‘বাংলার দর্শন’ বই নিয়া

66628281_10156275354812093_8677601432926420992_n

Rayhan Rhyne এর ‘বাংলার দর্শন’ (প্রাক্ উপনিবেশ পর্ব) বইয়ের ইন্ট্রু’টা পড়ছি, কয়দিন আগে। পড়ার পরে তিনটা জিনিস মনে হইছে। ভাবলাম, বইলা রাখা যাইতে পারে।

একটা ইর্ম্পটেন্ট জিনিসটা উনি ফিল করছেন, এই যে বাংলার দর্শন, তারে তো বাংলার কনটেক্সটে পড়া হইতেছে না, পড়ার চান্স আছে বরং ‘পশ্চিমা দর্শনের’ কনটেক্সটে, যার ফলে মিনিং একই রকম থাকতেছে না! উনি এইভাবে বলছেন, “বাংলার দর্শনের পরিভাষাগুলোর তাৎপর্য খুঁজতে হবে এগুলোর সঙ্গে যুক্ত সংস্কৃতির ভিতর।… সহজিয়া মতের ‘সহজ’কে কেউ যদি ফরাসি ‘সুজে’ (Subject)-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেন কিংবা হেগেলের ‘স্পিরিট’-এর ধারণা দিয়ে লালন সাঁইয়ের ‘অরূপ রতন’কে বুঝতে চান, তাহলেও একই রকম অর্থবিপর্যয় ঘটে। পশ্চিমের দর্শনের পরিভাষার সঙ্গে বাংলার দর্শনের পরিভাষা বা উভয় দর্শনের তুলনামূলক পাঠ নিশ্চয় হতে পারে, কিন্তু পশ্চিমা দর্শনকে মানদন্ড ধরে তার আলোকে বাংলার দর্শন পাঠ করা হলে তাতে এ অঞ্চলের দর্শন সম্প্রদায়গুলোর অবস্থান যে সঠিকভাবে বোধগম্য হবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায়।” উনার এই কথা খুবই ঠিক যে, রেফারেন্স সিস্টেমটা ইর্ম্পটেন্ট; কোনটার সাপেক্ষে আমরা রিড করতেছি; কিন্তু একটা টেক্সটরে তো কোন না কোন রেফারেন্সের বেসিসেই রিড করা লাগবে, সেইটা ‘বাংলা সংস্কৃতি’-ই হোক বা ‘পশ্চিমা দর্শন’। আমার ফেভারিট এক্সাম্পল দিয়া বলি, আল-কেমি তো একটা সময়ের ঘটনা, অইটা তো নাই এখন, বরং এর জায়গায় কেমেস্ট্রি চলে আসছে; তো এখন আল-কেমি’রে আলকেমি’র কনটেক্সটে পড়া কি পসিবল? হুবহু একইরকম না হইলেও, ঘটনাটা এই রকমেরই। “বাংলার দর্শনরে” আপনি বাংলার কনটেক্সটে কেমনে পড়বেন? বাংলার দর্শন বলতে যে বৌদ্ধ চিন্তা-পদ্ধতিরে লোকেট করতে চাইছেন রায়হান রাইন, সেইটা কোন না কোন ‘বর্তমান’ এর রেফারেন্স দিয়াই তো রিড করা লাগবে। এর ‘অরিজিনাল’ মিনিংটারে রিভিল করার লাইগা পুরা একটা সিস্টেমরে আন-ফোল্ড করার কথা হইতেছে, যেইটার প্রেজেন্স অ্যাজ সাচ নাই কোথাও। মানে, উনি রেফারেন্স সিস্টেম হিসাবে সাজেস্ট করতেছেন – “বাংলার সংস্কৃতি”রে। কিন্তু এই “বাংলার সংস্কৃতি” কি জিনিস? Continue reading

কবিতা: জুন , ২০১৯

20150303_130129

ভুইলা যাওয়ার মতোন

ভুইলা যাওয়ার মতোন তোমারে মনে রাখি,

মনে রাখি, যেইভাবে একটা গাছের ছায়া
মিইশা থাকে, অন্ধকারে।


ভূত টূত

ভোঁতা ভোঁতা কথাগুলা
ভূত সাইজা বইসা থাকে…

ভূত টূত
আছে তো কিছু, তাই না?
আমি বলি

হাসে শে,
ভূতেদের কথা বিশ্বাস করে না।


সিন্ডেরেলা 

…তারপর, দরজার বাইরে পড়ে আছে তোমার অনেকগুলা জুতা, কাদা-মাখা

Continue reading

অন বাঁইচা থাকা

1200x630wa

মইরা যাওয়ার চাইতে বাঁইচা থাকা’টা ভালো। মানে, চাইলে তো মইরা যাওয়া যায়-ই। এইটা আমার হাতেই আছে। আমি পারি। অনেককিছুই আমি করতে পারি। কিন্তু পারি বইলাই কইরা ফেলতে হবে, এইরকম না। বরং কি কি আমি করতে পারি, কিন্তু করি না, সেইটাই ঘটনা, বেশিরভাগ সময়।

বেশিরভাগ সময়ই লাইফ আনবিয়ারেবল। মানে, লাইফ নিয়া যদি আপনি ভাবতে চান। মিনিংলেস তো! জোর কইরা কোন মিনিং ইম্পোজ করারও কিছু নাই। অইটা আরেকটা প্রেশার। চারপাশ এতো প্রেশার দিতে চাইবে আপনারে। এইটা করেন, অইটা করেন! এইটা ভালো, এইটা খারাপ! কিন্তু এইসবের তো কোন দরকার নাই। বলারও দরকার নাই, আমি এইসব কেয়ার করি না। আমি পাত্তা দেই বা দেই না। এই জিনিসটাই আজাইরা। বাঁইচা থাকার মতোই।

বাঁইচা থাকাটারে না বলাটা সহজ, হ্যাঁ বলাটাই কঠিন। কোন মানে নাই, তারপরও বাঁইচা আছেন – এইরকম অ্যাবসার্ড না; মিনিংটা জরুরি না। কোন মিনিং যদি থাকে, যদি ক্রিয়েট করা যায় তো ভালো; কিন্তু জরুরি না। না চাইলেও বাঁইচা থাকা যায় তো! মরা’র লাইগা বরং ‘কারণ’ দরকার! যে কোন কারণেই মইরা যাওয়া যায়। যেহেতু যায়, মরবোই, খুবই সার্টেন একটা ঘটনা। আমি এর লাইগা আর ওয়েট করি না। আমি চাই কোনদিন সে-ই আমারে খুঁইজা নিক। আমি না চাইলেও নিবে। আমার চাওয়া, এতো ইর্ম্পটেন্ট কিছু না। এইরকম ইনসিগনিফিকেন্ট হইতে সাহস লাগে। এই কারণে, Continue reading

অন কনফেশন

download

কনফেশন কখনোই পছন্দের জিনিস না আমার। কনফেশনে যেইটা হয় আপনি খালি আপনার একটা ভার্সনই কইতে পারেন। আধুনিক ব্যক্তি যখন ব্যক্তি হয়া উঠতেছেন তখন এইরকম স্টেটমেন্ট অনেক জরুরি জিনিস ছিল। আমার ধারণা, সিক্সটিইজেই এই জিনিস মারা গেছে। মানে, ব্যক্তি বইলা ব্যক্তিরে আপহোল্ড করার কিছু নাই। ব্যক্তি বরং সার্টেন ইমেজ বা কনফার্মেশন অফ সার্টেন থটের ভিতরে নিজেরে এক রকম বাইন্ধা ফেলতে পারছে। ব্যক্তি বইলা কিছু নাই, তা না, ব্যক্তি জিনিসটা মেবি ব্যক্তিত্ব টাইপ একটা ঘটনাতে গিয়া শেষ হইছে। বাজেই হইছে এইটা। যার ফলে, কনফেশন ব্যাপারটা ব্যক্তির এক্সটেনশন আর ঘটাইতে পারে না, বরং কনফার্মেশনের জায়গাটাতেই ফিরা যাইতে থাকে।…

মানে, আমি বলতে চাইতেছি, এই ব্যক্তি হিসাবে আমার স্বীকার করার কিছু নাই। অথচ চারপাশের একটা চাপ সবসময়ই থাকে ব্যক্তির উপরে, যে, আপনি কনফেশন করেন! স্বীকার করেন বা অস্বীকার করেন! এইটা বাদে আপনি ব্যক্তি হিসাবে আপনার কোন পজিশন আপনি ক্লেইম করতে পারবেনই না! কিন্তু এই স্বীকার করা বা অস্বীকার করাটা কোনকিছুই মিন করে না। এই কনফেশনাল অ্যাটিটুডটারে বরং ব্যক্তিরে একটা পাপেট বানায়া রাখার ফ্রেমওয়ার্ক বইলা সন্দেহ হয় আমার। Continue reading

আমাদের অ্যাভারেজ লাইফ খুব কমই আমাদের অরিজিনাল ফিলিংসগুলারে অ্যাকোমোডেড করতে পারে

62561735_10156201766302093_5579929585778163712_n

জুলিয়ান বার্নসের দ্য অনলি স্টোরি নভেলটার সেকেন্ড পার্টের শেষের দিকে একটা সিন আছে, মেইন যে কারেক্টার, সে তার ডিসিশানটা নিতে পারে। একটা হোটেল রুমে ভ্যান গগেঁর গমক্ষেতে কাকের ছবিটা টাঙানো দেইখা ভাবে, এইটা যদি অরিজিনাল ছবিটা হইতো, তাইলে মুশকিলই হইতো, ঠিকঠাকমতো সে রিড করতে পারতেছে কিনা, ঠিক এক্সপ্রেশন দিতে পারতেছে কিনা, যেইভাবে দেখতে পারার কথা সেইভাবে দেখতে পারতেছে কিনা… এইসব নিয়া একটা টেনশনেই পড়তে হইতো। অথচ এইটা ফেইক বা কপি বইলা এইরকম কোন টেনশন নাই, জাস্ট অন্য যে কোন একটা ছবির মতোই দেয়ালে ঝুলানো আছে। তারে এভেয়ড কইরা, ডেইলি লাইফের মতোই একটা জিনিস ভাইবা নিজেদের কাজকামগুলা করা যাইতেছে।…

তো, এইরকম ফেইক বা কপি টাইপ ইমোশনগুলার কাছেই আমাদের থাইকা যাইতে হয়, এইটা মোর ইজিয়ার, টু লিভ বাই। বাঁইচা থাকাটারে এতোটা কমপ্লিকেটেড কইরা তোলে না। অরিজিনাল বইলা যে কিছু নাই, তা না, সেইটা রেয়ার ঘটনাই। আর আমরার যখন এইরকম কোন অরিজিনাল আর্ট বা ফিলিংসের সামনে হইতে হয় তখন একটু টেনশনে পইড়া যাইতে হয়।

কিন্তু মুশকিল মেবি তার পরের ঘটনাটা, যখন এই টেনশনের টাইমটা বা বিহ্বলতার টাইমটা পার হয়, তখন তারে এড়ায়া চলতে হয়, এইটাই মেবি তরিকা, অ্যাভারেজ লাইফস্টাইলের। আরো এক কদম আগায়া, ফেইক ইমোশনগুলার ভিতর ঘুরপাক খাইতে খাইতে যখন ট্রু কোন ইমোশনের সামনাসামনি আমরা হই, তখন বরং নিজেরে বুঝ দিতে থাকি, আরে এইটা তো আরেকটা কপিই! ফেইক জিনিসই! দেখেন না, এইটা এইটা তো ভুল! 🙂

এইভাবে ভাবতে পারাটা, নো ডাউন, আমাদেরকে হেল্প করে। কিন্তু লাইফটারে ধীরে ধীরে অন্ধও কইরা তোলে মনেহয়। একটা সেন্স অফ ট্রুথ বা অরিজিনালিটিরে অ্যাপ্রিশিয়েট করার অ্যাবিলিটিটা আমরা হারায়া ফেলি, সারা জীবনের লাইগাই।

অরিজিনালরে কপি বা কপিরে অরিজিনাল – এইরকম প্যাঁচ লাগায়াও বাঁইচা থাকতে হইতে পারে। মানে, এই ইল্যুশনগুলা জরুরি। এইটা একটা গ্রেটার পার্ট, লাইফের।
Continue reading