লাইভ ফ্রম ঢাকা: কম্পাইলেশন অফ ডিজাস্টার

কয়েক বছর আগে যখন বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটা রিলিজ হইছিল তখন অনেকের প্রশংসা শুইনা দেখবো ভাবছিলাম, কিন্তু কোন সিনেমা আমাদের পরিচিত ডিস্ট্রিবিউশনের জায়গাগুলাতে (আমার ক্ষেত্রে, যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাহল, নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, পাইরেট ই-বে) না পাওয়া গেলে, দেখা তো কঠিন। আর এই ডিরেক্টরের সিনেমা কান-এ সিলেক্ট হওয়ার পরে এই সিনেমা না দেখার কারণে ‘সিনেমা-ক্রিটিক’ হিসাবে নিজের পজিশন তো রিস্কে পড়ে যাইতেছিল! এই কারণে দেখাটা ফরজ হয়া গেছিল। থ্যাংকস Abir Hasan Eka, হেল্প করার জন্য।

তো, লোকজনের কথা শুইনা আমার মনে হইছিল যে, সিনেমা’টাতে একটা ‘কেওস’ বানানো গেছে, যেইটা ঢাকা শহরের একটা কোর সিগনেচার বইলা আমি মনে করি। কিন্তু সিনেমা’টা আসলে “কম্পাইলেশন অফ ডিজাজস্টার”, কেওস না। মানে, দুইটা দুই জিনিস। যেমন দেখেন, রাস্তার এতো সিন, অথচ জ্যামের কোন ঘটনা নাই তেমন! (একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস খেয়াল করলাম, ‘৭০ দশকের সিনেমাতে শাপলা’র মোড়, দোয়েল মোড় যেইরকম “ঢাকা শহর” ছিল, এখনকার ভিজ্যুয়ালগুলাতে কুড়িল-বিশ্বরোডের ফ্লাইওভার, হাতিরঝিল “ঢাকা শহর” হয়া উঠতেছে। “ডুব” সিনেমাতেও দেখলাম।)

আমি শুইনাই খুব খুশি হইছিলাম যে, শেয়ার-মার্কেটের ডাকাতির ঘটনা কাহিনির বেইজ হিসাবে কাজ করছে। কিন্তু এরপরে ড্রাগস, আদম-পাচার, ভার্সিটির মারামারি, শাহবাগ (মতিঝিল কিন্তু নাই )… এই ব্যাপারগুলা একরকমের ‘অ্যাড-অন’ হিসাবে আসছে, কিছু ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ যেন, একটা স্পেইসে, ঢাকা শহরে, একজন ব্যক্তি-মানুশের লাইফে ঘটতেছে। আর এই ঘটনাগুলাও রিয়ালিটি হয়া উঠতেছে টিভি-রেডিও’র নিউজের ভিতর দিয়া।

সাজ্জাদ আর রেহানার থাপড়া-থাপড়ি’র ঘটনাই দেখেন, যেন সোশ্যাল প্রেশারের কারণে অরা পারসোনাল লাইফে ব্রার্স্ট-আউট করতেছে, এইরকম একটা জায়গাতে ন্যারো করা হইছে। এইটা অই সেন্ট্রাল থিম’টার কারণে করতে হইছে। এইটা ইউরোপিয়ান আইডিওলজিক্যাল মাইন্ডরে সেটিসফাই করার কথা অনেক। Continue reading

Karnan

Karnan না দেইখা তো আর থাকা গেল না!

ভাল্লাগছে সিনেমাটা। এখন আমার যা হয়, সিনেমার টেকনিক্যালিটির চাইতে কাহিনির সোশ্যাল রিলিভেন্সের দিকে নজর বেশি যায়। তো, তিনটা ঘটনার কথা বলি। (স্পয়লার থাকবে একটু।)

এক নাম্বার ঘটনা হইলো, মিলিটারিতে ভর্তি-পরীক্ষা দিয়া বাসে যখন ফিরতে নেয় নায়ক-নায়িকা, তখন বাস-কন্টাক্টার যে অদের গ্রামের নামে যে গ্রাম আছে, সেইটাই মানতে চায় না। কয়, আরে এই নামে কোন গ্রাম আছে নাকি! এই-সেই। তো, দেখেন, ব্যাপার’টা “ক্যান সাব-অল্টার্ন স্পিক?” না, বরং আপনি-আমি তো নাই আসলে। আমরা যত কথাই বলি, জীবন দিয়া দিলেও কিছু যায় আসে না। ইনসিগনিফেকেন্সের লেভেলটা এইরকমের।

সেকেন্ড ঘটনা হইলো, কাবাডি খেলাতে রেফারি যে দুই নাম্বারিটা করে, তখন নায়ক যে খেইপা যায়; তখন নায়করে দোষ দেয় সবাই। যে, সে এইটা মাইনা নেয় না কেন! মানে, বাটপার বাটপারি করবে, আর সেইটা আপনে বলতেও পারবেন না। বলতে গেলে, দোষ আপনার। তো, পরিচিত লাগতেছে ব্যাপার’টা, কিছুটা? 😛

থার্ড হইলো, পুলিশ যে কয়, ঠিকাছে, বাস-মালিক মামলা তুলে নিছে, কিন্তু থানা’তে গিয়া একটা স্টেটম্যান্ট দেয়া লাগবো। অইটা হইতেছে ট্রিক’টা। এইটা মনে রাখবেন, শয়তানের লগে কোন নেগোশিয়েশন করা তো দূর কি বাত, শয়তান থিকা সবসময় দশ হাত দূরে থাকবেন। চাল দিয়া, ট্রিকস কইরা, ষড়যন্ত্র কইরা শয়তানের মোকাবেলা হয় না। জিতেন আর হারেন শয়তানের লগে সবসময় ফাইটই করতে হয়। এইটা ছাড়া অন্য কোন রাস্তা নাই।

তো, অবভিয়াসলি এইগুলা এই সিনেমার ‘শিক্ষা’ না 🙂 এর বাইরেও আরো অনেক কাহিনি আছে। Continue reading

‘ভালো’ কি জিনিস?

হুমায়ূন আহমেদের নভেল/নভেলাগুলারে ‘সমালোচকদের’ অপছন্দ করার একটা মেজর কারণ হইতেছে, উনার উপন্যাসগুলা’তে খেয়াল কইরা দেখবেন ‘বর্ণনা’র চাইতে ডায়লগ বেশি। আমাদের ‘সমালোচনায়’ উপন্যাসের স্ট্রেংথ হইতেছে বর্ণনায়; মানে ‘বর্ণনা-ই উপন্যাস’ না হইলেও, মেজর একটা জিনিস। তো, হুমায়ূন আহমেদে যে বর্ণনা নাই – তা না, বর্ণনা উনার স্ট্রেংথের জায়গা না; উনার স্ট্রেংথ হইতেছে, কনভারসেশন, ডায়লগ। কিন্তু এইটা তো নাটকের জিনিস! – এইটা মনেহয় ভাবতে পারি আমরা, যার ফলে ‘উপন্যাসের মানদন্ডে’ জিনিসটা বাজে হইতে পারে। (অন্য অনেক কারণেই উনার উপন্যাস ভালো বা খারাপ হইতে পারে, আমি জাস্ট এই পার্টিকুলার জিনিসটারে হাইলাইট করতে চাইতেছি এইখানে।) 

 

মানে, খেয়াল কইরা দেখেন, একটা বা কিছু ‘মানদন্ড’ আছে এইখানে, বিচার করার; খালি উপন্যাস না, নাটক-সিনেমা-গান-কবিতা, অনেক জিনিস নিয়াই। সিনেমার মানদন্ড যেমন, একটা ভালো স্টোরি থাকতে হবে, একটা ভিজ্যুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ থাকতে হবে, এইরকম; তো, এইগুলা বাজে জিনিস না, কিন্তু আর্টের এই ‘মানদন্ড’গুলাই যে আর্ট না – এইটা মনে রাখাটাও দরকার। মানে, আর্টের বিচার তো আপনি করবেন-ই; কিন্তু যেই বাটখারা দিয়া বিচার করতেছেন, শুধু সেইটা দিয়া মাপতে গেলে ঝামেলা হবে, সবসময়ই।

 

তো, আলমগীর কবিরের সিনেমা মাপা’র বাটখারা ছিল – ‘সমাজ-বাস্তবতা’।১ সিনেমা হইতেছে ‘সমাজ-বাস্তবতা’রে তুইলা ধরবে, বিপ্লবের হাতিয়ার হবে, এইসব বাল-ছাল।২ স্পেশালি দেখবেন, এই তরিকার লোকজন সিনেমা’তে গান জিনিসটারে খুব একটা পছন্দ করতেন না বা করেন না। কারণ, বিদেশের যেইগুলা ‘ভালো ভালো’ সিনেমা, অইগানে তো গান নাই! আর তাছাড়াও, গান তো অ-বাস্তব একটা জিনিস; বাস্তব জীবনে আবেগের চোটে গান গাইয়া উঠি নাকি আমরা! অথচ গান একটা দরকারি জিনিস আমাদের বাংলা-সিনেমায়; রূপবান, বেদের মেয়ে জোসনা হিট হইছে, খালি গানের কারণে না, বরং এই দুইটা সিনেমা মিউজিক্যাল ফিল্ম বইলা। মানে, আবেগের চোটে কারেক্টার’রা গান গাইয়া উঠে না; বরং উল্টাটা, উনাদের আবেগের জায়গা গিয়া কথাগুলা আর কাজ করে না, গান ছাড়া এইটা বলা যায় না, কারণ এইটা ডিপ ইমোশনের একটা ঘটনা।

 

কিন্তু এইটা ফর্ম হিসাবে ‘ভালো সিনেমা’র ডেফিনেশনের লগে তো মিলে না! এই কারণে উনার ইউরোপিয়ান বুদ্ধি দিয়া আলমগীর কবির রূপবান’রে কইছেন ‘যাত্রাসিনেমা’; ‘ভালো সিনেমা’ তো দূর কি বাত, ‘সিনেমা’ হিসাবে আইডেন্টিফাই করতে ব্যর্থ হইছেন। (কারণ তখনো মিউজিক্যাল ফিল্মের ডেফিনেশন চালু হইতে পারে নাই।) উনার এই ব্যর্থতা যে সত্যিকার অর্থেই ব্যর্থতা – সেইটারে রিকগনাইজ না কইরা, এখন গ্লোরিফাই করার যে মজমা চলতেছে, সেইটারেই নোটিশ করতে চাইতেছি আমি। যে, উনাদের বিচার’রে দেখার আগে, বিচারের বাটখারাগুলারে দেখেন।

 

আর ‘সমাজ-বাস্তবতা’র ঘটনাটাই দেখেন; আর্টের কাজ তো ‘সমাজ-বাস্তবতা’রে ঠিকঠাক মতো ফুটায়া তোলা বা তুইলা ধরা না; বরং ‘সমাজ-বাস্তবতা’ যে কি জিনিস – সেইটারে এগজামিন করা আর্টের একটা কাজ হিসাবে ভাবা যাইতে পারে, অনেক সময়। আর সেইটার স্ট্রেইট-কাট কোন ওয়ে তো নাই!

 

তো, আমার ধারণা, আলমগীর কবির যখন সিনেমা বানাইতে গেছেন, তখন নিজের সমালোচনার জায়গাগুলারে কম-বেশি বুঝতে পারছেন, কোন না কোন অজুহাতে এড়ানোর ট্রাইও করছেন। যেমন, পপুলার বইলা টিটকারি মারলেও শরৎচন্দ্রের উপন্যাস নিয়া সিনেমা বানাইছেন, বুলবুল আহমেদ’রে বাদ দিয়া ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জনা’রেও ‘আর্টিস্ট’ হিসাবে ভাবতে পারছেন; ট্রাডিশন্যাল যাত্রাগানের বদলে ক্ল্যাসিকাল মেজাজের গান ঢুকাইতে পারছেন… এইরকম। মানে, উনার ‘সমাজ-বাস্তবতা’র বাটখারা উনি ফালায়া দিতে পারছেন – এইরকম না; কিন্তু এইগুলা যে খুববেশি কাজের জিনিস না, বা এইগুলার বেসিসে কাজ করতে গেলে বাংলা-সিনেমার জায়গাটারে যে ধরা যাইতেছে না, সেইটা উনার ফিল করতে পারার কথা মনেহয়।

Continue reading

ভাই রে, আর্ট কই থাকে?

দ্য পর্ণগ্রাফার নামে একটা সিনেমা আছে, ডকুমেন্টারি-টাইপ, ফ্রেঞ্চ-সিনেমা; খুববেশি সুবিধার কিছু না। একজন ডিরেক্টর, যিনি প্যারিসে ১৯৬৮’র স্টুডেন্ট মুভমেন্টে পার্টিসিপেট করছিলেন; মুভমেন্ট শেষ হয়া যাওয়ার পরে কি করবেন আর! যেহেতু ক্যামেরা নিয়া কিছু কাজ করতে পারেন, পয়লা রাজি না হইলেও, পরে ‘বাধ্য’ হয়া পর্ণগ্রাফি সিনেমার ডিরেকশনের কাজ শুরু করেন। মাঝখানে ছাইড়াও দেন, পরে আবার শুরু করেন, এইরকম। যদিও পর্ণ-ফিল্ম, ডিরেক্টর ছোট-খাট দুয়েকটা জিনিস ইনসার্ট করার ট্রাই করেন। যেমন, শুরুর দিকে, যেই কান্ট্রি-হাউজের বাড়ি’টাতে শ্যুটিং হবে, সেইটার ন্যাচারাল বিউটি শ্যুট করেন; তারপরে, নায়িকারে ডিরেকশন দেন সব ‘কাজ’ শেষ হয়া যাওয়ার পরে ক্যামেরাটা রোল হয়া তার চোখের উপর আইসা থামবে, শে যেন একটা ব্ল্যাংক লুক দেয় তখন, এইরকম। মানে, ফিল্মের জন্য এতোটা জরুরি কিছু তো না-ই, কিছু যায়ও আসে না, কিন্তু ডিরেক্টর এই জিনিসটা চান রাখতে। মেবি এইটা, বা এইটুকই ‘আর্ট’ উনার কাছে। বাকি সবকিছু তো আছেই।

উনি ‘আর্ট’ করতেই চান – এইরকম না, কিন্তু কিছু করতেছেন যেহেতু ‘আর্ট’ ব্যাপারটা থাকে, বা রাখতে চান আর কি, কিছুটা।

২.
আমি অনেক রাইটাররে দেখছি, যারা মইরা যাইতে রাজি আছেন, কিন্তু বাংলা-ভাষা লেখবার কলকাত্তাইয়া যেই ভঙ্গি, সেইটা কোনদিনই ছাড়তে রাজি হইতে পারেন না; এই ভাষা-ভঙ্গিটাই ‘আর্ট’, উনাদের কাছে। তো, এইরকম অনেক ‘আর্ট’ আছে দুনিয়ায়। আর এইগুলা বেশিরভাগ সময় খুবই পলিটিক্যাল একটা জিনিস।

কিছুদিন আগে তামিম ইকবাল যখন বিরাট কোহলির লগে কথা কইতেছিলেন হিন্দিতে তখন প.বঙ্গের কেউ এইরকম কমেন্ট করছিলো যে, নর্থ ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার’রে নিয়া এতো মাতামাতি কেন! কিন্তু দেখেন, তামিম ইকবাল তো ইন্ডিয়ান কেউ না! কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের সিটিজেন, তারে ‘বাংলা-ভাষা’র পক্ষের লোক বইলা মনে হইতে পারে; যে, দেখো নর্থ ইন্ডিয়ানরা তো ‘বাঙালি বাবু’ বইলা হাসে, তুমি অদেরকে কেনো প্রমোট করো! এইরকম অভিমান উনারা করতেই পারেন। কিন্তু জিনিসটারে ‘অভিমান’ না বইলা ‘দাবি’র জায়গা থিকা দেখতে শুরু করলে মুশকিল; আর ব্যাপারটা ঠিক পলিটিক্যাল দাবি হিসাবেও আটকায়া থাকে না, বরং একটা ‘আর্টের দাবি’ হিসাবে পারসিভড হইতে থাকে। আর এইরকম জায়গাতেই আটকায়া থাকার কথা না, বরং আরো ছড়াইয়া আছে আসলে ব্যাপারগুলা। (জয়া আহসান’রে যেই কারণে ‘আর্ট’ মনে হইতে পারে, পূর্ণিমা’রে না; ফেরদৌস’রে নেয়া যায়, মোশারফ করিম না, শাকিব খান, অনন্ত জলিল তো ‘হাইস্যকর’ 🙂 এইরকম।) এই কারণে, প.বঙ্গের লোকজনের হিন্দি-ঘৃণা’র ব্যবসা একসময় বাংলাদেশে খুব চলতো, এখনো টুকটাক চলা’র কথা; কিন্তু প.বঙ্গের লোকজনের এখন বুঝতে পারার কথা যে, এই হিন্দি-ঘৃণা দিয়া দিয়া ‘বাংলা-ভাষা বাঁচানো’ পসিবল না কখনোই! (কারণ, উনারা পলিটিক্যালি বহুত আগেই ডেড, হিন্দির কাছে সারেন্ডার কইরা বইসা আছেন! সাউথ ইন্ডিয়ান’রা যেমন কখনোই নেয় নাই, নিবেও না; যার ফলে উনাদের এইরকমের ‘মান-অভিমান’ খেলা লাগে না।…) এই কারণে দেখবেন, উনাদের ‘বাংলা-ভাষা’ও আর হয় না। এমনকি ‘কলকাত্তাইয়া কালচার’ বাংলাদেশে যেই পরিমাণ বেচা-বিক্রি হয়, প.বঙ্গেও এই মার্কেট নাই আর এখন, ‘বাংলা’ বেচতে কয়দিন কয়দিন পরে বাংলাদেশেই আসা লাগে উনাদের, এবং কয়দিন পরে পারমানেন্টলিই হিজরত করা লাগবে আসলে এইখানে।…

মানে, ‘আর্ট’ বইলা কোন ‘দূর আকাশের তারা’ আমরা বানাইতেছি – তা না; বরং খুব কোর কিছু পলিটিক্যাল ঘটনা এইখানে খুব সাটলভাবেই কাজ করে, সবসময়। এইখানে, কবিতায় আমার ‘সুন্দর ছোটবেলা’, আমার ‘টিনএজ লাভ’ বা ‘যৌবনের’ কথা আমি কইতেছি না খালি, একটা বা কিছু প্যার্টানের ভিতর দিয়া আমি কইতেছি; পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্সটা কখনোই ‘আর্ট’ না, যদি না এইটা কোন না কোন পলিটিক্যাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা হিস্ট্রি’র লগে রিলেটেড হইতে পারে।

‘আর্ট’ জিনিসটা এইরকম কোন না কোন পলিটিক্যাল এফিলিয়েশনের জায়গা থিকাই এমার্জ করে – এইটা আমার ক্লেইম না হইলেও, কোন এফিলিয়েশনের জায়গার বাইরে গিয়া টিইকা থাকতে পারে, এইটা আমার মনেহয় না।

৩.
কিন্তু তাই বইলা জিনিসগুলা সবসময় ক্লিয়ারলি আইডেন্টিক্যাল না যে, এইটার মানে এইটা, বা অইটার মানে সেইটা; কিন্তু ‘মানে’গুলা একজিস্ট করে একেকট সময়, একেকটা ফর্মে।

 

আনবিলিভেবল

দেখবো দেখবো কইরা দেখা হইতেছিল না; পরে দেইখাই ফেললাম, আনবিলিভেবল নামের এই মিনি সিরিজ’টা। 🙂

রেইপ নিয়া এই আর্টিকেল’টা লেখার জন্য পুলিৎজার প্রাইজ পাইছিলেন রাইটার’রা, ২০১৬ সালে। আম্রিকাতে রেইপের ইনভেস্টিগেশনে অনেক চেইঞ্জও নাকি আসছে, এই আর্টিকেল’টা ছাপা হওয়ার পরে। এই পুরা ব্যাপারটা নিয়া একটা বইও ছাপা হইছে, ২০১৮ সালে। তো, অই আর্টকেল’টা নিয়া বানানো হইছে এই মিনি সিরিজ’টা, ২০১৯ সালে। ১টা সিজন, ৮টা এপিসোড।

দেখতে গেলে যা হয়, অনেক জায়গাতে তো চোখ আটকায়া যায়। এইরকম কয়েকটা জিনিস’টা নিয়া বলি।

একটা হইতেছে, রিপিটেশন। মারিয়া’রে বারবার তার রেইপের কথা বলা লাগে; আর বলা মানে তো খালি বলা না, তারে মনে করাও লাগে; আর যখন মনে করি আমরা বা দেখি, তখন ঘটনা তো বারবার ঘটতে থাকে আসলে! (টিভি অ্যাডগুলা দেখবেন, এই চালাকি’টা করে। এখন নিউজগুলাও করে। অন্য অনেক কিছুই।…) এইরকম একটা বাজে ঘটনা, বারবার বলতে বাধ্য করাটা তো আরেকটা ক্রাইম! আর কোনরকম কমপ্যাশন বা এনগেইজমেন্ট ছাড়া শোনা’টাও খুবই ক্রুয়েল একটা জিনিস। আর এইসবের ভিতর দিয়া একজন রেইপের ভিক্টিমরে সোসাইটি বা তার চারপাশ না, বরং সিস্টেমটাই ভিক্টিম কইরা তোলে।

আর ইল্যুশন’টা কেমনে তৈরি হয় দেখেন, কনটেক্সট’টা দিয়া। যে, মারিয়া’র মধ্যে তো এক ধরণের বেয়াদবি আছে; শে অ্যাটেনশন চায়, এই কারণে শে বানায়া থাকতে পারে, রেইপের ঘটনা’টা – এইরকম অনুমান করাটা পসিবল হয়। মানে, কো-রিলেশন তো আছে ঘটনাগুলার বা আমাদের অ্যাটিটুডগুলার। যেমন, যে রেপিস্ট, দেখা যায় তার ডমিস্টিক ভায়োলেন্সেরও হিস্ট্রি থাকতে পারে – এইটা মিছা কথা না; কিন্তু যেই লোক ডমিস্টিক ভায়োলেন্স করে, সে-ই রেপিস্ট – এইরকম না। মানে, কেউ ড্রাগস করে বইলা ছিনতাইকারী না; কিন্তু অনেকে ড্রাগসের টাকা যোগাড় করার লাইগা ছিনতাই করে তো, এইরকম। মানে, যেই কো-রিলেশনগুলারে আমরা মিলাইতেছি, তার ভিতর দিয়া একটা ইল্যুশন বা রিয়ালিটি’রে তৈরি করতেছি! প্রসেস’টা তো একই! আমাদের কনশাসনেসের জায়গাটাতে আলাদা না করতে পারলে মুশকিলই।

মারিয়া ফোর্সড হয় একটা রিয়ালিটি’রে ইল্যুশন বলতে; একইভাবে অনেক ‘ইল্যুশন’ আছে, যেইটারে ‘রিয়ালিটি’ বলতে পারতেছেন না আপনি। এই জিনিস’টা ট্রমাটিক তো; মেবি পাগলামি’রও শুরু।… এই যে রিয়ালিটি বা ইল্যুশন, এর মাঝখানে দাঁড়ায়া থাকতেছে খালি একটা প্রমাণের সুতা। যে, প্রমাণ তো নাই! বা এতো দূরের জিনিস যে, প্রমাণগুলারে একসাথে করা যাইতেছে না, ভিজিবল করা যাইতেছে না!…

এইখানে দেখবেন, ‘সুফীজম’ বা ‘বুড্ডিজম’ বা ‘মিস্টক’ ব্যাপারগুলা চইলা আসে (অনেক সময় সাত্বনা হিসাবে, রিলিফের টুল হিসাবে বা অজুহাত হিসাবেও…), মানে যেইগুলা রেশনালিটি’র বাইরে, সেই স্পেইসগুলা রিলিভেন্ট হয়া উঠতে চাইতেছে। মানে, এইটা খালি রিয়ালিটি আর ইল্যুশন না, রেশনালিটি আর ইরেশনালিটি’র মাঝখানের স্পেইসটাও, যেইটা চাপা পইড়া থাকতেছে ‘প্রমাণের’ নিয়মগুলার ভিতর।

আমরা বুঝতে পারতেছি, এই নিয়মগুলা এনাফ না, কিন্তু তাই বইলা ঘটনাগুলা যে ঘটে না – তা তো না! যেইভাবে ঘটনাগুলা ঘটতেছে আমাদের দেখার জায়গাটা সেইগুলারে বাদ দিয়া যাইতেছে সবসময়, বা ধোঁকা দিতে পারতেছে; কিন্তু সেইটা তো মানতে পারা’র মতন কোন জিনিস না।

আর এই কারণে, চেইতা যাইতে পারা’টা দরকারি একটা ঘটনা। গ্রেস (পুলিশের ডিটেক্টিভ) টেগার্ট’রে ( সিবিআই’র অফিসার’রে) বিশ্বাস করতে পারে না এই কারণেই যে, কই, অর ভিতরে তো চেত’টা নাই! সে তো ফিল-ই করে না! সে হেল্প করবে কেমনে! মানে দেখেন, ইন্টেলেক্ট কোনভাবেই ইমোশনলেস ঘটনা না, বরং ইমোশনটারে কেমনে ফিল করবেন, ডিল করবেন, সেইটার ঘটনা।

এই রেইজ’টা বা চেইতা যাওয়া’টা আসতেছে অই জায়গাটা থিকা যে, যেইটা ‘সত্যি’ সেইটারে তো আমরা বলতে পারতেছি না! উল্টা এইটারে ‘সত্যি’ বইলা ভাবি বইলা ঝামেলায় পড়তে হইতেছে আমাদের!… এর স্ট্রেস’টা নিতে হইতেছে সবসময়ই আমাদেরকে। এক সময় একটা কালেক্টিভ ট্রেস, বা সোশ্যাল ট্রমা’র জায়গাও তৈরি হওয়ার কথা। Continue reading