ইলেকশন

getty-vote_800_109440073-56a71e943df78cf772927c54-1

ইলেকশন নিয়া খুব সুন্দর একটা মেমোরি আছে আমার। সেইটা ক্লাশ সেভেনে পড়ার সময়। আমাদের ক্লাশ টিচার আছিলেন মানিক স্যার। ক্লাশে পড়ানোর সময়টাতে উনার পারফর্মেন্সের একটা ব্যাপার ছিলো, চাবায়া চাবায় অনেকটা ‘শুদ্ধ ভাষায়’ কথা কইতেন, এক রকমের রোল প্লে করতেন, যে উনি টিচার; তখন ওইটা নিয়া একটু খটকা থাকলেও এখন বুঝতে পারি যে, অইটা জরুরি একটা জিনিস ছিলো। মানে, ক্লাশে পড়ানোটা যে একটা পারফর্মেন্সের ঘটনা – এখন তো এইটা বুঝতে পারি। (এই পারফর্মেন্সের ব্যাপারে আরেকটা ঘটনা আছে, যেইটা দিয়া আমি শিওর হইছি, পরে বলতেছি।)

তখন (১৯৮০-এ) স্কুলে ক্লাস-ক্যাপ্টেন হওয়ার নিয়ম ছিলো, ফার্স্টবয় আর সেকেন্ডবয়-ই হবে (হাইস্কুলে পড়ার সময় ক্লাস সিক্স টু এইট ছেলে-মেয়েদের আলাদা সেকশন ছিলো, নাইন থিকা একসাথে)। ক্যাপ্টেনের কাজ তেমন কিছু না, ক্লাস-ব্রেকের সময় কেউ পানি খাইতে বা মুততে গেলে তার পারমিশন নিয়া যাইতে হবে; হোমওয়ার্কের খাতা কালেক্ট কইরা টিচাররে দিতে হবে, বা কোনসময় টিচার না আসলে টিচাররুমে গিয়া জানাইতে হবে; বা টিচার না থাকলে চিল্লা-পাল্লা যাতে কম হয়, এইসব মনিটর করা, এইরকম।

তো, মানিক স্যার কইলেন, এইটা হবে না। ফার্স্টবয়, সেকেন্ডবয় পড়াশোনা ভালো করতে পারে, কিন্তু ভালো লিডার হইতে পারবে – এর তো কোন গ্যারান্টি নাই। আর ছোটবেলা থিকাই ডেমোক্রেসির চর্চা করা লাগবে। ক্লাসের ছাত্ররাই তাদের ক্যাপ্টেন নির্বাচন করবে, টিচার হিসাবে উনি সেইটা করতে পারেন না, ব্যাপারটা অ-গণতান্ত্রিক। তো, ইলেকশন হবে ক্লাসে।

আমরা তো খুবই মজা পাইলাম। কিন্তু কেমনে হবে? উনি ইলেকশনের প্রসেস ব্রিফ করলেন:

১. আজকের মধ্যে ক্যান্ডিডেট ফাইনাল করা হবে। যারা ক্যান্ডিডেট হইতে চায়, স্কুল ছুটির পরে তারা দুইজন সার্পোটারসহ গিয়া স্যার’রে জানাবে। স্যার নাম লিইখা রাখবেন।

২. এক সপ্তাহ ধইরা কথা-বার্তা বলা, বির্তক করা – এইসব করা যাবে। কিন্তু ক্লাসের বাইরে কোন ‘গন-যোগাযোগ’ করা যাবে না। লজেন্স, সিঙ্গারা ইত্যাদি ঘুষ দেয়া যাবে না।

৩. এক সপ্তাহ পরে ক্লাসরুমের টেম্পরারি ব্ল্যাকবোর্ডের পিছনে একটা কাগজে ক্যান্ডিডেটদের নাম লেখা থাকবে, সবাই গিয়া টিক চিহ্ন দিবে পছন্দের ক্যান্ডিডেটের নামের পিছনে।

এইরকম একটা ঘটনা। Continue reading

কবিতা: ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

51530754_10155938437087093_849805914268499968_o

 মিনিং

মিনিংগুলি ছড়ায়া যাইতেছে,
রাতের আন্ধারের মতোন
এতো এতো ল্যাম্পপোস্ট, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, গাড়ির হেডলাইট
ফোকাস দিতে দিতে
যাইতেছে, আসতেছে… কিন্তু
মিনিংয়ের যে আন্ধার, তারা
থাইকাই যাইতেছে
একটা হরাইজনে একটা রিয়ালিটি’র মতো

একটা মিনিংয়ের আন্ধার আসলো
আর নিয়া গেলো, তোমারেও।

 

গতকালকে রাত্রে

গতকালকে রাত্রে আমি একটা স্বপ্ন দেখছি। আর স্বপ্নটা আমারে দেখতেছে। কি রকম ফ্রেজাইল! গইলা গইলা পড়তেছি আমি। মাটির কলসি ফুটা হয়া পড়তে থাকা গুড়ের সিরা’র মতোন। ঘন, কালো, লিকুইড। আমি একটু একটু কইরা গড়ায়া গড়ায়া পড়ে যাইতেছি, স্বপ্নটার ভিতর। স্বপ্নটা আমারে দেখতেছে। আর আফসোস কইরা কইতেছে, কি রকম ফ্রেজাইল এই মানুষের জীবন।

 

প্রাণি জগৎ

একটা লোনলিনেসের ভিতরে একশ’টা ইন্দুর দৌড়াইতেছে
কুট কুট করতেছে আর কইতেছে,
“বিলাই’টা যে কই গেছে!”

 

Continue reading

প্রেম ও কবিতার মফস্বল – আমাদের খঞ্জনপুর।

53096702_10155988782572093_2254915022184513536_n

।। আমাদের খনজনপুর ।। মঈনুল আহসান সাবের ।। পেইজ ৮৮।। পয়লাবার ছাপা হয় ২০০৪-এ।।

স্যাড, রোমান্টিক একটা উপন্যাস। একটু একঘেঁয়েমি আছে, কাহিনি’টা পয়লা আগায় না, পরে আগাইতে গিয়া আবার শেষ হয়া যায়। কাব্যিকতা থিকা বাইর হইতে পারে না। যেইটা এর বড় স্ট্রেংথ মনে হইতে যাইতেছিলো, সেইটাই দেখা যায় এর সমস্যা। কাব্যিকতা জিনিসটা মেবি ভালোই, কিন্তু কোন উপন্যাসরে তার কাব্যিকতার ভিতরে আটায়া ফেলতে পারাটা ভালো জিনিস মনেহয় নাই।

না-বলা প্রেমরেও যে গ্লোরিফাই করা লাগছে – এইটাও ‘ম্লান’, ‘ম্রিয়মাণ’ হইছে পরের দিকে আইসা, এতো যে টাইম লাগছে, এইটাই ঘটনা বরং; মানে, না হইয়া তো আর কোন উপায় নাই, এই রবি-ভূত আর বেশি দূর টাইনা নিতে পারা’র কথা তো না। যেইখানে জীবন, চারপাশ ‘বাস্তব’ হয়া উঠতেছে, উনাদের (মানে, নায়ক, নায়িকার) ‘রোমান্টিক’-ই থাকতে হইতেছে, এইটা একটা প্যারা-ই। না পাইরা শেষে ‘বাস্তব’-এ নিজেদেরকে অ্যাকোমোডেড করতে চাইছেন। তো, ওই কাব্যিকতার কারণেই এতোটা ডিলে হইছে মেবি। এইটা খারাপ বা ভালো – তা না; কাহিনি হিসাবে কম বিলিভেল হইতে পারছে।

আরেকটা জিনিস চোখে পড়ছে, বাংলা-ভাষায় কবিতা যেহেতু ‘লিখিত’ একটা ঘটনা, সেইটারে মানুষের মুখে আনার চেষ্টাটা দুয়েকটা জায়গায় সিরিয়াস হইতে গিয়া ফানি হয়া গেছে। যেমন, খনজনপুরের নাম কেমনে খনজনপুর হইলো এইরকম একটা জায়গায় বলা হইতেছে যে, বাজার বসতো আর ওইখানে ভিক্ষা করার লাইগা খঞ্জরা আসতো; তখন বাজারি’রা কইতো যে, “খঞ্জরা আসছে, খঞ্জরা আসছে…”; তো, বাংলাদেশে কোন জায়গায় লোকজন ‘খঞ্জ’ কয়, এইটা আমার এক্সপেরিয়েন্সের মধ্যে নাই। আবার একটা জায়গায় একজন লোক মাঝ রাইতে মাইনেষে চিল্লায়া চিল্লায়া রাস্তায় জিগান, “ও, মানুষ তোমার বাড়ি কই…” এইরকম। মানে, মঞ্চনাটকে এইরকম হইতে পারে, কিন্তু কাহিনি হিসাবে একটু ফানিই লাগছে, “ভাই” না বইলা “মানুষ” বলাটা। এইটা এক রকমের ‘কাব্যিকতা’র ধারণা থিকাই আসছে মেবি।
Continue reading