বন্দোবস্ত করতে পারেন, সেইটা একটা ভালো ওয়ে-আউট হইতে পারে। (প্রাকটিস হিসাবে সাত শরিক পর্যন্ত মনেহয় পারা যায়। কমেন্টে একজন জানাইলেন।..) এইভাবে বাংলাদেশের ‘কুরবানি-অর্থনীতি’ সারভাইবই করতে পারবে না খালি, আরো এক্সপান্ড করতে পারবে আসলে।

লোকজন যতো যা-ই বলুক, লোক-দেখানি ব্যাপার কিছু থাকেই। যারা লোক-দেখানি’র লাইগা কুরবানি দিতেন, তারা এইবার শরমের কারণেই সেইটা করতে পারার কথা না। (কারণ, সমাজের মানুশ হিসাবে তারা জানেন, মানুশের দুর্দিনে উৎসব করা যায় না।) আবার যারা কিনছেন, নিজেদের প্রেফারেবল সাইজের গরু কিনতে স্ট্রাগল করার কথা। যারা কিনতে পারেন নাই, তাদের কথা আর বললাম না।…

মানে, কুরবানি’র ব্যাপারটা শরিকের ভিতর দিয়া ইনক্লুসিভ করতে পারলে ভালো। যাদের ‘সামর্থ্য’ আছে, তারাও এই ইনিশিয়েটিভে যোগ দিতে পারেন, বা শুরু করতে পারেন।

জাস্ট মনে হইলো ব্যাপার’টা…

সমাজ-ভাবনা

একটা সমাজের মানুশ-জন যদি সমাজের অন্যসব মানুশদেরকে নিয়া চিন্তা করে, কাজ করে সমাজের জন্য সেইটা ভালো না হওয়ার কোন কারণ নাই। মানে, ফিলোসফিক্যালি খুব ঠিকঠাকভাবে চিন্তাও করা লাগবে না আসলে, কারো ক্ষতি না হইলেই হইছে।

কিন্তু এই জিনিসটাই, আমার ধারণা, করতে দেয়া হয় না, একটা জুলুমের সমাজে। আমার এই চিন্তার পক্ষে একটা ‘প্রমাণ’ পাইলাম খুলনার একটা ঘটনায়। হসপিটালে অক্সিজেন শেষ হয়া গেছিল, ভলেন্টিয়ার’রা অক্সিজেন নিয়া গেলে হাসপাতালের লোকজন ঝামেলা করতেছিল। (কমেন্টে দিতেছি পোস্টের লিংক’টা।) তো, এইটাই ফার্স্ট ঘটনা না, রোজার সময় বরিশালে ইফতার দেয়ার সময়ও আওয়ামী লীগের কোন নেতা ধরছিল, তাদেরকে না-জানায়া, তাদের অনুমতি না নিয়া ইফতার দেয়া হইতেছে কেনো! মানে, আপনি চাইলেই সমাজের জন্য কাজ করতে পারবেন না। অবস্টেকলগুলা সবসময়ই কম-বেশি ছিল, কিন্তু এখন এইটা পলিটিক্যালি আরো কঠিন কাজ।

সেকেন্ড হইতেছে, আইনি বাধাও আছে। যে, এইগুলা করার জন্য তো সরকার আছে! কোন খালি মাঠ-ই খালি মাঠ না, সরকারের কোন না কোন অথরিটির সম্পত্তি – রেলওয়ের, সিটি করপোরেশনের, পৌরসভার। নিউইয়র্কের উপর ছোট একটা ভিডিও দেখতেছিলাম, অইখানে পইড়া থাকা জায়গাগুলাতে গ্রীন মুভমেন্টের লোকজন চাষ-বাস করতেছে, সিটি করপোরেশনের কাছ থিকা লিজ নিয়া। এক তেজগাঁ’তে যেই পরিমাণ জমি/প্লট খালি আছে, অই সবগুলাতে এই কাজ করলে রমনা, সরোয়ার্দি’র চাইতে কম কিছু হবে না। কিন্তু, কোনদিন কি সম্ভব হবে? (দখলদারির নতুন রাস্তা শিখায়া দিলাম না তো? 🙁 )

থার্ড, বা, আরো ক্রুশিয়াল জিনিস হইতেছে, এইগুলা নিয়া আমি কেন ভাববো? 🙂 চিন্তা-ভাবনা করার লোক আছে না! কাজ করার লোক আছে না! আমাদেরকে কেনো ভাবতে হবে!

এইখানে, আমার ফার্স্ট প্যারার কথাটারে রিভার্স কইরা বলি, যেই সমাজের লোকজন নিজের সমাজের অন্য লোকজনের কথা ভাবে না, অন্যদের কথা ভাইবা কাজ করে না, সেই সমাজের ভালো কিছু হওয়া কঠিন আসলে। গাছ যেমন বীজের ভিতর থিকা তৈরি হয়, সমাজও তার ভিতরের মানুশ-জনের কাজকাম, চিন্তা-ভাবনা দিয়াই তৈরি হয়। অবভিয়াসলি এনভায়রনমেন্ট’টা ক্রুশিয়াল – মাটি থাকতে হয়, রইদ-বৃষ্টি-আলো-বাতাসও জরুরি; কিন্তু গাছটারে নিজে নিজে বাড়তে হয়। এইটা তার ইচ্ছা ও কাজের মধ্যে থাকতে হয়।

ডাকাতিই যদি করতে পারেন আপনি, বিজনেস কেন করবেন?

একটা সময় যে কোন এলাকার সব ডিশ-ব্যবসায়ীরা ছিলেন এলাকার সব মাস্তানরা; মানে, এলাকায় পাওয়ারফুল মাস্তান না হইলে ডিশের ব্যবসা করা সম্ভব ছিল না। এর একটা অবভিয়াস কারণ তো অবশ্যই একটা মনোপলি এস্টাবিশ করা লাগতো, মনোপলি ক্রিয়েট না করতে পারলে ব্যবসা করা সম্ভব না। বড়জোর দুইটা পার্টি থাকতে পারে, একটা এলাকায়, এর বেশি হইলে ঝামেলা। কিছু কিলিং-ও হইতো ডিশ-ব্যবসার “আধিপত্য” এস্টাবলিশ করা নিয়া। যা-ই হোক, অইটা একটা যুগ ছিল।

আমার ধারণা, চামড়া ব্যবসার সিন্ডিকেটও এইরকম পলিটিক্যাল পাওয়ারের ঘটনা। এলাকায় যারা চামড়া নিয়া যাইতো, এদের মধ্যে মেইন ছিল মাদরাসাগুলা; অনেকে বেচতো, অনেকে দান কইরা দিতো। কিছুদিন পরে দেখলাম এলাকার পলিটিক্স করা ‘ছোট ভাই’রাও কালেক্ট করতো। কিন্তু সব গিয়া জমা হইতো, পলিটিক্যালি পাওয়ারফুল লোকজনের রাস্তার পাশের অস্থায়ী গুদামেই। পরে শুনলাম এই সিজনাল সিন্ডিকেট বিজনেসে নাকি শান্তি নাই, ফ্যাক্টরিগুলা চামড়া নেয় না, দাম কমায়া কয়, আগেরবারের টাকা বাকি, এইরকম…। মানে, কেউ যদি চামড়া না কিনে, কপালে পিস্তল ঠেকায়া চামড়া তো কিনাইতে পারেন না আপনি!

এখন ব্যবসা থাকুক বা না-থাকুক, চামড়া ঠিকমতো প্রসেস করা হোক বা না-হোক, অই পলিটিক্যাল সিন্ডিকেটের কাছেই চামড়া বেচতে হবে আপনার, কিনতেও হবে অদের কাছ থিকাই। গত কয়েক বছরে শুনছি, কাঁচা চামড়া ইন্ডিয়াতে পাচার করার লাইগা নাকি দেশে এই অবস্থা কইরা রাখা হয়। প্রতি বছর কতো কাঁচা পাট ইন্ডিয়াতে রফতানি/পাচার হইতেছে সেইটার ডেটা থাকলেও আমার ধারণা কাঁচা চামড়ার হিসাব পাওয়াটা কঠিনই হবে।…

বাংলাদেশের পলিটিক্যাল-ইকনোমি’তে এই সিন্ডিকেট বা মিডলম্যান’রা যতোটা না স্ট্রাকচারাল কারণে এগজিস্ট করেন, তার চাইতে অনেক বেশি এগজিস্ট করেন পলিটিক্যাল কারণে। এই গ্রুপ’টার আগে বিজনেসগুলা দখল করা লাগতো। সরকারি টেন্ডার, নানান রকমের লাইসেন্স, সিজনাল বিজনেস, এইরকমের এরিয়াগুলা। যেই কারণে বড় বড় সরকারি আসলে যতোটা না “অর্থনৈতিক উন্নয়ন” তার চাইতে অনেকবেশি পলিটিক্যাল ফিডিং’য়ের কাজ করে।

এরশাদ সরকারের আমলে যমুনা সেতু এই সার্পোট দিতে পারছিল; এই সরকারের পদ্মাসেতু মেইনলি এইরকম পলিটিক্যাল ফিডিংয়েরই ঘটনা, ইকনোমিক্যালি ভায়াবল কোন প্রজেক্ট হওয়াটা কঠিনই হওয়ার কথা (সোশিও-কালচারাল প্যারামিটারগুলা কন্সিডার কইরাও।) পদ্মা-সেতু করা যাবে না – তা না, বরং এর ইকনোমিক কস্ট মেইন কন্সিডারেশনের জায়গা না।

এখন এবসুলেট পলিটিক্যাল পাওয়ারের কারণে, বড় বড় অপারচুনেটির কারণে এইসব টুকিটাকি বিজনেসের গুরুত্ব কমে গেছে – ব্যাপারটা এইরকম না, বরং বিজনেসের জায়গাগুলা আরো পলিটিক্যাল হয়া উঠতে গিয়া বিজনেসগুলাই কল্পাস করতেছে। মানে, এইটা আমার একটা জেনারেল অনুমান। অনেক ডিটেইল দিয়া এই অনুমানরে আরো উইক বা স্ট্রং প্রমাণ করা যাইতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির আলাপে এইরকমের জায়গাটা কন্সিডার করা দরকার বইলা আমি মনে করি।

গত বছর কোন একটা অকেশনে এই কথাটা বলতেছিলাম, এখন আবার এই প্রসঙ্গে রিপিট করতে পারি, ডাকাতিই যদি করতে পারেন আপনি, বিজনেস কেন করবেন? 🙂

Continue reading