কবিতা: ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

51530754_10155938437087093_849805914268499968_o

 মিনিং

মিনিংগুলি ছড়ায়া যাইতেছে,
রাতের আন্ধারের মতোন
এতো এতো ল্যাম্পপোস্ট, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, গাড়ির হেডলাইট
ফোকাস দিতে দিতে
যাইতেছে, আসতেছে… কিন্তু
মিনিংয়ের যে আন্ধার, তারা
থাইকাই যাইতেছে
একটা হরাইজনে একটা রিয়ালিটি’র মতো

একটা মিনিংয়ের আন্ধার আসলো
আর নিয়া গেলো, তোমারেও।

 

গতকালকে রাত্রে

গতকালকে রাত্রে আমি একটা স্বপ্ন দেখছি। আর স্বপ্নটা আমারে দেখতেছে। কি রকম ফ্রেজাইল! গইলা গইলা পড়তেছি আমি। মাটির কলসি ফুটা হয়া পড়তে থাকা গুড়ের সিরা’র মতোন। ঘন, কালো, লিকুইড। আমি একটু একটু কইরা গড়ায়া গড়ায়া পড়ে যাইতেছি, স্বপ্নটার ভিতর। স্বপ্নটা আমারে দেখতেছে। আর আফসোস কইরা কইতেছে, কি রকম ফ্রেজাইল এই মানুষের জীবন।

 

প্রাণি জগৎ

একটা লোনলিনেসের ভিতরে একশ’টা ইন্দুর দৌড়াইতেছে
কুট কুট করতেছে আর কইতেছে,
“বিলাই’টা যে কই গেছে!”

 

Continue reading

#ইজতেমা #এয়ারপোর্ট #বাণিজ্যমেলা #বইমেলা #নরমালইজঅ্যাটেরর

Istama-File2018011209030120180113195925

এই জিনিসটা নিয়া কথা বলাটা অনেক রিস্কি, কারণ ব্যাপারটা খুব ডিফাইনড কিছু না। এই কারণে ডিসক্লেইমার দিয়া শুরু করতে চাইতেছি। যে, এইটা কোন পারসোনাল পছন্দ-অপছন্দের জায়গা থিকা বলা না। যদিও এই স্টেটম্যান্ট কোন হেল্প করবে কিনা শিওর না। তা-ও বইলা রাখতে তো কোন সমস্যা নাই।

বেশ কয়েকদিন আগের ঘটনা। দেখার পরেই চোখে পড়ছিলো জিনিসটা (কমেন্টে দিতেছি স্ট্যাটাস’টা), তখনই মনে হইছিলো আবার, যেইটা সবচে বেশি সার্টেন, সেইটাই চোখে পড়ে না। এইরকম। যেমন, আমার মতোন যারা এইটিসে মফস্বলে থাকছেন, দেখার কথা যে, বাসার কাজের লোকদেরকে রিকশায় প্যাসেঞ্জারের ঠ্যাংয়ের কাছে বসানো হইতো, সিটে না বসায়া। এইটা আনইউজ্যুয়াল ব্যাপার ছিলো না কোন। বা আরো ব্রডার উদাহারণের কথা কইলে, আঠারোশো শতকে ইউরোপে শাদা কাপল’রা নাকি তাদের ব্ল্যাক কাজের লোকদের সামনেই লাভমেইক করতে পারতো, যেইরকম বিলাই-কুত্তার সামনে করা যাইতো। মানে, ব্যাপারগুলি সোশ্যাল নর্মসের মধ্যে ‘বাজে’ কিছু না।

এইরকম ইজতেমা’র ব্যাপারটা নিয়া টিটকারি করা বা মকারি করা বা কমপ্লেইন করাও না; এইটা যে একটা হ্যাসেল, ঝামেলা – এইটা জাস্ট বলা; মনে করায়া দেয়া। বাজে কিছু না।

এইরকম ধরেন, বাণিজ্যমেলা নিয়াও থাকার কথা (কম হইলেও, যদিও আমি দেখি নাই খুবএকটা); আর বইমেলা নিয়া মনেহয় কোন কমপ্লেইন নাই। সবগুলি জমায়েতের জ্যাম লাগাইবার ক্ষমতাও একইরকমের না। তারপরেও। এই যে ধরেন, প্রসঙ্গ হিসাবেই বইলা রাখা; এইটারে সবচে ডেঞ্জারাস কিসিমের জিনিস বইলা লাগে আমার কাছে। এইখানে ভিজিবল হেইট্রেটও নাই কোন, ভঙ্গি’টা খুবই নরোম; আর ব্যাপার’টা তো সত্যিও, দেখেন! এই প্রিপারেশন তো নেয়াই লাগে, আমার এয়ারপোর্টে যাইতে হইলে এইরকমই করতে হইতো। কিন্তু এই যে, বইলা রাখা ইস্যু হিসাবে (মানে, উল্লেখ করা, ফেব্রুয়ারি মাস, বাংলা-ভাষা) – এর যে টেরর, ইজতেমা এবং এয়ারপোর্ট-গোয়িং পিপলের যেই ডিসট্যান্স’টা এই বলা’টা ক্রিয়েট করে – এইটারে না-দেইখা থাকতে পারাটা খুবই অসম্ভব মনে হইছে আমার কাছে। মানে, বইমেলা, বাণিজ্যমেলা, ইজতেমা – একই ঘটনা যে না, এইটা তো আমরা জানি। কিন্তু বলার ভিতর দিয়া, ধরেন একটা শব্দ দিয়া বা একটা টোন – অ্যাপ্রিশিয়েট করা, ইগনোর করা বা স্রেফ বইলা রাখার ভিতর দিয়া যেমনে আলাদা করা যায়, এইটা কি আসলেই চোখে পড়ে না? Continue reading

কবিতা: জানুয়ারি, ২০১৯

1_ec731bc235a706d3c4f3e18252332ed8

শব্দগুলি এক একটা অন্ধকার

তার
পরে
তারো
পরে
তারও
পরে

রক্ত
হয়া
ঝইরা যাবে
আমাদের
ঘাম

আমরা ভাববো,
আমরা
মহান!

কতগুলি
অহেতুক
শব্দ
দিয়া
এইটা
এইটা
এইটা

আমরা
রিপ্লেইস
করে
দিতেছিলাম

সাইকেল
একটা
তাউরাইতেছিলো

মোটরসাইকেল
হর্ণ
দিতে দিতে
তারে
দেখাইলো
আমারে

বাঁইচা
আছে
সে
ঠিকঠাকমতোন

আমি
হাঁটতে
হাঁটতে
একটু
দূরে
যাই

আবার
আসি

একটু
হাসির
মতোন
কান্দা
তার

ছড়াইতেছে

একটা
জানালা
চুপচাপ
একটা
গাছ’রে
দেখতেছে

সন্ধ্যার
অন্ধকারে
মুইছা
যাওয়ার
আগে

অরা
কইলো,
গেলাম!

 

প্রাণি জগৎ

‘তুমি আসলে কেমন বাঘ?’
– জিগাইলো একটা বিলাই আমারে।

ভাগ্য ভালো, আমি যে ইন্দুর – এইটা সে জানে না।

Continue reading