মালিকানার ঘটনা’টা…

সমাজে পাওয়ার বা ক্ষমতা জিনিসটা তো অনেকবেশি ডিপেন্ড করে সম্পত্তির মালিকানার জায়গাটাতে; যে আপনার যতো টাকা-পয়সা, জমি-জিরাত, ফ্ল্যাট-বাড়ি-কোম্পানি আছে, তার বেসিসেই তো সমাজের অন্য লোকজন আপনারে ততো পাওয়ারফুল পারসন হিসাবে ট্রিট করে। (অন্য আরো কিছু ক্যাটাগরি তো আছেই।) তো এই যে সম্পত্তি, এইটা এমন না যে, আপনি নিজে নিজে বানাইতে পারেন সবসময়; মানে, আম্রিকান ড্রিমের ঘটনা তো খুব কমই ঘটে; বেশিরভাগ সময়ই বাপ-দাদার কাছ থিকা পাওয়া জিনিস দিয়া শুরু হয়। নতুন কইরা যে কেউ টাকা-পয়সা কামাইতে পারে না – তা না; কিন্তু ইনহেরিয়েট করার একটা ব্যাপার থাকে, বেশিরভাগ কেইসেই। চাইলে কেউ এইরকম ডেটা এনালাইসিস কইরাও দেখতে পারেন, দুনিয়াতে যতো নতুন এসেট তৈরি হয়, তার কতোটা সেইম এসেট লাইন থিকা আসতেছে, আর কতোটা একদম ‘জিরো’ জায়গা থিকা তৈরি হইতেছে? মানে, ইনহেরিটেন্স বা উত্তরাধিকার – বড় একটা সোর্স হওয়ার কথা।

তো, মেয়ে’রা যে আমাদের সোসাইটিতে কম পাওয়ারফুল, অন্য অনেক কারণের পাশাপাশি এইটা তো মেজর একটা কারণ। দুনিয়ার সব দেশে একই অবস্থা না হইলেও বেশিরভাগ দেশেই একই রকম অবস্থা থাকার কথা; আফ্রিকার কয়েকটা দেশে মনেহয় মেয়েদের সম্পত্তির মালিকানার অবস্থা ভালো; বা জেনারেশন টু জেনারেশন দেখলেও ইউরোপ-আম্রিকাতে এইটা হয়তো কিছুটা বাড়তেছে। মানে, ১৯৫০ সালে মেয়েদের মালিকানায় যতো এসেট বা সম্পত্তি ছিলো, ২০০০ সালে আইসা আমার ধারণা, বাড়ছে কিছুটা। এডুকেশন, চাকরি, বিজনেস… এইসব সোশ্যাল জিনিসগুলারই কিছু ইমপ্যাক্ট থাকতে পারে। তবে সম্পত্তির উপর এই বাড়তে থাকা মালিকানার পাওয়ার মেয়েরা কালচারালি প্রাকটিস করতে পারতেছেন – সেইখানে এখনো একটা কোশ্চেনমার্ক থাকার কথা। মানে, জেন্ডার স্টাডিজ নিয়া যারা কাজ করেন, উনারা দুইটা জায়গাতে খেয়াল করতে পারেন –

১. সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা জিনিসটা ফরমালি শুরু হওয়ার পরে, অ্যাক্রস দ্য সোসাইটি (মানে, এটলিস্ট ৫/৭টা দেশে) পুরুষ আর নারী’র মালিকানা’র প্যাটার্নটা চেইঞ্জ হইছে কিনা গত ২০০ বছরে? চেইঞ্জ হইলে কতোটা হইছে, কেমনে হইছে?

২. হিস্ট্রিক্যালি যেইসব সোসাইটিতে বা দেশে নারীদের সম্পত্তির মালিকানা পুরুষের চাইতে বেশি বা সমান (আফ্রিকার কিছু দেশে এইরকম থাকার কথা) সেই সোসাইটিগুলার সাথে কম্পেয়ার করলে যেইখানে মেয়েদের সম্পত্তির মালিকানা পুরুষের চাইতে কম, সেইখানে ‘নারী’র প্রতি ভায়োলেন্স’, রেইপ… এইরকম ক্রাইমগুলার সংখ্যা কম না বেশি? বা রিলেশনগুলা কি রকম?

(বা এইরকম কোন স্টাডি’র কথা যদি কারো জানা থাকে, জানাইয়েন আমারে; আমি দেখতে ইন্টারেস্টেড রেজাল্টগুলি।)

এমনিতে খোলা চোখেই দেখা যায়, আমাদের সোসাইটি’তে পুরুষের যতো টাকা-পয়সা, জমি-জিরাত-ফ্ল্যাট-বাড়ি আছে, নারীদের মালিকানা’তে তা নাই। নাই, কারণ যেই “উত্তরাধিকার আইন” দেশে চালু আছে, সেইখানে উনারা কম সম্পত্তি পান; বা আইনে পাওনা হইলেও, বাস্তবে পান না; পাইলেও সেইটার মালিকানা নিতে পারেন না। মানে, আইন করলেই ব্যাপারটার সমাধান হয়া যাবে – এইরকম না পুরা কাহিনিটা।

Continue reading

ইমেজের এই দুনিয়াদারি…

এইরকম ঘটনা তো ঘটে; যা পড়তেছেন, দেখতেছেন আপনার আশে-পাশেও কাছাকাছি রকমের ঘটনা ঘটতেছে বা রিলেট করা যাইতেছে… বা উল্টাটাও হয় যা কিছু আমাদের চারপাশে ঘটতেছে সিমিলার জিনিস পাওয়া যায় গল্প-কবিতা-নাটক-সিনেমা-নভেলে। তো, এইরকমের জিনিস হইলো, দুয়েকদিন আগে।

যেই নভেল’টা পড়তেছি (Those Who Leave and Those Who Stay), সেইটা’তে মেইন কারেক্টার হইতেছে লিলা। আর ন্যারেটর হইতেছে তার ফ্রেন্ড লিনু; যার একটা নভেল ছাপা হইছে, বিয়া করতে যাইতেছে এক প্রফেসর’রে। আর অন্যদিকে লিলা প্রাইমারি স্কুলের পরে আর পড়াশোনা করে নাই, এখন একটা সসেজ ফ্যাক্টরি’তে লেবার হিসাবে কাজ করে, একটা বাচ্চা আছে (তার এক্স-লাভার নিনো’র, যে আবার লিনু’রও অ্যাডমায়ারার), হাজবেন্ডের লগে থাকে। লিনু যখন লিলা’র লগে দেখা করতে যায়, তখন লিলা লিনু’রে তাঁর কথা কইতে থাকে… এই জায়গাটা আমি পড়তেছিলাম।

লিলা’র হাজবেন্ড কমিউনিস্ট পার্টি করে; হাজবেন্ডের লগে তার ছোটবেলার প্রেমিক তাঁদের বাসায় আসে যে হইতেছে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি; এবং লিলা বুঝতে পারে যে সে আসলে ভালো লোক-ই, আগের রিলেশনের হ্যাং-ওভার নিয়া ঝামেলা করবে না। তো, একদিন কমিউনিস্ট পার্টির একটা মিটিংয়ে অরে নিয়া যায়, অর পুরান প্রেমিক আর হাজব্যান্ড; সেইখানে স্টুডেন্টদের ফ্লাওয়ারি কথা-বার্তা শুইনা লিলা’র তো যায় মেজাজ খারাপ হয়া; কয়, একটা সসেজ ফ্যাক্টরি’তে একজন নারী-শ্রমিক’রে কি কি ফেইস করা লাগে, তোমাদের তো কোন আইডিয়াই নাই! শে তাঁর এক্সপেরিয়েন্সের কথাগুলা কয়। শুইনা কমিউনিস্ট পার্টির লিডার, কর্মী, স্টুডেন্ট’রা তো খুবই সিম্প্যাথি জানায়, স্পেশালি একটা মেয়ে, নাদিয়া (যে নিনো’র লগে রিলেশনে ছিল একটা সময়)। কিন্তু কমিউনিস্ট’রা যেইটা করে, অইসব ঘটনার ফিরিস্তি দিয়া লিফলেট ছাপায়া লিলা’র ফ্যাক্টরি’র সামনে বিলি করতে শুরু করে, কয়দিন পরে। লিলা তো অবাক! এই কথা শে অদেরকে বলছে মানে তো এই না যে, এইটা নিয়া লিফলেট বানানোর পারমিশন শে দিছে! তাঁর কথারেই এখন তাঁর কমিউনিস্ট ফ্রেন্ডরা ইউজ করতেছে তাদের ‘শ্রমিক-বিপ্লব’ সফল করার লাইগা! খুবই বিরক্ত হয় শে। এমন না যে শে ফ্যাসিস্টদের পক্ষে; কিন্তু তাঁর চাকরি নিয়া টানাটানি হবে, ফ্যাসিস্ট-কমিউনিস্ট’রা আইসা ফ্যাক্টরির সামনে মারামারি করবে, এই ‘বিপ্লব’ তো শে চায় নাই!

মুশকিল’টা কোন জায়গা’টাতে হইতেছে, দেখেন; লিলা’র কমিউনিস্ট ফ্রেন্ডরা তো ভাবতেছে, লিলা খুব কষ্টে আছে, কতো অত্যাচার, নিযার্তন তারে সহ্য করতে হইতেছে; তারা তো তারে বাঁচাইতে চাইতেছে! লিলা’র যেহেতু বুদ্ধি-বিবেচনা আছে, শে জানে, এইটা ‘বাঁচাইতে চাওয়া’ না, বরং এই বাঁচাইতে চাওয়ার ভিতর দিয়া তারা নিজেদের এগজিসটেন্সটারে ‘মহান’ বইলা ভাবতে পারতেছে; যে ‘সমাজের জন্য, সভ্যতার জন্য ইর্ম্পটেন্ট কিছু’ করতেছে। (২০১৬ সালের এই ছোট লেখাটার কথা মনে হইলো: https://bit.ly/302MQrY )

আরেকটা ঘটনার কথা এইখানে বলা যাইতে পারে এইখানে, লিনু’র। একবার অর বইয়ের একটা প্রোগ্রাম শেষে শহরে একটা বাসাতে অন্য ফ্রেন্ডদের সাথে শে থাকতে গেছে। অইখানে আড্ড-টাড্ডা দিয়া যখন শে ঘুমাইতে গেছে; মাঝরাতে দেখে অই বাসারই ডাচ এক আর্টিস্ট তার বিছনায় আইসা বইসা রইছে! কি ঘটনা? সে তাঁর সাথে ঘুমাইতে চায়। লিনু তো খুবই অবাক হয়, কেন শে এই কাজ করবে! আর্টিস্টও অবাক হয়, কয়, আরে তুমি না রাইটার? তোমার লাভার আছে, আমারও আছে; কিন্তু আমার তো ইচ্ছা করতেছে, দোষের তো কিছু নাই; আর এই এক্সপেরিয়েন্সটা তোমার ক্রিয়েটিভ জায়গাটাতে কন্ট্রিবিউটও করবে… লিনু তো আরো খেইপা যায়, কি ধরণের আবদার এইটা! পরে শে যখন চেঁচানোর হুমকি দেয় তখন আর্টিস্ট’টা মন-খারাপ কইরা চইলা যায়, যাওয়ার সময় লিনু’রে হিপোক্র্যাট বইলা গাইল দেয়। লিনু ভাবে, নিনো’র বাপ যে তারে সেক্সুয়ালি মলেস্ট করতে নিছিলো, এর সাথে ডিফরেন্সটা কোন জায়গায়? বা নিনো যে এইরকম একটার পরে একটা এফেয়ার কইরা যাইতেছে, তার বাপের চাইতে সে কোন জায়গাটায় আলাদা? (অই বাসায় যে ইয়াং মেয়েটা একটা বাচ্চা নিয়া থাকে, এই বাচ্চাটাও নিনো’র ‘প্রেমের ফসল’ 🙂 )

তো, নভেলের বেটার পার্ট হইলো, কোন কারেক্টারই লাইফ নিয়া কোন জাজমেন্টে যায় না; মানে লাইফ তো কোন জাজমেন্টে আটকায়া থাকে না… কিন্তু অ্যাজ অ্যা রিডার কিছু জিনিস অবজার্ভ করতে পারেন তো আপনি। আমার অবজার্ভেশন’টা হইলো, নিনো’র বাপের (যে ওমেনাইজার) আর নিনো’র ডিফরেন্সটা হইতেছে – তাদের ইমেজের। নিনো’র বাপ হইতেছে পুরান আমলের ইন্টেলেকচুয়াল (পত্রিকায় আর্টিকেল ছাপায়, কবিতা লেখে… এইরকম) আর নিনো হইতেছে বর্তমান সময়ের বিপ্লবী, ইন্টেলেকচুয়াল, ক্রিটিক্যাল অ্যানালাইসিস করতে পারে, এইরকম। নিনো’র বাপ যে তার ইমেজ’টারে ইউজ করতেছে, তার পজিশনের ফায়দা’টা নিতেছে, সেইটা টের পাওয়া যায়… বা তার ইমেজের পাওয়ারটা আর কাজে লাগে না, তখন তার জোর-জবরদস্তি করা লাগে। নিনো’র বরং উল্টা ঘটনা, সে যে ওমেনাইজার না – তা না; কিন্তু মেয়েরা তার প্রেমে পড়ে; দে হ্যাভ অ্যা গুড টাইম, তারপরে বুঝতে পারে যে, তারা একজন আরেকজনের জন্য না; অ্যান্ড দে কুইট! অভিযোগের কিছু নাই এইখানে। নিনো এবং তার প্রেমিকারা একটা ‘বিপ্লবী’ বিশ্বাসের (আমি বলবো, ইমেজের) ভিতর দিয়া এই কাজ করতে পারে।

একই ধরণের ঘটনা দেখবেন, ‘আসল পীর’ আর ‘ভন্ড-পীর’ এর ব্যাপারগুলাতেও থাকে। ব্যাপারটা সবসময় এইরকম না যে, ভন্ড-পীরদের কেরামতি ফাঁস হয়া যায়; বরং বেশিরভাগ সময় তাদের ইমেজটা আর কাজ করে না, একটা সময়ে গিয়া। একবার একটা অডিও ক্লিপ লিক হইছিল, গ্রামের দুইজন মহিলার। একজন অপেক্ষাকৃত বয়স্ক মহিলার কাছে সাজেশন চাইতেছেন আরেকজন ইয়াং ওয়াইফ; যে, পীর সাহেব যখন তাঁদের বাড়িতে আসে, তখন শে ফিজিক্যাল ডিজায়ারটা ফিল করতে পারে, কিন্তু কি করবে বুঝতেছে না… তখন বয়স্ক মহিলা বলে যে, তার কিছু করা লাগবে না, যখন পীর সাহেব মনে করবে শে রেডি, উনি তাঁরে ডাক পাঠাইবেন।… মানে, মনে হইতে পারে, একটা ‘ভন্ড পীর’ ধইরা ফেললেন এইখানে! কিন্তু এইটা মহিলারও তো ডিজায়ার আছেই; পীর বইলা আপনি মানতে পারতেছেন না, কিন্তু ‘বিপ্লবী’ বা ‘রেভিউলেশনারি’ কেউ একজনের জায়গায় মাইনা নিতে পারতেছেন! আমি বলবো, এই ছোট্ট ডিফরেন্সের জায়গাটারে খেয়াল করেন, তাইলে ইমেজের পাওয়ারটারে দেখতে পাইবেন।… Continue reading

আমার অনুবাদ-কাহিনি

আমি অনুবাদ বা তরজমা করা শুরু করি ২০০৭/৮ সালের দিকে। ফ্রেঞ্চ ফিলোসফি’র ইংরেজি তরজমাগুলা পড়তে ঝামেলা হইতেছিল, তখন ভাবলাম, অনুবাদ করতে করতে পড়লে বুঝ’টা ভালো হইতে পারে। অনুবাদ করতে গিয়া দেখলাম অনেক শব্দ বাংলাতে নাই, এই কারণে না যে, বাংলা একটা ইনফিরিয়র ভাষা, এইখানে শব্দ কম; বরং বাংলা-ভাষায় আমরা যেমনে চিন্তা করি, ফরাসি’তে বা ইংলিশে চিন্তা বা কথা বলার ধরণটাই অন্যরকম। আর শব্দগুলার যেই মিনিং সেইটাগুলাও খুব ফিক্সড কিছু না, আলাপের কনটেক্সট অনুযায়ী চেইঞ্জ হইতেছে; ডিজায়ার শব্দটা দেল্যুজে যেই মিনিং, লাঁকা’তে একই না। এইরকম। আপনি যদি চিন্তা’টারে ঠিকমতো রিড করতে না পারেন, অনুবাদ খালি অন্যরকমই হবে না, বরং উল্টা-পাল্টা, বা মিনিংলেসও হইতে পারে।…

আর ‘বাংলা-ভাষা’ বইলা যে ফিক্সড, রিজিড একটা ধারণা আছে, সেইটা তো আরো ঝামেলার। ভাষা জিনিসটারে তো আগলায়া রাখার কিছু নাই! মানে, ‘শুদ্ধ বাংলায়’ লিখতে হবে – এইটা যে একটা ট্রাপ, এইটা খেয়াল করতে পারাটা দরকার। যা-ই হোক… এইরকম অনুবাদ বা তরজমা করার জায়গা থিকা ভাষার ব্যাপারগুলা ফিল করতে পারি তখন। ব্যাপারগুলা ইন্টারেস্টিং। এরপর থিকা, যখন নিজের লেখালেখির জায়গাতে মনেহয় ব্রেক নেয়া দরকার, তখনই নানান জিনিস অনুবাদ করতে থাকি। 🙂 তো, অনুবাদ আমার স্ট্রেংথের জায়গা না।

কিন্তু আমার ধারণা, আমার বাংলা-অনুবাদ অলরেডি কিছু ‘ঝামেলা’ তৈরি করছে, বা করতে পারতেছে। 🙂 এই কারণে না যে, এইগুলা খুব ‘ভালো’ অনুবাদ, বরং ‘বাংলা-অনুবাদ’ কি রকম হইতে পারে – সেইটার ব্যাপারে কিছু সাজেশন আমি রাখতে চাইছি। এক ধরণের জড়তা’র যে জায়গা ছিল, সেইগুলা ভাঙ্গতে শুরু করছে। সেই জড়তার জায়গাটারে বাদ দিলে অনুবাদগুলা যে ‘ভাবানুবাদ’ হয়া যায় না, এইটা রিডার’রা ধীরে ধীরে হইলেও মাইনা নিতে পারবেন বইলা আমি আশা করি। Continue reading

নোটস: অগাস্ট, ২০২০

১৭ অগাস্ট, ২০২০

“একটু সুন্দর করে লিখতে পারলে… খুবই সুন্দর করে ফেইক করা যায়” –

Mijanur Rahman
এইটা খুবই সত্যি কথা; দেখবেন, যারা লেখালেখি করতে পারেন, একটা ফর্মে ইউজড-টু হয়া গেছেন, খুব সহজেই অই ফর্মটার ভিতরে অনেক কিছুরে ঢুকায়া ফেলতে পারেন। দ্যান, ট্রাপ’টাও এইটাই। ‘সুন্দর’ কইরা লেখাটাতে মইজা যান; আর কিছু সময় পরে বুঝা যায়, ব্যাপারটা এতোটা সত্যি তো না-ই, এতোটা সুন্দরও না!
মানে, লিখতে গেলে, সবসময় নিজের প্যাটার্নটারে, বলবার ভঙ্গিগুলারে, লেখার সুরগুলারে সন্দেহ করবেন; এইটা কখনো কখনো ‘ফেইক’ না ঠিক, বরং ‘মিথ্যা’ বলার মনোটনি থিকা বাঁচায়া দিতে পারবে হয়তো।…

 

অগাস্ট ১৮, ২০২০
আর্ট-কালচার-সাহিত্য করার একটা উপায় হইতেছে যারা নিজেদেরকে ‘সাহিত্যের অথরিটি’ হিসাবে দাবি করতে চায় – তাদের মতামত’রে কখনোই খুব একটা ইর্ম্পটেন্স না দেয়া। (ব্যাপারটা ঠিক বেয়াদবি করা বা কোরাম মেইনটেইন করার ঘটনা না; বরং অথরিটি’র জায়গাটাতে সাবস্ক্রাইব না করা।)
এই কারণে না যে, উনারা ভুল কথা বলেন; সাহিত্যে সবসময়ই কম-বেশি ভুল বিচারের নজির আছে। কিন্তু অথরিটি’র কাজ যতোটা না বিচার করা, তার চাইতে অথরিটি’র সাথে মানানসই জিনিসগুলারে রিলিভেন্ট কইরা তোলা। তো, সেইখানে সাহিত্য বিচারের ঘটনা বরং কম-ই থাকে। এই পাওয়ার প্রাকটিসগুলারে ইর্ম্পটেন্স দিতে গেলে আপনি যা লিখতে চান, সেই জায়গাটাই সাফার করতে থাকবে।
আর খেয়াল কইরা দেখবেন, যারা একটা সময়ে ‘সাহিত্যের অথরিটি’ হয়া উঠেন, তারা এইসব জায়গাতে আটকায়া থাকার কারণে (সময়ের অভাবে না, অথিরিটি-ট্রাপের কারণে) লেখালেখির জায়গাটাতে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন না আর। এই জায়গাতে কয়েকটা নাম মনে হইছিল; কিন্তু বললাম না। বললাম না বইলাই আমার কথা’টা মিথ্যা হয়া গেলো না, বা বললেই সত্যি হয়া উঠতো না আর কি!

 

অগাস্ট ১৯, ২০২০
জ্ঞান, নলেজ বা এলেমে তিনটা জিনিস থাকে – জানা, বোঝা আর মানতে পারা বা আমল করা। কিন্তু তিনটা জিনিস ‘ধাপ’ বা লিনিয়ার না, এক্টার পরে এক্টা আসে – সবসময় এইরকম না; বরং বেশিরভাগ সময়ই সার্কুলার একটা জিনিস। এখন কোন কিছু না জানলে আপনি বুঝবেন কি কইরা, বা না বুঝলে মানবেন কেমনে! এই ডিলেমা তো আছেই। কিন্তু এইটা পুরাটা সত্যি না।
বরং অনেক সময় আপনার বুঝ বা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের জায়গা থিকাও জানার পথে বাইর হইতে পারেন তো! মানে, ‘বুঝার’ এক্টা জায়গা যদি আপনার না থাকে, অনেক কিছু দেখবেন আপনি জানতেও পারতেছেন না! জানার আগ পর্যন্ত হয়তো এইগুলারে ইনটিউশন বা ‘মনে-হওয়া’ বইলা ডাকেন।… বা বুঝার পরেও অনেক কিছু মানতে পারেন না; যেমন ধরেন, মুসলমান হিসাবে সুদের ব্যবসা আপনি করতে চান না, কিন্তু আপনি যেই লাইনে পড়াশোনা করছেন ব্যাংকের চাকরির বাইরে যাওয়া সমস্যাই; বা ধরেন আপনি বিপ্লবী, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বিশ্বাস করেন না, কিন্তু পত্রিকায় আর্টিকেল লেইখা টাকা নিতেই হইতেছে। তখন হয় কি, আপনার ‘বুঝ’ বা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের জায়গাগুলারেও পাল্টাইতে হয় একটু। যা কিছু আপনি মানতেছেন, আপনার বুঝের জায়গাটাতেও কন্ট্রিবিউট করতেছে। ভাইস-ভার্সা তো আছেই। কোনকিছু যে মানতেছেন, সেইটার লাইগা একটা আইডিয়াতে সাবস্ক্রাইব করার দরকারও পড়ে।…
মানে, আমি বলতে চাইতেছি, জানা, বুঝা আর মানা – এই যে জ্ঞানের তরিকাগুলা আলাদা আলাদা তো অবশ্যই, তবে খুবই ইন্ট্রিগ্রেটেড একটা ঘটনাও। (তাই বইলা আবার ইন্টার-ডিপেন্ডেড জিনিস না; এই জিনিসগুলারে কন্সিডার করার বা এড়াইবার রাস্তাগুলাও বানায়া নেন সবাই, যে যার মতো…)

Continue reading

সেক্স, বিয়া আর সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়া একটা কথা

এই জিনিসটা বেশ কিছুদিন ধইরাই চোখে পড়তেছে আমার ফেইসবুক নিউজফিডে, আলাদা আলাদাভাবে অনেকেই এইরকম সাজেশন দিছেন যে, বিয়া করা হইতেছে সেক্সুয়াল সব সমস্যার সমাধান 🙂 নো ডাউট, এই ধরণের সাজেশন যারা দিতেছেন, তাদের বেশিরভাগই লাইফে এখনো বিয়া করেন নাই; তো, বিয়া করলেই উনারা এই সাজেশন দেয়া বন্ধ কইরা দিবেন – এইটা আমার পয়েন্ট না; আমার পয়েন্ট হইতেছে, একজন অ্যাডাল্ট পারসনের কন্সটেন্ট একজন সেক্স-পার্টনার থাকাটা সবসময়ই ভালো; কিন্তু বিয়ার উদ্দেশ্য খালি লেজিটিমেট সেক্সের ঘটনা না; বরং সোশ্যাল সেন্সে, অনেক বেশি সম্পত্তির উত্তরাধিকার কন্টিনিউ করার একটা ঘটনা।

দুইটা সহজ হিসাব করতে বলবো আমি; পয়লা জিনিস হইলো, বাংলাদেশে যা সম্পত্তি আছে, এর কতো ভাগের মালিক পোলা, আর কতো ভাগের মালিক মাইয়া? আর দুসরা জিনিস হইলো এর কতো ভাগ আসলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া?

উত্তরগুলা কম-বেশি হয়তো আন্দাজ করতে পারবো আমরা। আমার অনুমান হইতেছে, ৭০%-৮০% বা তার চাইতেও বেশি সম্পত্তির (জমি-জিরাত, বিল্ডিং, কোম্পানি, টাকা-পয়সা-সেভিংস) মালিক পোলারাই; আর দেখবেন, এর বেশিরভাগই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। (আরেকটা ব্যাপার হইতেছে, অনেকে বউয়ের নামে সম্পত্তি কিনেন, টাকা লুকাইবার লাইগা; কিন্তু অই সম্পত্তির উপ্রে বউয়ের তেমন কোন দখল থাকে না। যেমন কক্সবাজারে বদি’র বউ হইলেন এমপি; কিন্তু পাওয়ার এক্সারসাইজ বদি’র করার কথা। এইরকম। তো, অইটা স্ট্যাস্টিকস দিয়া এতোটা বুঝা যাওয়ার কথা না।…) এই ট্রান্সফার অফ এসেট একটা বিয়ার সম্পর্ক ছাড়া সম্ভব না কখনোই। আপনি যদি বিয়া না-ও করেন, পোলা-মাইয়া না-ও থাকে, আপনার ভাই-ভাতিজারাই এই সম্পত্তির মালিক হবে; মানে, পরিবার, বিয়া সম্পর্কের বাইরে সম্পত্তির মালিকানা খুববেশি যাইতে পারে না। দান-খয়রাত, ট্রাস্ট্রি… এইগুলা যাদের অনেক অনেক সম্পত্তি আছে, তাদের ব্যাপার; খুব চালু জিনিসও না, সোসাইটিতে।

আমি বলতে চাইতেছি, সম্পত্তির উত্তরাধিকার ধইরা রাখার জন্য পাবলিক বিয়া করে – ঘটনাটা তা না; কিন্তু বিয়া’র ওয়ান অফ দ্য মেজর ইমপ্লিকেশন এইটা। তো, ‘নারী অধিকার’ এর জায়গা থিকা বিয়া’র ঘটনাটাতে যদি সেক্সের বদলে সম্পত্তির উত্তরাধিকার’রে আপনি সেন্টার পয়েন্ট হিসাবে ভাবতে পারেন, আপনি সেক্স করা বাদ দিয়া দিবেন না, বরং এই যে সম্পত্তির ট্রান্সফারের জায়গাটা, এইখানে নজর বেশি দিতে পারবেন। আর বুঝতে পারবেন, ‘অধিকার’ জিনিসটারে যে আমরা চাকরি করা, সেক্স করা, নিজের মতো থাকতে পারার সাথে এসোসিয়েট করতেছি, সেইটা অনেক বেশি ‘মালিকানা’র সাথে জড়িত একটা ঘটনা। Continue reading