#বন্যা #কবিসভা #সামহোয়ার_ইন_ব্লগ #কাজী_জেসিন #চিঠি #খিলগাঁও #মায়াকানন #ঢাকা #জিজেক #জর্জ_সেফোরিস #নিরো #রোম #টাইটানিক #আর্টিস্ট #কিয়ামত #জর্জ_বুশ_সিনিয়র #গালফ_ওয়ার #সাদ্দাম #তিস্তা_ব্যারেজ #লাইফ_ইন_অ্যা_আর্মচেয়ার

rain-dhaka-ds_0

২০০৪/৫-এর ঘটনাই হবে মনেহয়। ঢাকা শহরে বন্যা হইছিলো। খিলগাওঁ-য়ের মায়াকানন-এ থাকি তখন। যেই বাসায় থাকি তার কাছকাছি চইলা আসছিলো পানি। মতিঝিল গর্ভমেন্ট স্কুল ছুটি দিয়া লঙ্গরখানা (ত্রাণ শিবির; ছাত্র শিবির বা লেখক শিবিরও না :( ) বানানো হইছিলো। তো, তখন ‘কবিসভা’ নামে একটা ইয়াহু ইমেইল গ্রুপ ছিলো (সামহোয়্যার ইন ব্লগের আগের ঘটনা), ওইখানে অনেককিছু নিয়া তর্ক হইতো, তো ওই টাইমে ভাষা বা অন্যকিছু নিয়াই তর্কাতর্কি করতেছিলাম। তখন কেউ একজন (কাজী জেসিন কিনা শিওর না) আইসা কইলেন, সারাদেশ বন্যায় ভাইসা যাইতেছে আর আপনারা সাহিত্য করতেছেন!

আমি একটা রিপ্লাই লিখছিলাম উনার অ্যাঙ্গারমূলক চিঠির। বেশ ‘সাহিত্যিক’-ই আছিলো সেইটা। মেবি এইরকম যে, সবকিছু নিয়াই সেনসেশন আমার ক্যান থাকা লাগবে আমার আর সেইটা কওয়াও লাগবে! বন্যার পানি’র চাইতে অনেকদিন পরে সকালবেলা যে একটু একটু রইদ উঠতে নিছিলো সেইটা দেইখা আমার ভাল্লাগতে পারে, কবিতা লিখতে ইচ্ছা করতে পারে। বা ধরেন, রিলিফের কাজ আমারও করা লাগছে, চান্দাও দিছি – কিন্তু এইসবকিছু আমারে সব জায়গায় বলা লাগবেই কেন? বা বন্যা হইছে বইলা বন্যা নিয়াই কবিতা লেখা লাগবে, তা নাইলে বন্ধ কইরা দিতে হবে? অ্যাজ অ্যা ইন্টেলেকচুয়াল আমার যে রেসপন্সিবিলিটি আর অ্যাজ অ্যা সোসাইটি পারসন – সবসময় একই তো না! এখন ব্যাপারটা পুরাপুরি একইরকম মনেহয় না। মানে, সমস্যাটার আরো কয়েকটা ডাইমেশন ভাবা যায়।

২.
জিজেক এক ওয়াজ মাহফিলে কইতেছিলেন, উনি গেছেন নিউইয়র্কে না কই জানি ওয়াজ করতে তখন উনার দেশে যুদ্ধ চলতেছে, তো অডিয়েন্স থিকা একজন তারে জিগাইলো, আপনার দেশে যুদ্ধ চলতেছে, রেইপ হইতেছে আর আপনি এইগুলি ফালায়া আইছেন ওয়াজ করতে, আপনার শরম করে না? তো, উনি কইলেন যে, করে না। বরং এইটা যে কতোটা বাজে জিনিস, এই ‘করুণা’ দেখানোটা, যে, আফ্রিকাতে কেউ না খাইয়া মরতেছে, সো আপনিও খাওয়া-দাওয়া স্টপ কইরা দিলেন, অ্যাজ ইফ আপনি কিছু কইরা ফেললেন। এইটা একটা লিবারাল বদমাইশি ছাড়া আর কিছু না! এইরকম পলিটিক্যাল কিছু কইছিলেন। মানে, এই ‘দান’ করতে পারাটা খালি ‘মহৎ’ কোন ঘটনা – তা না, এইটা এক ধরণের স্যাটিসফাই করাও না খালি নিজেরে, বরং যারা তাদের রেসপন্সিবিলিটি নেন নাই, তাদেরকে সেইভ করার ধান্দাও। তাই বইলা আমরা কেউ হেল্প (সাহিত্যিকদের লাইগা ব্রাকেটে ‘সাহায্য’ও লিখলাম) করবো না তা না, কিন্তু হেল্প করার ভিতর দিয়া কোন পলিটিক্যাল এজেন্ডাটারে সার্ভ করতেছি, সেইটা নিয়াও যাতে কনসার্ন থাকতে পারি আমরা।

আরেকটা ব্যাপার খুবই ইন্টারেস্টিং। কিয়ামত যেইদিন হইবো সেইদিন নিয়া একটা কবিতা লিখছিলেন একজন কবি (জর্জ সেফোরিস কি?); তো ওইখানে এইরকম ছিলো যে, সবাই জানে, আজকে কিয়ামত হইবো, তো, সকালবেলা বাসা থিকা বাইর হইয়া সবাই যে যার ডেইলি লাইফের কাজ করতেছে। কিয়ামত হইছে তো কি হইছে, অফিসে যাইতে হবে না! – এইরকম। মানে, এতোটা ফানি ছিলো না, কিন্তু হইতে পারতো। নিরো যে বাঁশি বাজাইতেছিলো বলা হয়, রোম পুড়ার সময়, এমনটা হইতে পারে যে, সে না জাইনাই বাজাইতেছিলো, কিন্তু বাজাইতেই তো পারে। কোন কারণ ছাড়া। টাইটানিক সিনেমা’তে ভায়োলিন বাজাইতে যে শুরু করে জাহাজ ডুবা’র সময় ওইটা বরং বেশি ‘আর্টিস্টিক’ হইছে। যদি তখন বিকালের টাইম থাকতো, শিডিউল থাকতো বাজানির, তখন বাজাইতে থাকলে ব্যাপারটা ঠিক হইতে পারতো অনেকবেশি।

৩.
এই চিন্তাটা মাস্ট কইরা তোলছিলেন জর্জ বুশ সিনিয়র গালফ ওয়ারের সময়; যে, আপনি সাদ্দাম’রে সার্পোট করেন তা নাইলে আম্রিকারে – মাঝখানে কিছু নাই। তো, সেই জায়গা থিকা এইরকম একস্ট্রিম মোমেন্টে চইলা যাওয়াটা খুবই পসিবল যে, আপনি বন্যা নিয়া লেখেন নাই তাইলে অবশ্যই আপনি আওয়ামী লীগের সার্পোটার! তো, এইটা যিনি মনে করতেন পারেন, তার লাইগা এইটুক বলাই এনাফ যে, ভাই, আপনারে আমি চুদলাম না!

কিন্তু যারা পুরাপুরি মনে করেন না, ডাউটফুল থাকেন – উনারাই ভাস্ট মেজোরিটি মনেহয়। উনাদেরকে বলা যায়, যখন আপনি পলিটিক্যাল স্ট্যাটাস কো’রে সার্পোট করেন সেইটা প্রতিবাদ করার ভিতর দিয়াও করতে পারেন, প্রতিবাদের একটাকিছু লাগে তো আপনার টু ফিল যে, আপনি বাঁইচা আছেন, যেহেতু একটাকিছুর ‘প্রতিবাদ’ আপনি করতেছেন! কিন্তু যখন প্রতিবাদ করেন, সেইটা ‘কোনকিছু না করার’ ভিতর দিয়াও করতে পারেন, জাস্ট পার্টিসিপেট না করাটাই এনাফ হইতে পারে। চুপ থাকার ভিতর দিয়া সার্পোটই করা হয় বেশিরভাগ সময়, সুবিধাটাই নেয়া হয়। কিন্তু সবচে পলিটিক্যাল ঘটনা ওইটাই যেইখানে একজন মানুষ তার নিজের মতো অ্যাক্ট করতে পারে, যতো মেকানিক্যালই হোক সেইটা। পাবলিক লাইফে ওই পারসোনাল স্পেইসটারে বাঁচায়া রাখতে চাই আমি, যেইখানে কিয়ামতের দিনও স্যুট-টাই পড়া লোকটা অফিসে যাইতে চাইলে অফিসেই যাইতে যাইতে শীতের ছুটিতে তিস্তা ব্যারাজে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করতে পারে।

আরো পড়তে পারেন

লেখকের পেশা, জীবন-যাপন, ভণ্ডাম...
একজন কবি’র পেশা আসলে কী হওয়া উচিত, বাংলাদেশে, এই টাইমে? মানে, ভ্যাগাবন্ড বা বিপ্লবী হওয়া ছ...
ইয়াং কবিদেরকে কয়েকটা পরামর্শ
১. বাক্যের ভিতর চমকাইয়া দেয়ার ক্ষমতারেই যারা কবিতা ভাবেন, তাদের কবিতা পইড়েন না। কবিতা ভ...
।। ভুলগুলিই ভালো ।।
এইটা নিয়া প্রথম কনশাসলি চমকাইছিলাম মনেহয় কলেজে পড়ার সময়ে। ঢাকা কলেজে সাউথ হোস্টেলে থাকি তখ...
বিনয় মজুমদারের লেখা আলেকজেন্ডা...
বিনয় মজুমদার কইতেছিলেন বিষ্ণু দে’র কথা; উনারা যখন ইয়াং ছিলেন (১৯৫০-এর দশকে) তখন খাতায় লিইখ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *