মালিকানার ঘটনা’টা…

সমাজে পাওয়ার বা ক্ষমতা জিনিসটা তো অনেকবেশি ডিপেন্ড করে সম্পত্তির মালিকানার জায়গাটাতে; যে আপনার যতো টাকা-পয়সা, জমি-জিরাত, ফ্ল্যাট-বাড়ি-কোম্পানি আছে, তার বেসিসেই তো সমাজের অন্য লোকজন আপনারে ততো পাওয়ারফুল পারসন হিসাবে ট্রিট করে। (অন্য আরো কিছু ক্যাটাগরি তো আছেই।) তো এই যে সম্পত্তি, এইটা এমন না যে, আপনি নিজে নিজে বানাইতে পারেন সবসময়; মানে, আম্রিকান ড্রিমের ঘটনা তো খুব কমই ঘটে; বেশিরভাগ সময়ই বাপ-দাদার কাছ থিকা পাওয়া জিনিস দিয়া শুরু হয়। নতুন কইরা যে কেউ টাকা-পয়সা কামাইতে পারে না – তা না; কিন্তু ইনহেরিয়েট করার একটা ব্যাপার থাকে, বেশিরভাগ কেইসেই। চাইলে কেউ এইরকম ডেটা এনালাইসিস কইরাও দেখতে পারেন, দুনিয়াতে যতো নতুন এসেট তৈরি হয়, তার কতোটা সেইম এসেট লাইন থিকা আসতেছে, আর কতোটা একদম ‘জিরো’ জায়গা থিকা তৈরি হইতেছে? মানে, ইনহেরিটেন্স বা উত্তরাধিকার – বড় একটা সোর্স হওয়ার কথা।

তো, মেয়ে’রা যে আমাদের সোসাইটিতে কম পাওয়ারফুল, অন্য অনেক কারণের পাশাপাশি এইটা তো মেজর একটা কারণ। দুনিয়ার সব দেশে একই অবস্থা না হইলেও বেশিরভাগ দেশেই একই রকম অবস্থা থাকার কথা; আফ্রিকার কয়েকটা দেশে মনেহয় মেয়েদের সম্পত্তির মালিকানার অবস্থা ভালো; বা জেনারেশন টু জেনারেশন দেখলেও ইউরোপ-আম্রিকাতে এইটা হয়তো কিছুটা বাড়তেছে। মানে, ১৯৫০ সালে মেয়েদের মালিকানায় যতো এসেট বা সম্পত্তি ছিলো, ২০০০ সালে আইসা আমার ধারণা, বাড়ছে কিছুটা। এডুকেশন, চাকরি, বিজনেস… এইসব সোশ্যাল জিনিসগুলারই কিছু ইমপ্যাক্ট থাকতে পারে। তবে সম্পত্তির উপর এই বাড়তে থাকা মালিকানার পাওয়ার মেয়েরা কালচারালি প্রাকটিস করতে পারতেছেন – সেইখানে এখনো একটা কোশ্চেনমার্ক থাকার কথা। মানে, জেন্ডার স্টাডিজ নিয়া যারা কাজ করেন, উনারা দুইটা জায়গাতে খেয়াল করতে পারেন –

১. সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা জিনিসটা ফরমালি শুরু হওয়ার পরে, অ্যাক্রস দ্য সোসাইটি (মানে, এটলিস্ট ৫/৭টা দেশে) পুরুষ আর নারী’র মালিকানা’র প্যাটার্নটা চেইঞ্জ হইছে কিনা গত ২০০ বছরে? চেইঞ্জ হইলে কতোটা হইছে, কেমনে হইছে?

২. হিস্ট্রিক্যালি যেইসব সোসাইটিতে বা দেশে নারীদের সম্পত্তির মালিকানা পুরুষের চাইতে বেশি বা সমান (আফ্রিকার কিছু দেশে এইরকম থাকার কথা) সেই সোসাইটিগুলার সাথে কম্পেয়ার করলে যেইখানে মেয়েদের সম্পত্তির মালিকানা পুরুষের চাইতে কম, সেইখানে ‘নারী’র প্রতি ভায়োলেন্স’, রেইপ… এইরকম ক্রাইমগুলার সংখ্যা কম না বেশি? বা রিলেশনগুলা কি রকম?

(বা এইরকম কোন স্টাডি’র কথা যদি কারো জানা থাকে, জানাইয়েন আমারে; আমি দেখতে ইন্টারেস্টেড রেজাল্টগুলি।)

এমনিতে খোলা চোখেই দেখা যায়, আমাদের সোসাইটি’তে পুরুষের যতো টাকা-পয়সা, জমি-জিরাত-ফ্ল্যাট-বাড়ি আছে, নারীদের মালিকানা’তে তা নাই। নাই, কারণ যেই “উত্তরাধিকার আইন” দেশে চালু আছে, সেইখানে উনারা কম সম্পত্তি পান; বা আইনে পাওনা হইলেও, বাস্তবে পান না; পাইলেও সেইটার মালিকানা নিতে পারেন না। মানে, আইন করলেই ব্যাপারটার সমাধান হয়া যাবে – এইরকম না পুরা কাহিনিটা।

Continue reading

ইমেজের এই দুনিয়াদারি…

এইরকম ঘটনা তো ঘটে; যা পড়তেছেন, দেখতেছেন আপনার আশে-পাশেও কাছাকাছি রকমের ঘটনা ঘটতেছে বা রিলেট করা যাইতেছে… বা উল্টাটাও হয় যা কিছু আমাদের চারপাশে ঘটতেছে সিমিলার জিনিস পাওয়া যায় গল্প-কবিতা-নাটক-সিনেমা-নভেলে। তো, এইরকমের জিনিস হইলো, দুয়েকদিন আগে।

যেই নভেল’টা পড়তেছি (Those Who Leave and Those Who Stay), সেইটা’তে মেইন কারেক্টার হইতেছে লিলা। আর ন্যারেটর হইতেছে তার ফ্রেন্ড লিনু; যার একটা নভেল ছাপা হইছে, বিয়া করতে যাইতেছে এক প্রফেসর’রে। আর অন্যদিকে লিলা প্রাইমারি স্কুলের পরে আর পড়াশোনা করে নাই, এখন একটা সসেজ ফ্যাক্টরি’তে লেবার হিসাবে কাজ করে, একটা বাচ্চা আছে (তার এক্স-লাভার নিনো’র, যে আবার লিনু’রও অ্যাডমায়ারার), হাজবেন্ডের লগে থাকে। লিনু যখন লিলা’র লগে দেখা করতে যায়, তখন লিলা লিনু’রে তাঁর কথা কইতে থাকে… এই জায়গাটা আমি পড়তেছিলাম।

লিলা’র হাজবেন্ড কমিউনিস্ট পার্টি করে; হাজবেন্ডের লগে তার ছোটবেলার প্রেমিক তাঁদের বাসায় আসে যে হইতেছে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি; এবং লিলা বুঝতে পারে যে সে আসলে ভালো লোক-ই, আগের রিলেশনের হ্যাং-ওভার নিয়া ঝামেলা করবে না। তো, একদিন কমিউনিস্ট পার্টির একটা মিটিংয়ে অরে নিয়া যায়, অর পুরান প্রেমিক আর হাজব্যান্ড; সেইখানে স্টুডেন্টদের ফ্লাওয়ারি কথা-বার্তা শুইনা লিলা’র তো যায় মেজাজ খারাপ হয়া; কয়, একটা সসেজ ফ্যাক্টরি’তে একজন নারী-শ্রমিক’রে কি কি ফেইস করা লাগে, তোমাদের তো কোন আইডিয়াই নাই! শে তাঁর এক্সপেরিয়েন্সের কথাগুলা কয়। শুইনা কমিউনিস্ট পার্টির লিডার, কর্মী, স্টুডেন্ট’রা তো খুবই সিম্প্যাথি জানায়, স্পেশালি একটা মেয়ে, নাদিয়া (যে নিনো’র লগে রিলেশনে ছিল একটা সময়)। কিন্তু কমিউনিস্ট’রা যেইটা করে, অইসব ঘটনার ফিরিস্তি দিয়া লিফলেট ছাপায়া লিলা’র ফ্যাক্টরি’র সামনে বিলি করতে শুরু করে, কয়দিন পরে। লিলা তো অবাক! এই কথা শে অদেরকে বলছে মানে তো এই না যে, এইটা নিয়া লিফলেট বানানোর পারমিশন শে দিছে! তাঁর কথারেই এখন তাঁর কমিউনিস্ট ফ্রেন্ডরা ইউজ করতেছে তাদের ‘শ্রমিক-বিপ্লব’ সফল করার লাইগা! খুবই বিরক্ত হয় শে। এমন না যে শে ফ্যাসিস্টদের পক্ষে; কিন্তু তাঁর চাকরি নিয়া টানাটানি হবে, ফ্যাসিস্ট-কমিউনিস্ট’রা আইসা ফ্যাক্টরির সামনে মারামারি করবে, এই ‘বিপ্লব’ তো শে চায় নাই!

মুশকিল’টা কোন জায়গা’টাতে হইতেছে, দেখেন; লিলা’র কমিউনিস্ট ফ্রেন্ডরা তো ভাবতেছে, লিলা খুব কষ্টে আছে, কতো অত্যাচার, নিযার্তন তারে সহ্য করতে হইতেছে; তারা তো তারে বাঁচাইতে চাইতেছে! লিলা’র যেহেতু বুদ্ধি-বিবেচনা আছে, শে জানে, এইটা ‘বাঁচাইতে চাওয়া’ না, বরং এই বাঁচাইতে চাওয়ার ভিতর দিয়া তারা নিজেদের এগজিসটেন্সটারে ‘মহান’ বইলা ভাবতে পারতেছে; যে ‘সমাজের জন্য, সভ্যতার জন্য ইর্ম্পটেন্ট কিছু’ করতেছে। (২০১৬ সালের এই ছোট লেখাটার কথা মনে হইলো: https://bit.ly/302MQrY )

আরেকটা ঘটনার কথা এইখানে বলা যাইতে পারে এইখানে, লিনু’র। একবার অর বইয়ের একটা প্রোগ্রাম শেষে শহরে একটা বাসাতে অন্য ফ্রেন্ডদের সাথে শে থাকতে গেছে। অইখানে আড্ড-টাড্ডা দিয়া যখন শে ঘুমাইতে গেছে; মাঝরাতে দেখে অই বাসারই ডাচ এক আর্টিস্ট তার বিছনায় আইসা বইসা রইছে! কি ঘটনা? সে তাঁর সাথে ঘুমাইতে চায়। লিনু তো খুবই অবাক হয়, কেন শে এই কাজ করবে! আর্টিস্টও অবাক হয়, কয়, আরে তুমি না রাইটার? তোমার লাভার আছে, আমারও আছে; কিন্তু আমার তো ইচ্ছা করতেছে, দোষের তো কিছু নাই; আর এই এক্সপেরিয়েন্সটা তোমার ক্রিয়েটিভ জায়গাটাতে কন্ট্রিবিউটও করবে… লিনু তো আরো খেইপা যায়, কি ধরণের আবদার এইটা! পরে শে যখন চেঁচানোর হুমকি দেয় তখন আর্টিস্ট’টা মন-খারাপ কইরা চইলা যায়, যাওয়ার সময় লিনু’রে হিপোক্র্যাট বইলা গাইল দেয়। লিনু ভাবে, নিনো’র বাপ যে তারে সেক্সুয়ালি মলেস্ট করতে নিছিলো, এর সাথে ডিফরেন্সটা কোন জায়গায়? বা নিনো যে এইরকম একটার পরে একটা এফেয়ার কইরা যাইতেছে, তার বাপের চাইতে সে কোন জায়গাটায় আলাদা? (অই বাসায় যে ইয়াং মেয়েটা একটা বাচ্চা নিয়া থাকে, এই বাচ্চাটাও নিনো’র ‘প্রেমের ফসল’ 🙂 )

তো, নভেলের বেটার পার্ট হইলো, কোন কারেক্টারই লাইফ নিয়া কোন জাজমেন্টে যায় না; মানে লাইফ তো কোন জাজমেন্টে আটকায়া থাকে না… কিন্তু অ্যাজ অ্যা রিডার কিছু জিনিস অবজার্ভ করতে পারেন তো আপনি। আমার অবজার্ভেশন’টা হইলো, নিনো’র বাপের (যে ওমেনাইজার) আর নিনো’র ডিফরেন্সটা হইতেছে – তাদের ইমেজের। নিনো’র বাপ হইতেছে পুরান আমলের ইন্টেলেকচুয়াল (পত্রিকায় আর্টিকেল ছাপায়, কবিতা লেখে… এইরকম) আর নিনো হইতেছে বর্তমান সময়ের বিপ্লবী, ইন্টেলেকচুয়াল, ক্রিটিক্যাল অ্যানালাইসিস করতে পারে, এইরকম। নিনো’র বাপ যে তার ইমেজ’টারে ইউজ করতেছে, তার পজিশনের ফায়দা’টা নিতেছে, সেইটা টের পাওয়া যায়… বা তার ইমেজের পাওয়ারটা আর কাজে লাগে না, তখন তার জোর-জবরদস্তি করা লাগে। নিনো’র বরং উল্টা ঘটনা, সে যে ওমেনাইজার না – তা না; কিন্তু মেয়েরা তার প্রেমে পড়ে; দে হ্যাভ অ্যা গুড টাইম, তারপরে বুঝতে পারে যে, তারা একজন আরেকজনের জন্য না; অ্যান্ড দে কুইট! অভিযোগের কিছু নাই এইখানে। নিনো এবং তার প্রেমিকারা একটা ‘বিপ্লবী’ বিশ্বাসের (আমি বলবো, ইমেজের) ভিতর দিয়া এই কাজ করতে পারে।

একই ধরণের ঘটনা দেখবেন, ‘আসল পীর’ আর ‘ভন্ড-পীর’ এর ব্যাপারগুলাতেও থাকে। ব্যাপারটা সবসময় এইরকম না যে, ভন্ড-পীরদের কেরামতি ফাঁস হয়া যায়; বরং বেশিরভাগ সময় তাদের ইমেজটা আর কাজ করে না, একটা সময়ে গিয়া। একবার একটা অডিও ক্লিপ লিক হইছিল, গ্রামের দুইজন মহিলার। একজন অপেক্ষাকৃত বয়স্ক মহিলার কাছে সাজেশন চাইতেছেন আরেকজন ইয়াং ওয়াইফ; যে, পীর সাহেব যখন তাঁদের বাড়িতে আসে, তখন শে ফিজিক্যাল ডিজায়ারটা ফিল করতে পারে, কিন্তু কি করবে বুঝতেছে না… তখন বয়স্ক মহিলা বলে যে, তার কিছু করা লাগবে না, যখন পীর সাহেব মনে করবে শে রেডি, উনি তাঁরে ডাক পাঠাইবেন।… মানে, মনে হইতে পারে, একটা ‘ভন্ড পীর’ ধইরা ফেললেন এইখানে! কিন্তু এইটা মহিলারও তো ডিজায়ার আছেই; পীর বইলা আপনি মানতে পারতেছেন না, কিন্তু ‘বিপ্লবী’ বা ‘রেভিউলেশনারি’ কেউ একজনের জায়গায় মাইনা নিতে পারতেছেন! আমি বলবো, এই ছোট্ট ডিফরেন্সের জায়গাটারে খেয়াল করেন, তাইলে ইমেজের পাওয়ারটারে দেখতে পাইবেন।… Continue reading

সংজ্ঞা দিয়া কোন জিনিস বুঝতে পারবেন না আপনি ঠিকঠাক, বরং উদাহারণ দিয়া বুঝতে পারবেন

Suits পছন্দ হওয়ার একটা কারণ হইতেছে ডায়ালগে একটু পরে পরে মুভি-কোটস ইউজ করে অরা। সিনেমাগুলা না দেখলে বা না জানা থাকলে সবসময় ‘ফান’টা টের পাওয়া যাবে না; কিন্তু খেয়াল করা যায়, মুভি বা আর্ট দিয়া যে লাইফ’রে ভালোভাবে বুঝি বা রিলেট করতে পারি আমরা।

যেমন সিজন ৭-এ অ্যালেক্স নামে হার্ভি’র এক ফ্রেন্ড জয়েন করে অর ল’ফার্মে; জয়েন করার পরেই বুঝে লুইসের কোন ঝামেলা আছে হার্ভির লগে। তো, একদিন বিয়ার বা কফি খাইতে খাইতে হার্ভি’রে জিগায়, ঘটনা’টা কি? হার্ভি হাসে, কয়, ব্যাপার’টা কমপ্লিকেটেড; লুইস লোক খারাপ না, হার্ভি’রে হেইট করে, আবার চায় হার্ভি তারে পছন্দ করুক, একটু উইয়ার্ড আছে সে কিন্তু ভালো ফ্রেন্ডই… মানে, বইলা বুঝাইতে পারে না; পরে কয়, আরে, অই সিনেমার অই কারেক্টার’টার মতো আর কি! তখন অ্যালেক্স সাথে সাথে বুঝতে পারে; আরে, আগে বলবা তো! এতো কথা বলার কি আছে, এইটা কইলেই বুঝা যাইতো! এখন তো ক্লিয়ার পুরা!…

মানে, সংজ্ঞা দিয়া কোন জিনিস বুঝতে পারবেন না আপনি ঠিকঠাক, বরং উদাহারণ দিয়া বুঝতে পারবেন। 🙂 আর্ট বা সিনেমা হইতেছে উদাহারণ’টা, লাইফের। বেটার ওয়ে, লাইফ’রে বুঝার, এক্সপ্লেইন করারও।
Continue reading

আমার অনুবাদ-কাহিনি

আমি অনুবাদ বা তরজমা করা শুরু করি ২০০৭/৮ সালের দিকে। ফ্রেঞ্চ ফিলোসফি’র ইংরেজি তরজমাগুলা পড়তে ঝামেলা হইতেছিল, তখন ভাবলাম, অনুবাদ করতে করতে পড়লে বুঝ’টা ভালো হইতে পারে। অনুবাদ করতে গিয়া দেখলাম অনেক শব্দ বাংলাতে নাই, এই কারণে না যে, বাংলা একটা ইনফিরিয়র ভাষা, এইখানে শব্দ কম; বরং বাংলা-ভাষায় আমরা যেমনে চিন্তা করি, ফরাসি’তে বা ইংলিশে চিন্তা বা কথা বলার ধরণটাই অন্যরকম। আর শব্দগুলার যেই মিনিং সেইটাগুলাও খুব ফিক্সড কিছু না, আলাপের কনটেক্সট অনুযায়ী চেইঞ্জ হইতেছে; ডিজায়ার শব্দটা দেল্যুজে যেই মিনিং, লাঁকা’তে একই না। এইরকম। আপনি যদি চিন্তা’টারে ঠিকমতো রিড করতে না পারেন, অনুবাদ খালি অন্যরকমই হবে না, বরং উল্টা-পাল্টা, বা মিনিংলেসও হইতে পারে।…

আর ‘বাংলা-ভাষা’ বইলা যে ফিক্সড, রিজিড একটা ধারণা আছে, সেইটা তো আরো ঝামেলার। ভাষা জিনিসটারে তো আগলায়া রাখার কিছু নাই! মানে, ‘শুদ্ধ বাংলায়’ লিখতে হবে – এইটা যে একটা ট্রাপ, এইটা খেয়াল করতে পারাটা দরকার। যা-ই হোক… এইরকম অনুবাদ বা তরজমা করার জায়গা থিকা ভাষার ব্যাপারগুলা ফিল করতে পারি তখন। ব্যাপারগুলা ইন্টারেস্টিং। এরপর থিকা, যখন নিজের লেখালেখির জায়গাতে মনেহয় ব্রেক নেয়া দরকার, তখনই নানান জিনিস অনুবাদ করতে থাকি। 🙂 তো, অনুবাদ আমার স্ট্রেংথের জায়গা না।

কিন্তু আমার ধারণা, আমার বাংলা-অনুবাদ অলরেডি কিছু ‘ঝামেলা’ তৈরি করছে, বা করতে পারতেছে। 🙂 এই কারণে না যে, এইগুলা খুব ‘ভালো’ অনুবাদ, বরং ‘বাংলা-অনুবাদ’ কি রকম হইতে পারে – সেইটার ব্যাপারে কিছু সাজেশন আমি রাখতে চাইছি। এক ধরণের জড়তা’র যে জায়গা ছিল, সেইগুলা ভাঙ্গতে শুরু করছে। সেই জড়তার জায়গাটারে বাদ দিলে অনুবাদগুলা যে ‘ভাবানুবাদ’ হয়া যায় না, এইটা রিডার’রা ধীরে ধীরে হইলেও মাইনা নিতে পারবেন বইলা আমি আশা করি। Continue reading

অন ‘আঞ্চলিক ভাষা’

ভাষা তো সবসময় একটা অঞ্চলেরই ঘটনা; মানে, একেকটা অঞ্চল বা জিওগ্রাফি’র লোকজন একেক ভাষায় কথা বলেন। ফ্রান্সের লোকজন ফরাসী, জার্মানের লোকজন জার্মানি, বাংলাদেশের লোকজন বাংলায়… এইরকম। (অন্য এলাকার লোকজনও শিখে, বা মাইগ্রেশনের ব্যাপারও আছে।…) এর মধ্যেও ডিফরেন্স আছে; নর্থ-বেঙ্গলের লোকজন যেইরকম টোনে বাংলা বলেন, কুষ্টিয়ার লোকজন, ভাটি-অঞ্চলের লোকজন একই টোনে বলেন না; সিলটি আর চিটাগাংইয়া তো আলাদা বাংলা-ই, একরকমের। তো, আমার কনসার্নটা এই জায়গাটা নিয়াই, একটা ভাষারে আলাদা কইরা ‘আঞ্চলিক’ কেন বলা লাগে?
 
মানে, বলা যাবে না – তা না; আলাদা টোনগুলার কথা তো বললাম-ই, বরং বুঝতে চাইতেছি এই বলাবলির সিগনিফিকেন্সটা কি? সিগনিফিকেন্স হইতেছে একটা সেন্টারের জায়গা’রে নিয়া আসা । যে একটা ‘সেন্টার’ আছে ভাষার; ধরেন, ঢাকা হইতেছে বাংলা-ভাষার সেন্টার; ঢাকা (অঞ্চলে)র লোকজন যেই বাংলা-ভাষায় কথা কয়, সেইটা আর ‘আঞ্চলিক’ না 🙂 বা লন্ডনের লোকজন যেমনে ইংলিশ কয় সেইটা হইতেছে ‘আসল’ ‘অরিজিনাল’ বাংলা-ভাষা। এইভাবে একটা ‘টোন’ বা ‘ভঙ্গিমা’রে সেন্টার না কইতে পারলে অন্য টোনগুলারে আপনি ‘আঞ্চলিক ভাষা’ বলতে বলতে পারবেন না তো আসলে। তো, যখন আপনি বলতেছেন, আমি বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় লিখতেছি, কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক ভাষায় লিখতেছি, তখন আপনি একটা সেন্টার’রে ভাষার ‘আসল’ ‘অরিজিনাল’ মালিকানা দিতে রাজি থাকতেছেন। আমি বলবো, এই জায়গা থিকা ‘আঞ্চলিক ভাষা’ টার্মটা পলিটিক্যালি খুবই ভুল একটা প্রপোজিশন। ব্যাপারটা এইরকম না যে, ‘আঞ্চলিক ভাষা’ বইলা কিছু নাই; কিন্তু ‘আঞ্চলিক ভাষা’ জিনিসটা বা টার্মট কেমনে কাজ করে – সেইটা খেয়াল করতে পারাটা তো দরকার! Continue reading