ইন্টেলেকচুয়াল ও এক্টিভিস্ট

ইন্টেলেকচুয়াল আর অ্যাক্টিভিস্টের কাজের একটা জায়গা খেয়াল করছি আমি, সেইটা হইতেছে, ইন্টেলেকচুয়াল হিসাবে আপনার কাজ হইতেছে চিন্তাগুলার মধ্যে যে ডিফরেন্স আছে, সেই জায়গাগুলারে নজরে আনা; কিন্তু এক্টিভিস্ট হিসাবে এই ডিফরেন্সের জায়গাগুলারে মাথায় রাইখাও কাজ করা দরকার মিল-এর জায়গাগুলা নিয়া।

যেমন ধরেন, উদাহারণ হিসাবে শাহবাগ-মতিঝিলের কথা মনে হইলো; যারা কম্পারেটিভলি ‘লিবারাল’ 🙂 ‘শাহবাগ’, তারা বলতেছিলেন, “ফাঁসি দিতে হবে”; আর যারা ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ 🙂 ‘মতিঝিল’, তারা বলতেছিলেন, “ফাঁসি দেয়া যাবে না”; কিন্তু কথা দুইটারে আক্ষরিক অর্থে নিলে খুবই ভুল হবে। দুই পক্ষই আসলে ‘ন্যায় বিচার’ চাইতেছেন। যেমন ধরেন, তারেক-মিশুক’রে মারলো যেই বাস ড্রাইভার (যদিও অই ড্রাইভার মারেন নাই আসলে), তারও ফাঁসি চাওয়া হইছিল তো… মানে, ‘ফাঁসি চাই’ এর মিনিং হইতেছে ‘বিচার চাই’; কিন্তু ‘বিচার চাই’ বললে ব্যাপারটা স্পষ্ট হইতে পারে না আসলে এতোটা। একইভাবে ‘ফাঁসি চাই না’ মানে এইটা না যে, ‘বিচার চাই না’; বরং বিচারের নামে প্রতিশোধ নেয়া হইতেছে, ‘ন্যায়বিচার’ হইতেছে না।…

তো, আমার ধারণা হইতেছে, বাংলাদেশে যদি কোন এফেক্টিভ এক্টিভিস্ট থাকতেন তাইলে এই ‘ন্যায়বিচার’ এর জায়গা’টাতে কাজ করতে পারতেন। (পলিটিক্যালি এই আওয়াজ যে উঠে নাই – তা না; কিন্তু ন্যায়বিচার যে কোন নিরপেক্ষতা না, বরং পলিটিক্যাল একটা ঘটনা, সেই আলাপ’টাই হইতে পারছে।) ‘ন্যায়বিচার’ এর তো ইউনিভার্সাল কোন সূত্র নাই, কিন্তু সবসময় কিছু প্রসেস ‘ন্যায়বিচার’ পাওয়াটারে সহজ করতে পারে। যেমন ধরেন, বাংলাদেশে এমন কোন আইন মনেহয় নাই যে ১০ হাজার বা ১ লাখ সাইন যদি নেয়া যায় কোন পিটিশনে, সেইটা পার্লামেন্টে বিল হিসাবে তোলা যাবে; অথচ এইরকম একটা আইন কিন্তু হইতে পারে!

যদি কোন আইন বদলাইতে চান, পার্লামেন্টের মেম্বার ছাড়া কেউ এইটা মনেহয় করতে পারবেন না বাংলাদেশে, এমনকি তারও বিল তুলতে হইলে তার দলের পারমিশন লাগবে মনেহয়; পাবলিক চাইলে নিজেরা নিজেদেরকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারবে, এইরকম কোন আইন নাই। তো, এইরকম একটা আইনের দাবি করাটা একটা স্টেপ হইতে পারে। জাস্ট উদাহারণ হিসাবেই বললাম।

হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প আছে, “জলিল সাহেবের পিটিশন” নামে যেইখানে একজন বয়স্ক লোক রাজাকারদের বিচারের জন্য পিটিশনে সাইন নিতেছেন, তারপরে গর্ভমেন্টের কাছে জমা দিবেন। এই গল্পটারেই কিন্তু বাস্তবে নিয়া আসছিলেন ‘ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’; কিন্তু উনারা গর্ভমেন্টের কাছে পিটিশন দাখিল না কইরা ‘গণবিচার’ আয়োজন করছিলেন, যেইটা একটা ন্যায়বিচার এর জায়গা থিকা আওয়ামীলীগের পলিটিক্যাল এজেন্ডাতে কনর্ভাট হয়া গেছিল। মানে, এই যে ন্যায়বিচার’রে একটা পলিটিক্যালের দলের এজেন্ডা হইতে হইতেছে সেইখানে এইরকম কোন পিটিশনের অপশন না-থাকাটাও অন্য অনেকগুলা কারণের মধ্যে একটা হওয়ার কথা। (এইখানে তো আরো অনেক কথাই আছে, কিন্তু এইখানে থামলাম।)

তো, এক্টিভিজমরে যদি এফেক্টিভ করতে চান তাইলে এজেন্ডাগুলা দিয়া কালচারাল সার্কাস না বানায়া, পলিটিক্যাল দলের pet না হয়া কেমনে পলিটিক্যাল দলের বাইরেও এক্টিভিজমের জায়গাটারে ধইরা রাখা যায়, সেই লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক নিয়া ভাবতে পারলে মেবি বেটার।

২.
এক্টিভিজম নিয়া কথা বলতে গিয়া ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হিসাবে মৃত্যুদন্ড’রে বাতিল করার জন্য হলিউডে কিছু সিনেমা হইছিল, অইগুলার কথা মনে হইলো।
এর মধ্যে, একটা তো দুর্দান্ত ছিল কয়েকজন এক্টিভিস্টরে নিয়া। তাদের মধ্যে একজন আরেকজনরে খুন করে, আদালত খুনের দায়ে ফাঁসিও দিয়া দেয়, পরে দেখা যায় পুরা ব্যাপারটাই ‘সাজানো’, যারে খুন করা হয় তার আসলে ক্যান্সার ছিল, মারা-ই যাইতো শে, তো, সে এই খুনের নাটক’টা করে, দোস্তদের লগে যাতে প্রমাণ করা যায়, সবচে নিখুঁত বিচারটাও ভুল হইতে পারে! সিনেমার নামটা মনে নাই এখন। কিন্তু এইটা বেস্ট সিনেমা না এই প্রপাগান্ডার।
বেস্ট হইতেছে, ডেড ম্যান ওয়ার্কিং! শুধু যে ‘ইমশোনাল’ – এই কারণে না, বরং এইটা প্রব্লেমটারে ডিল করছে ভিতর থিকা, উইথ-ইন; আমার তো মনে হইছিল, শন পেনের এই ডায়ালগ’টা ফিল না কইরা কোন উপায় নাই, “I just wanna say I think killin’ is wrong, no matter who does it, whether it’s me or y’all or your government.”

Leave a Reply