টিয়ার্স ইন হ্যাভেন

25ea78bd-6b97-47da-9a96-c85cab44ed73

আমার একটা মুশকিল আছে, খালি ‘কারণ’ বলতে ইচ্ছা করে। গতকালকে হাসনাত শোয়েব একটা স্ট্যাটাসে জিগাইলেন ইমাজিন নাকি টিয়ার্স ইন হ্যাভেন? ভোট না ঠিক, প্রেফারেন্সই জানতে চাইছেন হয়তো, আমি টিয়ার্স ইন হ্যাভেন লিখছি কমেন্টে, অনেকেরই কমেন্ট টিয়ার্স ইন হ্যাভেন। তখন বা তার আগেও মনে হইতেছিলো, কেন টিয়ার্স ইন হ্যাভেন।

ইমাজিন আমার পছন্দ না, এর সেকুল্যার, এনলাইটমেন্টের ড্রিমের কারণে, এইটা নিয়া লিখছিও আমি। কিন্তু টিয়ার্স ইন হ্যাভেনের সাথে যদি কম্পেয়ার করেন, একটা হইতেছে, পলিটিক্যাল আর আরেকটা পারসোনাল ফিলিংসের ঘটনা (গ্রসলিই বলতেছি)। তার মানে এইটা না যে, পারসোনাল জিনিসগুলি বেটার আর্ট হইতে পারে বা এইরকমকিছু; বরং এই যে পারসোনাল – এইটা অনেকবেশি ইন্ডিভিজ্যুয়াল, পিপল যেইটারে কানেক্ট করতে পারে; ইমাজিনে যেইরকম কমন একটা জায়গা, যেইখানে ইন্ডিভিজ্যুয়াল’রে কানেক্ট করতে কয়। একটা পেইন অলরেডি আছে, আর একটা ড্রিম সাবস্ক্রাইব করতে বলে। একটা ‘অন্যায়’ ইমিডিয়েটলি ফিল করা যায়, যেইখানে ‘ন্যায়’ জিনিসটা চেইঞ্জ হইতে পারে। এইরকম।

দুইটাই ফিউচার নিয়া বলা, কিন্তু ইমাজিন’টা উইথইন টাইম, আর টিয়ার্স’টা হইতেছে টাইমের পরে গিয়া বলা। Continue reading

#রিয়ালিটি #গান #আগে_যদি_জানতাম #লাকি_আখন্দ #শম্পা_রেজা #গাব্রিয়েল_সুমন #এলিটিজম #ফোক #স্নবারি #ঘটনা #ফিলিংস #ল্যাঙ্গুয়েজ #জানা #অ_জানা #ইন্টেলেকচুয়াল #ওয়াজ #হানিফ_সংকেত #ভঙ্গিমা

Shompa-Reza_2

যেইভাবে আমরা রিয়ালিটি’টারে দেখি সেইটা খুবই ভচকাইন্না একটা ব্যাপার। এইটা অনেকবারই মনে হইছে। ব্যাপারটা আবার ট্রিগার করছে কিছুদিন আগে যখন শুনছি শম্পা রেজা’রে নিয়া লাখী আখন্দ ‘আগে যদি জানতাম…’ গানটা লিখছিলেন বা সুর করছিলেন। গাব্রিয়েল সুমন জানাইছিলেন এই ইনফরমেশন, ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাসে। মানে, এই জাইনা যাওয়াটা, গানটারে তো একরকমের রিয়ালিটির ভিতরেই রিডিউসই করে; যে, ‘ও আচ্ছা, এইটা লাকি আখন্দ আর শম্পা রেজার কাহিনি!’

হোয়ার অ্যাজ গানটা তো আর ওইটুকই না। শম্পা রেজা’র তো নাক উঁচা, উনার এই এলিটিসজমরে সুন্দর মনে হইতো; এখনো অনেককিছুই সুন্দর হয়া আছে, থাকতে পারে, পারতেছে। কিন্তু একটা এলিটিজম যে এমবেডেড হয়া আছে শম্পা রেজা’র ইমেজের সাথে (আমার কাছে) সেইখানে এই গানটারে এটাচ করাটা মুশকিলেরই; নট দ্যাট যে, গানটার মধ্যে ফোক টোনের স্নবারি’টা নাই (ফোকলোর – এই ব্যাপারটাই তো স্নবিশ, আইডিয়ার দিক থিকা) বা ঘটনাটা এইরকমই, এর বাইরে কিছু নাই; কিন্তু লাকি’র তো মনে রাখার কথা কিছু একটা; লিখতে গেলে ‘রিয়েল’ (যেইটা ইল্যুশনারি একইসাথে) একটা কিছু লাগে। লাকি’রে জিগাইলেও উনি কইবেন যে, এইটা মিছা কথা না, শম্পারেই ভাবছিলেন উনি। ওইটা নিয়াই মুশকিলটা।

কোন একটা রিয়ালিটিরে বা ঘটনারে বা ফিলিংসরে আমরা ল্যাঙ্গুয়েজে ট্রান্সফার করতেছি – ব্যাপারটা এইরকম না। এইরকম ‘ইচ্ছা’ তো থাকতেই পারে (সবসময় যে থাকতেই হবে, এইটা নেসেসারি না); কিন্তু থ্রু দ্য প্রসেস যেইটা ক্রিয়েট হইতেছে সেইটা রিয়ালিটি বা ঘটনা বা ফিলিংসটা না। বরং উল্টাটা, এইরকম একটা ‘ইচ্ছা’ বা ‘ফিলিংস’ আছে… আমরা কানেক্টেট হইতে চাইতেছি। আমরা যে জানি, আমরা জানি না – এইটা তো জানি-ই। সেই জানাটার কাছে যাইতে চাইতেছি অ-জানার ভিতর দিয়া। এইরকম একটা ঘটনা হইতে পারে মনেহয়।
Continue reading

এল. কোহেনের একটা গান নিয়া…

লিওনার্দ কোহেন

কোহেন যখন বলতেছেন, ‘মাই উইমেন’ তখন একজন সার্টেন উইমেন তো আছেন বা ছিলেন উনার পজেশনে। এই ধারণাটা তো আছেই যে, আমার বউ, আমার জামাই, আমার বয়ফ্রেন্ড, আমার গার্লফ্রেন্ড – এই দখল বা পজেশন গাড়ি-বাড়ি’র চাইতে কম কিছু না। আপনার লাইফে ম্যাটেরিয়াল পজেশন অনেককিছু আছে, কিন্তু রিলেশনশিপের পজেশনও থাকা দরকার, নেসেসারিই আসলে। ইন ফ্যাক্ট কোন দখলদারি ছাড়া তো রিলেশনের ধারণাটা এগজিস্টই করতে পারা’র কথা না। এইসবকিছু’রে এইভাবে ভাবাটা হয়তো একটু খারাপ লাগতে পারে যেমন ভাবি আমার রোবট, আমার মেশিন, আমার মোবাইল… কিন্তু ক্লোজই আসলে ব্যাপারটা, এতো ডিসট্যান্স কিছু না মে বি। মানে, এইরকম ভাবা’র ব্যাপার তো আছেই।

ঘটনা সেইটা না। ঘটনা হইতেছে সেই এই ওনারশিপ’টা কেমনে কাজ করে। সেক্স অবভিয়াসলি একটা মেজর ব্যাপার। গানের ঘটনা মনেহয় এইরকম যে, কোহেনের বউয়ের লগে তার ফ্রেন্ড ক্যাজুয়াল সেক্স করছে, কিছুদিন থাকছিলো এক লগে, এখন কোহানের লগে থাকতেছে, পরে এখন কোহেন ব্যাপারটা নিয়া ভাবার ট্রাই করতেছে। কোহেনের লিরিকসে এই ব্যাপারটা আছে যে, তাঁর ফ্রেন্ড তার বউ’রে নিছে বা তার বউ যে গেছে সেইটারে ফ্রেন্ড না করে নাই, একসেপ্ট করছে। এইটা যতোটা মাইল্ড হওয়া পসিবল, ততটা মাইল্ডভাবে বলার ট্রাই করছেন কোহেন। দোষ দেয়ার ব্যাপারটা কম উনার, ফ্রেন্ড বা বউ – কারো উপ্রেই; একটা দুঃখ আছে খালি।

আমার সন্দেহ, এইটা প্রেমের দুঃখ না খালি, উনারশিপটা যে নাই, সেই না থাকারও কষ্ট।

একটা কষ্ট তো জেন-এরও আছিলো। কোহেন ভাবছে সেইটা পারমানেন্ট জিনিস, উইমেনলি একটা ব্যাপার। এইটাও এক ধরণের মালিকানার জিনিস বইলা ফিল করছে বইলা মে বি। কিন্তু ওই লোকের সাথে রিলেশনের ভিতর দিয়া শে কোনভাবে সেইটারে ইরেজ করে দিতে পারছে। কেমনে করছে – সেইটার ব্যাখ্যা তো নাই এমনিতেও, ব্যাখ্যা জিনিসটা তো বাজেই, একরকম; তারপরও… মে বি জেন পলিগ্যামিক হওয়ার ভিতর দিয়া এমন একটা জায়গারে আইডেন্টিফাই করতে পারছে যেইখানে মালিকানা’র ব্যাপারটা ব্লার হইতে পারে।

রেভিউলেশনারি রোড সিনেমায় একটা সিন ছিল কেট উইনস্লেট যখন বুঝতে পারে যে তার হাজব্যান্ড চিট করতেছে তখন শে তার নেইবারের লগে সেক্স করে; যেন প্রতিশোধ নিলো একটা। সেক্স করা যে মালিকানার একটা ঘটনা, সেইটা থিকা শে নিজেরে বাইর করতে চায় মনেহয় নিজেরে। পারে না। কিন্তু এই গানটাতে জেন-এর প্রতিশোধের কোন ব্যাপার নাই, জাস্ট আরেকটা রিলেশনই, কিছুদিনের। শে অনারও করে ব্যাপারটারে। কিন্তু এইরকম থাকতে যে পারা যায়, খালি এইটুকই না; শে যে ছিল, এইটা মে বি তারে রিলাক্স করে কোনভাবে। Continue reading

দ্য হাম্মা সং

এ. আর. রহমান

গার্ডিয়ানে-ই মনেহয় দেরিদা মরা’র পরে উনার একটা ইন্টারভিউ শেষ ইন্টারভিউ বইলা ছাপা হইছিল। ওইখানে ইন্টারভিউয়ার শেষে কনক্লোশ দিছিলেন এইভাবে, দেরিদা এখন সারাদিন বাসাতেই থাকেন আর টেলিভিশন দেখেন আর যা দেখেন তার ডিকনস্ট্রাকশন করতে থাকেন। ইন্টারভিউয়ারের এই বলাটাতে আম্রিকান টাইপ বেয়াদবি না থাকলেও বৃটিশ টাইপ তাচ্ছিল্য তো ছিলোই। মানে, কেউ টিভি দেইখা সারাক্ষণ ডিকনস্ট্রাকশন করতেছে, এইটা বেশ ফানিই মনে হইছিলো বলার টোনটাতে। অ্যানলাইসিস করতে পারা’র, ব্যাখ্যা করতে পারা’র, বিচার করতে পারা’র যে আনন্দ, সেইটা তো অন্য কোনকিছুতে নাই। ব্যাপারটা এইরকম একস্ট্রিম যে, একটা ডিজিজও হইতে পারে। মানে, এই অ্যানালাইসিস/ডিকনস্ট্রাকশন/জাজমেন্ট হইতেছে কি হইতেছে না সেইটা না, না কইরা যে থাকা যাইতেছে না, সেইটা টু সাম এক্সটেন্ড একটা সমস্যা হইতে পারে মনেহয়।

এই জিনিসটা মনে হইতেছে দ্য হাম্মা সং’টা দেখার পরে। গানটা তো এমনিতে ভাল্লাগছে, কিন্তু তারপরও এনালাইসিস যে করা লাগতেছে সেইটা এই রোগে’র কারণেই মনেহয়।  তামিল ও কাদহাল কানমানি  সিনেমার রি-মেইক হিন্দি ওকে জানু’র গান এইটা। এখনো রিলিজ হয় নাই সিনেমাটা, জানুয়ারি, ২০১৭-তে হবে। ২১ বছর আগে ১৯৯৫-এ বোম্বে সিনেমাতেই যখন গানটা বাজছিল তখন থিকাই আমার ফেভারিট। এ.আর.রহমান ‘রোজা’ দিয়া শুরু করছেন খালি, তখনই তারে জিনিয়াস ভাবতে আমার কোন সমস্যা হয় নাই। যদিও ইউনির্ভাসিটিতে ছাত্র ইউনিয়ন কইরা হিন্দি গান গাওয়াটা কবিরা গুনাহ’র মতো ব্যাপার ছিল, কিন্তু আমি গাইতে পারতাম; জিনিয়াস তো জিনিয়াসই, হিন্দি সিনেমার গানের সুরকার হইলেও। এইরকম নন-পলিটিক্যাল বা অ্যান্টি-বাংলাভাষা’র পজিশন নিতে পারছিলাম। :)  রোজা’র যেই মিউজিক সেইটা আরো এনহেন্স হইছিলো বোম্বে’তে। আমার কাছে এইটার প্যারামিটার ছিল: ‘রুকমিনি’ ভার্সেস ‘হাম্মা হাম্মা’।

 

Continue reading

‘আফরিন, আফরিন…’

Slavoj Zizek-এর একটা জোকস আছে Joseph Stalin’রে নিয়া, Underground (1995 film) সিনেমাটাতেও এইরকম একটা সিন আছে। যে, বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরে অডিয়েন্স যখন হাততালি দিতে থাকে, তখন স্ট্যালিন বা ওই সময়ের কমিউনিস্ট নেতারা নিজেও হাততালি দিতে থাকেন; যে, উনিও তখন পাবলিকের হইয়া সেইটারে রিকগনাইজ করতেছেন, হাততালি দিয়া হাততালিটারে নিতেছেন।

Coke Studio’র এই গানটাতেও এইরকম একটা ঘটনা আছে। [ Momina Mustehsan চোখের পলক ফেলার ঘটনা তো আছেই, Sudip Bosu Roy  ] মিউজিকের ফিউশন তো করেই কোক স্টুডিও, একটা গানের লিরিকসের সাথে আরেকটা গানের লিরিকসও জোড়া দেয়, কিন্তু এইরকম নতুন লিরিকস ইনসার্ট করার ব্যাপারটা খেয়াল করি নাই আগে। গানটা তো এইরকম যে, আফরিন কতো সুন্দর! আর নতুন লিরিকসে আফরিনও কয়, আরে, তোমার নজর আমারে টাচ করছে বইলাই তো আমি সুন্দর হইছি! [কথা মিথ্যা না, দেখার কেউ না থাকলে আমরা কি সুন্দর হইতে পারতাম!] তখন সবাই আফরিন-এর নামটা জপতে থাকে। এই সেলিব্রেশনটা তো ভালো, কমপ্লিট করে গেইসটারে, রিকগনাইজ করে। যদি ভাবি যে সুন্দর, সেইটা সুন্দর একটা ব্যাপার, বা সুন্দরের ভাবনাটাই আসলে আসল। Continue reading