নোটস: জুলাই, ২০২১ [পার্ট ১]

বাংলাদেশের কোন ভার্সিটিতে কি কার্ল মার্কসের কোন লেখা বা বই কোন কোর্সে পড়ানো হয়?

২০/২৫ বছর আগে আমরা যখন ঢাকা ভার্সিটিতে ইকনোমিকসে পড়তাম তখন মার্কসিস্ট ইকনোমিকস বইলা একটা কোর্স ছিল, অপশনাল। অই কোর্সেও মার্কসের কোন টেক্সট ছিল না মনেহয়। উনার ইকনোমিক থিওরিগুলা নিয়া অন্য বই পড়ানো হইতো, আবু মাহমুদের বইও ছিল। এখন মনেহয় অই কোর্স পড়ানো হয় না আর। এইরকম সোশিওলজি, পলিটিক্যাল সায়েন্স, মিডিয়া স্টাডিজ, বা অন্য কোন সাবজেক্টে কোন কোর্স কি আছে যেইখানে মার্কসের লেখা রেফারেন্স হিসাবে পড়ানো হয়? মার্কসিস্ট লিটারেচার তো থাকতেই পারে, কিন্তু আমি একটু ডাউটফুলও যে, উনার লেখা অইরকম ‘পাঠ্য’ হিসাবে নাই মনেহয়। ছিলো কি কখনো, সিক্সটিইজেও? (জানতেই চাইতেছি আসলে…)

আমাদের সময় যা দেখছি, মেইনস্ট্রিম একাডেমিয়া’তে, টেক্সটবুকগুলাতে মার্কসের চিন্তার কোন রেফারেন্স নাই, বা খুব কম। আমার ধারণা, প্যাটার্নের দিক দিয়া মার্কস্টিট চিন্তা একাডেমিয়াতে যেই ধরণের পড়াশোনা চালু আছে, তার লগে ফিট-ইন করে না, খুববেশি। উনার বই-পত্র, লেখালেখি মেবি সবসময়ই কম-বেশি আউটকাস্ট জিনিসই ছিল। যদিও বেশিরভাগ ভার্সিটির টিচারদেরই নিজেদেরকে মার্কসিস্ট দাবি করার একটা ব্যাপার আছে। ইভেন যারা শিল্প-সাহিত্য করেন ইন্টেলেকচুয়াল-এক্টিভিস্ট তাদের সবাইও কম-বেশি মার্কসিস্ট। কার্ল মার্কসের চিন্তারে অপোজ করা, সাবস্ক্রাইব করার বা মডিফাই করার একটা ঘটনা এখনো চালু আছে। মানে, উনার চিন্তা-ভাবনা তো এখনো একটা স্ট্রং রেফারেন্স পয়েন্ট।
তো, আমার একটা অনুমান হইতেছে যে, উনার লেখা-পত্র একাডেমিক প্রসেস মাইনা, ডিসিপ্লিন মাইনা তো লেখা হয় নাই এতোটা, যার ফলে অইভাবে শেইপ-আপ কইরা নেয়াটাও মুশকিলের, যার ফলে একাডেমিক জায়গাগুলাতে মোস্টলি মিসিং।… হাউএভার, ব্যাপারটা এইরকম না-ও হইতে পারে। আমি জাস্ট ভাবলাম, মেবি হইতে পারে…

রবার্ট ফ্রস্ট

একজন ক্রিটিক রবার্ট ফ্রস্টের প্রশংসা করতেছিলেন এই জায়গা থিকা যে, এলিয়ট, এজরা পাউন্ড উনাদের কবিতা ‘মর্ডান’ এবং এই কারণে ডিফিকাল্ট, কিন্তু ফ্রস্টের কবিতা এইরকম না। তো, রবার্ট ফ্রস্ট কইতেছিলেন, উনি কঠিন বা সহজ কবিতা লেখেন – ঘটনা’টা এইরকম না।

(আমার মনে হইতেছিল, এলিয়ট, এজরা পাউন্ডরা কি করতেছিলেন আসলে? উনারা খালি কবিতা-ই লেখেন নাই, কনটেক্সট’টারেও বানাইতেছিলেন যে, কবিতারে কই থিকা পড়তে হবে। শ’য়ে শ’য়ে রিভিউ, ক্রিটিক লেখতেছিলেন। অইগুলা একটা বেইজ তৈরি করতেছিল। এর বিপরীতে, রবার্ট ফ্রস্ট কবিতা নিয়া তেমন কোনকিছুই লেখেন নাই। উনি ধরে নিছেন, কবিতা নিজেই তার কনটেক্সট’টা তৈরি কইরা নিবে, বা কনটেক্সটরর লগে কানেকশনটা তৈরি কইরা নিবে। মেবি এইরকম।)

ফ্রস্ট বরং বলতেছিলেন যে, দুইটা জিনিস কবিতার ব্যাপারে ইর্ম্পটেন্ট। একটা হইতেছে, পারফর্মেন্সের ঘটনা থাকতে হবে, স্কোর’টা করতে পারতে হবে। আপনি যতো কিছুই করেন, যদি কানেকশন’টা ক্রিয়েট না করা যায়, পারফর্মেন্সটা না থাকে তাইলে জিনিস হবে না। (মানে, পারফর্মেন্স জিনিসটা ঠিক পারফর্ম অর্থে না, ভিজিবল হইতে পারার মতো একটা জিনিস।)

সেকেন্ড হইলো, উনি বলতেছিলেন, পোয়েটিক থট হোক বা যে কোন একটা থট যা করে তা হইতেছে, এদের “feat of association” থাকে, একটা জিনিস আরেকটা জিনিসরে জড়ায়া ধরতে পারে, কানেক্ট করতে পারে। আর এইভাবে নতুন কিছু ক্রিয়েট হয়।

তো, এইটা কবিতা নিয়া উনার ভাবনা, বা কবিতার কাছে উনার এক্সপেক্টশন, বা কবিতারে উনি এইভাবে দেখেন। এই জিনিসগুলারে কবিতা বইলা ধইরা নিলে আরেকটা ঝামেলাই হবে আসলে। 🙂

একজন কবি’র কবিরা গুনাহ হইতেছে মানুশ তারে ভালোবাসে

একটা জিনিস খেয়াল করছি, যেইসব ইন্টেলেকচুয়াল’রা কবিতা লেখতে পারেন না (বা লেখেন না), উনারা কবি’দেরকে (আমি বলবো) ভালো-রকমেরই হেইট করেন।* মানে, বাটে পাইলে ভালো রকমের মশকরাই করেন। যুগে যুগে কবি’রা এইরকম হেইট্রেটের শিকার হইছেন, হইতেছেন 🙂 (কবি’রাও তো আর “ধোয়া তুলসী পাতা” না….)

আবার যারা পাওয়ারফুল লোক (কুস্তরিকা’র “আন্ডারগ্রাউন্ড” সিনেমা দেখতে গিয়া খেয়াল করছিলাম, বা অন্য অনেক উদাহারণও পাইবেন) উনারাও দেখবেন অনেক সময় কবিতা লেখতে চান বা কবি হইতে চান। কেন?

কয়েক বছর আগে বলছিলাম, একজন কবি আর একজন ইন্টেলেকচুয়ালের ডিফরেন্সটা কোন জায়গাটায়? কবি হইতেছেন মানুশের কাছের লোক, আপনা মানুশ, ভালোবাসার ধন, এইসব কিছু। মানে, সে খারাপ, ফাউল, কোনকিছু বুঝে না, আজাইরা কথা কয়, কারেক্টার ভালো না… এইসবকিছু কইয়া বা বানায়া (মানে, মানুশ হিসাবে আমরা নিজেরাও তো কম-বেশি এইরকমই) খুব একটা লাভ হয় না। মানে, কবি হিসাবে আপনার যারে ভালোলাগে তারে আপনি ভালোইবাসেন, তার লগে অন্য কোন রিলেশন আসলে হইতে পারে না।

এখন একজন ইন্টেলেকচুয়ালরে যে আপনি ভালোবাসতে পারেন না – তা না, অনেক ক্ষমতাবান মানুশও আছেন বা থাকতে পারেন যারা ক্ষমতার কারণে ভচকায়া যান নাই, তাদেরকেও ভালোবাসতে পারেন আপনি। কিন্তু অইটা সমানে-সমানে হয় না সবসময়। বা অইটা বেইজটা না একজনরে ইন্টেলেকচুয়াল বা মহান ভাবার। কিন্তু একজন কবি’রে যদি আপনি ভালো না বাসেন, সে তো তখন কবি-ই না কোন আপনার কাছে!

তো, আমার ধারণা, কবি’রে যে মানুশ ভালোবাসে, আদর কইরা গাইল্লায়, কাছের লোক ভাবে, এই কারণে ‘কবি’ হওয়ার একটা তাগিদ থাকে, বা কেউ “কবি” বইলাই যে জরুরি কিছু না, অই জিনিসটাও প্রমাণ করা লাগে, অনেক সময় 😛

মানে, এইটা সুপিরিয়র কোন জিনিস না, কিন্তু অন্য সব সামাজিক পরিচয়ের চাইতে তো আলাদা জিনিসই, সবসময়।

…….
*আমার অবজারভেশন ভুলও হইতে পারে, কিন্তু আপনারা ভাইবা দেইখেন ব্যাপার’টা।
Continue reading

পাবলিক স্পিকিং এবং পাবলিক স্পেইস নিয়া

১.
– বিশিষ্টজনদের বিবৃতির ব্যাপারটা নিয়া –

এইরকমের একটা ট্রাডিশন দেখছি বাংলাদেশের পত্রিকায়, অন্য দেশেও থাকার কথা, যে ইম্পর্টেন্ট কোন ঘটনা ঘটলো, তখন সমাজের বিশিষ্ট লোকজন বিবৃতি দেন। চিটাগাংয়ের সিআরবি’র ঘটনায় এইটা দেইখা মনে হইলো। সিআরবি আমার নিজেরও অনেক পছন্দের জায়গা। রেলওয়ের হাসপাতাল, পাহাড়ের উপরে মসজিদ আছে একটা।… এই জায়গাটারে বাংলাদেশের ‘ন্যাচারাল হেরিটজ’ বইলা মার্ক করা উচিত আসলে।…

তো, বলতেছিলাম, বিবৃতি’র জায়গাটা নিয়া। আমি এর বিপক্ষে না। আর বিবৃতি দেয়া মানুশরাই যে এর বিরোধিতা করতেছেন, তা তো না-ই, এবং বিরোধিতা করতে হইলে আপনারে ‘বিশিষ্ট’ কেউ হইতে হবে – এইটাও জরুরি না। ‘বিশিষ্টজনদের বিবৃতি’র মধ্যে এই জিনিস’টা আছে – এই দাবিও আমি করতে চাই না। কিন্তু এই প্রাকটিসের কারণে নর্মস হিসাবে একভাবে সামনে থাকে, একটা বিরোধিতা যেমন থাকে, একটা ‘বিশিষ্টজনের’ তালিকাও তৈরি হইতে থাকে; এই জিনিসটা বাজে না অবশ্যই, কিন্তু টু সাম এক্সটেন্ড অস্বস্তির জিনিস বইলা মনেহয় আমার কাছে।

অস্বত্বি’টা হইতেছে এর ভিতর দিয়া ‘বিরোধিতা’ জিনিসটা একটা ‘বিশিষ্ট’ ব্যাপার হয়া উঠে, একটা স্পেশাল ঘটনা হয়া উঠে। আমি বিরোধিতা করতেছি, এই কারণেও আমি ‘বিশিষ্ট – এইরকম পারসেপশনের জায়গাতে গিয়া ঠেকে, এর বাইরে সবাই যেন মাইনা নিতেছেন! অথচ ঘটনা তো এইরকম না, কখনোই। যে কোন জিনিস নিয়া সমাজের ‘সব’ (এইটা হইতেছে ক্যাচ’টা) মানুশ কখনোই কনসার্ন হবে না, আর যেহেতু হইতেছে না, ধইরা নেয়া যাবে না যে, এই ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিরা’ বাদ দিয়া ‘সবাই’ এইটা মাইনা নিতেছেন!

(এইটা ঘটে, নিরবতা জিনিসটারে সিঙ্গুলার হিসাবে ধইরা নেয়ার ভিতর দিয়া। অথচ নিরবতা ভাষার চাইতে, বলার চাইতে আরো বেশি মাল্টিপল।…)

এখন ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিরা’ বিবৃতি দেয়া বন্ধ কইরা দিলেই তো এইটা এস্টাবিলশ হয়া যাবে না, বরং আরো বাজে-ই হওয়ার কথা।

আমার কথা হইতেছে, যেই কয়জন মানুশ এর বিরোধিতা করতেছেন, তারা-ই ‘সমাজের সচেতন অংশ’ – এই টাইপের ব্র্যান্ডিং করা যাবে না। এই ধরণের বিবৃতির ভিতরে ইনটেনশনালি থাকে যে, যারা কথা বলতেছেন-না (না, যাদের কথা-বলাটারে সিগনিফিকেন্ট কইরা তোলা হইতেছে না আসলে) যেন তাদের রিপ্রেজেন্টেশন করতেছেন উনারা; এই রিপ্রেজেন্টেশনের জায়গা থিকা হাইলাইট করাটা ইস্যুটারে পাবলিক ঘটনা কইরা তুলতে পারে না, বরং পুরা ব্যাপারটাতে পাবলিক’রে যে এড়ানো হইতেছে – সেই কোর জায়গাটারে বাদ দিয়া একটা অবৈধ অথরিটিরেই মুখ্য কইরা তোলা হইতে থাকে।

এইভাবে ‘প্রতিবাদ’ যে হয় না – তা না, একটা সাবমিশনের ঘটনাও হাইলাইট হয়। যেইটা আমার অস্বস্তির জায়গা। Continue reading

কবিতা: ফেব্রুয়ারি, ২০২১

শীতকাল

“রোদ উঠে গেছে”
শীতকাল’টাও চইলা যাবে, কয়দিন পরে

যে কোনকিছু’র চইলা যাওয়া-ই আমারে বিষণ্ন করে

ভালোবাসার পরীক্ষা

আবার পরীক্ষা দিতে হবে ভালোবাসার,
আবার, আবার
প্রশ্নফাঁসের এই পরীক্ষাগুলা দিতে
আমার ভাল্লাগে না আর

নিজেরে কতো নকল
করতে পারে লোকজন আর অদের কি
টায়ার্ডও লাগে না!

হায় খোদা! আমারেই কেন
বারবার বলা লাগবে,
আবার, আবার ভুল উত্তরগুলা
লেখা লাগবে, আর
একটা ফেইল করার গ্লানি নিয়া
হাঁইটা বেড়াইতে হবে একলা একটা রেললাইন দিয়া
অথবা বইসা থাকা লাগবে চুপচাপ কোন নদীর পাড়?

কেন রে ভাই, চুতমারানি?
কেন, দ্য হোয়াই?

টু লি পো

কথাগুলারে আমি এক হাজার মাইল দূরে পাঠায়া দিবো
লি পো, অরা কি চিন্তা করাইতে পারবে কাউরে, এতো দূরে?
(তোমার মতন এমন বন্ধু আমি কি আর পাবো?)

আমি এক হাজার বছর আগে আমার কথাগুলারে পাঠায়া দিবো
লি পো, কেরু খায়া কানতেছে যেই কিশোর ছেলে’টা তার বাচ্চা প্রেমিকা’র লাইগা
বয়স হয়া গেলে সে-ও তো হাসবো, এই কথা মনে কইরা
তার চোখের পানির মতো মদ আমি জমায়া রাখতেছি তোমার জন্য

লি পো, আমাদের কথাগুলা আমরা ভাসায়া দিবো
সাগরে এক ফোঁটা পানির মতো, বাতাসে ভাসতে ভাসতে হারায়া যাবে
হৃদয়ে যেই কথাগুলা শেষ হয়া যাইতেছে, যেই কথাগুলা শেষ হয় না কোনদিনও

এইরকম কথাগুলারে আমরা এক হাজার মাইল দূরে, এক হাজার বছরের পরে
পাঠায়া দিবো; “আমি জানি, তুমি শুনতেছো;
তুমি শুনতেছো তো?”

একটা কবিতা

একটা কবিতা আমি পাইলাম নন্দায়, বারিধারায়
একটা কবিতা আমি পায়া যাবো কিছু দূর হাঁটলে মহাখালি, তেজগাঁয়
কবিতা ছড়ায়া আছে মতিঝিলে, চকবাজারে, পুরান ঢাকায়
ঢাকা শহর ভর্তি ছড়ানো কবিতা, ড্রেনে ড্রেনে, ফুটপাতে, ভাঙা রাস্তায়
ফকির-মিসকিনের মতন আমি কবিতা কুড়াই আর কবিতাগুলা আমারে চিইনা ফেলে
কয়, আপনি না গতকালকেই আসছিলেন! ‘পৃথিবীর গভীর, গভীরতর অসুখ’
নিয়া আপনি আর কদ্দিন নিজের চিকিৎসা’র খরচ তুলবেন?
Continue reading

অনলাইন এন্টারটেইমেন্ট প্লাটফর্মগুলা নিয়া

টিভি-স্টেশন বেইজ এন্টারটেইনমেন্টের দিন তো বাংলাদেশে মোটামুটি অফিসিয়ালি শেষ হইতে যাইতেছে। চরকি’র শুরু হওয়ার পরে এইটার কথা মনে হইলো। (ঘটনা’টা তো শুরু হইছে আরো আগেই আসলে।) উনাদের কনটেন্টের কারণে না, অডিয়েন্স হিসাবে বাংলাদেশি পিপলরে টার্গেট করার ভিতর দিয়া। যদিও উনারা ম্যাস-লেভেলে যাইতে রাজি না এখনো। যেমন বাংলা-ক্ল্যাসিক হিসাবে বেহুলা’রে রাখছেন, রূপবান’রে রাখেন নাই। আমার একটা ধারণা হইতেছে, বাংলা-সিনেমা হিসাবে এটলিস্ট রূপবান, ছুটির ঘন্টা এবং বেদের মেয়ে জোসনা’রে যারা নিতে পারবেন, উনারা ‘বাংলাদেশি অডিয়েন্সরে’ কিছুটা হইলেও নিতে রাজি হইতে পারবেন।… তো, এইসব জিনিস চেইঞ্জ হবে ধীরে ধীরে, ওয়েব কনটেন্ট এবং প্লাটফর্ম যারা বানাইতেছেন উনারা বুঝতে পারবেন যে, মিডল-ক্লাস উনাদেরকে ভাত দিবে না; কিন্তু তারপরও উনারা এই মিক্লাদের দরবারেই হাজির হইবেন। কেন?

এই আলাপ’টা আসলেই অনেক বড় এবং যে কোন একটা পারসপেক্টিভ নাই। আমি তিনটা জিনিস এটলিস্ট হাইলাইট করতে চাই।

এক হইলো, উনাদের ইকনোমিক উদ্দেশ্য যে নাই – তা না, কিন্তু এইটা মোটিভেশন ফ্যাক্টর না এতোটা (আবদুল্লাহ মাহমুদ সাদের কথা শুনলেও বুঝতে পারবেন সেইটা)। ধরেন, লাখ লাখ মানুশ আপনার কোন পোস্টে প্রশংসা করলো, আর ধরেন, টারানটিনো (বা এই লাইনের যারা মাস্টার মানুশ আছেন, উনাদের কেউ একজন) আইসা একটা লাইক দিলো, বা কইলো, ভালোই তো হইছে; বিশাল ব্যাপার হবে না তখন সেইটা! কিন্তু এইটা খালি একজন বুঝদার মানুশের রিকগনিশন হিসাবে দেখতে চাই না আমি, সেইটা তো আছেই; কিন্তু এর বাইরেও একটা ক্লাস-ওয়ারফেয়ারের ঘটনাও। আর্ট সবসময় একটা রুচি’র ঘটনা। এমন না যে গ্রেট আর্ট খালি একটা ইকনোমিক ও কালচারাল ক্লাসের জিনিস, অ্যাক্রস দ্য ক্লাস পিপলরে কানেক্ট করতে পারে; কিন্তু ফার্স্টে একটা ক্লাসের রুচিরে স্যাটিফাই না করতে পারলে এইটা হয় না। তো, এই ক্লাস কোনটা?

এইখানে সেকেন্ড পয়েন্ট’টা আসে, আমি আগেও কয়েকবার বলার চেষ্টা করছি (থিওরেটিক্যালি স্পষ্ট করতে পারি নাই মেবি) যে, একটা গ্লোবাল কালচারাল ক্লাস এমার্জ করতেছে, সারা দুনিয়াতে। একটা সময়ে, কৃষক ও জমিদারের ক্লাস-ওয়ার থিকা আমরা পাইছি ন্যাশনাল বুর্জোয়া ক্লাসটারে; দেখবেন, ‘জাতীয়’ হওয়াটা জরুরি ছিল তখন (এখনো আছে সেইটা, কিছুদূর পর্যন্ত), এখন এইটা আর মাস্ট কোন ক্রাইটেরিয়া না; বরং ইথোপিয়ার না-খাইতে-পারা বাচ্চাদের জন্য যদি আপনার মন না কান্দে, আপনি তো মানুশই না! যে কোন আর্ট এখন এই গ্লোবাল কালচারাল ক্লাসের লগে রিলিটেড একটা ঘটনা। মানে, জাতীয়তাবাদী বুর্জোয়া শ্রেণী একটা পুরান ক্লাস এখন।

থার্ড পয়েন্ট হইতেছে, এই যে নতুন ক্লাস, এইটা তৈরি হইতেছে খালি পুঁজির গ্লোবালাইজেশনের ভিতর দিয়া না, বরং এই আর্টের পাওয়ারের ভিতর দিয়াও। এই পাওয়ারটারে ক্রিয়েট করতেছে নতুন টেকনোলজি, নতুন ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম। আপনি কি মনে করেন, ‘সার্টেন রুচি’র ম্যাটেরিয়াল না হয়া কোন আর্ট নেটফ্লিক্সে ডিস্ট্রিবিউটেড হইতে পারবে? বালের ‘প্রমিত ভাষায়’ না লেখলে মরা নিউজপেপারগুলা যেমন আপনার লেখা ছাপাবে না, এইরকম সার্টেন রুচি’র জায়গারে প্রমোট না করলে নেটফ্লিক্স এবং অন্য ওয়েব প্লাটফর্মগুলাও আপনার সিনেমা-আর্টরে প্রমোট করবে না। (হাউএভার, এইগুলার কারণেই এরা টিইকা থাকে না, বরং এই বৈশিষ্ট্যগুলা হইতেছে এই ফর্মেশনগুলার কোর জিনিস।) গ্লোবাল কালচারাল ক্লাসের ঘটনা’টা থাকাই লাগবে, আপনার কাছে মনে হবে এইগুলা ‘স্বতঃসিদ্ধ’ বা ‘স্পন্টিনিউয়াস’ একটা ঘটনা! Continue reading

দিদারুল আলম ভূঁইয়া

দিদারুল আলম ভূঁইয়া’র ঘটনা’টাতে (উনি রাষ্ট্রচিন্তা নামে একটা নতুন পলিটিক্যাল প্লাটফর্মের অর্গানাইজার; সেকেন্ড ওয়াইফ উনার নামে নারী-নির্যাতনের মামলা করলে পুলিশ সেকেন্ডবারের মতন উনারে গ্রেফতার করে) মনে হইলো আবার, যখন আপনি পলিটিক্স করতে যাইবেন, পাবলিকের দরবারে যাইবেন, আপনারে পলিটিক্যাল, ফিলোসফিক্যাল বোঝা-পড়ার বাইরে মোরাল জায়গাগুলা নিয়াও প্রিপারেশন নিতে হবে আসলে। কারণ আপনার পারসোনাল লাইফ আর পারসোনাল না তখন; ইলেকশনে কমপিট করার লাইগা যেমন হলফনামা দিতে হয়, পলিটিক্সেও এই হলফনামা বা স্বীকারোক্তি দিয়া রাখলে বেটার। ভিপি নূর অন্য অনেককিছুর বাইরে উনার পারসোনাল লাইফের ইন্ট্রিগ্রিটির জন্যই এখনো টিইকা আছেন। উনারে প্যাঁচাইতে গিয়া কিন্তু উল্টা ধরাই খাইতে হইছে সরকারের।

ফরহাদ মজহার যখন গুম হইছিলেন, তখন এই জিনিসটা নিয়া একবার আলাপ হইতেছিল আ-আল মামুনের সাথে, রাজশাহীতে গিয়া, ২০১৮ সালের দিকে হবে সেইটা। যদ্দূর মনে পড়ে উনারে এইরকম কথাই বলছিলাম যে, সমাজে একজন পাবলিক ফিগারের পারসোনাল লাইফরে বাতিল কইরা দিতে পারি না আমরা, তার পাবলিক কাজকামের লগে মিলায়াই দেখতে হবে; এখন কেমনে দেখবো – এই জায়গাটা হয়তো ক্লিয়ার না কখনোই।

নেলসন ম্যান্ডেলা জেলে যাওয়ার আগেই, যখন পার্টিতে উঠতি লিডার তখনই উইনি ম্যান্ডেলার প্রেমে পড়ছিলেন, সেকেন্ড বিয়া করছিলেন। জেলে থিকা বাইর হওয়ার পরে উইনি’র লগে তার ডির্ভোস হইছিল, মেবি উনি তখন প্রেসিডেন্ট। মানে, এইটা নেলসন ম্যান্ডেলার বেটাগিরি না আসলে, বরং উনি যেই দুইজন মহিলার লগে রিলেশনে ছিলেন, উনারা দুইজনেই মেবি কন্সিডারেট ছিলেন, পাবলিক লিডার হিসাবেও উনারে বিশ্বাস করতেন। রিলেশনের শুরু এবং শেষটা উনারা ভালোভাবে করতে পারছিলেন।

মানুশ হিসাবে আপনার প্রেম-ভালোবাসা-ঘৃণা এইসব ইমোশন সবসময় এতোটা কন্ট্রোলের মধ্যে থাকে না, কিন্তু আপনি ক্লিয়ার থাকতে পারেন নিজের কাছে, এবং পাবলিক ফিগার হইলে, পাবলিকের কাছেও; এতে আপনার উপর পাবলিকের বিশ্বাস কমে না। কয়দিন আগে, কিরণ রাও আর আমির খান করলো না! একটু বেশি নাটক হইলেও জিনিসটা ভালো।

এখন আমি যেহেতু পাবলিক ফিগার না, আমার পক্ষে এইগুলা বলা সহজ। (কেউ আমরা ফেরেশতা না, শয়তানও না; গুড হিউম্যান বিইয়ং’রাও আছেন, সবার কাছে একসেপ্টবল না হইলেও। আমি অই ক্যাটাগরি লোক – এই ক্লেইম আমার নাই।) আর কবিদের উপ্রে তো লোকজনের চেত এই কারণেও যে, এইসব ইমোশনাল ইস্যুগুলা উল্টা আরো এপ্রিয়েশট করা হয়, মাফ কইরা দেয়া হয় যে, কবি তো, একটু করবেই! (আসলে এইরকম না ব্যাপারটা। কাউরে কবি মনে হইলে, তার অনেককিছু মাফ কইরা দেয়া যায় আর কি…)
পলিটিশিয়ান, পাবলিক ইন্টেলেকচুয়ালদের ব্যাপারেও যে মাফ করা যায় না – তা না; কিন্তু উনারা যখন গোপন করেন, তখন পাবলিক বিশ্বাসের জায়গাতে ধাক্কা খায়, ইনিশিয়ালি মনে করতেই পারে, গোপন করলো কেন! তারে তো আমরা আমাদের কাছের লোক ভাবছিলাম! তো, পিপলরে যদি আপনি কাছের লোক বানাইতে চান, তাদের লগে ভেদ বা ইনফরমেশন গ্যাপ যতো কমানো যায়, ততই তো ভালো, তাই না?

এইটা জরুরি না যে, আপনার ইমোশনাল ‘ভুলগুলার’ (ক্রাইম না বা হয়তো পাপও না) কথা আপনি বইলা বেড়াইবেন, কিন্তু লিগ্যাল বা ডকুমেন্টেড যেই জিনিসগুলা, সেইগুলা না-বলাটা ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ একটা ঘটনা হয়া উঠে।

কাউরে রিলেশনের ব্যাপারে এডভাইস দিতে চাইতেছি না আমি। বা এইভাবে মোরালি যে ভিক্টিমাইজ করা হইতেছে, একট ট্যাবু বানানো হইতেছে ‘ভালো মানুশের’ – এর এগেনেস্টেই আমি। আমি বলতে চাইতেছি পলিটিক্স করতে গেলে আপনারে ‘ভালো মানুশ’ হইতে হবে – এইটা জরুরি না হইলেও, আপনার পারসোনাল লাইফের ব্যাপারে স্পষ্ট হইতে পারাটা দরকার, তা নাইলে পাবলিক আপনারে কাছের মানুশ মনে করতে পারবে না আসলে। এর বাইরে অন্যসব ঘটনাগুলা তো আছেই।…