কাভার সং

hqdefault

হাসান-এর গানের কয়েকটা কাভার শুনলাম, পরে পুরানটা শুইনা মনে হইলো, উনারটাই বেটার।

হাসান-এর তো ইজ্জত কম-ই, বাংলা-গানে (জেমস, মাইলস, এবি’র তুলনায়ও)। আমার ধারণা, কপি করার কারণেই। উনাদের প্রথম গানের ক্যাসেটের নাম-ই তো ছিল, কপিয়ার। কপি করা, নকল করা – এইগুলা ঠিক ক্রিয়েটিভ কোন কাজ না। কিন্তু উনি যখন গান গাওয়া শুরু করলেন সেই টাইমে আমরা যারা কোচিং সেন্টারে ইংরেজি শিখতাম, ওরাও ইংরেজি গান পুরাটা বুঝতে পারতাম না। এই কারণেও হাসানের গান শুইনা ভাল্লাগতে পারে। অবশ্য যে কোন চেইঞ্জেই কোন না কোন ক্রিয়েশন তো হয়। একজনের কথা আরেকজন কইলেও, কারণ আমাদের খেয়াল তো থাকে মিনিংয়ের দিকে, যার ফলে আরেকজন বলা মানে কনটেক্সট’টা একটু হইলেও চেইঞ্জ হওয়া, মিনিংটা না পাল্টাইলেও, একটু পিছলাইয়া যাওয়া…।  লিখিত-সাহিত্যে এইজন্য অনুবাদ বাজে কোন জিনিস না। একজন রাইটার তো আছেনই, তারে মাইনা নিয়াই আরেকজন লিখতে পারেন সেইটা। গানের ক্ষেত্রে এইটা শুরু হইতে বা মাইনা নিতে টাইম লাগছে, কনটেম্পরারি এরিনায়। ‘ফোক’ বইলা যেই জেনর’টা আইডেন্টিফাইড সেইখানে সবসময়ই এইটা চলছে বা ব্যাপারটা ডেভলাপ-ই হইছে এইভাবে। ওনারশিপের ঝামেলাটা মে বি রিলেটিভলি কম।

 

 

তো, এখন তো ইংরেজি গানই শুনতে পারি আমরা (মানে, যারা গান-টান শুনি), সুতরাং ইরেজি গানের কপি কি আর ভাল্লাগবে? হইতেই পারে যে, গানটার সাথে এমবেডেড পারসোনাল মেমোরির কারণেই আমার ভাল্লাগতেছে। কিন্তু মনে হইলো, এই যে কপি করা এইখানে তো নিজেরে ইনসার্ট কইরা ফেলা যায়। এই ইনশার্সনটাও ভালো লাগতো হয়তো। কিন্তু পরে হইলো কি, হাসান ‘নিজ’ হইতে চাইলেন, হইতে গিয়া নিজেরে হারায়া ফেললেন। কারণ ‘নিজ’ বইলা যে কিছু নাই তা না, বরং নিজের গান বইলা একটাকিছুতে লিমিট করতে চাইলেন বেশি, যেইটা আরো বেশি কপি করার জায়গাটাতে চইলা গেছে, শেষে।

বেহুদা ‘নিজ’ হইতে গিয়া কলকাতা নিজেরে স্কুইজ করতে করতে যে কিছু হইতে পারে নাই, তার থিকা নাইনটিসের ঢাকার ব্যান্ডগুলির অনেক কিছু হইতে পারছিল, আজম খানের হাত ধইরা (https://goo.gl/WjuFnI)। পরে অরিজিনালিটির লেজ আইসা তারে খাইয়া ফেলছে। এমন একটা ‘অরিজিনালিটি’ যেইটা ক্রিয়েট হইছে একটু সুডো-মর্ডানিটি দিয়া। তখন যদি কপি’রে কাভার বলতে পারতাম আমরা সিচুয়েশন মেবি এতোটা বাজে হইতে পারতো না।

এখন যে বলা যাইতেছে, ভাবতে পারতেছি যে, কপি-ই খালি না, কাভারও তো হইতে পারে এই জিনিসটা; এইজন্য আবার গাওয়া যাইতেছে, মনেও করা যাইতেছে, হাসানরে; তেমন কোন কোনরকম ইনফিরিয়রিটি ফিলিংস ছাড়াই।

 

 

 

 

 

আরো পড়তে পারেন

নো উমেন, নো ক্রাই...
১৯৭৪-এ বব মার্লি এই গানটা প্রথম গাইছিলেন। তবে গানটা মনেহয় লিখছিলেন উনার ফ্রেন্ড ভিনসেন্ট ফ...
মদনমোহনের গানে
পাস আয়িয়ে কি হাম নেহি আয়েঙ্গে বারবার বাহে গালে মে ডাল কে হাম রোলে জারজার আঁখো সে ...
গান-গাওয়াটা হইলো গানের একটা ইন...
গান-গাওয়াটা হইলো গানের একটা ইন্টারপ্রিটেশন। এই যে 'কাছে'তে গিয়া ভাইঙ্গা পইড়া যাওয়া, ‘দূরে’...
এল. কোহেনের একটা গান নিয়া...
কোহেন যখন বলতেছেন, ‘মাই উইমেন’ তখন একজন সার্টেন উইমেন তো আছেন বা ছিলেন উনার পজেশনে। এই ধার...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *