বিস্ময়ে…

167029_488705922092_6485507_n

হাইস্কুলে থাকার সময় এবং দেরিদা পড়ার আগে থিকাই আমি টিভি প্রোগ্রামের সমালোচক। আমার ধারণা, আমার বয়সের অনেকেই বুঝতে পারছিলেন যে, বর্তমান টাইমে (মানে ওই সময়েই, এইটিইজে) রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তের চাইতে টিভি নাটকের বা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের লোকজন জনসমাজে অনেকবেশি ইনফ্লুয়েন্সিয়াল, এমনকি কোন কবিতা না লিইখাই! এইটা একটা কারণ হইতে পারে, কিন্তু আমি বিরক্ত বোধ করতে চাইতাম এবং দেখামাত্র নানান বিষয়ে সমালোচনা শুরু কইরা দিতাম। এইটা এতোটাই বাজে পর্যায়ের ছিল যে, গালিগালাজ ত শুনতেই হইছে, মাইর-ধরও খাইতে হইছে কয়েকবার। চুপ থাকাটা আসলেই একটা কঠিন কাজ; বরং টিভি দেখাই কমাইয়া দিছি। কিন্তু মাঝে-মধ্যে ত টিভির সামনে বসা-ই হয়; তখন এই ঘটনাটা ঘটলো, কয়েকদিন আগের।

রাতের বেলা খাইতে খাইতে টিভি দেখতেছি। আমার বউ এবং মেয়েরা রবীন্দ্রনাথের গান পছন্দ করে এবং পশ্চিমবঙ্গের টিভি চ্যানেলগুলা; ত, এইরকম একটা চ্যানেলে ‘আকাশ-ভরা সূর্য তারা…’টা গাইতেছিলো ইয়া মোটা একজন গায়ক; লাইভ মনে হয়। বেশ দরদ দিয়া, এবং একটু টুইস্ট করতেছিলো ‘বিস্ময়’-এ আইসা; সব মিউজিক বন্ধ কইরা দিয়া পুট কইরা কয় ‘বিস্ময়ে…’। আমি আর নিজেরে ধইরা রাখতে পারলাম না; সমালোচনা কইরা ফেললাম। কইলাম যে, পুরা লিরিকসটা ডিপেন্ড করতেছে এই একটা শব্দের জোরের উপ্রে, সবকিছু আইতাছে এইখান থিকা, আর শালার পুতে এমনে উচ্চারণ করতেছে জানি, পাদ দিতাছে; আরে পাদ দিলেও ত এরচে জোরে আওয়াজ হওয়ার কথা! অ্যান্ড দ্যাট গ্লুমিনেস (অথবা পাদের গন্ধ) স্প্রেড অল ওভার দ্য রুম! Continue reading

নারী-ভাবনার দেয়াল

হয়তো তোমার দিন

আরো অন্য কিছু দিনের মতোই

হয়তো তোমার ভাবনা

ঠিক কইরা দেয় তোমার বন্ধু-বান্ধব,

বড় ভাই, অফিস-কলিগ, টিচার ও প্রেমিকেরা

 

হয়তো হয়তো কইরা তোতলায় যেইসব কবিতা

তার ভিতর ধামাচাপা পইড়া থাকা

কোমল কিশোরী মন এর কল্পনা

তোমারে করে মূঢ় পতাকার মতো

উদ্দেশ্যহীন;

Continue reading

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…”

najim

কথা: আবদুল গাফফার চৌধুরী।
সুর: আলতাফ মাহমুদ।

——————————————————

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।
ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি।
আমি কি ভুলিতে পারি।

জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা
শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,
দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী
দিন বদলের ক্রান্তিলগ্নে তবু তোরা পার পাবি?
না না  খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

সেদিনো এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে
রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিলো হেসে।
পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা অলকানন্দা যেনো,
এমন সময় ঝড় এলো, ঝড় এলো খ্যাপাবুনো।

সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা
তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা
ওরা গুলি ছোঁড়ে এদেশের প্রাণের দেশের দাবীকে রুখে
ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই সারা বাংলার বুকে
ওরা এদেশের নয়,
দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়
ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

সূত্র: জাগরণের গান, পৃষ্টা ৭৯।

____________________________________

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে গানটা শোনা হইলো কয়েকবার এবং পড়লামও। লিরিকস হিসাবে এর কাব্যিকতা ওই সময়ের বাংলা-কবিতার যে প্যাটার্ন তার বাইরের কিছু না। উপমা হিসাবে দেখেন; কাল নাগিনী, কালবোশেখী,  তারপর তৃতীয় প্যারাটা – পুরাটাই কাব্যিক একটা ব্যাপার, আঁধার, পশু, ঘৃণ্য পদাঘাত… এইগুলা উপমা হিসাবে নতুন কিছু না। কিন্তু গান হিসাবে এইটা একভাবে ‘অমরত্ব’ পাইছে। মানে, ৬০ বছর পরেও এইটা একটা বড় অডিয়েন্সের কাছে রিলিভেন্ট। এর কারণ অবশ্যই এর কাব্যিক উৎকর্ষতা না। Continue reading

পিট সিগারের গান। সব ফুলগুলা কই গেলো।।

পিট সিগার

পিট সিগার

 

সব ফুলগুলা কই গেলো?

অনেক সময় পার হইলো

সব ফুলগুলা কই গেলো?

অনেক সময় আগের কথা

সব ফুলগুলা কই গেলো?

মেয়েগুলা তাদের প্রত্যেকটা তুলে নিলো

তারা আর কখন শিখবো?

তারা আর কখন শিখবো? 

 

সব কিশোরী মেয়েগুলা কই গেলো?

অনেক সময় পার হইলো

সব কিশোরী মেয়েগুলা কই গেলো?

অনেক সময় আগের কথা

সব কিশোরী মেয়েগুলা কই গেলো?

প্রত্যেকে তারা স্বামী নিয়া নিলো

তারা আর কখন শিখবো?

তারা আর কখন শিখবো?

Continue reading