কবিতার বই: গান

We are ugly, but we have music – Leonard Cohen

…………………

গান গাই আমার মন’রে বুঝাই
মন তাকে পাগল-পারা

/শাহ আবদুল করিম
………….

গান ১

কার জানি, কি জানি
কই ও কোথায়
আসলো পৌষ ও মাঘ
হরে দরে দৃশ্য বিলাইতেছে
ক্যামেরাগুলা
শাট! শাট! শাট!
লে-অফ হইতেছে পাটকল
লে-অফ হইতেছে চিনিকল
আসতেছে চুতমারানিরা
কল কল ছল ছল
গান গাইতে গাইতে
ভিজা যাইতেছে
জামা জুতা মোজা
একে তো শীতকাল
বসন্ত আসলে না জানি
শুরু হবে আবার কোন চোদা!

গান ২

এই গান, বুঝছো
আমরা গাবো
গোবেচারা গোরুগুলি
একটু দূর থিকা
বড় বড় চোখ নিয়া
আমাদেরকে দেখবে
(অদেরকে লাগবে, সিনে
অডিয়েন্স হিসাবে)
আর আমরা এই গান
গাবো, বুঝছো?
কতো সুখ
কতো আনন্দ
শীতের দিনের
গরম পেশাবের মতো
আমরা বাইর হয়া যাবো
সারারাত সা রা রা ত
এই গান গাবো
চাঁদ নিয়া মাথার উপ্রে
ধীরে ধীরে হাঁটবো
গলিতে কুত্তার ডাকে
হা হা হাইসা উঠবো
কু কু কু গান
আমরা মনে নিয়া
বলবো, এই গান
এই গানটাই, বুঝছো!

গান ৩

ঝরে পড়তেছে তোমার
বুঝতে পারা’র ঝোল
কাঁচা হাড়ি ফুটা হয়া
টপা টপ টপ

আর মন-মাঝি
গাইতেছে গান
শুকায়া যাওয়া নদীতে
নিয়া বৈঠা ও বোট
ও মন চোদনা রে…

Continue reading

কবিতা: জানুয়ারি, ২০২১

না-বলা প্রেম

:এতোই যদি জানেন,
ব্যাখ্যা, আপনি ঘটনা হন না ক্যান!

:যতদূর ব্যাখ্যা আমি,
ঘটনা, আপনি কি তার বাইরে গিয়াই ঘটেন?

 

গান ৪

শরীর পবিত্র
তার চাইতে পবিত্র হৃদয়
নিয়া চুদাচুদি শুরু করার আগে

জিগায়া নিবা, কন্ডম আনছেন তো?

তা নাইলে বলবা, মাল ভিত্রে পড়লে
আমি কিন্তু এবরশন করায়া নিবো
খামাখা আবেগ কমায়া রাখা তো ভালো
আর তখন কমন নিরবতার ভিত্রে
হাসাহাসি শুরু হওয়ার আগে
বাবা-খাওয়ার পরের গান
গাইয়া উঠবেন

নুসরাত ফতেহ আলী খান

দমা দম মাসকালান্দার…

 

গান ৭

এই যে আমরা, আমাদের হাসি-খুশি মন নিয়া

বইসা থাকলাম না, জোকস-টোকস কইলাম না
সিগ্রেটের ধোঁয়ার মতন সময়রে উড়ায়া দিলাম না
কইলাম না যা কিছু কইতে পারতাম, বা বারবার

বলতে বলতে যা আর বলতে ইচ্ছাও করে না

আমরা, যাদের আমরা বইলা কিছু নাই আর
যারা ভুলে গেছি, যারা কোনদিনই ভুইলা যাবো না
বইলা ঠিক করছি, কে ছিলাম, কি ছিলাম বইলা

কোন কবিতা লিখলাম না, গান গাইলাম না…

কষ্ট কি একটু কম হইলো আমাদের?

 

ব্রেথ

নিয়তির সামনে আমি দাঁড়ায়া আছি, একটা অভিশাপ
পাহাড় উড়ায়া নিয়া যাবো যেন, এমন একটা উতলা বাতাস
একটা শব্দরে তার সোশ্যাল মিনিংয়ের ভিতর

হারায়া যাইতে দিবো না – এমন একটা ব্যাখ্যার ফাঁদ…

আর, নিয়তির ঘটনা ঘটে যাইতেছে তার মতো
পাহাড় দাঁড়ায়া থাকতেছে, শব্দটাও নড়তেছে না
খালি আমি ধীরে ধীরে মুছে যাইতেছি
যেমন বাঁইচা থাকতে হইলে, শ্বাস নিতে হইলে
বেশিক্ষণ থাকতে পারে না কোন দীর্ঘশ্বাস…

 

কথা

উর্দু ভাষায় কিছু বলতে ইচ্ছা করতেছে। ধরো যেই উর্দু নাই তারে অনুবাদ কইরা বাংলায় বললাম, এমন কাহাওত আছে, তোমার লগে আমার দেখা হয় না, এমনকি তোমার তকদিরের লগে অন্য কারো তকদিরেরই দেখা হইতেছে। কিন্তু উর্দুতে বা ইংলিশে লেইখা হবে না আসলে, অন্য কোন অপরিচিত ভাষায় লেখার ইচ্ছা হইতেছে, যেই ভাষা ধরো গুগুল ট্রান্সলেটেও নাই। কিন্তু তাই বইলা বুং বাং কিছু না… মিনিং আছে কোন, আবার সুরেলাও, উচ্চারণ কইরা পড়া যায় রোমান হরফে বা বাংলায়, কিন্তু সুরটাই মিনিং না। খুব গভীর বা গোপন কিছু না। মানে, খালি বলাটা ডিফরেন্ট। অন্য একটা ভাষায় আমি কথা বলতেছি যেন। একই কথা। বারবার। বারবার। তুমি ভাববা, আরে আমি জানি তো জিনিসটা, কিন্তু বুঝতে পারতেছি না কেনো! একটা বকুল ফুলের গন্ধের কথা যেমন আমরা লিখতে পারতেছি না। একটা শরীরের ক্ষত শুকায়া গেলেও যেমন দাগটা মুছে যাইতেছে না পুরাপুরি। আমি কথা বলতে চাইতেছি, এই কথাটাই বলতেছি ধরো, অন্য কোন ভাষায়। তুমি শুনতেছো। বুঝতেছো না। আর বলতেছো, “এইটা কোন কথা!”


মৌমাছিগণ

শোনেন ভাই, আমরা

‘যাই মধু আহরণে’

আপনারে চুদার টাইম তো নাই

 

Continue reading

কবিতা: ডিসেম্বর, ২০২০

ব্রেকাপ

আমি ভয় পাই,
ভয় আমার শার্টের কলার ধইরা রাখে
যেন সে পইড়া যাওয়া থিকা আমারে বাঁচাইতেছে

আমি এই ভয়টারে চিনি,
একটা ভয়েডের মতন সে
আমারে ধইরা রাখে তার ভিতরে

একটা ভয়ের ভিতরে আমি আছি,
ভয়’টা আমারে ধরে ঝুলে থাকতেছে,
বলতেছে, “ভুলে যাইও না, আমারে!”

 

এডভাইস

চোখের সামনে যে কুয়াশা, এইটা তো মিথ্যা
এইটা তো নাই আসলে এতোটা, এর সামনে আছে দৃশ্য আরো…

আমারে বুঝাইতেছে ঘর-পোড়া গরু, বেলতলার ন্যাড়া

 

দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টারস

“দেখো, তোমার নিয়তির মতো, তুমিও তো একা…”

বইলা আমার সাথে সারারাত জাইগা থাকলো
দূর আকাশের একটা তারা

 

মিথ্যাবাদী রাখাল

“আমি তো এখন অন্য কারো বাঘ,
অন্য কারো স্বপ্নে থাকি, আপনার ভ্যালিতে
কোনদিন আসবো না আর!”

“আপনার আসা বা না-আসার লগে
ব্যাপারটা তো এতোটা রিলেটেড না,
আপনি বুঝেন নাই,” রাখাল কয় “আপনি তো নাই!
ছিলেন যে কোনদিন – এইটাই তো আমি জানি না,
আমার কাজ হইতেছে সত্যি বইলা কিছু একটা যে আছে,
আর কোনদিন আইসা আমাদের সব মিথ্যাগুলারে দখল কইরা ফেলবে
সেই কথা বলা; যে, দেখো, বাঘ আসতেছে!
আপনি সত্য হয়া উঠবেন কিনা সেইটা তো আপনার চয়েস,
মানে, আপনি যদি কোনদিন না আসেন, আপনি তো বাঘ না আর!”
শুইনা বাঘ হাসে, কয়, “ঠিকাছে, আমি গেলাম তাইলে!
স্বপ্নের ভিতরে কেউ আমারে ‘বাঘ, বাঘ…’ বইলা ডাকতেছে”

রাখাল এই কথা গিয়া লোকজনরে কয়,
“শোনেন বাঘ কিন্তু আছে, আমার লগে কথা হইছে
শে আসবে না বলছে, এখন বিজি আছে, কিন্তু আছে যেহেতু
আবার আসতেও পারে!”

লোকজনও হাসে, আগের মতোই কয়,
“বাঘ তো নাই, কই থিকা আসবে!
তুমি মিয়া মিছা কথা কওয়া ছাড়তে পারবা না কোনদিন…”

 

শীতের কবিতা

তুমি থাকো, বস্তুর ভিতর যেমন লুকায়া থাকে ভাব
দমে দমে জমতে থাকে খালি অবিশ্বাসের পাপ

তুমি থাকো, শীতের একটা মরা নদীর থাইমা থাকার মতো
‘অথচ নদীর পানি কোনদিন থাইমা থাকে না তো!’
এইরকম বাস্তব যুক্তি-বোধের মতো, তুমি থাকো
যা আমি মানি নাই, মানবোও না কোনদিন, কিন্তু
আমার মানা ও না-মানার বাইরে তুমি যে আছো, থাকো!

আমি ধানের নাড়া নিয়া ধানখেতের পাশ দিয়া
ক্যাঁচ ক্যাঁচ করা একটা গরুর গাড়ির মতন,
‘ঘুমের ভিতর বিছানায় বালকের পেশাবের মতন’
লাল রাতা-মুর্গির অহেতুক, ডির্স্টাবিং ডাকের ভিতর
সকালের কুয়াশার ভিতর ধীরে ধীরে চলিয়া যাবো…

তুমি থাকো, যেইরকম বস্তু ও ভাব, এতোটা আলাদা না তো!
এইরকম জীবন-বোধের ভিতর ‘খেজুর গাছে হাড়ি’
বাইন্ধা দিয়া মন, তুমি থাকো, টুপটাপ কুয়াশার মতন
সকাল হইতে না হইতেই কি রকম শব্দগুলা গাছের পাতাগুলাতে জমতেছে, দেখো

 

তক্ষক

বিমানবাহিনী’র কোয়ার্টারগুলার সামনে একটা তক্ষক ডাইকা যাইতেছে। গাড়িগুলার হর্ন তারে পাগল করে দিতেছে। ডাকতে ডাকতে তার গলায় রক্ত উইঠা মইরা যাবে তো সে! তক্ষকটারে দেখতেছি না আমি। কোন গাছের পাতার আড়ালে যে বইসা আছে! আর বুঝতে পারতেছে না এই আওয়াজগুলা যে তার লাইগা না। এইরকম ভুল আমারও হয়।…

আইবিএ’র গ্যারাজে বইসা একটা তক্ষকের ডাক শুনতে শুনতে রিপন ভাই দেখাইতেছিল এই খেলাটা যে, তুমি তক্ষকের ডাকের পরে একটা ডাক দেও, দেখবা ও-ও ডাকবে, থামতে পারবে না। উনি ডাক দিলেন, তক্ষক’টা ডাকলো। কইলেন, তুমি ডাক দিলেও ডাকবে। আমি ডাক দিলাম, তক্ষক তখনো ডাকে। রিপন ভাই ডাকলেও ডাকে, আমি ডাকলেও ডাকে। পরে রিপন ভাই-ই কইলো, আর ডাইকো না। তক্ষকটা তার ডাক থামাইতে পারবো না। হইলোও তাই। আমরা ডাক বন্ধ কইরা দেয়ার অনেকক্ষণ পরেও তক্ষক’টা ডাকতে থাকলো। একটু পরে পরে আবার। আবার কোন আড্ডা থিকা আরো কেউ ডাইকা উঠলো। তক্ষকটা রেসপন্স করলো, ডাইকা উঠলো তখনও।…

তুমি তক্ষক হইও না।

Continue reading

জহির রায়হান

গতকালকে (৩০শে জানুয়ারি) ছিল জহির রায়হানের (১৯৩৫ – ১৯৭২) অফিসিয়াল মৃত্যু দিবস। উনারে আমার পছন্দ উনার এডাপ্টিবিলিটির কারণে; উনি উনার আর্টের জায়গাতে ফেক্সিবল হইতে পারছেন; প্রথমে আর্ট-ফিল্ম বানাইছেন, পরে বাণিজ্যিক উর্দু সিনেমা (সঙ্গম) বানাইছেন, রূপবানের পরে ফোক সিনেমা (বেহুলা) বানাইছেন, বাংলাদেশে ফিল্ম বিজনেসটারে অনেকটাই বুঝতে পারছিলেন, ইনভেস্ট করছেন; সামাজিক এবং পলিটিক্যাল সিনেমা বানাইছেন। মানে, ছড়াইতে পারছেন একভাবে।

উনারে নিয়া অনেকে অনেক কথা কইছেন, উনি অনেক বড় ফিল্ম-মেকার ছিলেন, রাইটার ছিলেন… কিন্তু উনার সিগনিফিকেন্স নিয়া আমার ধারণা কথা খুব কম হইছে; যে, কেন উনি গ্রেট ছিলেন? কোন জায়গাটারে উনি নতুনভাবে আবিষ্কার করছিলেন?… এইরকম আইডেন্টিফিকেশনগুলা কম, বা এখনো বলা’টারে ‘গুনাহ’ বইলা মনে করতে পারি মনেহয় আমরা।

তো, আমি এর বাইরেই মোটামুটি আরেকটা জিনিস নিয়া কথা বলতে চাইতেছি। কয়দিন আগে Ibrakor Jhilli একটা লেখা লেখছেন, ‘রিডিং বিয়ন্ড দ্যা লাইনস’ নামে। (লেখাটার লিংক কমেন্টে দিতেছি।) অই লেখাটার প্রপোজিশনটারে কেমনে এপ্লাই করা যাইতে পারে, তার একটা উদাহারণ হিসাবে দেখতে পারেন। যে, আর্ট জিনিসটা বাইরের কোন ঘটনা না; বরং লাইফের লগে বা অন্য সব আর্টের লগেও এইটা কেমনে কানেক্টেড বইলা রিড করি আমরা।

জিনিসটা ফার্স্ট মনে হইছিল, জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ (১৯৬৬) সিনেমাটা দেখতে গিয়া। অই সিনেমাতে উনার ফার্স্ট ওয়াইফ সুমিতা দেবী (১৯৩৬ – ২০০৪) অভিনয় করছিলেন দেবী মনসার রোলে। সুমিতা দেবী, হেনা ভট্টাচার্য, নিলুফার বেগম’রে (এই তিন নাম ছিল উনার) বিয়া করেন ১৯৬০ সালে, মগবাজার কাজী অফিসে, কিন্তু জানাজানি হয় মেবি ১৯৬২ সালে আর একলগে থাকতে শুরু করেন, ১৯৬৩/৬৪’র দিকে। আর উনার সেকেন্ড ওয়াইফ সুচন্দা (১৯৪৭) ছিলেন বেহুলার রোলে। শ্যুটিং চলার সময়ে বা তার আগেই মেবি সুচন্দার লগে উনার রিলেশন শুরু হইছিল। আর সিনেমা রিলিজ হওয়ার পরে সুমিতা দেবীর লগে থাকা ছাইড়া দেন। অফিসিয়ালি ডিভোর্স মনেহয় হয় নাই।…

তো, এই ইনফরমেশন যদি মাথায় রাখেন, দেখবেন ক্যামেরা কি সুন্দর কইরা সুচন্দা’রে দেখাইতে চাইতেছে। বেহুলা’র শুরু’র গানটাই সুচন্দার রূপ বর্ণনা এবং তা দেখানোর ভিতর দিয়া শুরু হয়। মানে, সুচন্দা আর জহির রায়হানের মধ্যে তখন প্রেম চলতেছে, এই ইনফরমেশন বেহুলা সিনেমাটারে দেখার ব্যাপারে এফেক্ট করার কথা, কিছুটা হইলেও।

এইখানে আবার আরো কিছু ইনফরমেশনের কথাও বলা হয় না। বেসিক্যালি ৩টা ইনফরমেশনের কথা আমি বলতে চাইতেছি। তিনটা ইনফরমেশনই আছে সুমিতা দেবী’র “জীবন নদীর তীরে” নামে লেখাটাতে; যেইটা উনার বর্ণনায় উনার ছোট ছেলে অনল রায়হান লেখছিলেন; সাপ্তাহিক বিচিত্রার ঈদ সংখ্যা ১৯৯১’তে ছাপা হইছিল। পরে অনুপম হায়াৎ উনার “চিত্রপরিচালক ও তারকাদের আত্মকথা” বইয়ে (৩৪- ৫৭) রাখছেন। ইনফরমেশনগুলা অইখান থিকা নেয়া।

এক নাম্বার ইনফরমেশন হইলো, বিয়ার পরে, মুসলমান হওয়ার পরে সুমিতা দেবী’রে অভিনয় ছাইড়া দিতে হইছিল। কারণ উনার শ্বশুর এবং জহির রায়হানের আব্বা “…ছিলেন একজন আলেম মানুষ”। সুমিতা দেবী’রে দুই বাচ্চাসহ জহির রায়হান বিয়া করছিলেন আর বিয়ার পরে তারে নিয়া বাপের বাড়িতে উঠছিলেন। ১৯৬৪ সালের “সঙ্গম” সিনেমার পরে সুমিতা দেবী আর কোন সিনেমাতে অভিনয় করেন নাই, এর পরে জহির রায়হানের বেহুলাতেই অভিনয় করছিলেন, ১৯৬৬ সালে।

তো, জহির রায়হান এই ব্যাপারে সুমিতা দেবীরে কোন হেল্প করেন নাই। বরং অই সময় আরো একটা বাজে কাজ উনি করছিলেন। “জহির একদিন আমাকে এ বাড়ি থেকে চলে গিয়ে অন্য কোথাও একটা বাড়ি করে থাকতে বলে।… আমি প্রথমে রাজী হচ্ছিলাম না দেখে সে বিরক্ত হয়ে জানায় যদি আমি অন্য কোথাও বাসা ভাড়া না করি তাহলে সে কবরীকে বিয়ে করে ফেলবে।… জহির আমাকে বারণ করেছিলো, বাড়ির লোকেরা যেন আমার চলে যাওয়ার মূল কারণটা জানতে না পারে। ফলে, শ্বশুর বাড়ির প্রত্যেকেই ধারণা করেছিল যে আমি স্ব-ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। ঐ সময়টাতে আমাকে নিদারুণ আর্থিক কষ্ট ভোগ করতে হয়। আমি জানতাম জহির আসবে না। সে আসেওনি।”

তো, কবরী’রে বিয়া করতে পারেন নাই জহির রায়হান, বরং কবরী’র হাজব্যান্ড উনার নামে মামলা করার কারণে বরং তারে ঝামেলায় পড়তে হইছিল। এইটা হইতেছে সেকেন্ড ইনফরমেশন। জহির রায়হান কবরীর প্রেমে পড়ছিলেন – এইটা না; উনি সুমিতা দেবীর ক্যারিয়ার শেষ কইরা দিছিলেন। দুইটা বাচ্চা নিয়া চলাফেরা করার মতো টাকা ছিল না বইলা “চরিত্রাভিনয়ে কাজ করতে” শুরু করলেন তখন। “নায়িকা জীবনের সমাপ্তি ঘটে আমার এভাবেই, অতি দ্রুত।”

জহির রায়হান আবার সুমিতা দেবী’র কাছে ফিরা আসেন। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই সুচন্দার লগে উনার প্রেম শুরু হয়। সুমিতা দেবী’র বান্ধবী রাণী সরকার জহির রায়হানের এই কাজের নিন্দা করেন বইলা জহির রায়হান রাণী সরকার’রে পরে আর কোন সিনেমাতে কোন কাজে নেন নাই। এইটা হইতেছে, থার্ড ইনফরমেশন।
যে, পারসোনাল লাইফে জহির রায়হান প্রতারণা করতেন এবং প্রতিশোধ-পরায়ণ আছিলেন। সুমিতা দেবী অর্থনৈতিকভাবে খুবই বাজে অবস্থায় ছিলেন। অথচ জহির রায়হানের তখন টাকা-পয়সার তেমন কোন অভাব থাকার কথা না, কিন্তু উনি তেমন কোন হেল্প আসলে করেন নাই সুমিতা দেবীরে। ১৯৬০-এ জহির রায়হানের আগ্রহে এবং একরকমের জোরাজুরিতেই বিয়া’টা হইছিল। সুমিতা দেবীও কোন কমপ্লেইন করেন নাই জহির রায়হানের পরের ঘটনাগুলা নিয়া, জাস্ট মেনশন করছেন। কিন্তু এই ইনফরমেশনগুলারে যদি মাথায় রাখেন, জহির রায়হানের যে কোন কাজরেই কিছুটা হইলেও একটু ‘প্রতারণা-মূলক’ ভাবতে পারার কথা মনেহয় 🙂 যেই সন্দেহ, আমার ধারণা, বাংলাদেশের আইডিয়ালিস্টরা করেনও মাঝে-মধ্যে, কিন্তু ভাবের মূর্তি ভাইঙ্গা যাবে বইলা মুখ ফুইটা বলতে পারেন না। স্যাড ঘটনাই এইটা। Continue reading

The People v. O. J. Simpson নিয়া কয়েকটা কথা

১. এলান বাদিউ কইছিলেন এই কথা যে, কোথাও কোন জাস্টিস হইলে সেইটার বুঝার উপায় না থাকলেও, কোথাও কোন ইনজাস্টিস বা অন্যায়-অবিচার হইলে সেইটা টের পাওয়া যায়; লোকজনের একটা অসম্মতি, একটা রেজিসট্যান্স থাকে। তো, ও.জে. সিম্পসন’রে যখন গ্রেফতার করতেছিল পুলিশ, তখন ব্ল্যাক লোকজন এর প্রতিবাদ করতেছিল। আবার সে যখন খালাস পাইলো মামলায় হোয়াইট লোকজন তার বাড়ির পাশে রাস্তায় দাঁড়ায়া এই রায়ের প্রতিবাদ করতেছিল।

২. ব্যাপারটা এইরকম লিনিয়ার না যে, আমাদের সামাজিক বাস্তবতা আমাদের পারসোনাল লাইফ’রে এফেক্ট করে, বা এর উল্টা’টা যে আমাদের পারসোনাল লাইফ-ই সামাজিক বাস্তবতাগুলা তৈরি করতেছে; মানে, এইগুলা সত্যি কথা-ই; কিন্তু সত্যি জিনিসটারে এর মধ্যে আটকায়া ফেললে মুশকিল হবে। বরং আমার প্রস্তাব’টা হইতেছে এইরকম: সমাজে যখন এক ধরণের অন্যায়-অবিচার লিমিট ছাড়া, ভয়াবহরকম ভাবে হইতে থাকে, তখন কোন না কোন পারসন ভিক্টিম সাইজা এর বেনিফিট নিতে পারে; একটা পর্যায়ে গিয়া সমাজের অন্যায়-অবিচার ব্যক্তির পর্যায়ে গিয়া জায়েজ হয়া যায়।

ও. জে.’র ব্যাপারটাতে ধরেন, বুঝা যায় যে, খুন দুইটা সে-ই করছে; কিন্তু আম্রিকান সমাজে ব্ল্যাক পিপলদের প্রতি হেইট্রেট এই জায়গাতে আছে, এই পরিমাণ হইছে যে, সোসাইটি অন্ধ হয়া গেছে এই জায়গাটাতে; ব্ল্যাক পিপল’রা খুন করতে পারে না – তা না, বরং একজন ব্ল্যাক লোকরে কন্সপিরেসি কইরা ফাঁসানো’টা খুবই কমন ব্যাপার। আমাদের, বাংলাদেশের সমাজেও দেখবেন, কোন ওয়াইফ, প্রেমিকা যদি বলেন উনার জামাই, প্রেমিক উনারে মাইর-ধর করছে, টর্চার করছে – সেইটারে কোন প্রমাণ ছাড়াই বিশ্বাস না করার কোন কারণ নাই, কারণ এইটা ঘটে; তো, কোন পার্টিকুলার কেইসে কোন মেয়ের পক্ষে ‘ভিক্টিম রোল’ প্লে করাটা খুব সহজেই বিশ্বাস করার মতো একটা ঘটনা। সমাজে যদি ‘নারী-নির্যাতনের’ ঘটনা না থাকতো বা কম থাকতো, পাবলিক বিশ্বাসও কম করতো। এইরকম একটা কানেকশন আছে।

মানে, আমি বলতে চাইতেছি, আমাদের বিচার সমাজ-বাস্তবতার উপ্রে নির্ভর করে। আইন-কানুন তো আছেই, কিন্তু বিচার বেশিরভাগ সময়ই সোশ্যাল পারসেপশনের, রিয়ালিটির ঘটনা।

৩. এই কারণে জুরি সিস্টেম’টা ভালো। আমি ভাবতেছিলাম, বাংলাদেশে যদি এই জুরি সিস্টেম থাকতো আদালতের বিচারে, তাইলে কি হইতো? জুরি’রা ঘুষ-টুষ খায়া বারোটা বাজায়া দিতো হয়তো, পারসোনাল রেষারেষিরেও কাজে লাগাইতো হয়তো; কিন্তু তাইলেও ভালো হইতো আসলে। পাবলিক’রে যতো বেশি সম্ভব আদালতের বিচারের লগে রিলেট করা দরকার। তাইলে সমাজের যেই বিচার সেইটার নমুনা আমরা পাইতে পারতাম, খারাপ হোক আর ভালো হোক। আমরা মেবি বুঝতে পারতাম, এই সমাজ কতোটা ভালো বিচার করতে পারে। এই অভ্যাস’টা দরকার আসলে। Continue reading