একটা ‘সত্যি’ আবিষ্কার করার চাইতে যেইখানে সত্যি জিনিসটারে ফিল করা যায়, সেই গ্রাউন্ডটারে স্পষ্ট করতে পারাটা বেশি জরুরি

কারণ, ‘সত্যি’ জিনিসটা যে ফিক্সড না – তা না; বরং একেকটা গ্রাউন্ডে একেকভাবে দেখা যায়, ফিল করা যায়। যেমন ধরেন, আপনার হইতেছে মাথা-ব্যথা; কিন্তু যদি জিগানো হয়, আপনার পেট-ব্যথা নাকি পা-ব্যথা? সেইখানে ‘সত্যি’ উত্তর’টা কেমনে দিবেন আপনি – এই প্রশ্নের কনটেক্সটের বাইরে না গিয়া?

মানে, সার্টেন কনটেক্সট আপনারে ‘সত্যি’টারে দেখতেই দিবে না! সেইখানে প্রশ্ন’টা এইটা না যে, ‘সত্যি’ কোনটা? বরং কোন গ্রাউন্ড বা কনটেক্সট বা রিয়ালিটি ‘সত্যি’টারে রিভিল করতে পারে, আর কোন’টা আড়াল কইরা রাখে – সেই জায়গা’টারে লোকেট করতে পারাটা দরকার, প্রথমেই। যে কোন আলাপে যাওয়ার আগেই।

এখন, এই করোনা ভাইরাসের সিচুয়েশন যে সামাল দিতে পারতেছেন না বাংলাদেশের গর্ভমেন্ট – এইটা মোটামুটি স্পষ্ট। কোন ডিসিশান নিতে পারতেছে না, ইনফরমেশন হাইড করতেছে, তাড়াহুড়া বা আর্জেন্সি’র কিছু নাই; ডাক্তার-নার্সদের চাইতে পুলিশ-মিলিটারি’র উপ্রে ভরসা করতেছে… এইসব হইতেছে। এইগুলা দেইখা আপনি যদি বলেন, আওয়ামী লীগেরও দোষ আছে, কিন্তু মেইন সমস্যা হইলো, রাষ্ট্রযন্ত্রের; ‘রাষ্ট্র একটা নিপীড়িক-যন্ত্র!’ (ভাউরে ভাউ, বাংলা-ভাষা এইটা!) এইটা সিপিবি-মার্কা একটা কাজেরই এক্সটেনশন হবে। কারণ এইটা বলা মানে একটা ‘পলিটিক্যাল কারেক্টনেসের’ দিকে যাইতে চাওয়া, যেইখানে আওয়ামী লীগ’রে ‘মাফ’ কইরা দেয়া যায়, যেইখানে ‘মাফ’ চাওয়ার কোন কথা-ই আসে নাই।

আওয়ামী লীগের ‘দোষ’ তাইলে কি? গনস্বাস্থ্যের কিট নিতেছি, নিতেছি বইলা নাটক করার পরে এই কিট কাজের না – এইটা বলা? টাকা ছাপাইতে না চাওয়া? গার্মেন্টস নিয়া কোন ডিসিশান না নিতে পারা?… এইগুলা হইতেছে সিমটম; ‘কারণ’ না। রিয়ালিটি হইতেছে আওয়ামী লীগ অনেক আগে থিকাই জনগণ’রে বা পাবলিকরে আর গোণায় ধরে না; পাওয়ারে থাকতে হইলে পাবলিক’রে পাত্তা দেয়ার যে কোন দরকার নাই, খালি মাঝে-মধ্যে ইউজ করা লাগে – এই ‘সত্যি’ আওয়ামী পয়লাবার প্রমাণ করছিল ১৯৯৬ সালে সরকারি আমলাদেরকে নিয়া ‘জনতার মঞ্চ’ বানায়া। আর ২০০৭ সালের ওয়ান-এলেভেনের পরে কমপ্লিটলি আমলা-পুলিশ-মিলিটারি’র একটা দলে পরিণত হইছে।

মানে, বাংলাদেশের রিয়ালিটি’টারে বুঝার মেইন গ্রাউন্ড’টা হইতেছে এইখানে একটা ‘পলিটিক্যাল’ দল পাওয়ারে আছে, যাদের মেইন কাজ হইতেছে পাওয়ারে টিইকা থাকা; পাবলিক মরতেছে না বাঁইচা আছে – এইটা এদের চিন্তার জায়গা না। এই রিয়ালিটির জায়গা থিকা যদি আপনি না দেখতে পারেন, তাইলে সেইটা ভুল-ই হবে, সবসময়। Continue reading

কবিতা: মার্চ, ২০২০

নতুন বসন্ত

কি সুন্দর বিকাল!

ঘুম থিকা উইঠা
গা-ঝাড়া দিয়া
নতুন একটা হাড়ের খোঁজে
বাঘের মতন
হাঁইটা যাইতেছে

একটা রাস্তার কুকুর…

 

নিউ বসন্ত

প্রেমে-পড়া পাখিটা
জানালার গ্রিলে বইসা
টবের ফুল-গাছটারে বলতেছে,
“তুমি একটু আমার প্রেমে তো পড়তে পারতা!”

এই কথা শুইনা,
ফুল-গাছটা শরীর দোলায়া, বসন্ত-বাতাসে
হাইসা উঠলো তখন;
আর পাখি’টা থতমত, উইড়া গেল

সকালের সুন্দর রইদের ভিতর।

 

Continue reading

মানি হেইস্ট

Money Heist নিয়া কিছু কথা বলছিলাম আগে; তো, এর বাইরেও আরো ৩টা জিনিস মনে হইছিল, তখন আর বলা হয় নাই। এখনো যে খুব বলতে ইচ্ছা হইতেছে, তা না, যেহেতু মনে হইছিল, ভাবলাম বইলা রাখি।

(জানুয়ারি মাসে লেখা পয়েন্ট দুইটা আগে দিতেছি, আর কয়দিন আগে যেইটা ভাবছিলাম, সেইটা পরে রাখতেছি)

১. মানি হেইস্টের থার্ড পার্টে রেকোল (পুলিশের ইন্সপেক্টর, চিফ নেগোশিয়েটর) যখন জাইনা যায় যে, প্রফেসরের কোন সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার নাই, যখন ম্যানুয়াল থিকা ডিজিটাইজড করতেছিল ন্যাশনাল ডাটাবেইজ, তখন সে আর তার আইডি রিনিউ করে নাই, তখন শে এই ডায়ালগ’টা দেয় যে, তুমি তো বাঁইচা নাই, এগজিস্টই করো না, তাইলে তোমারে মাইরা ফেললে তো কিছু যায় আসে না, কারণ তুমি তো নাই!

খেয়াল করেন ব্যাপার’টা, ন্যাশনাল আইডি কার্ড করা হয় মানুশ গোণার লাইগা, আপনারে একটা আইডেন্টিটি দিয়া আরো আরো ‘নাগরিক সুবিধা’ ‘সিকিউরিটি’ দেয়ার লাইগা… মানে, এইরকমই তো বলা হয়, তাই না? কিন্তু দেখেন, এইটা তার উল্টাটা; আপনার আইডেন্টিটি’টারে, এগজিসটেন্সটারে এইটা দখল কইরা ফেলে। একটা ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়া আপনারে ‘একটা পরিচয়’ দেয়া হয় না, বরং আপনার এগজিসটেন্সটারেই নিয়া নেয়া হয়, আপনি আছেন কি নাই – সেইটার ফয়সালা হয়!

এইটা আমরাও জানি। প্রফেসরও জানতেন, এই কারণে নিজের আইডেন্টিটি গোপন রাখার লাইগা এই কাজ করে সে।

মানে, ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়া আমাদের আইডেন্টিটি যাচাই করা হয় না খালি; এইটা ছাড়া আমরা মানুশ হিসাবে নিজেদেরকে দাবি-ই করতে পারবো না!

ব্যাপারটা আমরা যে জানি না – তা না; কিন্তু এই এক্সটেন্ড তক আমরা মেবি ভাবতে রাজি না, এতোটা।

২. এই সিরিজে আরেকটা জিনিস আছে। মোরাল জায়গাটা। প্রফেসর যেমনে রেকোল’রে কনভিন্স করে ‘লিকুইডিটি ইনজেকশনের’ আইডিয়াটা দিয়া।… মানে, যে কোন ডাকাত’রেই মনে মনে রবিনহুড হইতে হয় আসলে। (বা পুলিশ হইলে মাসিহা। মানে, মোরাল একটা জায়গা রিকোয়ার্ড। পুলিশের জায়গাটা যে আজাইরা, এইটা আমরা জানি, কিন্তু ডাকাতদের জায়গাটাও কাছাকাছি রকমের জিনিসই আসলে।) আর এই জায়গাটা ফানি মনে হইতে পারে; কিন্তু দরকারি আসলে। যখন ধরেন, কাস্টমসে চাকরি কইরা ঘুষের টাকায় কেউ মসজিদ বানায়, এইরকম টাইপের জিনিস।

যে একটা ‘অন্যায়’ আমি করতেছি, কিন্তু সেইটা দিয়া একটা ‘ভালো’ কাজ তো আমি করছি! বা এইখানে প্রফেসর যেইটা বলে, লিকুইডিটি ইনজেকশন করে পলিটিশিয়ান, বুরোক্র্যাট, বিজনেসম্যান’রা, তো সেইটা আমরা করতেছি; ওই পাওয়ার’টা খালি আমরা নিতেছি! মানে, একটা মোরাল গ্রাউন্ড লাগে আসলে।
Continue reading

‘বিপ্লব করা’ কেন একটা বাজে কাজ?

বিপ্লব কেন একটা বাজে ধারণা – এইটা নিয়া দুয়েকবার বলছি মনেহয়। কিন্তু এখন, যখন আবার ‘বিপ্লব’ হবে হবে অবস্থা – তখন আরেকবার যতোটা পারা যায় ক্লিয়ার কইরা বলাটা মনেহয় দরকার।pullquote] [/pullquote]

‘বিপ্লবী করা’ বলতে ট্রাডিশন্যালি সবকিছু ‘উল্টায়া-পাল্টায়া’ দিতে চাওয়ার কথা-ই আমি বলতেছি। এইটা মেইনলি একটা ইমোশনাল ঘটনা। এখন ইমোশনাল ব্যাপার বইলা বাজে – তা না; বরং এই ইমোশনাল জিনিসটা কেমনে কাজ করে, সেইটা খেয়াল করতে চাইতেছি আমি।

দেখবেন, কোনরকমের রেইজ (rage), রিভেঞ্জ ছাড়া বিপ্লব ব্যাপারটা অলমোস্ট মেন্দা-মারা একটা ঘটনা। মানে, এই ইমোশনগুলা বাদ দিলে, ঘটনা হিসাবে বিপ্লবে কি থাকে আর, বা কট্টুকই থাকে?

তো, বিপ্লবের এই ইমোশনটা যেহেতু ট্রু, এই ইমোশন দিয়া এইটা পয়লা কি কাজ করে? অথরিটি’টারে চেইঞ্জ করে; একটা ‘খারাপ’ অথরিটির জায়গায় ‘ভালো’ অথরিটি’রে বসাইতে চায়।

এইটা ঠিক যে, কোন কিছু করার অথরিটি যদি না থাকে, যেই কাজগুলারে আপনি ঠিক মনে করেন, করবেন কেমনে! কিন্তু আমরা তো দেখছি, খালি এই অথরিটি চেইঞ্জ করাটা কোন কাজের জিনিস না। মোটামুটি যেই লাউ, সেই কদু-ই! মানে, অথরিটি চেইঞ্জ করার দরকার নাই – এইটা আমার পয়েন্ট না, বরং বলতে চাইতেছি, অথরিটি চেইঞ্জ করাটাই সমাধান না। এই ‘ভালো’ অথরিটিও একটা সময় পরে গিয়া নিজেরে আর ফেক্সিবল রাখতে পারে না। কারণ যে কোন অথরিটি’র কাজই হইতেছে, নিজেরে অথরিটি হিসাবে বাঁচায়া রাখা; অথরিটি হিসাবে পাবলিকের কাছে সারেন্ডার করা না।

আর পদ্ধতিও একটা ঘটনা, যে কেমনে আপনি অথরিটি’টারে চেইঞ্জ করতেছেন। বিপ্লব করার সময় ধইরা নেয়া হয়, ‘পাবলিক তো বুঝে না!’ যার ফলে পাবলিক কি বুঝে আর বুঝে না – তার দায়িত্ব নিয়া নিতে হয়, পাবলিকের চাইতে পাবলিকের বুঝ’টা ইম্পর্টেন্ট হয়া উঠে তখন।

বিপ্লবীদের সবসময় ‘অ-বুঝ’ বা ‘না-বুঝ’ পাবলিকের পক্ষ নিয়া লড়াই করতে হয়। মানে, পাবলিকের বুঝতে না-পারা’টা একটা অনুমান হিসাবে নেয়ার কারণে পাবলিকের কাতারে বিপ্লবী’রা আর সামিল হইতে পারেন না। পাবলিক যদি বুঝতোই, তাইলে তো বিপ্লব-ই করতো! এইভাবে পাবলিকের থিকা আলাদা-ই না খালি ‘ডিফরেন্ট’ না হইতে পারলে বরং ‘খাঁটি বিপ্লবী’ হওয়াটাই সম্ভব হইতে পারে না! মানে, আপনি বিপ্লব করতেছেন, পাবলিকের লাইগা, কিন্তু আপনি পাবলিক থিকা আলাদা – এই হইতেছে বিপ্লবের তরিকা! এইটা ‘গণ-বিরোধী’ ব্যাপার না হইলেও সাম সর্ট অফ ‘গণ-বিচ্ছিন্নতা’র ব্যাপার তো অবশ্যই, এই ‘বিপ্লব করা’টা।

আর এই বিপ্লব ‘সফলতা লাভ’ করে, একটা ভায়োলেন্সের ভিতর দিয়া। এতে কইরা যা হয়, ভায়োলেন্স’টাও আর একটা ‘পথ’ হিসাবে থাকে না, বরং একটা সময়ে ‘পথ-ই হয়া উঠে গন্তব্য’। 🙂

Continue reading

আর্কাইভ: করোনা ভাইরাস নিয়া পাবলিক পোস্ট (মার্চ ৯ – এপ্রিল ১৫, ২০২০)

মার্চ ৯

স্যানিটাইজার ইউজ করা তো ভালো, মাস্ক পরাও। এইটা কইরা করোনা ভাইরাস থিকা বাঁচা যাবে না – আমরা জানি; কিন্তু তারপরও আমরা যে সাবধান আছি, সেইটা দেখাইতে পারাটা তো জরুরি। মানে, আমি যে ‘সচেতন’ আর এইটা এফোর্ড করতে পারি – এইরকমের স্টেটম্যান্টও তো আছে! (সাবধানতা’টা থাকার পরেও।)

অনেকটা ধরেন, বামপন্থী দলগুলার, বা আর্টিস্ট-ইন্টেলেকচুয়ালদের আওয়ামী বিরোধিতার মতো; যে আমরা তো এটলিস্ট প্রতিবাদ’টা করতেছি! এফেক্টিভ হোক বা না হোক, সেক্সি তো অবশ্যই। 🙂 বরং, এই সেক্সিনেসটাই একভাবে জরুরি হয়া উঠে!

আজকে ধরেন, গর্ভমেন্ট বা এনজিওগুলা যদি রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফ্রি স্যানিটাইজার আর মাস্ক বিলাইতে শুরু করে, ব্যাপারটা এতোটা সেক্সি থাকতে পারবে না তখন। এই ‘প্রতিবাদ’ করার ঘটনা’টাও, একইরকম। সবাই বা অনেকে যদি করতে পারে, বা করতে থাকে, তখন এতোটা ‘ক্লাস’-এর ব্যাপার হইতে পারবে না আর। মানে, সাবধান হওয়া যাবে না বা ‘প্রতিবাদ’ করা যাবে না – এইরকম না, একটা ‘ক্ল্যাসি’ বা ‘সেক্সি’ হওয়ার চাইতে ম্যাস লেভেলের ঘটনা বা এফেক্টিভ হইতে পারাটা জরুরি মনেহয়।

 

মার্চ ১৬

কি করা যাইতে পারে? ভাবলাম…

করোনা ভাইরাস নিয়া লেখালেখিগুলা পইড়া দুইটা জিনিস ক্রুশিয়াল মনে হইছে – যারা অলরেডি ইনফেক্টেড হইছেন তাদেরকে আইডেন্টিফাই করা, আর তাদেরকে আলাদা রাখতে পারা, যাতে ছড়াইতে না পারে আর।

তো, এর লাইগা কয়েকটা জিনিস করা দরকার –

১. করোনা ভাইরাসের ইনফর্মেশন জানার এবং জানানোর জন্য ১টা সরকারি হেল্প-লাইন ক্রিয়েট করা দরকার।

জেলা বা এলাকা-ভিত্তিক হেল্প-লাইনও থাকতে পারে।

২. করোনা ভাইরাস যাচাই করার যেই টেস্টিং কিট – সেইটা কোন কোন হসপিটালে আছে, জানানো দরকার।

সব থানা/উপজেলা/ওয়ার্ডে অ্যাভেইলেবল করা দরকার। গর্ভমেন্ট থিকা না পাইলে কমিউনিটির লিডার’রাও এই কাজ করতে পারেন কিনা…

৫০০০/৭০০০ হইলেই কাজ চলার কথা তো মনেহয়। ডিস্ট্রিবিউশনটা জরুরি, কোথাও ফেইলা না রাইখা।

৩. যেই যেই এলাকায় রোগী পাওয়া যাইতেছে বা যাবে, সেইগুলা জানানো দরকার। চলাফেরা রেস্ট্রিক করাটা জরুরি।

প্রতিটা এলাকাতেই আলাদা কইরা একটা কোয়ারেনটাইন সেন্টার তৈরি করা যাইতে পারে। হাসপাতালের চাইতে স্কুল, কলেজ, হোস্টেল, আবাসিক হোটলগুলা বরং বেটার অপশন হইতে পারে।

৪. রোগীদেরকে আলাদা করতে পারাটা যতোটা জরুরি, তার চাইতে বেশি জরুরি তাদেরকে যারা দেখ-ভাল করবেন বা কাছাকাছি যাইবেন, তাদের প্রটেকশন।

কারা দেখ-ভাল করবেন, কিভাবে করবেন – এই জিনিসগুলারও একটা গাইড-লাইন বানায়া পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্টরা আমাদেরকে জানাইতে পারেন।

৫. মানে, এইটা তো কোন পারসোনাল ইস্যু বা রাষ্ট্রীয় সমস্যা না খালি, একটা সোশ্যাল ক্রাইসিস; তো, সোসাইটি হিসাবে একসাথে মোকাবিলা করার কথা ভাবাটাই মনেহয় বেটার।

এখন পর্যন্ত আলাপ যা দেখছি, তা হইতেছে ব্যক্তি হিসাবে কি কি করবেন বা করবেন না; আর গর্ভমেন্ট কি করতেছেন বা করতেছেন না – এইগুলা নিয়া আলাপ হইতেছে। এইগুলা অ-দরকারি না। কিন্তু সোশ্যাল ইনিশিয়েটিভ নিতে পারাটা জরুরি।

এইরকম সোশ্যাল ইনিশিয়েটিভ নিতে পারা সহজ জিনিস না। কিন্তু যারা অ্যাক্টিভিস্ট আছেন, কাজ করার কথা ভাবেন, এই পয়েন্টগুলা হয়তো কন্সিডার করতে পারেন।

 

২.

জিনিস’টা নিয়া কথা-বলা’টা মুশকিলই একটু এখন; কারণ এখন আসলে ঠিক কথা-বলার টাইম না, বরং পারলে কিছু কাজ করার।… তারপরও যেহেতু মনে হইছে, ভাবলাম বইলা রাখি।

এই যে ভাইরাস, এইটা কিন্তু খালি চোখে দেখতে পাইতেছি না আমরা। আর যতক্ষণ না এইটা সিমটমগুলার ভিতর দিয়া হাজির হইতেছে, মানুশরে মাইরা ফেলতেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বুঝতেও পারতেছি না। তো, এইটা যে প্রসেস, আমাদের ‘বোঝা-পড়া’র; সেইটারে সন্দেহ করা উচিত না কিছুটা?

যে, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবো না, নিজে ফিল না করলে বুঝবো না – এইরকম ‘বাস্তব-ভিত্তিক’ জিনিসগুলা তো বড়সড় রকমের অবস্টেকল। এমন না যে, এইভাবে বুঝা যাবে না; কিন্তু ‘বুঝতে পারা’ জিনিসটারে এইটুকের ভিতরে আটকায়া ফেলাটা ভুল হবে।

জানা বা বোঝার তরিকা অনেকগুলা। বরং জানা-বোঝা যে তরিকাগুলা আছে, তাদের ব্যাপারে সবসময় ক্রিটিক্যাল থাকাটা জরুরি। কোনকিছু আমরা দেখতেছি – তাই বইলা এইটা যেমন সত্যি না, কোনকিছু আমরা দেখতেছি না বইলাও সত্যিও না। মানে, সত্যি জিনিস’টা দেখা বা না-দেখার উপ্রে ডিপেন্ডেড না এতোটা।

যেইভাবে, এই দুনিয়া, আমাদের এগজিসটেন্সের কারণেই থাকতেছে না; বরং আমাদের এগজিসটেন্সটা এই দুনিয়ার ভিতরে আছে। খুব মাইনর একটা জিনিসই এইটা; কিন্তু আমাদের চিন্তা, কাজ বা বাঁইচা থাকার ভিতরে এইটা অনেকসময় আমরা মিস কইরা যাই বইলাই আমার মনেহয়।


মার্চ ১৭

ব্যাপারটা এইরকম না যে, করোনা ভাইরাস নিয়া গর্ভমেন্ট বা মেইনস্ট্রিম মিডিয়া কিছু করতে পারতেছে না; বরং কিছু করতে যে চাইতেছে না – এইটা ভয়াবহ ব্যাপার।

২.

এই ভাইরাসের মহামারী’রে বন্যা বা সাইক্লোনের মত ভাবতে পারলে হয়তো অ্যাকশন নিতে বেশি সুবিধা হইতে পারে।

সাগরে সাইক্লোন দেখা গেলে কি করি আমরা? আগে থিকা জাহাজ, নৌকারে সইরা আসতে বলা হয় পাড়ে। সাগর পাড়ের মানুশজনরে আশ্রয়কেন্দ্রে বা বাড়িতে থাকতে বলা হয়, যতক্ষণ ঝড়টা থাকে। যদি না জানানো হয়, তাইলে তো যারা সাগরে ছিল, তারা তো সাবধান হইতে পারতেন না, অনেকেই মারা যাইতেন। ঘরের বাইরের মানুশজনও। আগে অনেক মানুশ মারাও যাইতো। কিন্তু যদি জানানো যায় মানুশ’রে, তখন তারা সাবধান হইতে পারেন। মানুশও কম মরে।

তো, এই কারণে ইনফরমেশন গোপন না কইরা জানানো’টা ভালো। এই জানানোর দায়িত্ব গর্ভমেন্ট, মিডিয়া, সরকারি লোকজনদের, মেডিকেল-সায়েন্সের মানুশ-জনদের। উনারা কথা না কইলে বরং অন্যদের কথা-বলার সুযোগটা তৈরি হইতে থাকে। কোন জায়গায় কয়জন করোনা রোগী ধরা পড়ছে, জানলে মানুশ জানলে প্যানিকড হবে না, না-জানা থিকা হবে।

মানুশদেরকে বাঁচাইতে হবে না; মানুশজন যাতে নিজেদেরকে বাঁচাইতে পারে, সময় মতো অ্যাক্ট করতে পারে, সেই সুযোগটা দরকার। অফিস-আদালত যদি বন্ধই করা লাগে দুইদিন পরে না কইরা দুইদিন আগে করেন।

আগামীকালকে, সারা দেশে সব ব্যাংকগুলার সামনে সমাবেশ করার কথা। ৬০টা ব্যাংকে ৫০০০ কইরা হইলেও ৩ লাখ মানুশরে ক্লোজ প্রক্সিমিটিতে দাঁড়াইতে হবে। এদের মধ্যে কারো একজনেরও যদি করোনা ভাইরাস থাকে, এইটা কতো জনরে এফেক্ট করবে, ভাবা যায়! যেইসব এলাকায় করোনা ভাইরাসের রোগী পাওয়া গেছে, সেইসব জায়গায় তো অন্তঃত বন্ধ করতে পারেন।

ভয় না-পাওয়ার বেটাগিরি আর ভয় পাওয়ার প্যানিকের মাঝখানেও রেসপন্সিবিলিটির কিছু জায়গা আছে, সেই জায়গাগুলারে এক্সপ্লোর করতে পারাটা দরকারি।

যারা ডিসিশান নেয়ার জায়গাগুলাতে আছেন, ডিসিশান নেন, মানুশদেরকে জানান আর জানতে দেন, এটলিস্ট।

৩.

বাংলা-ভাষায় দুই ধরণের প্রাণী আছে। 🙂

এই quarantine শব্দ দিয়া টের পাইবেন; যে এর ‘বাংলা’ কি হবে? উনারা হইতেছেন, অনুবাদ-প্রাণী; সত্য’রে ট্রুথ বানাইছেন, ধর্ম’রে রিলিজিয়ন; আর এইভাবে একটা কালচার’রে যে আরেকটা কালচারের দাস বানায়া ফেলার টেকনিকটারে ফলো করতেছেন, এই বুঝ’টা বুঝতে রাজি হইতে পারতেছেন না। ভাবতেছেন, শব্দ আবিষ্কার করতেছি তো আমরা! যেন কলম্বাস! আসলেই কলোনিয়াল কলম্বাসের নাতি-পুতি এনারা।

দুসরা হইলো, সঠিক-উচ্চারণ প্রাণী; অরিজিনালি উচ্চারণ’টা কি হবে? কোয়ারেন্টান, কোয়ারেনটাইন, করেনটাইন… এইসব হাবিজাবি। প্রাচীন নদীয়া জেলার ভাষারে উনারা ‘খাঁটি’ বা অরিজিনাল বাংলা-ভাষা মনে কইরা থাকতে পারেন। মানে, কালচার যে পাত্থর টাইপের জিনিস না, এইটা তো উনারা জানেন, কিন্তু প্রাচীন ও পপ (কোনভাবেই এখনকার বা হ্যাপেনিং জিনিস না) বইলা ভাবতে পারেন।…

আরো অনেক ভাষা-প্রাণী আছেন, থাকতে পারেন। কিন্তু এই দুই ধরণের বিপ্লবীদের আমি এড়ায়া চলতে পছন্দ করি।

আলগা থাকার ট্রাই করি।

 

মার্চ ১৮

নিজেরে বাঁচানোর পয়লা ধাপ হইতেছে, সরকারি প্রেসনোট’রে বিশ্বাস না করা।

Continue reading