কবিতা: মে, ২০১৯

27545250_10155137762342093_218746176031998506_n

মুহূর্তের কণা

মুহূর্তেই উইড়া যাবে বেদনা;
মুহূর্তেই আরেকটা কণা খুঁইজা পাবে তোমারে

তুমি বলবা, “অইসব তো পুরানা কথা…
আমি মনেও রাখবো না!”

কণাগুলা জমতে থাকবে,
আরেকটা অবয়ব আসবে, তারেও
বলবা তুমি, “ভুইলো না আমারে!”

একই মেমোরি আমাদের, একই রকম ভুইলা-যাওয়া
একটা মুহূর্তেরই ভিতর উইড়া যাবে, যেন কোন বেদনা

 

ধর্ম

ইসলাম আসার পরে পৌত্তলিকদের ধর্মের মতোন ভুইলা যাইও আমারে তুমি

 

মরণের মতোন সামান্য দূরে থাকো

মরণের মতোন সামান্য দূরে থাকো,
খালি একটা দম মিস হইতে পারে যেমন
কোন কারণ ছাড়াই

থাকো নিয়তির মতোন
যে কোন মুহূর্তেই ঘটতে পারার মতোন একটা বাস্তবতা যেমন
নাই বইলাই আছে
আর তার থাকতে পারার ভিতর না-থাকাটা প্রোলঙ হইতে হইতে একটা রাতের মতোন ভোর হইতে হইতে নাই হয়া যাইতেছে

আমি ভাবললাম, এইরকম কোনকিছু থাকতেই তো পারে!
তুমি বললা, যা কিছু নাই, যা কিছু ছিলো না, কোন না কোন কারণ নিয়াই আছে…

আমি অবিশ্বাসীদের মতোন স্থির হয়া থাকি একটা না-থাকার বিশ্বাসে
একটা নারিকোল গাছের ছায়া ধীরে ধীরে স্পষ্ট হইতে থাকে, বাতাসে
কাঁপে

একটা কনফিউশনের মতোন থাকতেই থাকে
আমাদের না-থাকা একটা বিশ্বাসীদের মনে…

Continue reading

ফ্রেন্ডস ফরএভার

ফ্রেন্ডস টিভি সিরিজের পোস্টার

এইটা মেইনলি আমার, মনোয়ার আর মৌটুসির একটা সন্ধ্যা-রাইতের একলগে থাকার ছোট্ট একটা কাহিনি। আমাদের এইরকম অনেক ফ্রেন্ডস আছে। আমরা ফ্রেন্ড-বেইজড সমাজ, ফ্যামিলিরে চুদি না। ফ্যামিলি একটা মুখোশ, একটা ভান, একটা প্রতারণা। আমরা এইগুলার মধ্যে নাই। কেউ থাকতে চাইলে আমাদের কোন প্রব্লেম নাই। ফ্রেন্ড তো ফ্রেন্ডই!

আম্মা দেশের বাইরে গেছেন, মেডিকেল ইস্যুতে, সিঙ্গাপুরে। বড় বইন আর তার হ্যাজব্যান্ড গেছে লগে। এইটা মৌটুসি জানতো। শে কইলো, বরিশাল থিকা অর স্পন্সরে একটা ফ্যামিলি আসছে; একটা বাসায় ছিলো, বাসাটা ছোট আর হসপিটালটাও দূরে, আসতে-যাইতে টাকা খরচ হয়, শে চিকিৎসার খরচ দিতেছে, কিন্তু হাত-খরচের টাকা দেয়াটাও বাজে দেখায়, এইজন্য কইলো, দুইটা দিন আমার বাসায় রাখতে পারবো কিনা। অরা একে তো গরিব, ম্যানার অইরকম জানে না, তার উপরে আবার হিন্দুও কিন্তু; মানে, বইলা আমার ঈমানি শক্তি যাচাই করতে চাইলো! :) যেন এমনে হইলে থাকতে দিলাম, গরিব আর হিন্দু বইলা দিবো না। তো, এই চ্যালেঞ্জে তো হার মানা যায় না!

অরা থাকলো, চইলাও গেলো। দুইদিন একরাইত ছিলো। আমি মাসুমের বাসায় গিয়া ছিলাম। অরা দারোয়ানের কাছে চাবি বুঝায়া চইলা গেলো। চার-পাঁচটা আন্ডা-বাচ্চা ছিলো আর দুইজন মহিলা।

মোটুসি তো খুবই খুশি, আমার এই হেল্প পাইয়া। একদিন কইলো, ল চিল করি! তোর লগে তো অনেকদিন দেখা নাই! ঢাকায় নাকি এখন পাব হইছে, মেয়েরাও যাইতে পারে!

মৌটুসির এইটা বেশ মজা লাগে। দুই বছর বিদেশ থাইকা আইসা বেশ বিদেশি-বিদেশি একটা ভাব নিতে পারে। বয়ফ্রেন্ডের লগে ব্রেকাপ হওয়ার পরে অর খুবই বাজে অবস্থা হয়া গেছিল। আয়ারল্যান্ডে চইলা গেছিলো এনথ্রোপলজি পড়তে। ঠিকই আবার পড়াশোনা না কইরা ফিরা আসছে। চিজ একটা। আমি কই, ‘হ, উন্নয়ন হইতেছে তো!’ হাসি আমরা। Continue reading

রিজন-বেইজড রিয়ালিটির অগভীর একটা কাদা-পানির গর্তের ভিতরে হাঁসফাঁস করতে থাকা কয়েকটা পুটিমাছের মতোন…

বইয়ের কাভার

শিবব্রত বর্মণের ‘বানিয়ালুলু’ বইটা যারা পড়ছেন তারা কি একটা জিনিস খেয়াল করছেন যে, ১১ টা গল্পে একটাও ফিমেইল কারেক্টার নাই?

দুইটা গল্পে ‘স্ত্রী’র কথা বলা হইছে (সেইম-সেক্স ম্যারিজের কথা না বলাতে জেন্ডার হিসাবে ফিমেইল ধইরা নিতেছি); ‘ভেতরে আসতে পারি’ গল্পে একজন আছেন, যিনি মারা গেছেন, ধারণা করা হয়, তারে খুন করা হইছে; আর লাস্ট গল্পে স্ত্রী’র প্রেমিকরে খুন করে একটা কারেক্টার। খুব বেশি হইলে দুই-চাইরটা লাইন। মানে, আমি বলতে চাইতেছি না, গল্পগুলাতে এই যে প্যারালাল-ওয়ার্ল্ড, এইটা একটা পুরুষ-ওয়ার্ল্ড! :)কিন্তু এইটা একরকমের পুরুষ-ওয়ার্ল্ডের কথাই আসলে।

এমনিতে গল্পগুলা ক্রিসপি। ফার্স্ট দুইটা গল্প পইড়া মনে হইতেছিল, অন্য কোন গল্পের এক্সটেনশন। ‘বানিয়ালুলু’টারে মনে হইতেছিল পিটার বিকসেলের ‘আমেরিকা বলে কোন দেশ নেই’-এর সেকেন্ড পার্ট। আর সেকেন্ড গল্পটা হুমায়ূন আহমেদের ‘নিষাদ’-এর এক্সটেনশন! অবভিয়াসলি আমার ‘সাহিত্য-পড়া’র ঝামেলা এইটা। কিন্তু একইরকমের না হইলেও কোন না কোন রেফারেন্স দিয়াই তো আমরা কানেক্ট করি।

আরেকটা মুশকিল হইতেছে, কয়েকটা গল্প পড়ার পরেই টের পাওয়া যায় বাকি গল্পগুলা কই গিয়া শেষ হবে বা শেষে কি হবে; এক্স-ফাইলস সিরিজের এপিসোডগুলার মতো শেষটা খুবই প্রেডিক্টেবল হইতে থাকে। আর জার্নিটা বা প্রসেসটারও একসাইটেটমেন্ট কমতে থাকে; একটা কারণ মেবি বর্ণনাগুলা ভাসা-ভাসা, যেহেতু ‘আমরা জানি না’, যেহেতু আরেকটা দুনিয়ার কথা, এই দুনিয়ার শব্দগুলা জাস্ট ফ্লাওয়ারি কিছু জিনিস হয়া থাকে, ফানি না হইতে পারলেও।

এমনো মনে হইছে আমার, আরেকটা দুনিয়া মানে হইতেছে আরেকটা কনটেক্সট আসলে। যেমনে আমরা ‘সেক্যুলার’ দুনিয়া দেখি, এর বাইরেও দেখার আরো আরো কনটেক্সট আছে তো; মানে, এর বাইরে যারা আছেন, সবাই তো আর ‘জঙ্গি-সন্ত্রাসী’ না! Continue reading

দোস্ত, দুশমন

download

এইরকম একটা কথা আছে যে, মানুষের বন্ধু-বান্ধব দেখলে আন্দাজ করা যায়, মানুষটা কেমন। কিছু মিল না থাকলে তো আর দোস্তি হয় না। কিন্তু এর চাইতে আরো সিগনিফিকেন্ট মনেহয়, শত্রুতার ব্যাপারটা বা যার আপনি বিরোধিতা করতেছেন, সেই জায়গাটা। মানে, আপনি কারে শত্রু ভাবতেছেন বা কোন জিনিসগুলারে – সেইটা দিয়াও একটা মানুষরে বুঝা যাইতে পারে। দোস্তির মতোন শত্রুতাও, আমার কাছে মনেহয়, একটা লেভেলেরই ঘটনা, একটা সার্কেলেরই ব্যাপার। মানে, আমার যদি কনসার্ন না-ই থাকে, সেই জিনিসটারে তো আমার শত্রু মনে হওয়ার কোন কারণই নাই। দোস্তি আর দুশমনি একটা সার্কেলেরই ঘটনা, এইভাবে যে, আমরা কনসার্নড, বোথ পার্টি নিয়া।

আরেকটা জিনিস হইলো, এই কনসার্নড জিনিসগুলাই আমাদেরকে ডিফাইনড করতে থাকে বা থট-অ্যাক্টিভিটিরে ইনফ্লুয়েন্স করতে থাকে। এই কারণে কার সাথে দোস্তি করতেছি – এইটার যেমন একটা ভ্যালু আছে, কার সাথে দুশমনি করতেছি, সেইটারও ইমপ্যাক্ট আছে আমাদের লাইফে। Continue reading

কবিতা: এপ্রিল, ২০১৯

51459842_2215996628658337_7003827187044319232_n

সিনেমাহলে

তফাতে যেন কেউ নাই
যেন কেউ একটু দূরে সইরা গিয়া বাঁইচা থাকতেছে না;
আছে তো, থাকেও

তাদের কথা যখন মনেহয়,
মনেহয় মেমোরি’র মতোন, ছায়া’র মতোন

ছুঁইয়া দেখা যায়, অথচ
তারা নাই আর কাছে, আছে
দুনিয়াতে, অন্য কারো’র
ভিজিবিলিটি’র কাছে
অন্য কোন অডিয়েন্সের সামনে

আর আমার চোখের সামনে কালো পর্দা

সিনেমা শেষ
অথবা অন্য একটা শো
শুরু হওয়ার আগেই চইলা আসছি আমি

প্রজেকশনের রে কখোন পড়বে!
আমি ওয়েট করতেছি
একলা একটা সিনেমা হলে

যারা দৃশ্যের ভিতর, সিনেমার ভিতর চলে গেছে
তারা আর ফিরা আসতেছে না

তবে, আসবে
কালো পর্দাটা সইরা যাবে
একটা প্রজেকশন রে পড়বে
আমি দেখবো, মানুষ
আরে, অরা তো আছে!

আমার সামনে আর একটু দূরে
বাঁইচা থাইকা যাইতেছে

আমি অডিয়েন্স,
আমারে অরা দেখতেছে না, কিন্তু
ভাইবা নিতে তো মনে হয় পারতেছেই
আমি বা আমার মতোন অন্য কাউরে

আর
আমি সিনেমা দেখবো বইলা বইসা আছি
দুনিয়ার একটা সিনেমাহলে

 

চৈত্রের কুয়াশার মতোন

চৈত্রের কুয়াশার মতোন, আননেসেসারি
তুমি আর আমি

শীত শেষে চকমকি গরমের দিন
তারপরেও আমরা থাকতেই চাইতেছি

Continue reading