নোটস: জুলাই, ২০২১ [পার্ট ২]

ইংলিশ-ওয়ার্ড নিয়া

মাদরাসা’তে পইড়াও আপনি ইংলিশ ওয়ার্ড কইতে পারেন কিন্তু! ইংলিশ মিডিয়ামে পইড়াও আরবী-ফার্সি লবজ ইউজ করতে পারেন! বাংলা-ভাষা ‘সংস্কৃত-শব্দের’ বাইরে এই দুইভাগে (এবং আরো কয়েকটা ভাগে) ভাগ করা না, ডিয়ার বইন ও ভাইয়েরা!

আমি বুঝি, আমার সো-কল্ড ইংলিশ ওয়ার্ডে কেন কিছু লোকজন চেইতা যায়, অরা ভাবে, আরে এই লোক তো আসলে বাংলা-মিডিয়াম, ইংলিশ ওয়ার্ড কেন ইউজ করবে! মানে, আমার লজ্জা-শরম নাই কেন, ইংলিশ-ল্যাঙ্গুয়েজ না জাইনাও কেন ইংলিশ ওয়ার্ড ইউজ করি আমি! আমি করতে পারি, কারণ আমি শব্দের পাছায় সিল মারতে শিখি নাই, এই ‘চালাকি’ আমি শিখবোও না।

আগেও বলছি, আবারো বলি, শব্দের কোন বাংলা-ইংলিশ-পর্তুগিজ নাই, যা আপনি বলতে পারেন, আপনার আশেপাশের লোকজনরে বুঝাইতে পারেন, অইগুলাই বাংলা-শব্দ, অইটাই বাংলা-ভাষা। কথা কইতে গেলে শব্দ লাগে, কিন্তু শব্দগুলাই ভাষা না; ভাষার ভিতরে নতুন শব্দেরা আসে, বাতিল হয়, মারাও যায়।

নদীর পানিতে যেমন মাছ থাকে অনেক। তাই বইলা মাছগুলাই নদী না। নদীতে পানি থাকলে অনেক মাছ থাকে, যায়, আসে; কিন্তু নদী না থাকলে কোন মাছ থাকে না, ভাষা না থাকলে কোন শব্দ থাকে না, অন্য নদীতে চইলা যায়। নতুন শব্দ বানানি মাছ-চাষের কোন ঘটনা না, বানানি তো যায়-ই, কিন্তু কোন আত্মা থাকে না। (উপমা’রে বাস্তবতা ধইরা নিলে হবে না।)

আমি বলতে চাইতেছি, আপনার ইংলিশ-ওয়ার্ডের চিন্তাটা ছাড়েন, নাক দিয়া পানি ঢুকাইলে শ্বাস নিতে পারবেন না। যখন ভাষার নদীতে সাঁতরাইবেন, শ্বাস নিতে পারাটা জরুরি ঘটনা। এই কারণে দেখবেন, অনেকে খালি হাত-পা নাড়াইতেছেন, কিন্তু সাঁতরাইতে পারতেছেন না। নিজেরে ভাষার ভিতরে ছাইড়া দেন। এইটা আমার রিকোয়েস্ট। তখন আর যা-ই হোক, ইংলিশ ওয়ার্ড আইসা আপনাদেরকে এতো প্যারা দিবে না।

নয়া বাকশাল কি ফ্যাসিস্ট?

নয়া বাকশাল অবশ্যই একটা totalitarian শাসনের অবস্থা, যেইখানে একজন মানুশ রাষ্ট্রের এবং তার ডমিনেন্ট আইডিওলজি’রে মাইনা নিতে বাধ্য, এর বাইরে যাইতে পারবে না। এইটার শুরু হইছে মানুশের ভোটের অধিকার’রে বাতিল করার ভিতর দিয়া, পার্লামেন্টরে একটা চিড়িয়াখানা বানানোর ভিতর দিয়া। কিন্তু এইটারে কি ফ্যাসিস্ট বলবো আমরা?

ফ্যাসিস্ট মানে খালি এইটা না যে, এইখানে কোন বিরুদ্ধ-মত থাকতে পারবে না। বরং একটা লেভেলের ‘ভিন্নমত’ না থাকলে সেইটা ‘ফ্যাসিস্ট’ হওয়াটাই সম্ভব না। এইখানে ‘ধর্মান্ধ মৌলিবাদীরা’ যেমন থাকবে ‘অতি বিপ্লবী বামপন্থী’রাও থাকবে এবং এইরকমের ‘ভিন্নমত’গুলা এমন একটা ঘোঁট পাকাবে যে, আর কোন অপশনই থাকবে না! মানে, ফ্যাসিস্ট হইতেছে এমন একটা অবস্থা যেইখানে কমিউনিস্ট বিপ্লব, ধর্মীয় বিপ্লব, জাতীয়তাবাদী বিপ্লবসহ যে কোন কিছু করার অধিকার খালি একটা গ্রুপের হাতে থাকে। ফ্যাসিজমের ফিক্সড কোন আইডিওলজি নাই। ফ্যাসিজম হইতেছে একটা ফ্যাশন। (ইন ইটস কোর।) রেটরিকটাই বাস্তব হয়া উঠে। বাস্তব বইলা কিছু থাকে না। কিন্তু ফ্যাসিস্ট বলতে এইটারে মিন করি না আমরা, বাংলাদেশে।

ফ্যাসিস্ট বলতে আমরা বুঝি হিটলারের জার্মানিরে। আর অই সংজ্ঞার ভিতরে যখন নয়া বাকশালরে আমরা ফেলতে যাই, তখন খেয়াল করতে পারার কথা যে, আরে, এইটা এইটা তো মিলে না! যেমন ধরেন, নাজী জার্মানির তো রেসিয়াল প্রাইড ছিল একটা, নয়া বাকশালের ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এ এই জিনিস তো নাই-ই, উল্টা ‘বাঙালি’ মানে হইতেছে ‘বাংলা-মদ’ টাইপের ইনফিরিয়র, মিডিওকার, অচ্ছুৎ টাইপের জিনিস। এইরকম আরো উদাহারণ দেয়া সম্ভব, যেইটা ‘ফ্যাসিজম’র প্রেস্কাইবড (“আসল” না) সংজ্ঞার লগে মিলাইতে পারবেন না।

তারপরেও দেখবেন নয়া বাকশাল’রে ফ্যাসিস্ট বলার প্রাকটিস চালু আছে। আমি মনে করি, এইটা এক ধরণের ইনডেমনিটি দেয়ার ঘটনা, নয়া বাকশালরে। যে যা না, তারে তা বইলা, সেইটা থিকা তারে বাঁচানোর ঘটনা। যে, নয়া বাকশাল তো খারাপ, কিন্তু ফ্যাসিস্ট তো না!

কিন্তু আলাপ কখনোই এইটা না যে, নয়া বাকশাল ফ্যাসিস্ট কিনা, বরং নয়া বাকশাল হইতেছে একটা totalitarian শাসন, ফ্যাসিজমের একটা বাংলাদেশি ভার্সন। যেইটা ১৯৭২-৭৫ সালে বাংলাদেশে শুরু হইছিল, স্ট্যানিলিজমের মতন, নাজীজমের মতন আর যার থ্রেট’টারে লোকেট করতে, থিওরাইজ করতে ব্যর্থ হইছি আমরা। ১৯৯০-এ এরশাদের পতনের পরে একটা ডেমোক্রেটিক বেইজ তৈরি করতে, সমাজে এবং রাষ্ট্রে পিপলস এজেন্সি তৈরি করতেও ব্যর্থ হইছি আমরা বাংলাদেশে, যেই ফেইলওরগুলার ভিতর দিয়া, (২০০৭ সালের) ১/১১’র পরে এই নয়া বাকশালি শাসন পাইছি আমরা। পলিটিক্যালি, এইটা এখন একটা পিক মোমেন্টে আছে।…

যে কোন অবস্থার ভিতর দিয়াই, এই নয়া বাকশালি শাসনের শেষ হইলেও, এর অভ্যাসগুলারে, রীতি-নীতিগুলারে যদি আমরা আইডেন্টিফাই করতে রাজি না হই, এইটা ফিরা ফিরা আসতে থাকবে নতুন নতুন ফরম্যাটে। আর এই কারণে আমাদেরকে ফার্স্টে মানতে রাজি হইতে হবে যে, এইটা কমন কোন ফ্যাসিস্ট রিজিম না, এইটা নয়া বাকশালের আমল। একটা ইউরোপিয়ান লিবারালিজমের জায়গা থিকা এর মোকাবেলা সম্ভব হবে না, যদি এর স্পেশালিটিগুলারে আমরা নজরে নিতে রাজি না হই।

নয়া বাকশালরে যারা ফ্যাসিস্ট বলতে চান, তারা আসলে এর সিগনিফিকেন্সটারে মানতে রাজি না, এরে থিওরাইজ করার রিস্কটারেই এড়াইতে চান।


সামাজিক পিপাসা’র ঘটনাটা নিয়া

কেউ আমারে ‘ভালো’ বললেই আমি ভালো হইয়া যাই না। কেউ আমারে খারাপ বললেই আমি খারাপ হইয়া উঠি না। এমনকি কেউ আমারে নিয়া কথা বলতেছে না মানে আমি বাতিল – তা যেমন না, কেউ আমারে নিয়া হাউকাউ করলেই আমি ইম্পর্টেন্ট হয়া পড়ি না। এইগুলা হইতেছে সামাজিক ঘটনা।

এখন ‘সোশ্যাল’ বইলা কিছু নাই – এইটা যেমন ঠিক না, সবকিছু সোশ্যাল টার্মে বুঝতে চাওয়াটা এর চে কম ঝামেলার জিনিস না। এখন মুশকিল হইতেছে, এইটা যে কেউ বুঝেন না, তা না; বরং এই জিনিসগুলা বুইঝা ফেললে ‘সোশ্যাল’ জিনিসটার ফর্মেশনের দিকে যে তাকাইতে হয় – সেইখানে তাকাইতে অনেকে রাজি হইতে পারেন না। মানে, এইটুক মাফ আমি উনাদেরকে করতে রাজি আছি। কিন্তু ব্যাপারটা যতোটা না পারেন না, তার চাইতে বেশি হইতেছে, চান না।

এই না-চাওয়াটা খালি ইন্টেলেকচুয়াল ব্যর্থতা না, বেশিরভাগ সময় একটা নৈতিক (এবং একইভাবে এসথেটিক্যাল) বাউন্ডারি’র ঘটনা। গরু-গাধা-ঘোড়া’রে টাইনা পানির কাছে নিয়া যাইতে পারবেন আপনি, কিন্তু পানি খাওয়াইতে পারবেন না। কারণ পানি খাইলেই মাছ হয়া যাওয়ার ডরে থাকে অরা!

Continue reading

নোটস: জুলাই, ২০২১ [পার্ট ১]

বাংলাদেশের কোন ভার্সিটিতে কি কার্ল মার্কসের কোন লেখা বা বই কোন কোর্সে পড়ানো হয়?

২০/২৫ বছর আগে আমরা যখন ঢাকা ভার্সিটিতে ইকনোমিকসে পড়তাম তখন মার্কসিস্ট ইকনোমিকস বইলা একটা কোর্স ছিল, অপশনাল। অই কোর্সেও মার্কসের কোন টেক্সট ছিল না মনেহয়। উনার ইকনোমিক থিওরিগুলা নিয়া অন্য বই পড়ানো হইতো, আবু মাহমুদের বইও ছিল। এখন মনেহয় অই কোর্স পড়ানো হয় না আর। এইরকম সোশিওলজি, পলিটিক্যাল সায়েন্স, মিডিয়া স্টাডিজ, বা অন্য কোন সাবজেক্টে কোন কোর্স কি আছে যেইখানে মার্কসের লেখা রেফারেন্স হিসাবে পড়ানো হয়? মার্কসিস্ট লিটারেচার তো থাকতেই পারে, কিন্তু আমি একটু ডাউটফুলও যে, উনার লেখা অইরকম ‘পাঠ্য’ হিসাবে নাই মনেহয়। ছিলো কি কখনো, সিক্সটিইজেও? (জানতেই চাইতেছি আসলে…)

আমাদের সময় যা দেখছি, মেইনস্ট্রিম একাডেমিয়া’তে, টেক্সটবুকগুলাতে মার্কসের চিন্তার কোন রেফারেন্স নাই, বা খুব কম। আমার ধারণা, প্যাটার্নের দিক দিয়া মার্কস্টিট চিন্তা একাডেমিয়াতে যেই ধরণের পড়াশোনা চালু আছে, তার লগে ফিট-ইন করে না, খুববেশি। উনার বই-পত্র, লেখালেখি মেবি সবসময়ই কম-বেশি আউটকাস্ট জিনিসই ছিল। যদিও বেশিরভাগ ভার্সিটির টিচারদেরই নিজেদেরকে মার্কসিস্ট দাবি করার একটা ব্যাপার আছে। ইভেন যারা শিল্প-সাহিত্য করেন ইন্টেলেকচুয়াল-এক্টিভিস্ট তাদের সবাইও কম-বেশি মার্কসিস্ট। কার্ল মার্কসের চিন্তারে অপোজ করা, সাবস্ক্রাইব করার বা মডিফাই করার একটা ঘটনা এখনো চালু আছে। মানে, উনার চিন্তা-ভাবনা তো এখনো একটা স্ট্রং রেফারেন্স পয়েন্ট।
তো, আমার একটা অনুমান হইতেছে যে, উনার লেখা-পত্র একাডেমিক প্রসেস মাইনা, ডিসিপ্লিন মাইনা তো লেখা হয় নাই এতোটা, যার ফলে অইভাবে শেইপ-আপ কইরা নেয়াটাও মুশকিলের, যার ফলে একাডেমিক জায়গাগুলাতে মোস্টলি মিসিং।… হাউএভার, ব্যাপারটা এইরকম না-ও হইতে পারে। আমি জাস্ট ভাবলাম, মেবি হইতে পারে…

রবার্ট ফ্রস্ট

একজন ক্রিটিক রবার্ট ফ্রস্টের প্রশংসা করতেছিলেন এই জায়গা থিকা যে, এলিয়ট, এজরা পাউন্ড উনাদের কবিতা ‘মর্ডান’ এবং এই কারণে ডিফিকাল্ট, কিন্তু ফ্রস্টের কবিতা এইরকম না। তো, রবার্ট ফ্রস্ট কইতেছিলেন, উনি কঠিন বা সহজ কবিতা লেখেন – ঘটনা’টা এইরকম না।

(আমার মনে হইতেছিল, এলিয়ট, এজরা পাউন্ডরা কি করতেছিলেন আসলে? উনারা খালি কবিতা-ই লেখেন নাই, কনটেক্সট’টারেও বানাইতেছিলেন যে, কবিতারে কই থিকা পড়তে হবে। শ’য়ে শ’য়ে রিভিউ, ক্রিটিক লেখতেছিলেন। অইগুলা একটা বেইজ তৈরি করতেছিল। এর বিপরীতে, রবার্ট ফ্রস্ট কবিতা নিয়া তেমন কোনকিছুই লেখেন নাই। উনি ধরে নিছেন, কবিতা নিজেই তার কনটেক্সট’টা তৈরি কইরা নিবে, বা কনটেক্সটরর লগে কানেকশনটা তৈরি কইরা নিবে। মেবি এইরকম।)

ফ্রস্ট বরং বলতেছিলেন যে, দুইটা জিনিস কবিতার ব্যাপারে ইর্ম্পটেন্ট। একটা হইতেছে, পারফর্মেন্সের ঘটনা থাকতে হবে, স্কোর’টা করতে পারতে হবে। আপনি যতো কিছুই করেন, যদি কানেকশন’টা ক্রিয়েট না করা যায়, পারফর্মেন্সটা না থাকে তাইলে জিনিস হবে না। (মানে, পারফর্মেন্স জিনিসটা ঠিক পারফর্ম অর্থে না, ভিজিবল হইতে পারার মতো একটা জিনিস।)

সেকেন্ড হইলো, উনি বলতেছিলেন, পোয়েটিক থট হোক বা যে কোন একটা থট যা করে তা হইতেছে, এদের “feat of association” থাকে, একটা জিনিস আরেকটা জিনিসরে জড়ায়া ধরতে পারে, কানেক্ট করতে পারে। আর এইভাবে নতুন কিছু ক্রিয়েট হয়।

তো, এইটা কবিতা নিয়া উনার ভাবনা, বা কবিতার কাছে উনার এক্সপেক্টশন, বা কবিতারে উনি এইভাবে দেখেন। এই জিনিসগুলারে কবিতা বইলা ধইরা নিলে আরেকটা ঝামেলাই হবে আসলে। 🙂

একজন কবি’র কবিরা গুনাহ হইতেছে মানুশ তারে ভালোবাসে

একটা জিনিস খেয়াল করছি, যেইসব ইন্টেলেকচুয়াল’রা কবিতা লেখতে পারেন না (বা লেখেন না), উনারা কবি’দেরকে (আমি বলবো) ভালো-রকমেরই হেইট করেন।* মানে, বাটে পাইলে ভালো রকমের মশকরাই করেন। যুগে যুগে কবি’রা এইরকম হেইট্রেটের শিকার হইছেন, হইতেছেন 🙂 (কবি’রাও তো আর “ধোয়া তুলসী পাতা” না….)

আবার যারা পাওয়ারফুল লোক (কুস্তরিকা’র “আন্ডারগ্রাউন্ড” সিনেমা দেখতে গিয়া খেয়াল করছিলাম, বা অন্য অনেক উদাহারণও পাইবেন) উনারাও দেখবেন অনেক সময় কবিতা লেখতে চান বা কবি হইতে চান। কেন?

কয়েক বছর আগে বলছিলাম, একজন কবি আর একজন ইন্টেলেকচুয়ালের ডিফরেন্সটা কোন জায়গাটায়? কবি হইতেছেন মানুশের কাছের লোক, আপনা মানুশ, ভালোবাসার ধন, এইসব কিছু। মানে, সে খারাপ, ফাউল, কোনকিছু বুঝে না, আজাইরা কথা কয়, কারেক্টার ভালো না… এইসবকিছু কইয়া বা বানায়া (মানে, মানুশ হিসাবে আমরা নিজেরাও তো কম-বেশি এইরকমই) খুব একটা লাভ হয় না। মানে, কবি হিসাবে আপনার যারে ভালোলাগে তারে আপনি ভালোইবাসেন, তার লগে অন্য কোন রিলেশন আসলে হইতে পারে না।

এখন একজন ইন্টেলেকচুয়ালরে যে আপনি ভালোবাসতে পারেন না – তা না, অনেক ক্ষমতাবান মানুশও আছেন বা থাকতে পারেন যারা ক্ষমতার কারণে ভচকায়া যান নাই, তাদেরকেও ভালোবাসতে পারেন আপনি। কিন্তু অইটা সমানে-সমানে হয় না সবসময়। বা অইটা বেইজটা না একজনরে ইন্টেলেকচুয়াল বা মহান ভাবার। কিন্তু একজন কবি’রে যদি আপনি ভালো না বাসেন, সে তো তখন কবি-ই না কোন আপনার কাছে!

তো, আমার ধারণা, কবি’রে যে মানুশ ভালোবাসে, আদর কইরা গাইল্লায়, কাছের লোক ভাবে, এই কারণে ‘কবি’ হওয়ার একটা তাগিদ থাকে, বা কেউ “কবি” বইলাই যে জরুরি কিছু না, অই জিনিসটাও প্রমাণ করা লাগে, অনেক সময় 😛

মানে, এইটা সুপিরিয়র কোন জিনিস না, কিন্তু অন্য সব সামাজিক পরিচয়ের চাইতে তো আলাদা জিনিসই, সবসময়।

…….
*আমার অবজারভেশন ভুলও হইতে পারে, কিন্তু আপনারা ভাইবা দেইখেন ব্যাপার’টা।
Continue reading

কবিতা: ফেব্রুয়ারি, ২০২১

শীতকাল

“রোদ উঠে গেছে”
শীতকাল’টাও চইলা যাবে, কয়দিন পরে

যে কোনকিছু’র চইলা যাওয়া-ই আমারে বিষণ্ন করে

ভালোবাসার পরীক্ষা

আবার পরীক্ষা দিতে হবে ভালোবাসার,
আবার, আবার
প্রশ্নফাঁসের এই পরীক্ষাগুলা দিতে
আমার ভাল্লাগে না আর

নিজেরে কতো নকল
করতে পারে লোকজন আর অদের কি
টায়ার্ডও লাগে না!

হায় খোদা! আমারেই কেন
বারবার বলা লাগবে,
আবার, আবার ভুল উত্তরগুলা
লেখা লাগবে, আর
একটা ফেইল করার গ্লানি নিয়া
হাঁইটা বেড়াইতে হবে একলা একটা রেললাইন দিয়া
অথবা বইসা থাকা লাগবে চুপচাপ কোন নদীর পাড়?

কেন রে ভাই, চুতমারানি?
কেন, দ্য হোয়াই?

টু লি পো

কথাগুলারে আমি এক হাজার মাইল দূরে পাঠায়া দিবো
লি পো, অরা কি চিন্তা করাইতে পারবে কাউরে, এতো দূরে?
(তোমার মতন এমন বন্ধু আমি কি আর পাবো?)

আমি এক হাজার বছর আগে আমার কথাগুলারে পাঠায়া দিবো
লি পো, কেরু খায়া কানতেছে যেই কিশোর ছেলে’টা তার বাচ্চা প্রেমিকা’র লাইগা
বয়স হয়া গেলে সে-ও তো হাসবো, এই কথা মনে কইরা
তার চোখের পানির মতো মদ আমি জমায়া রাখতেছি তোমার জন্য

লি পো, আমাদের কথাগুলা আমরা ভাসায়া দিবো
সাগরে এক ফোঁটা পানির মতো, বাতাসে ভাসতে ভাসতে হারায়া যাবে
হৃদয়ে যেই কথাগুলা শেষ হয়া যাইতেছে, যেই কথাগুলা শেষ হয় না কোনদিনও

এইরকম কথাগুলারে আমরা এক হাজার মাইল দূরে, এক হাজার বছরের পরে
পাঠায়া দিবো; “আমি জানি, তুমি শুনতেছো;
তুমি শুনতেছো তো?”

একটা কবিতা

একটা কবিতা আমি পাইলাম নন্দায়, বারিধারায়
একটা কবিতা আমি পায়া যাবো কিছু দূর হাঁটলে মহাখালি, তেজগাঁয়
কবিতা ছড়ায়া আছে মতিঝিলে, চকবাজারে, পুরান ঢাকায়
ঢাকা শহর ভর্তি ছড়ানো কবিতা, ড্রেনে ড্রেনে, ফুটপাতে, ভাঙা রাস্তায়
ফকির-মিসকিনের মতন আমি কবিতা কুড়াই আর কবিতাগুলা আমারে চিইনা ফেলে
কয়, আপনি না গতকালকেই আসছিলেন! ‘পৃথিবীর গভীর, গভীরতর অসুখ’
নিয়া আপনি আর কদ্দিন নিজের চিকিৎসা’র খরচ তুলবেন?
Continue reading

কুরবানি ঈদের গান

বাংলাদেশে কুরবানি’র গান কোনটা? (সেইটা পরে বলতেছি, কিন্তু) তার চাইতে জরুরি প্রশ্ন হইতেছে, বাংলাদেশে কোন কুরবানির গান নাই কেন?

কিছু ‘গরু’ অবশ্যই ইউটিউব সার্চ দিয়া ১৫/২০টা গান বাইর কইরা এবং লিংক দিয়া বলবেন, কই আছে তো!
মানে, এখন কেমনে বুঝাই, ‘গান নাই’ বলতে আমি কি বুঝাইছি? 🙁

(আনুমানিক) ৯০ বছর আগে কাজী নজরুল ইসলাম রমজানের ঈদ নিয়া একটা লেখছিলেন বইলা এবং আব্বাসউদ্দিন সেই গান রেকর্ড করছিলেন বইলা, সেই গানটা রমজানের ঈদের আগের দিন আমরা বাজাইতে পারি (নাচতে না পারলেও)। এইরকম কোন ‘সিগনেচার সং’ বাদ দেন, ধরেন আপনার ফ্রেন্ড সার্কেলে ৫/৭ জন একলগে বইসা গাইতে পারেন, এইরকম কোন কুরবানির ঈদের গান নাই।
কালচারাল নিডের কথা বাদ-ই দেন, এর একটা বাজারও তো আছে! কিন্তু আমাদের আর্ট-কালচার করা লোকজন এইটা নিয়া ‘সাহিত্য’ আসলে করতে পারেন নাই।

এক হইলো, এই ‘ট্রাডিশন’টা নাই। যেমন ধরেন, প্রেমের কবিতা লাখ লাখ পাইবেন; যে কেউ ভাবলে, বসলে, দুই-চাইরটা লেইখা ফেলতে পারবেন, কারণ এই ভাইব’টা বাংলা-ভাষার ভিতরে, বাংলা-সাহিত্যের ভিতরে আছে, যার ফলে লেখাটা সহজ (আবার একইভাবে, কঠিনও); দেশপ্রেমের কবিতাও লেখা যায়। কিন্তু নতুন কোন সাবজেক্ট নিয়া লেখাটা কঠিন, কারণ তখন সেইটা ‘হয় না’ আসলে। একটা সাবজেক্টরে সাবজেক্ট কইরা তোলাটা কালচারের বাইরেও একটা আর্টিস্টিক ক্ষমতারও ঘটনা। আর সেইটা কম-বেশি একটা কালচারাল আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়েরও মামলা…

আরেকটা জিনিস একটু ইরিলিভেন্ট হইলেও বইলা রাখতে চাই, ব্রাহ্মণবাদী টেক্সট-রিডিংয়ে এই জিনিসটা পাইবেন, টেক্সট’টারেই মুখ্য কইরা তোলা হয়, যেন যা কিছু বলা হইলো না, তা আর বাস্তবে নাই! কনটেক্সট’টারে কন্সিডার করা হয় না। কিন্তু ভাষাতে অই না-থাকা জিনিসগুলাও থাকে। যেমন একটা সময়ে আইসা ফিল করার কথা, আরে, কুরবানির গান নাই ক্যান!

কলকাতার হিন্দুদের দুর্গাপূজা যেমন ইংরেজ আমলের একটা ঘটনা, কুরবানি জিনিসটা ১৯৫০-৬০’দিকেও সামাজিক ঘটনা হয়া উঠার কথা না, ৮০’দশকে একটা কমন জিনিস হয়া উঠতে পারছে মনেহয়। (কেউ কোন লেখার কথা জানা থাকলে রেফার কইরেন।)

২.
টাইমের হিসাবে, ইউটিউবে (অবশ্যই অথেনটিক সোর্স না) বাংলাদেশের ফার্স্ট কুরবানি’র গান পাইছি ২০১২ সালের। এর আগেরও থাকতে পারে। মোবাইল কোম্পানি রবি মনেহয় দুয়েক্টা জিনিস ট্রাই করছিল ২০১৩/১৪’র দিকে, কিন্তু জমাইতে পারে নাই।

প্রমিথিউস ব্যান্ডের বিপ্লবের একটা গান আছে, ২০১৬ সালের, যেইটা আমার ধারণা একটা কাল্ট সং হয়া উঠতে পারে।

এর বাইরে যেই গানগুলা আছে, বেশিরভাগই ফান, হিউমার 🙂 গরুর বাজার নিয়া, বেপারি-কাস্টমার নিয়া। গত দুই-তিন বছর ধইরা প্রতি বছরই একটা/দুইটা গান রিলিজ হয়। ‘ডিমান্ড’ তো আছে আসলে। কিন্তু ফেমাস বা সেলিব্রেটি সিঙ্গার-লিরিসিস্ট না উনারা কেউ।
প্যারোডি গানও আছে কিছু; মানে, কুরবানি যে দিতেছি আমরা, লজ্জার ব্যাপার তো কিছুটা! কলার ছুলকায় পা পিছলায়া পড়ার পরে নিজে নিজে হাইসা দিতে পারার মতো।…

তবে ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার হইতেছে, যারাই এই ট্রাই-ট্রুইগুলা করতেছেন, তাদের সবাই-ই ইয়াং। এইটা এনকারেজিং একটা জিনিস। আমি হোপফুল যে একটা বাংলাদেশি কুরবানির গান আমরা পাইতে পারবো হয়তো, রিসেন্ট ফিউচারেই। কারণ কালচারাল স্টিগমাটাও কমতেছে মনেহয় কিছুটা।…

৩.
তো, এর আগ পর্যন্ত, বাংলাদেশে কুরবানির ঈদের গান হইতেছে আসলে হিন্দি কুরবানি (১৯৮০) সিনেমার “কুরবানি, কুরবানি…” গানটা। (বিপ্লবের গানের শুরুতেও গানটার একটু আছে।)

আমার ধারণা, অনেকেই চিনবেন গান’টা। কমেন্টে লিংক দিতেছি, দেখেন তো, মনে করতে পারেন কিনা!



হুমায়ূন আহমেদের হিরো’রা

হুমায়ূন আহমেদের হিরোদের খেয়াল করছেন? হিমু, মিসির আলী, শুভ্র… – এরা কেউ বিয়া করে না, (দুই-চাইরজন ভক্ত-টাইপ প্রেমিকা থাকলেও) প্রেমও অইরকম করতে চায় না, (এটলিস্ট ভিজিবল) সেক্সুয়াল ড্রাইভ নাই, ভালো ভালো জিনিস চিন্তা করে, ভালো ভালো কাজ করতে চায়; রবীন্দ্রনাথের নায়িকাদের মতোই কিন্তু অনেকটা! এক কথায় বলা যায়, ইনোসেন্ট অরা।

এইরকম হিরো হওয়াটা খারাপ হইছে, বা হওয়া যাবে না – এইটা আমার পয়েন্ট না, বরং উনার হিরো’রা যে এতোটা ‘বেটা’ না, ‘ম্যানলি’ (মানে, দাড়ি-টাড়িও কমই রাখে মনেহয় 😛 ) না, এই জিনিসটা ফিমেইল রিডারদের কাছে উনার পপুলার হওয়ার একটা কারণও হইতে পারে। (যে, পুরুষ মানেই বাঘ-সিংহ মার্কা পশু না, উদাসও কিছুটা।)

মানে, রবীন্দ্রনাথের ফিমেইল-কারেক্টারগুলার একটা মাস্ট লক্ষণ যেমন ‘মেয়েলি’ হইতে হবে*; আর এইটা যেইভাবে উনারে প্যার্টিয়াকির ‘মহান পুরুষ’ বানাইতে পারছে, হুমায়ূন আহমেদে আইসা এই জেন্ডার-রোল’টা রির্ভাস হয় নাই, বরং এই জিনিসটা একভাবে ‘কোর’ হিসাবেই থাকছে, যার ফলে উনিও ‘রোমান্টিক পুরুষ’ হইতে পারছেন, একটু ‘কম-পুরুষ’ হওয়ার ভিতর দিয়া।

এইটা কইরা (উনার হিরোদেরকে কিছুটা বেকুব বানায়া) পুরুষদের কাছে হুমায়ূন আহমেদ রাইটার হিসাবে ‘বেইট্টা’ হয়া যান নাই, বা সমাজে একজন নারী’র ‘নারী’ হয়া থাকাটা যেইরকম টাফ অইরকম টাফ কইরাও তোলেন নাই; এইরকম ‘মোলায়েম’ হিসাবে দেখানোর ভিতর দিয়া কিছুটা ‘মানবিক’ কইরা তোলারই একটা কাজ করতে পারছেন মনেহয়, যেইটা ‘যে কোন মূল্যে পুরুষ থাকার’-ই একটা ঘটনা। মানে, জেন্ডার-রোলে স্ট্রিক্ট করাটা। (নারী ব্যাপারটাতেও এইটা পাইবেন, বেটাগিরি করতে পারাটা যেন ‘নারী’ হইতে পারা থিকা বাইর হইতে পারা! 🙁 কি স্যাড!) Continue reading