আন-নোন

andy-warhol-artist-with-jay-johnson-and-candy-darling-actors-new-york-august-20-1969-web

দেয়ার ওয়্যার টাইমস যখন আন-নোন হওয়াটাই ছিল অ্যাট্রাকশনের মূল উপায়া। আমি তো তোমারে জানি না – এইটা হৃদয়ে বিরাট সক্রেটিস হাহাকার ক্রিয়েট করতো, সেইরকম টাইমের গল্প এইটা।

আমরা ফিরতেছিলাম। রিকশায়। মনিকা, মানিক আর আমি। রিকশাটা রাখা হইছে আসলে একটা এনশিয়েন্ট ফিলিংস দেয়ার লাইগা। রিকশাওলারাও মানুষ, থ্রি-ডাইমেনশনাল দুনিয়ায়। তবে নিয়েনডার্থাল টাইপ, ফিলিংসের কমপ্লিকেসি নাই, টাইমের নন-লিনিয়ারিটি নাই; লোকাল ইমপ্যাক্টগুলি আছে, ইমোশনালি সাপ্রেসড থাকতে পারে… কমপ্লিকেটেট রোবটগুলির চাইতে অনেক বেটার। আর ড্রাইভার ছাড়া গাড়ির মান-ইজ্জত থাকলেও রিকশাওলা ছাড়া তো রিকশার কোন বেইলই নাই, ইন ফ্যাক্ট রিকশাওলাই মেইন এইখানে, রিকশার চাইতে। আর মানিকের অনেক টাইম-মানি আছে, চাইলেই এনক্যাশ করতে পারে। সো, এইটুক লাক্সারি আমরা এর্ফোড করতেই পারি। রিকশায় ঘুরতে ঘুরতে একটু বাতাস খাইলাম।…

মানিক আমার চাইতে একটু মোটা, এর লাইগা আমি উপ্রের সিটে বসছিলাম রিকশার। মনিকা আর মানিক কাপল। অরা সারাদিন একলগেই আছিল। ফিরার সময় কাভার লাগে তো একটা, আমি এইজন্যে লগে আছিলাম। বা আন-নোন হওয়ার প্লেজারে আমিও পার্টিসিপেট করতে চা্ইতেছিলাম মনেহয়। মনেহয় এই কারণেই ঝামেলাটা বাঁধলো।

বাসার কাছাকাছি আইসাই দেখি, বাসাটা নাই আর। দোতলা ছিল দালানটা, একটা রেললাইনের পাশে। হলুদ কালারের। এখন অন্য কোন ড্রিমের ভিতর অকুপাই হয়া আছে। এমনো হইতে পারে, পথ ভুল করতে চাইতেছিলাম আমরা। অন্য কোন গলিতে ঢুইকা পড়লাম তখন। একটা শেল্টার সেন্টারের সামনে আইসা দাঁড়াইলাম। বুঝতেছিলাম বাঁইচা থাকতে হইলে, কন্টিনিউ করতে হইলে যেকোন একটা বিল্ডিংয়ে ঢুইকা পড়তে হবে আমাদেরকে।

শাদা একটা তিনতলা বিল্ডিং। শিখাদের বাড়ির আশেপাশের কোন দালান। শিখা হঠাৎ কইরা একবার ফার্স্ট হয়া গেলো স্কুলে, তখন ওরে চিনছিলাম। এমনিতে অ্যাভারেজ গার্ল, ঢং ঢাং করতে রাজি আছিলো না কোনসময়ই, শে যে মেয়ে – এই ধারণাটার ভিতরেই মলিন হইয়া গেছিলো। অদের দোতলা দালান, সামনে একটু উঠান। শিখাদের বাড়িতে যাই নাই, কিন্তু বাইরে থিকাই চিনতাম। ধুমকেতু রেইন আসার টাইম হয়া গেছিলো, এর লাইগা আমরা তাড়াতাড়ি কইরা বিল্ডিংয়ের ভিতরে ঢুইকা পড়তেছিলাম। সাইডের গ্যারাজে দেখলাম হেব্বি একটা মোটর সাইকেল, সাইডে দুইটা উইংস আছে, বডির সাথে মিশানো, ইচ্ছা হইলে একটু দূর উইড়াও যাইতে পারে, এইরকম। দেখলেই লোভ লাগে।   Continue reading

ইবুক: পুরির গল্প

Purir-Golpo

২০১৬-তে এই গল্পের বইটা ছাপানো হইছিল। ছাপা বইয়ে ১২টা গল্প আছে। এই ই-বুকে আরো দুইটা গল্প (দুর্গতিনাশিনী আর আমার ফ্রেন্ডের বউ) অ্যাড করা হইছে।

অনলাইনে পড়তে পারেন বা পিডিএফ-এ ডাউনলোড কইরাও পড়া যাইতে পারে।

purir-golpo

পুরির গল্প, ফ্লিপিং ইবুক পড়তে ছবিতে ক্লিক করতে হবে।

 

ক্লিক: ডাউনলোড পিডিএফ

ডাবলিনার্স

1405_books_dubliners-hero-jpg-crop-fresca-xlarge

শান্তনু’র লাস্ট লাইনটা আছিলো এইরকম – আমি তো ভালো কাস্টমার সার্ভিস দিতে জানি, সো এতো প্যারা নেয়ার তো দরকার নাই; গর্ভমেন্ট জব’টা আমি ছাইড়াই দিতে পারি। শেষে, সে দিছিলো কিনা আমি শিওর না। শান্তনুরে আমি আর জিগাই নাই। ইন ফ্যাক্ট, দেখাও হয় নাই, এরপরে। এর আগেই কেওটিক জিনিসগুলি শুরু হইয়া গেলো। সিনেমার মতো সিনগুলি ঢুইকা গেলো ঘটনার ভিতরে। তখন ঘটনাগুলিরে মনে হইতেছিল কোন আর্ট-ফিল্ম বা টিভি-নাটক। মানে, একসাইটমেন্ট কম আর ঘটনাগুলিও বেশ স্লো।

মেইন শহরের বাইরে একটা জেলা শহরে থাকি আমি তখন। একটা অষুধ আনতে যাইতে হয় শহরের বাইরের রিসার্চ সেন্টারে। রিসার্চ সেন্টার ইউনির্ভাসিটির মতোন। পাবলিকদের কাছেও অষুধ বেচে, প্রপার রিকমেন্ডশন থাকলে। আমি কিনতে যাই, কয়দিন পরে পরে। একদিন গিয়া শুনি নতুন অ্যাডমিনস্ট্রেশন ম্যানেজার আসছেন। ওইটাই শান্তনু। দেইখা চিনলো সে আমারে। ফ্যাসিলিটি দিতে চাইলো। আমি কইলাম থাক, থাক। তেমন কোন কিছু তো দরকার নাই। মাঝে-মধ্যে অষুধই তো নিতে আসি। কিন্তু শান্তনু কোনকিছু কইরা দেখাইতে চাইতেছিল। ঠিকাছে সেইটা। সে কদ্দূর পর্যন্ত কি করতে পারে সেইটা না কইরা দেখাইলে আমিও তো বিশ্বাস করবো না আসলে। তো, কইলাম, কোন হেল্প লাগলে জানা্বো নে। কিন্তু এইরকম অজ পাড়া-গাঁ টাইপ রিসার্চ সেন্টারে সে কেমনে থাকে? আমার জেলা শহরের প্রাইড দিয়া আমি জিগাইলাম। সে কইলো, স্পেশাল সার্ভিস আছে, ওইটা দিয়া সরাসরি মেইন শহরে চইলা যায় সে উইকএন্ডে। তারপরও তো, ঝামেলাই। জেলা শহরের প্রাইড ধইরা রাখতে চাইলাম আমি। পুরান পরিচিত মানুষদের সাথে দেখা হইলে এইরকমই তো হয়।

এরপরে দূর থিকা কয়েকবার দেখা হইছে। শান্তনু’র সিরিয়াস প্রফেশনাল চেহারা নিয়া কারে কারে কি কি যেন ইন্সট্রাকশন দিতেছে। অষুধ নিয়া চইলা আসছি আমি। একবার সন্ধ্যাবেলা গেছি। ওদের ডরমেটরি’তে সন্ধ্যাবেলার স্ন্যাকস খাইয়া ফেরত আসতেছি। একলা একটা বোরাক নিয়া আসা তো কস্টলি, এইজন্য শেয়ারে আসতেছি। এইরকম রিমোট জায়গাগুলিতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বইলাও কিছু নাই। নরমালি লগের প্যাসেঞ্জারদের সাথে কথা কই না। অন্যরাও কয় না। কিন্তু অন্যরা একই গ্রুপের; শান্তনু স্যার’রে নিয়া কথা কইতেছিল। মেইন শহরে যাওয়া নিয়া কি নাকি ঝামেলা হইছে। ভিসি বা সিইও যাইতে দিতে চায় না, কইছে,মাসে একবার যান উইকলি না গিয়া। শান্তনু আরো ইরেগুলার হইয়া গেছে এরপরে, ফ্রাইডে দুপুরেই চইলা যায় মানডে’তে বারোটার আগে আসে না। এইসবকিছু। আমি ভাবলাম পরেরবার আসলে শান্তনুর লগে দেখা করবো নে। বেচারা ঝামেলায় আছে। আমি কোন উপকার তো করতে পারবো না, কিন্তু শুইনা দেখি কি অবস্থা; ও তো চাইলে জেলা শহরেও আইসা থাকতে পারে! নাকি আমি থাকি বইলা, আমারে হেল্প করবো বলছিলো বইলা জেলা শহরে আইসা থাকাটা ওর জন্য ঝামেলার হইতেছে?

পরেরবার দুপুরের দিকে আসছি রিসার্চ সেন্টারে। একটু দূরে শুনি যে শান্তনু এক কলিগের লগে কইতেছে, সে তো চাকরিটা ছাইড়াই দিতে পারে।… Continue reading

স্বপ্নের গরুগুলি

ছবি: অ্যান্ডি ওয়ারহল

স্বপ্নের গরুগুলি ঘাস খাইতেছিল মুনের মাঠে। আর আমি রেড মার্সের আম বাগানে বইসা আছি। অথচ পাশাপাশি। সামারের হালকা বাতাস। কোন গান নাই। কানেক্টিভিটি নাই যেহেতু। আওয়াজ ছাড়াই কেমনে যে বাঁইচা রইছি আমরা! গরুদের ঘাস চিবানির আওয়াজ আছে। আছে বাতাসের শিষ। অখচ কোন গান নাই। যেন গেরিলা আক্রমণ করবে কনশাস ড্রোনগুলা। এইরকম একটা পিকচার। দূরে, ভ্যালির দিকে তাকায়া রইছি আমি। কখোন আসবে কনশাস ড্রোন? জাগায়া তুলবে আমারে ড্রিমের ভিতর থিকা…

যেহেতু রুরাল এরিয়া ড্রিম পুলিশও নাই কোন। এই জায়গাটা যে শহর না, এইটার লাইগা কোন মন-খারাপও নাই আমার। লেজার-লাইটের লাইগা বা স্কাই-ওয়াইড জোনের ‘টার্জান অফ দ্য জাঙ্গল’-এর লাইগা। এই এপিসোডে লেডি-টার্জান কি আবার রি-বিল্ড করতে পারবে হিউম্যান স্পেসিস’রে?- এইরকম বুক ধড়ফড় করা টেনশনও নাই। কয়েকটা গরু ঘাস খাইতেছে। আর আমি। একটা কন্সটেন্ট সন্ধ্যাবেলা। তাকায়া থাকতে থাকতে চোখ ব্যথা করে। মনেহয় ইল্যুশন কোন, ড্রিম তো না… কয়েকটা ক্র্যাপের মায়া-পাখি বইসা রইছে। ওরাও তাকায়া থাকে। গাছের পাতার মতোন রঙ। বাতাসে একটু একটু ভাসে। গিয়া বসে গরুদের পিঠে। গরুগুলি পাত্তা দেয় না। মনেহয় ওরা জানি নাই। না-থাকাগুলি ভালো ছিল।

আমি থাকতে পারি না বেশিক্ষণ। আমার ঘুম ভাঙে। স্বপ্নের গরুগুলি স্বপ্নেই থাইকা যায়।

২.

অফিসে আসার পরেও এই হ্যাং-ওভার থাকে অনেকক্ষণ। দুই ডোজ অ্যান্টি-ইলিউশন খাওয়ার পরে কাজে বসলাম। একটু পরেই পামেলা আসলো। পামেলাই যে খালেদ এইটা বুঝতে আমার বেশ টাইম লাগছে। পরে অরে জিগাইলাম, বাই-সেক্সুয়াল’রা এইটা শুরু করছে শুনছি। কোন সমস্যা হয় না তোমার? পামেলা কইলো, মাঝে-মধ্যে একটু গড়বড় তো হয়-ই; আগেও হইতো না মাইনষের? একজনের মেসেজ আরেকজনরে পাঠাইয়া দিলো? হইতো তো; তো, এইরকম-ই, এতো সিরিয়াস কিছু না। পামেলা আমার অফিস কলিগ। একটা মেমোরি বিল্ডিং ফার্মে কাম করি আমরা। ও ডিরেক্টর লেভেলে চইলা গেছে। অর কালার সেন্স থুবই ভালো। মেমোরিগুলা পুরা রিয়াল লাগে। আর ও ডিফরেন্সিয়েটও করতে পারে কালার কনট্রাস্টগুলি লিগ্যাল ইস্যুগুলাতে। একবার তো এমন এক কেইস আসলো এম.এম.এম.ও ফেইল, হিউম্যান ইন্টারভেনশন মাস্ট, তখন পামেলা ইর‌্যাশনালিটি ইমপ্যাক্ট দিয়া জিনিসটারে বাইর কইরা দিলো। এরপর থিকা-ই ও পুরা সেলিব্রেটি ইন্ডাষ্ট্রিতে।

Continue reading

২০৪৬

file 01

:আমার এখনো তোমার লাইগা মায়া লাগে তো।

আমি হাসি। হাসিতে মনেহয় একটু দুঃখ দেখতে পায় নীলু। কয়,
: তোমার বিশ্বাস হইতেছে না!

আমি আর হাসি না। কই, যাই গা তাইলে…

একটা বিকাল শেষ হয়। আরো কতোভাবেই তো হইতে পারতো। ভাইবা খারাপ-ই লাগে। এই কারণে মনেহয় আকাশে যে সন্ধ্যার মেঘ, সেও মনেহয় দুখী। বৃষ্টি হইলে মনে হবে, কেউ কানতেছে। অথচ যদি মন ভালো থাকতো, মনে হইতো কেউ নাচতেছে। কত যে মিনিং লাইফের। যতো কিছুই হোক, এই লাইফ নিয়া আরো কিছুদিন তো বাঁইচা থাকবো।

২.
নীলু ডাক্তার। অর কাছে গেছিলাম আমার ব্রেস্ট দেখাইতে। অন্য পোলাদের মতোন আমার বুক বা স্তন বড় হইতেছে না। ত্রিশ হইলেই এইটা হওয়ার কথা। আমারটার গ্রোথ হইতেছে না। পেনকেকের মতো একটু ফুইলা রইছে খালি। কিউপিড’স সিক্রেটস-এ গেলে শরমই লাগে। অথচ নীলুর কি সুন্দর চাপ দাড়ি উঠছে। বোঝা যায় সপ্তাহে দুইবার ট্রিম করে ও। কলেজে থাকতে কইতো ও, ডাক্তার হবে। পরে যখন দাড়ি উঠবে তখন নিজের দাড়ি নিজে ট্রিম করবে। ঠাট্টা কইরা কইছিল, তোর বুক বড় না হইলে আমার কাছে আসিস… আমি ঠিক কইরা দিবো নে! হাসতেছিল। তখন তো কথার কথা। একশজনে দশজনের এই সমস্যা হয়। আমি যে অ্যাভারেজের বাইরে এইটা মানতে অনেক কষ্ট হইছিল। আমার এক্স-ওয়াইফ কইতো, আমার দাড়ি উইঠা গেলো, তোমার বুক বড় হয় না ক্যান?
Continue reading