গল্প-পাঠ

গল্পের ইলাসট্রেশন

১. বাজে কাজ-ই হইছিলো – এই ক্রিটিকটা। এক তো হইলো, ‘দুর্বল’ জিনিস’রে এক্মাম্পাল হিসাবে চুজ করাটা। ফিকশন হিসাবে খুবই অ্যাভারেজ আর রাইটার ফিমেইল একজন, যারে টিজ করতেছি আমি এনাফ ‘নারী’ হইতে পারা’র লাইগা। যদিও রবীন্দ্রনাথ-মানিক-সুনীল-হাবিজাবি’র যেই ভিউ পয়েন্ট ওইখানেই সাবস্ক্রাইব করেন উনি, সেই জায়গা থিকা আমার বলাটারে ওভারঅল এই ফিকশন-রাইটারদের ক্রিটিক বইলাই ভাবা যাইতেই পারে; তারপরও, তবুও… জীবানানন্দের এইসব অব্যয় তো ভ্যালিড। তো, একটা জায়গাতেই মনেহয় নিজেরে সেইভ করার ট্রাই করা যাইতে পারে যে, মানিকের বেটাগিরি’টা এইভাবেই এখনো সারভাইব করে যে, দেখেন বেটারাই তো খালি না, ফিমেইল ফিকশন রাইটার’রা নিজেরাও নিজেদেরকে এইভাবে দেখতে পারেন! মানে, এইভাবে একটা চিপাগলি দিয়া খালি ‘আয়না’ হয়া উঠতে চায় যেই ‘সাহিত্য’ – সেই জায়গাটারে বলাটাও তো দরকার!

২. কেউ একজন কইছিলেন, ‘যেই কবি নারীদের [‘মহিলা’ শব্দে আপত্তি আছিলো মনেহয়; মাইয়া বা বেটি’তে যে ছিলো, সেইটা শিওর…] প্রশংসা করতে পারেন না, তিনি আবার কবি কেমনে হন!’ – এইরকম। রিয়েল কবি তিনি-ই যিনি নারীদের প্রেইজ করতে পারেন! [ফ্লার্ট করার জায়গাটারে ধইরা নিয়াই] প্রশংসা করা বা না-করা দিয়া কবি আইডেন্টিফাই করার ঘটনা বাদ-ই দিছিলাম; কিন্তু ‘কবি’ আইডেন্টিটি’টা যে নেসেসারিলি জেন্ডার হিসাবে ‘বেটা’ সেইটার পেনিট্রেশন ‘নারী’ মনের ভিতরে এতো ডিপলি ইনসাসর্টেট সেইটা টের পাইয়া কিছুসময় বোবা হয়া ছিলাম।

৩. স্টকহোম সিনড্রোম’টা [হিন্দি হাইওয়ে’তে সিনেমাতেও এইটা আছে] এই কারণে ইন্টারেস্টিং না যে, অপজিট বিকামস দ্য ট্রুথ, বরং এইখানে একটা ‘লাভ’ [এই ফিকশনটার ক্ষেত্রে একটা ‘সাহিত্য-বোধ’] ইমাজিন করা লাগে, যার ভিতর দিয়া এই ‘ট্রুথ’টারে ক্লেইম করতে হয়। এই ‘ভুল’টা জরুরি। তো, ‘ভুল’টা কখনোই এইটা না যে, অপজিট জিনিসটা সত্যি না বা যা ঘটতেছে সেইটা ঘটতেছে বইলাই মাইনা নিতে হবে সত্যি; বরং এইভাবে দেখার জায়গাটাই ‘টোটাল’ জিনিসটারে ধরতে পারা’র কথা না। ‘অবজেক্টিফিকেশন’ যে ঘটে না তা না, কিন্তু তাই বইলা বিকামিং অ্যা সাবজেক্টও মেবি কোন অপশন না। মানে, এতে কইরা সার্কেলটারেই তো মাইনা নেয়া।

৪. তো, একজন ফিকশন রাইটারের কাম মেবি নতুন ইমাজিনেশনেরই পসিবল কইরা তোলা। কোন একটা ‘রিয়ালিটি’রে এগজিস্টিং ধইরা নিয়া তারে প্রজেক্ট করা না। আর ক্রিটিক করতেছি বইলাই জীবনানন্দ আইসা কইতে পারেন না, ‘বরং তুমিই…’ – এই বাণী শেষমেশ রাইটারের না-লিখতে পারা’র বেদনাই। ক্রিটিকের উপরে চালান কইরা দেয়ার কোন রাস্তা নাই, বেদনা যতো সত্যি-ই হোক বা না।

 

জুলাই ৩১, ২০১৭।

—————————————-

বিইং সেক্সিস্ট ইজ টু মেইক ইউরসেলফ মোর ডিজায়াবেল। বা আমাদের যেই ডিজায়ারিং প্রসেস সেইটা অপারেট করে সেক্সিস্ট হওয়ার ভিতর দিয়া। মানে, আমাদের সাহিত্যের এগজিস্টিং রুচিই হইলো এইটা। সেক্সিস্ট না হইলে আপনি গল্প-লেখকই হইতে পারবেন না, ইন আওয়ার টাইমস (এইরকমকিছু রক মনু’রে বলছিলাম মনেহয়)। এখন লেখকের জেন্ডার যা-ই হোক, পোলা বা মাইয়া; অবশ্য হিজড়া কোন লেখকের কথা জানি না। উনারা কেউ কি লেখেন না?

তো এইরকম কিছু জিনিস আবার মনে হইলো এই গল্পটা ব্রাউজ করতে গিয়া। গল্প ভালো হইছে। গল্প নিয়া কোন ইস্যু নাই। কারণ ঢাকায থাকা বড় সরকারি চাকরি করা জামাইরা আসলেই ভালো, পুরান মফস্বলী প্রেমিকদের চাইতে; যেহেতু ওরা গরিব, এখনো মিডল-ক্লাস হইতে পারে নাই, এইজন্য নানান ঝামেলা করে। আর লাভ তো সবসময় একটা ক্লাস ওয়ারফেয়ার।

গল্পটা ব্রাউজ করতে গিয়া কিছু কোটেশন পাইলাম, কাসেম বিন আবুবকর এর চাইতে কম এন্টারটেইনিং হওয়ার কথা না, (শব্দগুলা একটু কঠিন কঠিন আর কি):

“গভীর চুম্বনে ওর অনাঘ্রাতা পুষ্পের কোমল পাপড়ি-ঠোঁট দংশনে দলিত… রুবিতা ভীরু হরিণীর মতো…”
(কিশোরীরা হইলো পুষ্প, ভীতু হরিণী… চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি’র কোড ল্যাংগুয়েজ না কিন্তু এইগুলা।)

“রুবিতাকে বুকে শক্ত করে চেপে ধরে নাফিস। রুবিতা নাফিসের রোমশ বুকে নাক ঘষে।”
(রুবিতা শক্ত কইরা জড়াইয়া ধরতে পারবে না, শি ইজ প্যাসিভ অ্যান্ড ক্যান অনলি রিঅ্যাক্ট। আগে উনাদেরকে জড়াইয়া ধরতে হবে, তারপরে উনারা নাক ঘষতে পারবেন; অনেকে না-পাইরা জোরাজুরি করলে ওইটা আসলে উনাদের এনাফ মাইয়া না হইতে পারা আসলে।)

“নাফিস চলে গেলে বিছানায় উপুড় হয়ে পত্রিকা খোলে রুবিতা।”
(উপুড় হওয়াটা মাইয়াদেরই কাজ, আজতক কোন পোলার কথা পড়ি নাই যে বিছানায় উপুড় হইতে পারছে, বই/পত্রিকা নিয়া, কেন যে…)

“যদিও নাফিস একটু সন্দেহ বাতিকগ্রস্থ কিন্তু সেটাও ইতিবাচক হিসেবেই মেনে নিয়েছে রুবিতা।”
(আপনার জামাইরে/পার্টনার’রে সন্দেহ করতে দেন, এইটাই ট্রু লভ্।)

“কেউ না কেউ নিশ্চয় টেলিফোন করবে। এর আগেও কবিতা এলে দু-চারটে ফোন সে পেয়েছে। প্রশংসা শুনতে ভালোই তো লাগে।”
(ভালো লাগতে পারবে না তা না, কবিতা-ছাপার একটা মানে হইলো যে ফোন আসতে হবে, তা নাইলে লেইখা/ছাপাইয়া কি লাভ?)

“কেবল তার কণ্ঠস্বরই আমাকে যৌন উত্তেজনার শীর্ষে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ।”
(ওরাল সেক্সই ভালো, গায়ের ঘামের গন্ধ কেন নিবো আমরা; মানে এইটুকতেও তো হয়…)

মনে হইতেই পারে যে এইগুলা পারর্ভাট-থট, রাইটার তো বলেন নাই এইগুলা, মিনও করেন নাই। আর মাইয়ারাও গল্প-লেখকের ফিলিংসের সাথে অমত করার কথা না, মোস্টলি এইভাবে তো ফিল করেন তারা, কিন্তু ব্যাপারটা এইরকমই না খালি; এইরকম ফিল করতে পারাটাই যে দরকার, এইটাও কি মনে হইতে পারে না?

 

জুলাই ৩১, ২০১৫।

 

গল্পের লিংক: https://goo.gl/JyvGQT

 

আরো পড়তে পারেন

দঈত আননাহাল
  ...Living in the dream; Dream of a silent death! soon like a blink of yo...
বিলাই ও কুত্তার হৃদয়
এইটা ত ঊনিশো চুয়াত্তর সাল না; তারপরও কুত্তাটা দুর্ভিক্ষের কান্দা কানতেছে, সকাল হইতে না হইত...
স্বপ্নের গরুগুলি
স্বপ্নের গরুগুলি ঘাস খাইতেছিল মুনের মাঠে। আর আমি রেড মার্সের আম বাগানে বইসা আছি। অথচ পাশাপ...
অন জোকস (১)
মিলান কুন্ডেরা’র ‘ঠাট্টা’ [এই নামেই অনুবাদ হইছিল বাংলায়, কলকাতার ভাষায়] যখন পড়ি তখন জোকস জ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *