কবিতা: মে, ২০২১

মে দিবসের গান

একটা প্রলেতারিয়েতদের বিপ্লব হওয়ার কথা ছিল,
সেইটা যে হইতেছে না – লেবার’রা এইটা জানে না,
এখন রেভিউলেশন হয়তো হইতে পারে, কিন্তু এর
লাইগা অদেরকে শ্রমিক হইতে হবে, রেভিউলেশন
করার চাইতে তো অইটা আরেক প্যারা, শরমিক
হওয়ার পরে নিজেদেরকে লেবার বইলা অপমান
করা যাবে না, মানুশ হইতে গেলে আবার ষ লেখা
লাগবে, শ দিয়া হবে না; তাইলে ইদের আগে বেতন
কি দিবে অরা? না, বোনাস-ই দিবে, বেতন বাকি
থাকবে মনেহয়, অইটা ব্যাকারণ-সম্মত হবে কিনা
পে-রোলের বাংলা কি হবে? এইসব ডিসিশান নিতে
টাইম লাগবে তো আরো… ততদিনে কুরবানি চইলা
আসবে, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হইতে হইতে গলার জোর
কইমা আসবে, চামড়া ঝুইলা আসবে, কাশি কাশি
লাগবে, কিন্তু আমাদের জিদ কমবে না, আমরা তো
একটা কিছু করতে চাইছিলাম, জীবন-যৌবন দিয়া
এনজয় করছিলাম বিপ্লব-বিপ্লব খেলা আর ভালোও
বেসেছিলাম, এ-কার দিবো নাকি আ-কার ঠিক কর
তে পারতেছিলাম না বইলা দেরি হইতেছিল, বলতে
ছিলাম, একটা প্রলেতারিয়েত বিপ্লব হওয়ার কথা ছি
ল, লাইনে জায়গা নিতেছিল না, আর চুতমারানিরা
বুঝছো, নিজের ভালোটাও তো বুঝে না, বুঝাইতে
বুঝাইতে আমাদের জীবন-যৌবন, বুঝছো, যাইতেই
থাকলো, গান গাইয়া, কবিতা লেইখা, প্রথা-বিরোধী
হয়া, তারপরও আমাদেরই থাকতে হইলো, দুয়েক্টা
প্রাইজ-টাইজ ছিল না, কিন্তু অনেক মদ ছিল, ছিল
না আসলে, আমরা ভাবতামও না, কি কি আমাদের
ছিল, যা ছিল না, তা নিয়া চিল করতাম খুব, বিপ্লব
জিনিসটাই খালি হইতে হইতে হইলো না, কিন্তু হবে
বুঝছো, আমরা ট্রেনিং নিতেছি, তোমাদেরও বুঝায়া
শিক্ষিত কইরা ফেলবো, তখন তোমরা বিপ্লবের মুড়ি
খাবা, আর আমরা, বটগাছের তলায় বাঁশি বাজাবো
পোঁ পোঁ পোঁ, পোঁ পোঁ পোঁ, পোঁ পোঁ পোঁ, পটাস…


ঝড়

একটা গাছের ছায়া, গাছ’টারে বলতেছে,
“হেই, তুমি এতো তাউরাইতেছো কেন?
আমার ডিস্টার্ব হইতেছে তো!”

 

আমি বইলা যা যা কিছু আছে, থাকতে চাইতেছে…

আমি হইতেছি ব্রিজ
আমি হইতেছি ব্রিজের নিচের ট্রাবল ওয়াটার,
আমি ব্রিজের নিচে স্রোতের পানিতে ডুইবা যাওয়া স্মৃতির অন্ধকার

আমারে দেখে চাঁদ, একটা টর্চের আলোর মতো
আমারে শোনে রাতের ট্রেন, তার ঝিক ঝিক ঝিক আওয়াজের মতো
আমারে আদর করে দেয় ঝড়ের শেষের একটা শান্ত বাতাস; বলে, ঘুমাও তো!

আমি অন্য কোন পথ, যেই পথ তুমি হাঁটো নাই
আমি অন্য কোন আত্মা, যার বাঁইচা থাকাটারে তুমি ভয় পাও
আমি যে কোন একটা সময়, ধীরে ধীরে নাই হয়া যাওয়া, একটা ঘটনা

 

জুতা কাহিনি

ইগো’র জুতাগুলা
পায়ে পড়ার পরে
তুমি খুলতে ভুলে গেছো

এইটা আমাদের ঘর
তোমার জুতাগুলা
খুইলা আসো

বসো,
কথা বলি, জুতাগুলা
খুইলা রাখার পরে, আমরা

Continue reading

কবিতা: এপ্রিল, ২০২১

একটা পাথর

একটা পাথর
নিজের না-বলাগুলারে
এতোটা জোরে নিজের ভিতরে
চাইপা ধরলো যে,
তার ভিতর থিকা ফোয়ারা’র পানি
বাইর হইতে থাকলো, নদী হয়া উঠলো
যাইতে যাইতে গিয়া মিশলো না-বলা কথার দরিয়ায়

যেইখানে সব কথা আইসা মিশে,
সব কথা তাদের মিনিং হারায়া ফেলে,
ডুইবা যায়, আবার…

আমাদের সব দুঃখগুলা, না-বলতে পারার ভাষাগুলা
এইভাবে একদিন কথার নদী হয়া উঠে, আর
গাছ-গাছালি, পশু-পাখি, মাটি আর মানুশ
হায় হায় কইরা উঠে, সেই নদীর পাশে গিয়া বসে, কয়
“আমারে তো তুমি বলতে পারতা! আমারে তো তুমি বলতে পারতা!”

দুঃখগুলা এইভাবে একটা সময় পরে হয়া উঠে অন্যকিছু…
আমাদের দুঃখগুলা এইরকম একটা পাথর
চুপচাপ বইসা থাকে আমাদের নিরবতার ভিতর

 

ঘোড়ার ডিম

(মিডিয়া-রিয়ালিটি ১)

টিভি’তে, একটা ঘোড়া
টগবগ টগবগ কইরা দৌড়াইতেছে

আমরা দেখতে দেখতে ভাবতেছি,
ঘোড়া’টা যদি না থামে, ডিম’টা কি
পাড়তে পারবো আমরা?

 
আরেকটা ডরের ভয়ে

আরেকটা ডরের ভয়ে
এই ডর’টারে আমরা ভালোবাইসা ফেলবো
বলবো, “আরে, আমরা ডরাই নাকি!
আমরা ন্যায় ও প্রগতির পক্ষে কথা বলতেছি তো!”

তারপরে ডর’টার ভিতরে
গুটিশুটি হয়া শুইয়া থাকবো
নিজেদেরকে বলবো, কথাদেরও কান আছে, বুঝছো!

আমরা ডরাই না, কিন্তু আরেকটা ডরের ভয়ে
সবসময় আমরা থাকবো চুপ হয়া থাকবো!

 

সকাল

সুন্দর একটা সকাল, শেষ বসন্তের।
রাস্তায় কুত্তাগুলা ঝিমাইতে ঝিমাইতে ঘুমায়া পড়তেছে,
কবরস্থানের গাছগুলাতে বইসা পাখিগুলা কথা বলতেছে,
বাচ্চাগুলা খেলতে খেলতে ঘর থিকা বাইর হয়া আসতেছে,
সামনের একটা প্লটে, কন্সট্রাকশনের কাঠ ও লোহা পিটাইতেছে লেবার’রা,
রইদ আইসা দাঁড়াইতেছে বারান্দার টবের কাছে,
বাতাস বলতেছে, হেই সকাল হইছে!

আমাদের রাতের ঘুম কাটতেছে না,
আমাদের সকাল কোনদিনও হবে – আমরা ভাবতে পারতেছি না

সারাক্ষণ তাহাজ্জুদের নামাজের সময়ের অন্ধকারের
একটা ডরের ভিতর আমরা থাকি,
আমাদের সকাল হয় না, আমরা সকাল দেখতে পারি না

সকাল’টা তখন কুত্তাদের ঘুমের ভিতর,
চুপ-হয়া আসা পাখিদের কথা’র ভিতর
ঘরে ফিরা যাওয়া বাচ্চাদের নিরবতার ভিতর
কন্সট্রাকশনের উন্নয়নের আওয়াজের ভিতর
হারায়া যায়; আর আমরা বলি, আমাদের কোনদিনও সকাল হবে না…

 
জহির রায়হান

“সামনের ফালগুনে আমরা কিন্তু আরেকটু কম ভয় পাবো…”

Continue reading

কবিতা: মার্চ, ২০২১

দুপুরের রইদ

“writing this letter is like putting a note in a bottle
– and hoping, it will reach Japan”

কি সুন্দর রইদ!
মরা পাতাগুলা কড় কড় করে উঠতেছে,
তেলে-ভাজা পুরি’র মতন, হলুদ-ব্রাউন;
আর বাতাসে নিজে নিজেই উল্টাইতেছে
গড়াগড়ি করতেছে, তড়পাইতেছে
রাস্তায় উড়ে উড়ে বেড়াইতেছে
বেনামি কোন চিঠির মতন, কার কাছে যাবে?
কার কাছে যে যাবে…

শীত চইলা যাওয়ার পর

শীত চইলা যাওয়ার কয়দিন পর থিকাই মনেহয়, বৃষ্টি কখোন নামবে! বৃষ্টি নামতে থাকলে কয়দিন পরে মনেহয় এই ঘোলা ঘোলা প্যাঁক-কাদার দিনগুলা কবে শেষ হবে! কখোন রইদ উঠবে, ঝলমল কইরা। রইদ উঠলে পরে ঘামতে ঘামতে এক সময় মনেহয় কবে শেষ হবে এই গরমের দিন! কুয়াশার নরোম দিন আবার কবে আসবে! ভাবতে না ভাবতেই তখন শীত চইলা আসে। তারপরে মনেহয়, শীত’টা শেষ হয় না কেনো! শীতও শেষ হয়। শেষ হয় জীবনের দিনও, এই ঘুরা-ফিরা, একটা সময়।

কোনকিছু আছে বইলা থাকে না, কোনকিছু নাই বইলা ফিরা আসে না, সবসময়।

গরম সিঙারা

গরম সিঙারার মতন তিনকোণা একটা দুপুর
তেরছা কইরা তাকায়া আছে আমার দিকে

জিগাইতেছে, তুমি কে? শাহবাগী? নাকি যুদ্ধাপরাধী?

বৃষ্টি

বৃষ্টি আসলে সব পাতারা ভাইসা যাবে
বৃষ্টি আসার পরে আমরা তাকায় থাকবো জানালা দিয়া বাইরের দিকে,
বৃষ্টিতে গাছগুলা ভিজবে,
কয়েকটা কাক বইসা থাকবে ইলেকট্রিকের তারে,
শুয়ে শুয়ে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে আমাদের মনে হবে,
বৃষ্টি যেন পড়তেছে কোন টিনের চালে
বৃষ্টি যেন পড়তেছে কোন সাউন্ড-প্রুফ কাঁচের দেয়ালের বাইরে,
আর আমাদের আত্মা জেগে উঠতে চাইতেছে
পুরান সব কথা, পুরান সব গানের সুর পার হয়া
একটা নিরবতার কাছে;

যেন বলতেছি মনে মনে
একজন আরেকজনরে আমরা, দেখো,
বৃষ্টি পড়তেছে!

আর সেই নিরবতার ভিতর ভিজে যাইতেছে,
বাতিল হয়া যাওয়া মালগাড়ির ওয়াগনের মতন
লক্কর-ঝক্কর আমাদের লোহার আত্মাগুলি…

Continue reading

কবিতা: ফেব্রুয়ারি, ২০২১

শীতকাল

“রোদ উঠে গেছে”
শীতকাল’টাও চইলা যাবে, কয়দিন পরে

যে কোনকিছু’র চইলা যাওয়া-ই আমারে বিষণ্ন করে

ভালোবাসার পরীক্ষা

আবার পরীক্ষা দিতে হবে ভালোবাসার,
আবার, আবার
প্রশ্নফাঁসের এই পরীক্ষাগুলা দিতে
আমার ভাল্লাগে না আর

নিজেরে কতো নকল
করতে পারে লোকজন আর অদের কি
টায়ার্ডও লাগে না!

হায় খোদা! আমারেই কেন
বারবার বলা লাগবে,
আবার, আবার ভুল উত্তরগুলা
লেখা লাগবে, আর
একটা ফেইল করার গ্লানি নিয়া
হাঁইটা বেড়াইতে হবে একলা একটা রেললাইন দিয়া
অথবা বইসা থাকা লাগবে চুপচাপ কোন নদীর পাড়?

কেন রে ভাই, চুতমারানি?
কেন, দ্য হোয়াই?

টু লি পো

কথাগুলারে আমি এক হাজার মাইল দূরে পাঠায়া দিবো
লি পো, অরা কি চিন্তা করাইতে পারবে কাউরে, এতো দূরে?
(তোমার মতন এমন বন্ধু আমি কি আর পাবো?)

আমি এক হাজার বছর আগে আমার কথাগুলারে পাঠায়া দিবো
লি পো, কেরু খায়া কানতেছে যেই কিশোর ছেলে’টা তার বাচ্চা প্রেমিকা’র লাইগা
বয়স হয়া গেলে সে-ও তো হাসবো, এই কথা মনে কইরা
তার চোখের পানির মতো মদ আমি জমায়া রাখতেছি তোমার জন্য

লি পো, আমাদের কথাগুলা আমরা ভাসায়া দিবো
সাগরে এক ফোঁটা পানির মতো, বাতাসে ভাসতে ভাসতে হারায়া যাবে
হৃদয়ে যেই কথাগুলা শেষ হয়া যাইতেছে, যেই কথাগুলা শেষ হয় না কোনদিনও

এইরকম কথাগুলারে আমরা এক হাজার মাইল দূরে, এক হাজার বছরের পরে
পাঠায়া দিবো; “আমি জানি, তুমি শুনতেছো;
তুমি শুনতেছো তো?”

একটা কবিতা

একটা কবিতা আমি পাইলাম নন্দায়, বারিধারায়
একটা কবিতা আমি পায়া যাবো কিছু দূর হাঁটলে মহাখালি, তেজগাঁয়
কবিতা ছড়ায়া আছে মতিঝিলে, চকবাজারে, পুরান ঢাকায়
ঢাকা শহর ভর্তি ছড়ানো কবিতা, ড্রেনে ড্রেনে, ফুটপাতে, ভাঙা রাস্তায়
ফকির-মিসকিনের মতন আমি কবিতা কুড়াই আর কবিতাগুলা আমারে চিইনা ফেলে
কয়, আপনি না গতকালকেই আসছিলেন! ‘পৃথিবীর গভীর, গভীরতর অসুখ’
নিয়া আপনি আর কদ্দিন নিজের চিকিৎসা’র খরচ তুলবেন?
Continue reading

কবিতার বই: গান

We are ugly, but we have music – Leonard Cohen

…………………

গান গাই আমার মন’রে বুঝাই
মন তাকে পাগল-পারা

/শাহ আবদুল করিম
………….

গান ১

কার জানি, কি জানি
কই ও কোথায়
আসলো পৌষ ও মাঘ
হরে দরে দৃশ্য বিলাইতেছে
ক্যামেরাগুলা
শাট! শাট! শাট!
লে-অফ হইতেছে পাটকল
লে-অফ হইতেছে চিনিকল
আসতেছে চুতমারানিরা
কল কল ছল ছল
গান গাইতে গাইতে
ভিজা যাইতেছে
জামা জুতা মোজা
একে তো শীতকাল
বসন্ত আসলে না জানি
শুরু হবে আবার কোন চোদা!

গান ২

এই গান, বুঝছো
আমরা গাবো
গোবেচারা গোরুগুলি
একটু দূর থিকা
বড় বড় চোখ নিয়া
আমাদেরকে দেখবে
(অদেরকে লাগবে, সিনে
অডিয়েন্স হিসাবে)
আর আমরা এই গান
গাবো, বুঝছো?
কতো সুখ
কতো আনন্দ
শীতের দিনের
গরম পেশাবের মতো
আমরা বাইর হয়া যাবো
সারারাত সা রা রা ত
এই গান গাবো
চাঁদ নিয়া মাথার উপ্রে
ধীরে ধীরে হাঁটবো
গলিতে কুত্তার ডাকে
হা হা হাইসা উঠবো
কু কু কু গান
আমরা মনে নিয়া
বলবো, এই গান
এই গানটাই, বুঝছো!

গান ৩

ঝরে পড়তেছে তোমার
বুঝতে পারা’র ঝোল
কাঁচা হাড়ি ফুটা হয়া
টপা টপ টপ

আর মন-মাঝি
গাইতেছে গান
শুকায়া যাওয়া নদীতে
নিয়া বৈঠা ও বোট
ও মন চোদনা রে…

Continue reading