ইবুক: পুরির গল্প

Purir-Golpo

২০১৬-তে এই গল্পের বইটা ছাপানো হইছিল। ছাপা বইয়ে ১২টা গল্প আছে। এই ই-বুকে আরো দুইটা গল্প (দুর্গতিনাশিনী আর আমার ফ্রেন্ডের বউ) অ্যাড করা হইছে।

অনলাইনে পড়তে পারেন বা পিডিএফ-এ ডাউনলোড কইরাও পড়া যাইতে পারে।

purir-golpo

পুরির গল্প, ফ্লিপিং ইবুক পড়তে ছবিতে ক্লিক করতে হবে।

 

ক্লিক: ডাউনলোড পিডিএফ

ডাবলিনার্স

1405_books_dubliners-hero-jpg-crop-fresca-xlarge

শান্তনু’র লাস্ট লাইনটা আছিলো এইরকম – আমি তো ভালো কাস্টমার সার্ভিস দিতে জানি, সো এতো প্যারা নেয়ার তো দরকার নাই; গর্ভমেন্ট জব’টা আমি ছাইড়াই দিতে পারি। শেষে, সে দিছিলো কিনা আমি শিওর না। শান্তনুরে আমি আর জিগাই নাই। ইন ফ্যাক্ট, দেখাও হয় নাই, এরপরে। এর আগেই কেওটিক জিনিসগুলি শুরু হইয়া গেলো। সিনেমার মতো সিনগুলি ঢুইকা গেলো ঘটনার ভিতরে। তখন ঘটনাগুলিরে মনে হইতেছিল কোন আর্ট-ফিল্ম বা টিভি-নাটক। মানে, একসাইটমেন্ট কম আর ঘটনাগুলিও বেশ স্লো।

মেইন শহরের বাইরে একটা জেলা শহরে থাকি আমি তখন। একটা অষুধ আনতে যাইতে হয় শহরের বাইরের রিসার্চ সেন্টারে। রিসার্চ সেন্টার ইউনির্ভাসিটির মতোন। পাবলিকদের কাছেও অষুধ বেচে, প্রপার রিকমেন্ডশন থাকলে। আমি কিনতে যাই, কয়দিন পরে পরে। একদিন গিয়া শুনি নতুন অ্যাডমিনস্ট্রেশন ম্যানেজার আসছেন। ওইটাই শান্তনু। দেইখা চিনলো সে আমারে। ফ্যাসিলিটি দিতে চাইলো। আমি কইলাম থাক, থাক। তেমন কোন কিছু তো দরকার নাই। মাঝে-মধ্যে অষুধই তো নিতে আসি। কিন্তু শান্তনু কোনকিছু কইরা দেখাইতে চাইতেছিল। ঠিকাছে সেইটা। সে কদ্দূর পর্যন্ত কি করতে পারে সেইটা না কইরা দেখাইলে আমিও তো বিশ্বাস করবো না আসলে। তো, কইলাম, কোন হেল্প লাগলে জানা্বো নে। কিন্তু এইরকম অজ পাড়া-গাঁ টাইপ রিসার্চ সেন্টারে সে কেমনে থাকে? আমার জেলা শহরের প্রাইড দিয়া আমি জিগাইলাম। সে কইলো, স্পেশাল সার্ভিস আছে, ওইটা দিয়া সরাসরি মেইন শহরে চইলা যায় সে উইকএন্ডে। তারপরও তো, ঝামেলাই। জেলা শহরের প্রাইড ধইরা রাখতে চাইলাম আমি। পুরান পরিচিত মানুষদের সাথে দেখা হইলে এইরকমই তো হয়।

এরপরে দূর থিকা কয়েকবার দেখা হইছে। শান্তনু’র সিরিয়াস প্রফেশনাল চেহারা নিয়া কারে কারে কি কি যেন ইন্সট্রাকশন দিতেছে। অষুধ নিয়া চইলা আসছি আমি। একবার সন্ধ্যাবেলা গেছি। ওদের ডরমেটরি’তে সন্ধ্যাবেলার স্ন্যাকস খাইয়া ফেরত আসতেছি। একলা একটা বোরাক নিয়া আসা তো কস্টলি, এইজন্য শেয়ারে আসতেছি। এইরকম রিমোট জায়গাগুলিতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বইলাও কিছু নাই। নরমালি লগের প্যাসেঞ্জারদের সাথে কথা কই না। অন্যরাও কয় না। কিন্তু অন্যরা একই গ্রুপের; শান্তনু স্যার’রে নিয়া কথা কইতেছিল। মেইন শহরে যাওয়া নিয়া কি নাকি ঝামেলা হইছে। ভিসি বা সিইও যাইতে দিতে চায় না, কইছে,মাসে একবার যান উইকলি না গিয়া। শান্তনু আরো ইরেগুলার হইয়া গেছে এরপরে, ফ্রাইডে দুপুরেই চইলা যায় মানডে’তে বারোটার আগে আসে না। এইসবকিছু। আমি ভাবলাম পরেরবার আসলে শান্তনুর লগে দেখা করবো নে। বেচারা ঝামেলায় আছে। আমি কোন উপকার তো করতে পারবো না, কিন্তু শুইনা দেখি কি অবস্থা; ও তো চাইলে জেলা শহরেও আইসা থাকতে পারে! নাকি আমি থাকি বইলা, আমারে হেল্প করবো বলছিলো বইলা জেলা শহরে আইসা থাকাটা ওর জন্য ঝামেলার হইতেছে?

পরেরবার দুপুরের দিকে আসছি রিসার্চ সেন্টারে। একটু দূরে শুনি যে শান্তনু এক কলিগের লগে কইতেছে, সে তো চাকরিটা ছাইড়াই দিতে পারে।… Continue reading

স্বপ্নের গরুগুলি

ছবি: অ্যান্ডি ওয়ারহল

স্বপ্নের গরুগুলি ঘাস খাইতেছিল মুনের মাঠে। আর আমি রেড মার্সের আম বাগানে বইসা আছি। অথচ পাশাপাশি। সামারের হালকা বাতাস। কোন গান নাই। কানেক্টিভিটি নাই যেহেতু। আওয়াজ ছাড়াই কেমনে যে বাঁইচা রইছি আমরা! গরুদের ঘাস চিবানির আওয়াজ আছে। আছে বাতাসের শিষ। অখচ কোন গান নাই। যেন গেরিলা আক্রমণ করবে কনশাস ড্রোনগুলা। এইরকম একটা পিকচার। দূরে, ভ্যালির দিকে তাকায়া রইছি আমি। কখোন আসবে কনশাস ড্রোন? জাগায়া তুলবে আমারে ড্রিমের ভিতর থিকা…

যেহেতু রুরাল এরিয়া ড্রিম পুলিশও নাই কোন। এই জায়গাটা যে শহর না, এইটার লাইগা কোন মন-খারাপও নাই আমার। লেজার-লাইটের লাইগা বা স্কাই-ওয়াইড জোনের ‘টার্জান অফ দ্য জাঙ্গল’-এর লাইগা। এই এপিসোডে লেডি-টার্জান কি আবার রি-বিল্ড করতে পারবে হিউম্যান স্পেসিস’রে?- এইরকম বুক ধড়ফড় করা টেনশনও নাই। কয়েকটা গরু ঘাস খাইতেছে। আর আমি। একটা কন্সটেন্ট সন্ধ্যাবেলা। তাকায়া থাকতে থাকতে চোখ ব্যথা করে। মনেহয় ইল্যুশন কোন, ড্রিম তো না… কয়েকটা ক্র্যাপের মায়া-পাখি বইসা রইছে। ওরাও তাকায়া থাকে। গাছের পাতার মতোন রঙ। বাতাসে একটু একটু ভাসে। গিয়া বসে গরুদের পিঠে। গরুগুলি পাত্তা দেয় না। মনেহয় ওরা জানি নাই। না-থাকাগুলি ভালো ছিল।

আমি থাকতে পারি না বেশিক্ষণ। আমার ঘুম ভাঙে। স্বপ্নের গরুগুলি স্বপ্নেই থাইকা যায়।

২.

অফিসে আসার পরেও এই হ্যাং-ওভার থাকে অনেকক্ষণ। দুই ডোজ অ্যান্টি-ইলিউশন খাওয়ার পরে কাজে বসলাম। একটু পরেই পামেলা আসলো। পামেলাই যে খালেদ এইটা বুঝতে আমার বেশ টাইম লাগছে। পরে অরে জিগাইলাম, বাই-সেক্সুয়াল’রা এইটা শুরু করছে শুনছি। কোন সমস্যা হয় না তোমার? পামেলা কইলো, মাঝে-মধ্যে একটু গড়বড় তো হয়-ই; আগেও হইতো না মাইনষের? একজনের মেসেজ আরেকজনরে পাঠাইয়া দিলো? হইতো তো; তো, এইরকম-ই, এতো সিরিয়াস কিছু না। পামেলা আমার অফিস কলিগ। একটা মেমোরি বিল্ডিং ফার্মে কাম করি আমরা। ও ডিরেক্টর লেভেলে চইলা গেছে। অর কালার সেন্স থুবই ভালো। মেমোরিগুলা পুরা রিয়াল লাগে। আর ও ডিফরেন্সিয়েটও করতে পারে কালার কনট্রাস্টগুলি লিগ্যাল ইস্যুগুলাতে। একবার তো এমন এক কেইস আসলো এম.এম.এম.ও ফেইল, হিউম্যান ইন্টারভেনশন মাস্ট, তখন পামেলা ইর‌্যাশনালিটি ইমপ্যাক্ট দিয়া জিনিসটারে বাইর কইরা দিলো। এরপর থিকা-ই ও পুরা সেলিব্রেটি ইন্ডাষ্ট্রিতে।

Continue reading

২০৪৬

file 01

:আমার এখনো তোমার লাইগা মায়া লাগে তো।

আমি হাসি। হাসিতে মনেহয় একটু দুঃখ দেখতে পায় নীলু। কয়,
: তোমার বিশ্বাস হইতেছে না!

আমি আর হাসি না। কই, যাই গা তাইলে…

একটা বিকাল শেষ হয়। আরো কতোভাবেই তো হইতে পারতো। ভাইবা খারাপ-ই লাগে। এই কারণে মনেহয় আকাশে যে সন্ধ্যার মেঘ, সেও মনেহয় দুখী। বৃষ্টি হইলে মনে হবে, কেউ কানতেছে। অথচ যদি মন ভালো থাকতো, মনে হইতো কেউ নাচতেছে। কত যে মিনিং লাইফের। যতো কিছুই হোক, এই লাইফ নিয়া আরো কিছুদিন তো বাঁইচা থাকবো।

২.
নীলু ডাক্তার। অর কাছে গেছিলাম আমার ব্রেস্ট দেখাইতে। অন্য পোলাদের মতোন আমার বুক বা স্তন বড় হইতেছে না। ত্রিশ হইলেই এইটা হওয়ার কথা। আমারটার গ্রোথ হইতেছে না। পেনকেকের মতো একটু ফুইলা রইছে খালি। কিউপিড’স সিক্রেটস-এ গেলে শরমই লাগে। অথচ নীলুর কি সুন্দর চাপ দাড়ি উঠছে। বোঝা যায় সপ্তাহে দুইবার ট্রিম করে ও। কলেজে থাকতে কইতো ও, ডাক্তার হবে। পরে যখন দাড়ি উঠবে তখন নিজের দাড়ি নিজে ট্রিম করবে। ঠাট্টা কইরা কইছিল, তোর বুক বড় না হইলে আমার কাছে আসিস… আমি ঠিক কইরা দিবো নে! হাসতেছিল। তখন তো কথার কথা। একশজনে দশজনের এই সমস্যা হয়। আমি যে অ্যাভারেজের বাইরে এইটা মানতে অনেক কষ্ট হইছিল। আমার এক্স-ওয়াইফ কইতো, আমার দাড়ি উইঠা গেলো, তোমার বুক বড় হয় না ক্যান?
Continue reading

আমি আর আমার ছোট বইন

পোটের্ট অফ ক্রিস্টিন - মাই সিস্টার। ফিদ্রা কাহলো।

পার্টি শেষ হইয়া যাওয়ার পরে পিতলা রংয়ের বিলাইটা আমার ছোট বইনরে কইলো, ‘আমারে জোরে একটা লাত্থি দিয়া গেইটটা পার কইরা দেন। এই বাড়ির মালিকে আমারে লাত্থি দিলে বাঘের গুহায় গিয়া আমি পড়ি। আর বাঘ-বাঘিনীর প্যাঁচের মধ্যে পইড়া যাই…’ বাড়ির মালিকও আমারার লগে দাঁড়ায়া ছিল। উনিই পার্টিটা দিছিলেন। উনি আমাদের ফ্রেন্ডদের ফ্রেন্ড। উনি হাসলেন। আমার ছোট বইন কোন হেসিটেশন ছাড়াই লাত্থি দিলো বিলাইটারে। জাপানি ডিজাইনের একটা গেইট। ওই গেইটটা পার হইয়া বিলাইটা সাপের গুহায় গিয়া পড়লো। যদিও এতদূরে দেখতে পাওয়ার কথা না, তারপরও আমরা তিনজনেই দেখতে পারতেছিলাম বিশাল একটা অজগর ওই গুহার ভিতরে। চোখ বন্ধ কইরা শুইয়া ছিল। বিলাইটা একদম তার মুখের কাছে গিয়া পড়লো। যেন এইটা আসবেই, সাপটা জানতো আগে থিকা। চোখ বন্ধ কইরা, ঘুমঘোরে এলে মোর স্বপ্ন মনোহর টাইপ, ইজি এবং নরমালভাবে সাপটা তার জিভ দিয়া টান মাইরা বিলাইটারে মুখের ভিতর নিয়া গেলো। তারপর আবার ঘুমাইতে লাগলো। চাবাইলো না, মানে, মুখের কোন নড়াচড়া নাই। হয়তো ঘুম থিকা উইঠা খাবে, এখন আপাতত মুখের ভিতর নিয়া রাখলো।

একটু পরেই দেখি বিলাইটা লাফ মাইরা সাপের মুখের ভিতর থিকা বাইর হইয়া আসলো। গুহার ভিতরেই বালুতে ছিটকাইয়া পড়লো। বিলাইটা নরমাল, চোখে একটু ভয় থাকলেও তেমন কোন টেনশন নাই। সাপটার দিকে তাকায়া রইলো। সাপটারও কোন বিরক্তি নাই। ঠাস কইরা জিভ বাইর কইরা আবার বিলাইটারে মুখের ভিতর নিয়া নিলো। আমরা বুঝতে পারলাম এইটা একটা গেইম। আমরা হাসলাম একটু। জাপানি গেইটের ভিতর দিয়া বাইরে রাস্তায় চইলা আসলাম।

 

২.

তখনো রাত শেষ হয় নাই। কই ঘুমাবো আমরা বুঝতেছিলাম না। বাজারের মতো একটা এলাকায় চইলা আসছি আমরা। রাস্তার একপাশে মার্কেট, দোকানগুলির শাটার নামানো। স্ট্রীট লাইট জ্বলতেছে। আরেকপাশে পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল, উপরে কাঁটাতার। সাইডে ড্রেন, বালি জইমা আছে ওইখানে, গাছের পাতা… ইউজ হয় না এখন আর। তার পাশে একটা চৌকি। ভাবলাম ওইখানেই শুইয়া পড়ি। ওইখানে কাঁথা দিয়া ছোট বইন শুইয়া রইলো। আমি বইসা সিগ্রেট ধরাবো কিনা ভাবতেছিলাম। ভাবতে ভাবতে দেখি সকাল হইয়া আসতেছে। বা সকাল না হইলেও কেমন জানি সকালের আলো আছে। একটা মাইয়া আইসা আমার বইনের লগে কথা কওয়া শুরু করলো। মে বি আমারে শুনাইয়া শুনাইয়া কইতেছিল, ফোম কাইটা সোফা বানামু আজকে! আমি কইলাম, একলা একলা কেমনে এই কাম করবেন আপনি? শে কইলো, এইজন্যেই তো তোমরা’র কাছে আসছি। আমারে হেল্প করো তোমরা! আমি ভাবলাম, এইটাই চান্স, ফ্লার্ট করি একটু। কইলাম, হেল্প তো করতেই পারি, ফ্রি আছি যেহেতু; কিন্তু আমাদেরকে কি দিবেন আপনি হেল্প করলে? আমার ছোট বইনের খুবএকটা ইন্টারেস্ট নাই, শে উইঠা বইসা কাঁথার একটা কোণা হাত দিয়া ধইরা দাঁত দিয়া কামড়াইতেছিল। আর নাটকটা দেখতেছিল। মাইয়াটা তো খুবই চিন্তায় পইড়া গেলো, কি করবো শে। কইলো, না, না… হেল্প করলে একটাকিছু তো দিবোই। আমি কইলাম, ঠিকাছে এইখানে নিয়া আসেন তাইলে। খুব চিন্তিতভাবে মাইয়াটা চইলা গেলো। এমনে রাজি হইয়া যাবো এইটা শে ভাবতে পারে নাই। বা বুঝতেছে না আমার লগে ফ্লার্ট করাটা ঠিক হইবো কিনা। Continue reading